Connect with us

top1

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন ‘নিখোঁজ’

Published

on

এখন কোথায়? তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের কাছেও তার বিষয়ে হালনাগাদ কোনো তথ্য নেই। তবে ইতোমধ্যে তিনি স্বামীসহ দেশ ছেড়ে সীমান্তের ওপারে (ভারতে) আশ্রয় নিয়েছেন-এমন গুঞ্জন রয়েছে।

তার বিরুদ্ধে হওয়া হত্যা মামলার এক বছরেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা নিতে দ্বিধায় রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর মধ্যে এ নিয়ে টানাপোড়েনও চলছে। স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন শিরীন শারমিন। দেশের ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে (চার মেয়াদ) স্পিকারের আসনে থেকে তিনি হত্যা, গুম, দুর্নীতিসহ হাসিনার সব অপকর্মের বৈধতা দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা পেলে গ্রেপ্তারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। 

হত্যা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ার জন্য তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের দুষছেন। পাশাপাশি কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের পর গোপনে শিরীন শারমিনকে সাধারণ পাসপোর্ট দেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারার ব্যর্থতাও স্বীকার করেছেন কর্মকর্তারা। এ বিষয়েও সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার কথা জানালেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা।

অপরদিকে আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাসহ দুটি সুনির্দিষ্ট মামলা হয়েছে। আদালত মামলা তদন্তের আদেশ দিয়েছে। তদন্তের পিুরো দায়ভার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। তদন্ত শেষ হলেই আদালত পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। এখানে আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গৌণ।

দেশে না বিদেশে-নিশ্চিত নয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

শিরীন শারমিন কোথায়-এ প্রশ্ন ছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার কাছে। আমার দেশকে তিনি বলেন, সাবেক স্পিকারের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অফিসিয়াল তথ্য নেই। তবে যতটুকু জানি তিনি ঢাকাতেই তার ভাইয়ের বাসায় স্বামীকে নিয়ে বসবাস করছেন। তার বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, পাসপোর্ট ছাড়াই তিনি স্থলপথে সীমান্তের ওপারে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এখনো তার বিষয়ে আমরা কোনো ধরনের নির্দেশ পাইনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনের বিষয়টি নীতিনির্ধারক পর্যায়ের। উপর থেকে নির্দেশনা এলে অবশ্যই তার আলোকে কার্যক্রম শুরু করব। তার বিষয়ে আদালতের কোনো পরোয়ানা বা নির্দেশ পেলে অবশ্যই আমরা তা বাস্তবায়নে প্রস্তুত।

শিরীন শারমিনের বিষয়ে সরকারের দুটি গোয়েন্দা সংস্থা ও একটি তদন্ত সংস্থার প্রধানের সঙ্গে কথা বলে আমার দেশ। ঢাকার একটি সুরক্ষিত এলাকায় ভাইয়ের বাসায় স্বামী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে তিনি বসবাস করছেন বলে দাবি করেন একটি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তার বিষয়ে কোনো ধরনের নির্দেশনা নেই বলে জানান তিনি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম দিকে শিরীন শারমিন রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় অবস্থান করছিলেন। ওই সময় তাকে একবার গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে অজ্ঞাত কারণে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিষয়টি জানার পর নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের অন্যতম সুবিধাভোগী ‘পুতুল সংসদের’ এই স্পিকার। ছয় মাস আগে তিনি নিজের ঠিকানা পাল্টে রাজধানীর একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত স্থানে নিকটাত্মীয়ের বাসায় চলে যান। সেখানে অবস্থান করে তিনি নতুন পাসপোর্টের জন্য আঙুলের ছাপ ও ছবি দেন। ওই কাজে তাকে পাসপোর্ট অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা সহযোগিতা করেন।

আত্মগোপনে আছেন এবং আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়ই শিরীন শারমিন নতুন সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে আঙুলের ছাপ এবং আইরিস দেন বলেও নিশ্চিত হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন শাখা। ধানমন্ডির যে ঠিকানা দিয়ে পাসপোর্ট করতে চেয়েছিলেন, সেখানেও তিনি অবস্থান করছেন না বলে সরকারের গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন

অপর একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে শিরীন শারমিনের 

বিষয়ে জানতে লিখিতভাবে প্রশ্ন দেওয়া হয়েছিল আমার দেশ-এর পক্ষ থেকে। সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে তথ্য দিতে অসম্মতি জানিয়েছে। তবে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, ‘কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের পর শিরীন শারমিন সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর পুরোপুরি আত্মগোপনে চলে যান। আমাদের কাছে যতটুকু তথ্য আছে, তিনি এখন দেশে নেই। স্থলপথে পার্শ্ববর্তী দেশে অবৈধভাবে পাড়ি জমিয়েছেন বলে শুনেছি।’

গোয়েন্দা কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

হত্যা মামলার আসামি, এগোয়নি তদন্ত

শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি আমলী আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন দিলরুবা আক্তার। মামলার আরজিতে তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক স্পিকার ও এলাকার সংসদ সদস্য শিরীন শারমিনের নির্দেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তার স্বামী মুসলিম উদ্দিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। মুসলিম উদ্দিন ছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী আর শিরীন শারমিন ওই এলাকার ভোটারবিহীন নির্বাচনে তিনবারের সংসদ সদস্য ছিলেন।

