Connect with us

top2

শুরুতেই ধাক্কা খেল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ

Published

on

সংবিধান সংস্কার পরিষদ

সংবিধান সংস্কার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোট। গণভোটে ৬৮ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে জনগণ। এতে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠনসহ জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। ওই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার একই স্থানে দুটি শপথ হওয়ার কথা ছিল। এর একটি সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে, অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে; কিন্তু সংস্কার পরিষদের শপথের বিষয়টি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় বিএনপি জোট ও স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ীরা এই শপথ পাঠ করেননি। তারা শুধু এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবে জামায়াত ও তাদের মিত্র এনসিপিসহ অন্য দলগুলো থেকে বিজয়ীরা দুটি শপথই নিয়েছেন।

এদিকে সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে গতকাল রিট করেছেন এক আইনজীবী। এ নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ প্রথমেই আইনি প্রশ্নের মুখে পড়ে একটা ধাক্কা খেল। এই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করাটাও সংবিধানসম্মত হয়নি। ফলে শুরুতেই এমন জটিলতা তৈরি হয়েছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘বিএনপির নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। শপথ না নেওয়ার মাধ্যমে জটিলতা তৈরি হলো। শুরুতেই একটি বিষয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলো। আমরা আশা করব, জটিলতা সৃষ্টি না করে সমস্যার সমাধান করা হবে। আমরা এমনিতেই অর্থনীতিসহ নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। সমজাতীয় জাতি হলেও আমরা বহুধাবিভক্ত। বিভক্ত জাতি বেশিদূর এগোতে পারে না। বিভিন্ন দলীয় অবস্থান থাকা সত্ত্বেও এসব সমস্যা সমাধানে জাতি হিসেবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম কালবেলাকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির আদেশ প্রদানের কোনো ক্ষমতা নেই। তিনি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু আলী রীয়াজ সাহেব এটা পেলেন কোথায়? এটা কোনো নির্বাহী আদেশ হতে পারত। অথবা কোনো অঙ্গীকার হলে সেটা মানত। এই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ সংবিধানসম্মত হয়নি। সংবিধানকে সংবিধানসম্মতভাবেই চলতে দিতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুটি শপথের কথা বলা হয়েছে। এটা পেল কোথায়? কেন তারা দুটো শপথ নেবে? দুটো শপথের বিষয়টি তো সংবিধানে থাকতে হবে। তার প্রেসক্রাইবড একটা ফর্ম থাকতে হবে। কিন্তু এগুলো নেই। সে কারণে এই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।’

এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেছেন, ‘বেআইনিভাবে কিছু কাজ করা হয়েছে। দ্বিতীয় আরেকটি শপথের বিষয় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে যুক্ত করা হয়েছে, যার কোনো এখতিয়ারই নেই।’ তিনি বলেন, ‘‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ হিসেবে সবগুলো আইন প্রশ্নয়ন করা হয়েছে। কিন্তু জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পরে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ নামে একটি আদেশ জারি করেছেন, যা এই আমলে একমাত্র আদেশ। এই আদেশে একটি শপথ যুক্ত করেছেন। কোনো আদেশ দিয়ে এভাবে সংবিধানের বিধান পরিবর্তন করা যায় না। সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন হয়ে যায়, এমন কোন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয়নি।’’

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় আরও বলেন, ‘সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে তৃতীয় তপশিলে যে শপথের নমুনা দেওয়া আছে, সে অনুযায়ী শপথ পাঠ করাবেন। কিন্তু সনদ বাস্তবায়ন আদেশে তপশিল-১ বলে আরেকটি শপথ যুক্ত করা হয়েছে। আলাদা একটি আদেশ দিয়ে এভাবে বিকল্প করা যায়? সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন করে এভাবে শপথ ঢুকাবেন? এভাবে দ্বিতীয় শপথের আদেশ তো অবৈধ।’

২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জুলাই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজসহ কমিশনের সদস্যরাও জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেন। আর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৫টি রাজনৈতিক দল ও জোট আনুষ্ঠানিকভাবে এতে স্বাক্ষর করে। জুলাই সনদ ৪৮টি প্রস্তাব রয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে ৩০ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যমত্যে পৌঁছেছে। বাকিগুলোতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত পোষণ) রয়েছে। এই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় তিনটি ধাপ নির্ধারিত আছে। প্রথম ধাপে আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতি গত বছরের ১৩ নভেম্বর ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করেন।

