Connect with us

top1

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন ‘নিখোঁজ’

Published

on

এখন কোথায়? তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের কাছেও তার বিষয়ে হালনাগাদ কোনো তথ্য নেই। তবে ইতোমধ্যে তিনি স্বামীসহ দেশ ছেড়ে সীমান্তের ওপারে (ভারতে) আশ্রয় নিয়েছেন-এমন গুঞ্জন রয়েছে।

তার বিরুদ্ধে হওয়া হত্যা মামলার এক বছরেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা নিতে দ্বিধায় রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর মধ্যে এ নিয়ে টানাপোড়েনও চলছে। স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন শিরীন শারমিন। দেশের ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে (চার মেয়াদ) স্পিকারের আসনে থেকে তিনি হত্যা, গুম, দুর্নীতিসহ হাসিনার সব অপকর্মের বৈধতা দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা পেলে গ্রেপ্তারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। 

হত্যা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ার জন্য তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের দুষছেন। পাশাপাশি কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের পর গোপনে শিরীন শারমিনকে সাধারণ পাসপোর্ট দেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারার ব্যর্থতাও স্বীকার করেছেন কর্মকর্তারা। এ বিষয়েও সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার কথা জানালেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা।

অপরদিকে আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাসহ দুটি সুনির্দিষ্ট মামলা হয়েছে। আদালত মামলা তদন্তের আদেশ দিয়েছে। তদন্তের পিুরো দায়ভার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। তদন্ত শেষ হলেই আদালত পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। এখানে আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গৌণ।

দেশে না বিদেশে-নিশ্চিত নয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

শিরীন শারমিন কোথায়-এ প্রশ্ন ছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার কাছে। আমার দেশকে তিনি বলেন, সাবেক স্পিকারের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অফিসিয়াল তথ্য নেই। তবে যতটুকু জানি তিনি ঢাকাতেই তার ভাইয়ের বাসায় স্বামীকে নিয়ে বসবাস করছেন। তার বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, পাসপোর্ট ছাড়াই তিনি স্থলপথে সীমান্তের ওপারে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এখনো তার বিষয়ে আমরা কোনো ধরনের নির্দেশ পাইনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনের বিষয়টি নীতিনির্ধারক পর্যায়ের। উপর থেকে নির্দেশনা এলে অবশ্যই তার আলোকে কার্যক্রম শুরু করব। তার বিষয়ে আদালতের কোনো পরোয়ানা বা নির্দেশ পেলে অবশ্যই আমরা তা বাস্তবায়নে প্রস্তুত।

শিরীন শারমিনের বিষয়ে সরকারের দুটি গোয়েন্দা সংস্থা ও একটি তদন্ত সংস্থার প্রধানের সঙ্গে কথা বলে আমার দেশ। ঢাকার একটি সুরক্ষিত এলাকায় ভাইয়ের বাসায় স্বামী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে তিনি বসবাস করছেন বলে দাবি করেন একটি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তার বিষয়ে কোনো ধরনের নির্দেশনা নেই বলে জানান তিনি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম দিকে শিরীন শারমিন রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় অবস্থান করছিলেন। ওই সময় তাকে একবার গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে অজ্ঞাত কারণে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিষয়টি জানার পর নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের অন্যতম সুবিধাভোগী ‘পুতুল সংসদের’ এই স্পিকার। ছয় মাস আগে তিনি নিজের ঠিকানা পাল্টে রাজধানীর একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত স্থানে নিকটাত্মীয়ের বাসায় চলে যান। সেখানে অবস্থান করে তিনি নতুন পাসপোর্টের জন্য আঙুলের ছাপ ও ছবি দেন। ওই কাজে তাকে পাসপোর্ট অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা সহযোগিতা করেন।

আত্মগোপনে আছেন এবং আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়ই শিরীন শারমিন নতুন সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে আঙুলের ছাপ এবং আইরিস দেন বলেও নিশ্চিত হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন শাখা। ধানমন্ডির যে ঠিকানা দিয়ে পাসপোর্ট করতে চেয়েছিলেন, সেখানেও তিনি অবস্থান করছেন না বলে সরকারের গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন

