Connect with us

top1

সাদ্দাম-গাদ্দাফি-খামেনি শেষ : যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী শিকার কে ?

Published

on

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সংঘাতের ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু বহুবার বৈশ্বিক ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দিয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী নেতাদের নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো নতুন করে আঞ্চলিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

সর্বশেষ শনিবারের (১ মার্চ) হামলায় বিধ্বংসী হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তার বাসভবনসহ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

ওই হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রভাবশালী কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরও নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় ধরনের নেতৃত্ব সংকট তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এর আগে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম আলোচিত নেতা ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন ২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর তিকরিত থেকে আটক হন। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মার্কিন সমর্থিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালের রায়ে ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঈদুল আজহার দিনে বাগদাদে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

২০১১ সালে লিবিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি ন্যাটো সমর্থিত অভিযানের সময় নিহত হন। সির্ত শহর থেকে পালানোর সময় তার গাড়িবহরে বিমান হামলা চালানো হলে তিনি আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে বিদ্রোহী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।

আধুনিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত লক্ষ্যভিত্তিক হামলাগুলোর একটি ছিল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানির হত্যাকাণ্ড। বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হামলায় তার গাড়ি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে লেবাননের বৈরুতে হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ এক বড় ধরনের বিমান হামলায় নিহত হন। মাটির গভীরে অবস্থিত একটি সুরক্ষিত বাঙ্কারে বৈঠকের সময় ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করে হামলা চালায়। ইসরায়েল এই অভিযানের নাম দেয় ‘অপারেশন নিউ অর্ডার’।

একই বছরের জুলাইয়ে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়াহ ইরানের তেহরানে এক রহস্যজনক বিস্ফোরণে নিহত হন। তিনি ইরানের নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে একটি রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় অবস্থান করছিলেন। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, আগে থেকেই সেখানে বিস্ফোরক স্থাপন করা হয়েছিল।

আধিপত্য বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী আক্রমণ কোন দেশে হবে, কোন শীর্ষ নেতার কাল হবে আমেরিকা; সেটাই এখন বিশ্ব রাজনীতির গভীর উদ্বেগের বিষয়

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

রাজধানীতে আজ বিক্ষোভ করবে জামায়াত

Published

on

By

‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের রায় পাল্টে দেওয়ার অপরাধে’ সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও ড. খলিলুর রহমানের গ্রেপ্তার এবং জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

শুক্রবার (৬ মার্চ) বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতারা অংশগ্রহণ করবেন।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামী সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন এ তথ্য জানিয়েছেন

Continue Reading

top1

উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ইরানের নতুন হামলা

Published

on

By

উপসাগরীয় দেশগুলোতে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েতজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বাজতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দও পাওয়া গেছে। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ (ইউএই) প্রায় পুরো অঞ্চলেই হামলা চালিয়েছে তেহরান। তবে বেশির ভাগ হামলাই প্রতিহত করা হয়েছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটির দিকে অগ্রসর হওয়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, যা গত কয়েক দিনের মধ্যে দ্বিতীয় হামলার ঘটনা। বাহরাইনের রাজধানীতে দুটি হোটেল এবং একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

কুয়েত সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত রাতে তাদের লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। রাজধানী কুয়েত সিটির দক্ষিণের একটি বিমানঘাঁটির কাছে বিস্ফোরণ ও আগুনের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার কারণে কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস সরকারি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস খালি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

কাতারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের জলসীমায় পড়েছে। সূত্র: আল জাজিরা

Continue Reading

top1

ইরানি ড্রোনের আঘাতে বিধ্বস্ত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্ক

Published

on

By

ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওমান সাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহীরণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ ইরানি ড্রোনের নিখুঁত নিশানায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।

সংস্থাটির মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যেরণতরী টি যখন ইরানের সামুদ্রিক সীমান্ত থেকে ৩৪০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান করছিল, ঠিক তখনই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর ড্রোনগুলো সেটির ওপর আক্রমণ চালায়।

এই বিধ্বংসী হামলার পরপরই আব্রাহাম লিঙ্কন তার সহযোগী ডেস্ট্রয়ারগুলোসহ দ্রুত ওই এলাকা ছেড়ে পলায়ন করে এবং বর্তমানে এটি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থান করছে বলে তেহরান দাবি করেছে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর অংশ হিসেবে কয়েক দিন আগে থেকেইরণতরীটিকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এর আগে আইআরজিসি জানিয়েছিল, তারা আব্রাহাম লিঙ্কনকে লক্ষ্য করে চারটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এই ধারাবাহিক ও শক্তিশালী আক্রমণ শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে এক নতুন পর্যায়ের যুদ্ধের সূচনা করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আইআরজিসি এক সতর্কবার্তায় বলেছে, ‘সন্ত্রাসী আগ্রাসনকারীদের’ জন্য এখন থেকে আকাশ, স্থল ও সমুদ্র হবে এক একটি সমাধিক্ষেত্র এবং কোনোভাবেই তাদের রেহাই দেওয়া হবে না।

ইরানি সামরিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এই সফল অভিযানের ফলে মার্কিন বাহিনী বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৬৫০ জন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন, যার ফলেরণতরীগুলো পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

ওমান সাগরের এই সামরিক বিজয়কে ইরান তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র ও নিখুঁত রণকৌশলের সাফল্য হিসেবে দেখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যেও এই পিছু হটার ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ আব্রাহাম লিঙ্কনের মতো বিশালরণতরী সাধারণত কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধেই এভাবে সরাসরি আক্রমণের মুখে ফিরে যায় না।

বর্তমানে পুরো ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় ইরানের সামরিক উপস্থিতি বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তেহরান মনে করে, মার্কিন বিমানবাহীরণতরীকে এলাকা ছাড়া করার মাধ্যমে তারা হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সমর্থ হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে এই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি, তবে ইরানের এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এই সংঘাতের জেরে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক দাপট বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

Continue Reading

Trending