সনদ বাস্তবায়নের গেজেটে বলা হয়েছে, গণভোট অনুষ্ঠানের পর, জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফল অনুসারে সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ করবে। সংবিধান সংস্কার হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর একই শপথ অনুষ্ঠানে এই আদেশের তপশিল-১ অনুযায়ী পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। সংসদ সদস্যদের যিনি শপথ পড়াবেন, তিনিই পরিষদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। অর্থাৎ গতকাল সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে দুটি শপথ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুরুতেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের এই শপথ গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিএনপি শপথ গ্রহণ করেনি: গতকাল শপথের জন্য নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি ফরম দেওয়া হয়। এর একটি ছিল সাদা রঙের, যেটি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম। অন্যটি ছিল নীল রঙের, যেটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম। শপথ অনুষ্ঠান শুরুর আগে কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ শপথকক্ষে উপস্থিত দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে একটি নির্দেশনা দেন।

নির্দেশনায় সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়ে দেন, তারা সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হননি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার হলে; সংবিধানের তৃতীয় তপশিলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথের ফরম যুক্ত হলে; কে এই শপথ পড়াবেন তা নির্ধারিত হলে; তখন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া যাবে।’

দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ নির্দেশনা দিয়েছেন বলে সহকর্মীদের জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। এরপর বেলা পৌনে ১১টার কিছু আগে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হয়। শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। শপথ গ্রহণ শেষে বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীরা সংসদ সদস্যের শপথপত্রে সই করেন। এরপর বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান সমাপ্তি ঘোষণা করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা।

জামায়াত জোটের শপথ: সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনো শপথই নেবেন না। কারণ, তারা মনে করেন, সংস্কারবিহীন সংসদ অর্থহীন। এ বক্তব্যের পরও তারা আলোচনা করে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। গতকাল দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। আর দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। জামায়াত জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পৃথকভাবে এই দুই শপথ পড়ান সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।

গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে রিট: গণভোট পরিচালনা ও ফলাফলের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন হয়েছে। এতে গণভোট-২০২৬–এর ফলাফল বাস্তবায়ন করা থেকে বিরত রাখতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ গতকাল বিকেলে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন।

আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ বলেন, মূলত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং গণভোটের ফল ঘোষণা করে ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত গেজেট স্থগিত চেয়ে রিটটি করা হয়েছে। পাশাপাশি এটি বাতিল চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামী সপ্তাহে রিটের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানান তিনি।

গণভোটের বৈধতা, সাংবিধানিক স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক বৈধতা, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোট এবং ১৩ ফেব্রুয়ারির গেজেটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সাংবিধানিক শ্রেষ্ঠত্ব, আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকার প্রয়োগ নিশ্চিতের দিকগুলো রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। রিটে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার কোনো সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ বা কোনো সাংবিধানিক সভা (গণপরিষদ) নয়; বরং এটি একটি সাংবিধানিক ট্রাস্টি, যা কঠোরভাবে সাংবিধানিক সীমার মধ্যে থাকতে বাধ্য। অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ আনুষ্ঠানিক নয়; বরং এটি একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, যা ভঙ্গ করা সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল।

একটি স্পষ্ট সাংবিধানিক কাঠামো; বিস্তৃত গণভোট আইন অথবা বিধিমালা; স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, সমান অংশগ্রহণ এবং ভোটারদের অবহিত করে সম্মতি নিশ্চিত করা ছাড়াই ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট হয় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এ ধরনের বিষয় বাদ দেওয়া এবং কার্যক্রম (গণভোট পরিচালনা) জনগণের সার্বভৌমত্বকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো।

রিটের যুক্তিতে বলা হয়, সংবিধানই দেশের সর্বোচ্চ আইন, যা অন্তর্বর্তী সরকারসহ রাষ্ট্রের সব অঙ্গের জন্য বাধ্যতামূলক। শপথগ্রহণ বাধ্যতামূলক সাংবিধানিক দায়িত্ব আরোপ করে যে ব্যক্তি সংবিধানের মধ্যে থেকেই কার্যপরিচালনা করবেন। সাংবিধানিক অনুমোদন ছাড়া ক্ষমতার যে কোনো চর্চা নিয়মবিরুদ্ধ ও বাতিলযোগ্য। প্রয়োজন, সুবিধা বা রাজনৈতিক উত্তরণের যুক্তিতে সংবিধান লঙ্ঘন কোনোভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না।

রিটের প্রার্থনায় বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোট এবং ১৩ ফেব্রুয়ারির প্রকাশিত গেজেট (গণভোটের ফল) কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যে কোনো গণভোট প্রয়োগের আগে একটি স্পষ্ট সাংবিধানিক ও আইনগত কাঠামো তৈরি করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে। রুল বিচারাধীন অবস্থায় গণভোট-২০২৬-এর ফলাফল বাস্তবায়ন করা থেকে বিবাদীদের বিরত রাখতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আইনসচিব ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে তেলের দাম 