অপর একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে শিরীন শারমিনের 

বিষয়ে জানতে লিখিতভাবে প্রশ্ন দেওয়া হয়েছিল আমার দেশ-এর পক্ষ থেকে। সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে তথ্য দিতে অসম্মতি জানিয়েছে। তবে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, ‘কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের পর শিরীন শারমিন সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর পুরোপুরি আত্মগোপনে চলে যান। আমাদের কাছে যতটুকু তথ্য আছে, তিনি এখন দেশে নেই। স্থলপথে পার্শ্ববর্তী দেশে অবৈধভাবে পাড়ি জমিয়েছেন বলে শুনেছি।’

গোয়েন্দা কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

হত্যা মামলার আসামি, এগোয়নি তদন্ত

শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি আমলী আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন দিলরুবা আক্তার। মামলার আরজিতে তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক স্পিকার ও এলাকার সংসদ সদস্য শিরীন শারমিনের নির্দেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তার স্বামী মুসলিম উদ্দিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। মুসলিম উদ্দিন ছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী আর শিরীন শারমিন ওই এলাকার ভোটারবিহীন নির্বাচনে তিনবারের সংসদ সদস্য ছিলেন।

মামলার আরজিতে আরো বলা হয়, ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিটি বাজার এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষ হয়। সেখানে মুসলিম উদ্দিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

মামলার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাদী দিলরুবা আক্তার আমার দেশকে বলেন, আমার স্বামীকে হত্যার ঘটনায় আমি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মামলা করেছি। মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনকে আসামি করা হয়েছে। হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে রংপুরে যে আন্দোলন হয়, শিরীন শারমিন তা দমন করতে আওয়ামী লীগ ও পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে দিলরুবা জানান, শুনেছি শিরীন শারমিন ঢাকায় আছেন। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিতে দেওয়া হলেও কেউ আমার সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করেনি। মামলার তদন্ত হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও কিছু বলতে পারছি না। আমি বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাইনি। আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই। বিচার করতে এ সরকার ব্যর্থ হলে আমি কোথায় গিয়ে বিচার পাব?

মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে সিআইডির ইন্সপেক্টর সামিউল আলম আমার দেশকে জানান, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নামে করা দিলরুবা বেগমের মামলাটি সিআইডির পক্ষ থেকে আমি তদন্ত করছি। তদন্ত অনেকদূর এগিয়েছে। আশা করি দ্রুত কোর্টে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে। তবে মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

হাসিনার আস্থায় চার মেয়াদের স্পিকার

হাসিনার নির্দেশের যথাযথ প্রতিপালন করে টানা চারবার স্পিকারের আসনে বসতে পেরেছেন নোয়াখালীর মেয়ে ড. শিরীন শারমিন। হাসিনা ১৫ বছরে যত অপরাধ করেছেন তার আইনি অনুমোদন দিয়ে সমান অপরাধ করেছেন তিনিও। এমনটিই মনে করছেন নোয়াখালীর আরেক সন্তান এবং সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার খোকন আমার দেশকে বলেন, শিরীন শারমিন আমাদের আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন। জাতীয় সংসদের দীর্ঘ সময়ের স্পিকার হিসেবে হাসিনার সব অপশাসনের বৈধতা দিয়েছেন। তিনি এখন একটি হত্যা মামলার আসামি। আশা করব আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করবেন। আত্মগোপনে থেকে কিংবা পালিয়ে গিয়ে তিনি আইনকে অশ্রদ্ধা করছেন।

শিরীন শারমিনের সহকর্মী আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি (শিরীন শারমিন) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমিরুল ইসলামের জুনিয়র হিসেবে কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে আসেন শিরীন শারমিন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে ২০১৩ সালে ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন তিনি। নবম জাতীয় সংসদের অবশিষ্ট মেয়াদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দেশের ইতিহাসে সংরক্ষিত আসন থেকে তিনিই প্রথম স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন।

প্রার্থী ও ভোটারবিহীন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি নিজ এলাকা নোয়াখালী কিংবা দেশের অন্য কোনো আসন থেকে নির্বাচন করেননি। ওই নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তার ছেড়ে দেওয়া রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসন থেকে শিরীন শারমিনকে উপনির্বাচনে বিজয়ী করে আনেন। সূত্র জানিয়েছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন ও সংসদ গঠনের আগেই একই দিনে শিরীন শারমিনের প্রার্থিতা বাছাই, বিজয়ী ঘোষণা ও প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। পরদিন তিনি ডেপুটি স্পিকারের কাছে শপথ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো স্পিকারের আসনে বসেন। ওই উপনির্বাচনে দ্বিতীয় কাউকে প্রার্থী হতে দেওয়া হয়নি বলেও ওই সময় অভিযোগ ওঠে।

রাতের ভোট হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের একই আসন থেকে শিরীন শারমিন আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তৃতীয়বারের মতো স্পিকারের দায়িত্ব নেন। ২০২৪ সালের ডামি ভোট হিসেবে খ্যাত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়ে চতুর্থবারের মতো স্পিকারের দায়িত্ব পান তিনি।

হাসিনা পালালেও পদ আঁকড়ে থাকার চেষ্টা

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণভবন থেকে হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার সময়ও শিরীন শারমিন জাতীয় সংসদে নিজ দপ্তরে ছিলেন বলে জানা গেছে। প্রধান বিচারপতিসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিতরা পদত্যাগ করলেও তিনি পদ আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করেন।

শেষ পর্যন্ত হাসিনার পলায়নের ২৭ দিনের মাথায় অর্থাৎ ২ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত স্থান থেকে বাহকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান শিরীন শারমিন। রাষ্ট্রপতি ওই দিনই তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগপত্রটি রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা কার্যকর হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

হাসিনা পালিয়ে যাবেন-এটা বিশ্বাসই করতেন না

স্পিকারের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন এক কর্মকর্তা আমার দেশকে জানান, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরশাসক হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত শিরীন শারমিন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার বাসভবনেই ছিলেন। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবেন কিংবা পালাতে পারেনÑএমনটা কখনোই বিশ্বাস করতেন না তিনি। দুপুরের দিকে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠলেও তাকে বিচলিত দেখা যায়নি। ওই দিনও তিনি সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশের লেকপাড়ের বাসায় বসে দাপ্তরিক কাজ করেন এবং কিছু জরুরি ফাইলে সই করেন।

সংসদ এলাকা থেকে স্পিকারের পলায়নের বর্ণনা দিয়ে ওই কর্মকর্তা জানান, দুপুরের পর হাজার হাজার ছাত্র-জনতা গণভবন ও সংসদ ভবন অভিমুখে রওনা হওয়ার তথ্য তাকে জানানো হয়। এর পরই তিনি তড়িঘড়ি করে গানম্যান ও প্রটোকল রেখে ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়ে সংসদ এলাকা ত্যাগ করেন। ১২ বছরের আবাসন ত্যাগ করার সময় ওই গাড়িতে স্বামী সৈয়দ ইশতিয়াক হোসাইন ও ছোট ছেলে সঙ্গে ছিলেন।

গোপনে পাসপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকার ৫ আগস্টের পর শিরীন শারমিনসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ পাসপোর্ট বাতিল করে। এর পরপরই তিনি বিকল্প উপায়ে পাসপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট শাখার এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী গত বছরের ৩ অক্টোবর সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন ও তার স্বামী সৈয়দ ইশতিয়াক অনলাইনে ঢাকার আগারগাঁওয়ে পাসপোর্ট অফিসে সাধারণ ই-পাসপোর্ট পেতে আবেদন করেন। তারা রাজধানীর ধানমন্ডির ১৬ নম্বর সড়কের একটি বাড়ির ৪-ই নম্বর ফ্ল্যাটকে ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করলেও অজ্ঞাত স্থান থেকে আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিসের ছবি দেন। এসব কাজ অতিগোপনে সম্পন্ন হয়।