Published

on

By

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে— মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার লেনদেনে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৪ ডলার কমে ৯৫ ডলারে নেমে আসে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দামও প্রায় ৯১ ডলারে নেমেছে।

এর আগে সোমবার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৯ ডলারে পৌঁছেছিল, যা তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে— এই আশঙ্কায় দাম বেড়ে গিয়েছিল।

তবে পরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপ হয়। ওই আলোচনায় দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে কথা হওয়ায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে এবং তেলের দাম কমতে শুরু করে।

এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চলতে থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে— এমন ইঙ্গিত পাওয়ায় বাজারে আতঙ্ক কিছুটা কমেছে এবং তেলের দামও কমে এসেছে। 

সূত্র : রয়টার্স

Continue Reading

top2

কাতার, বাহরাইন, সৌদি ও আমিরাতে মুহুর্মুহু হামলা

Published

on

By

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত হামলা সোমবার (৯ মার্চ) পর্যন্ত দশম দিনে গড়ালো। এতে ইরানে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা এক হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে। সেইসঙ্গে আহত হয়েছে শত শত ইরানি। ইসরায়েল-মার্কিন বাহিনীর অতর্কিত হামলার জেরে পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। দেশটি ইসরায়েল ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে সিরিজ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি বাহিনী নতুন করে ফের কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলা চালিয়েছে।

প্রায় চার ঘণ্টা আগে কাতারকে লক্ষ্য করে মিসাইল নিক্ষেপ করেছে ইরান। তবে এসব মিসাইল ভূপাতিতের দাবি করেছে কাতার। আল জাজিরার সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, তারা দোহার আকাশে অন্তত ১২টি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছে।

এদিকে বাহরাইন জানিয়েছে, সিত্রা এলাকায় ইরানি ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, শেবাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং তেলক্ষেত্র খালি ছিল বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদের উত্তরে দুইটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সৌদি আরব পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে ইরান হামলা বন্ধ না করলে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণের জন্য ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে।

ইরানে হামলা অব্যাহত: কেউ আতঙ্কে, আবার কেউ ভাসছে খুশির জোয়ারেইরানে হামলা অব্যাহত: কেউ আতঙ্কে, আবার কেউ ভাসছে খুশির জোয়ারে

সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের হামলা থেকে রেহাই পায়নি। দেশটি জানিয়েছে, প্রজেক্টাইল ভূপাতিত করলেও তার ধ্বংসাবশেষে ফুজাইরাহ এলাকায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড হয়েছে।

Continue Reading

top2

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কায় তেলের দাম বৃদ্ধি, ব্যারেল প্রতি ছাড়াল ১০০ ডলার

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ বাজার থেকে কমে যাচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে— যা ২০২২ সালের পর প্রথমবার।

সোমবার (৯ মার্চ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা বাড়ার পর তেলের সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ দ্রুত বেড়েছে। এর জেরে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে তেলের দাম এবং বিশ্ব শেয়ারবাজারেও বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে।

সপ্তাহান্তে ইরানের রাজধানী তেহরান ও আশপাশের অন্তত পাঁচটি জ্বালানি স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। হামলার পর তেহরানে ‘ধ্বংসস্তূপের মতো পরিস্থিতি’ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়। একই সময়ে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় কুয়েতের জাতীয় তেল কোম্পানিও সতর্কতামূলকভাবে উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। সাধারণত বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয়। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের লেনদেন শুরুতেই ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১০৮ দশমিক ৭২ ডলারে পৌঁছায়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বের নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য খুবই সামান্য মূল্য এবং এটি যুদ্ধের স্বল্পমেয়াদি প্রভাব। তার মতে, ইরানের পারমাণবিক হুমকি ধ্বংস হলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে।

তবে ইরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, যদি ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারের বেশি তেলের দাম মেনে নিতে পারেন, তাহলে এই যুদ্ধ চালিয়ে যান।

এদিকে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। গতকাল সোমবার টোকিওতে জাপানের নিক্কেই সূচক ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক কমেছে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক নেমেছে প্রায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি বৈশ্বিক বাজারে বড় চাপ তৈরি করেছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই। বছরের শুরুতে যেখানে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬০ ডলার, সেখানে এখন তা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বেড়ে গেছে।

কাতারের জ্বালানি মন্ত্রীও সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী শত শত তেলবাহী জাহাজ এখন স্থবির হয়ে আছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হুমকি দিয়েছে, এই পথ ব্যবহার করলে যেকোনো জাহাজে হামলা চালানো হতে পারে।l

Continue Reading

Trending