নতুন পাসপোর্টের আবেদন বাতিল করা হয়েছে জানিয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট শাখার ওই কর্মকর্তা জানান, অজ্ঞাত স্থান থেকে আবেদন করে পাসপোর্ট অফিসে না গিয়ে আঙুলের ছাপ ও ছবি দিয়ে ই-পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য শিরীন শারমিন ও তার স্বামীর অনলাইনে করা আবেদন আমরা বাতিল করে দিয়েছি। ওই আবেদনের ভিত্তিতে তারা পাসপোর্ট পাবেন না। তবে এর সঙ্গে অবশ্যই পাসপোর্ট অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত। তাদের চিহ্নিত করতে আমরা কাজ করছি।

যা বলছে আইন মন্ত্রণালয়

হত্যা মামলার আসামি হয়েও শিরীন শারমিনের গ্রেপ্তার না হওয়া প্রসঙ্গে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করে আমার দেশ। তার দপ্তর থেকে জানানো হয়, বিষয়টি এখন আদালত ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারাধীন। আদালত তদন্তের আদেশ দিয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষে প্রতিবেদন পেশ করা হলে আদালত পরবর্তী আদেশ দেবে। এখানে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো ভূমিকা নেই।

আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে যেসব হত্যা মামলা করা হয়, সেগুলোর বিষয়ে সরকারের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্দেশে সংঘটিত হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা ব্যতীত) বিচার হবে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে।

এছাড়া হত্যাসহ অপরাপর গুরুতর অপরাধের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার প্রসিকিউশনের কার্যক্রম সুষ্ঠু ও গতিশীল করার লক্ষ্যে কাজ করবে বিশেষ কমিটি। এ ধরনের মামলার মধ্যে যেসব মামলায় চার্জশিট দাখিল হয়েছে, সেসব মামলায় প্রসিকিউশনের কার্যক্রম পরিচালনায় বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করবে এবং উক্ত সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে কমিটি প্রয়োজনীয় সুপারিশ সরকারের নিকট প্রেরণ করবে।’

শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সদস্য মো. শহিদ উল্লাহ আমার দেশকে বলেন, সাবেক স্পিকারের বিষয়ে আমরা লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনব।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি মেধা ও যোগ্যতায় হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী

Published

on

By

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সময়ের চাহিদানুযায়ী আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, পদোন্নতি কিংবা পদায়নের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করলে পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘সেনাসদর সিলেকশন বোর্ড’ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। মেধা এবং যোগ্যতাই হয়ে উঠুক একজন সেনা অফিসারের পদোন্নতি অর্জনের প্রধান মাপকাঠি।

তিনি বলেন, পদোন্নতির জন্য একজন অফিসারের শারীরিক যোগ্যতা এবং ফিজিক্যাল এপিয়ারেন্স অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত।

রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও আন্তঃসীমান্ত হুমকি, সাইবার ও তথ্যভিত্তিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমসহ বহুমাত্রিক ও জটিল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। ফলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা এবং জনগণের প্রত্যাশা ও সহনশীলতাকে বিবেচনায় রেখে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই মডেল অনুসরণ করা এখন সময়ের দাবি।

তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারপ্রধান এবং একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি কেবল সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতায় নয়, বরং সমগ্র জাতির ঐক্য, প্রস্তুতি ও সহনশীলতায় নিহিত।’

তিনি বলেন, ‘সে লক্ষ্যেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ধারণার আলোকে একটি আধুনিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। যেখানে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, শিল্প, প্রযুক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করবে। এই নীতিমালার উদ্দেশ্য যুদ্ধকে উৎসাহিত করা নয়, বরং সম্ভাব্য যে কোনো সংকট, আগ্রাসন বা দুর্যোগ মোকাবিলায় সদাপ্রস্তুত, স্থিতিশীল এবং আত্মনির্ভরশীল সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা, যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ সর্বতোভাবে সুরক্ষিত থাকে।’

উপস্থিত জেনারেলদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে যুদ্ধের ধরণ বদলেছে। নিরাপত্তা মানে কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আঞ্চলিক ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতা। তাই ড্রোন প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট নজরদারি, সাইবার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে চায়।

তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের জন্য একটি রূপরেখা প্রণয়নের কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বাহিনীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন। যেখানে গুরুত্ব পাবে সংখ্যার পরিবর্তে সক্ষমতা, সম্প্রসারণের পাশাপাশি কার্যকারিতা, প্ল্যাটফর্ম বৃদ্ধির পরিবর্তে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং একক বাহিনীকেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে যৌথতার ওপর গুরুত্বারোপ।

তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়গুলো হলো- সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গঠন, সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা জোরদার, যুগোপযোগী প্রতিরক্ষা নীতি ও কৌশল প্রণয়ন, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার মূল্যায়নে যথানিয়মে যোগ্যদের বাছাই করে স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত এই সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমেই পদায়ন কিংবা পদোন্নতির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীতে আগামী দিনের দূরদর্শী এবং পেশাদার নেতৃত্বের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হবে বলে বিশ্বাস করি।’

তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যে আমি একধরনের গৌরববোধ করি। আবার সেনাবাহিনীর কোনো নেতিবাচক খবরে অস্বস্তি অনুভব করি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্ট আমার গভীর আবেগ এবং স্মৃতিময় স্থান। আপনারা জানেন, ঘরে-বাইরে সেনা পরিবেশেই আমার কিশোর ও তারুণ্যের দিনগুলো কেটেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেনাবাহিনীর নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং বিধিবিধান সম্পর্কেও আমি অনেকটা ওয়াকিবহাল। এসব কারণে সেনাবাহিনী সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর হই।’

তিনি বলেন, ‘সেনা পরিবেশে অনুসৃত শৃঙ্খলা এবং নিয়মতান্ত্রিক অনুশাসনের মধ্যেই আমি আমার বাবা-মা এবং একমাত্র ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বেড়ে উঠেছি। সেনাবাহিনীকে বরাবরই আমার বৃহত্তর পরিবারের অংশ বলেই মনে করি’।

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তৎকালীন মেজর জিয়া সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য ইতিহাসে পরিণত করেছেন। নিঃসন্দেহে দেশের সেনাবাহিনীর জন্য এটি একটি গৌরবময় অধ্যায়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা থাকলেও স্বাধীনতার পরপরই সেনাবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট এবং সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা সৃষ্টির একধরনের অপপ্রয়াস লক্ষ্যণীয় ছিল। সেই অস্থির সময়েও সাবেক সেনাপ্রধান শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমেই সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকেই সেনাবাহিনীর সদস্যরা পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছেন। পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চলমান প্রায় ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বর্ডার রোড’ প্রকল্প শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নিশ্চিত করছে না, বরং দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।’

এছাড়া পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১২শ বর্গমিটার এলাকা মাইন ও বিস্ফোরকমুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিরক্ষা ও সন্ত্রাস দমনে নিয়োজিত থেকে শাহাদতবরণকারী ২১৭ জন বীর সেনা সদস্যের পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বিশ্বদরবারে বিশেষ গৌরব ও মর্যাদা অর্জন করেছে।’

তারেক রহমান বলেন, সম্প্রতি সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, দক্ষিণ সুদান এবং মালিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সম্মান সমুন্নত রেখেছেন। তবে এই গৌরবময় অর্জনের পেছনে রয়েছে আত্মোৎসর্গের ইতিহাস।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ সুদানে সংঘটিত ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী সদস্য শহীদ হন। আমি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী সংকটময় মুহূর্তে সেনাবাহিনী যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে, গণতন্ত্রকামী জনগণ সেটি ইতিবাচকভাবেই মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস করি। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো সময়জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর অকুণ্ঠ সহায়তা ছিল মূলত গণতান্ত্রিক বিধি-বিধানের প্রতি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসের অনন্য বহিঃপ্রকাশ। এছাড়াও বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সংকটময় পরিস্থিতিতেও তেল সংরক্ষণাগারগুলোতে দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার অভিযান এবং জুলাই গণজাগরণ ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ যেকোনো জাতীয় সংকটে সেনাবাহিনী সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের পেশাদারিত্ব হারিয়েছিল। সেনাবাহিনীকেও অনাকাঙ্ক্ষিত বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশে সেনাবাহিনীকে পুনরায় নিজেদের যোগ্যতা, দক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব দিয়ে জনগণের আস্থায় থাকতে হবে।

ফিজিক্যাল ফিটনেস তথা নিয়মিত শারীরিক কসরতের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করতে গিয়ে প্রয়াত মার্কিন জেনারেল ‘নরম্যান সোয়ার্জকফ’-এর একটি মন্তব্য বেশ প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জেনারেল এইচ নরম্যান সোয়ার্জকফ বলেছিলেন ‘দ্য মোর ইউ সোয়েট ইন পিস, দ্য লেস ইউ ব্লিড ইন ওয়্যার।’ তাই সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা আর ফিটনেসের ব্যাপারে কোনো পর্যায়েই আপসের সুযোগ নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নির্বাচন পর্ষদের মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাফল্য, গৌরব ও পেশাদারিত্বের ধারাবাহিকতা আরও সুদৃঢ় করবেন। বর্তমান সরকারের দর্শন হচ্ছে, দেশের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

Continue Reading

top1

ইরানে হামলা বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি মার্কিন গণমাধ্যমের

Published

on

By

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের চালানো সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সূত্রের বরাতে এ খবর দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও অ্যাক্সিওস। 

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, টানা ১৩ দিন ধরে চলা হামলার পর যুদ্ধ আরও তীব্র হলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুত বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ওই উদ্বেগ থেকেই হামলা বন্ধ করতে চাইছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার ট্রাম্প তার শীর্ষ উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের পর হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন।

অন্যদিকে দুইজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কেবল সাময়িক বিরতি নাকি দীর্ঘ সময়ের জন্য হামলা বন্ধ থাকবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে আপাতত ইরানে হামলা চালাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র।

অ্যাক্সিওস প্রতিবেদনে বলছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত একদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য আরও সুযোগ তৈরি করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন সফলতা হিসেবে ভাবা হচ্ছে।

তবে সূত্রগুলোর দাবি, প্রয়োজনে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত করছে।

Continue Reading

top1

ভারতে এবার সরকার পতনের ডাক

Published

on

By

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের বর্তমান সরকারকে অপসারণের সময় এসে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরেই তিনি এই মন্তব্য করেন। সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে চলা ব্যাপক ছাত্র আন্দোলনের জেরে শনিবার (২৫ জুলাই) ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।

শনিবার সকালে নয়াদিল্লিতে নিজের ১০ জনপথের বাসভবনে আন্দোলনরত একদল শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা করেন রাহুল গান্ধী। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি গণতন্ত্র, সংবিধান ও নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় রাজপথে নেমে আসা দেশের সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের পথে একটি বিশাল পদক্ষেপ।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সত্ত্বেও রাহুল গান্ধী জানান যে তাদের আরও দুটি দাবি এখনও পূরণ হয়নি। প্রথমত, ভারতের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার্থীদের সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা চাওয়া এবং দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। সমাজের অন্যান্য বঞ্চিত ও নিপীড়িত শ্রেণী—যেমন কৃষক, শ্রমিক ও দরিদ্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজের মর্যাদার জন্য সাংবিধানিক উপায়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকাই প্রকৃত সাহস। এই সরকারকে উৎখাত করার সময় এসে গেছে এবং কাউকে ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবং যন্তর মন্তর ও দেশজুড়ে চলমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো দেশবিরোধী শক্তি যাতে ফায়দা লুটতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এর আগে, অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র মুখপাত্ররা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। তার ঠিক একদিন পরেই এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটে।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর যন্তর মন্তরের মঞ্চ থেকে প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, গত ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তরুণদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, তার ফলেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে। যদিও প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে স্পষ্ট করেছিলেন যে তার ওই মন্তব্য সামগ্রিকভাবে বেকার যুবকদের উদ্দেশ্যে নয়, বরং জাল আইনজীবী ডিগ্রিধারীদের জন্য ছিল এবং গণমাধ্যমে তা ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, তবুও সেই মন্তব্য দেশজুড়ে ভাইরাল হয়েছিল এবং এই বিশাল ছাত্র আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।

Continue Reading

Trending