মামলার আরজিতে আরো বলা হয়, ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিটি বাজার এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষ হয়। সেখানে মুসলিম উদ্দিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

মামলার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাদী দিলরুবা আক্তার আমার দেশকে বলেন, আমার স্বামীকে হত্যার ঘটনায় আমি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মামলা করেছি। মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনকে আসামি করা হয়েছে। হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে রংপুরে যে আন্দোলন হয়, শিরীন শারমিন তা দমন করতে আওয়ামী লীগ ও পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে দিলরুবা জানান, শুনেছি শিরীন শারমিন ঢাকায় আছেন। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিতে দেওয়া হলেও কেউ আমার সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করেনি। মামলার তদন্ত হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও কিছু বলতে পারছি না। আমি বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাইনি। আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই। বিচার করতে এ সরকার ব্যর্থ হলে আমি কোথায় গিয়ে বিচার পাব?

মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে সিআইডির ইন্সপেক্টর সামিউল আলম আমার দেশকে জানান, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নামে করা দিলরুবা বেগমের মামলাটি সিআইডির পক্ষ থেকে আমি তদন্ত করছি। তদন্ত অনেকদূর এগিয়েছে। আশা করি দ্রুত কোর্টে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে। তবে মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

হাসিনার আস্থায় চার মেয়াদের স্পিকার

হাসিনার নির্দেশের যথাযথ প্রতিপালন করে টানা চারবার স্পিকারের আসনে বসতে পেরেছেন নোয়াখালীর মেয়ে ড. শিরীন শারমিন। হাসিনা ১৫ বছরে যত অপরাধ করেছেন তার আইনি অনুমোদন দিয়ে সমান অপরাধ করেছেন তিনিও। এমনটিই মনে করছেন নোয়াখালীর আরেক সন্তান এবং সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার খোকন আমার দেশকে বলেন, শিরীন শারমিন আমাদের আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন। জাতীয় সংসদের দীর্ঘ সময়ের স্পিকার হিসেবে হাসিনার সব অপশাসনের বৈধতা দিয়েছেন। তিনি এখন একটি হত্যা মামলার আসামি। আশা করব আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করবেন। আত্মগোপনে থেকে কিংবা পালিয়ে গিয়ে তিনি আইনকে অশ্রদ্ধা করছেন।

শিরীন শারমিনের সহকর্মী আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি (শিরীন শারমিন) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমিরুল ইসলামের জুনিয়র হিসেবে কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে আসেন শিরীন শারমিন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে ২০১৩ সালে ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন তিনি। নবম জাতীয় সংসদের অবশিষ্ট মেয়াদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দেশের ইতিহাসে সংরক্ষিত আসন থেকে তিনিই প্রথম স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন।

প্রার্থী ও ভোটারবিহীন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি নিজ এলাকা নোয়াখালী কিংবা দেশের অন্য কোনো আসন থেকে নির্বাচন করেননি। ওই নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তার ছেড়ে দেওয়া রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসন থেকে শিরীন শারমিনকে উপনির্বাচনে বিজয়ী করে আনেন। সূত্র জানিয়েছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন ও সংসদ গঠনের আগেই একই দিনে শিরীন শারমিনের প্রার্থিতা বাছাই, বিজয়ী ঘোষণা ও প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। পরদিন তিনি ডেপুটি স্পিকারের কাছে শপথ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো স্পিকারের আসনে বসেন। ওই উপনির্বাচনে দ্বিতীয় কাউকে প্রার্থী হতে দেওয়া হয়নি বলেও ওই সময় অভিযোগ ওঠে।

রাতের ভোট হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের একই আসন থেকে শিরীন শারমিন আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তৃতীয়বারের মতো স্পিকারের দায়িত্ব নেন। ২০২৪ সালের ডামি ভোট হিসেবে খ্যাত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়ে চতুর্থবারের মতো স্পিকারের দায়িত্ব পান তিনি।

হাসিনা পালালেও পদ আঁকড়ে থাকার চেষ্টা

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণভবন থেকে হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার সময়ও শিরীন শারমিন জাতীয় সংসদে নিজ দপ্তরে ছিলেন বলে জানা গেছে। প্রধান বিচারপতিসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিতরা পদত্যাগ করলেও তিনি পদ আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করেন।

শেষ পর্যন্ত হাসিনার পলায়নের ২৭ দিনের মাথায় অর্থাৎ ২ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত স্থান থেকে বাহকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান শিরীন শারমিন। রাষ্ট্রপতি ওই দিনই তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগপত্রটি রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা কার্যকর হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

হাসিনা পালিয়ে যাবেন-এটা বিশ্বাসই করতেন না

স্পিকারের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন এক কর্মকর্তা আমার দেশকে জানান, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরশাসক হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত শিরীন শারমিন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার বাসভবনেই ছিলেন। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবেন কিংবা পালাতে পারেনÑএমনটা কখনোই বিশ্বাস করতেন না তিনি। দুপুরের দিকে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠলেও তাকে বিচলিত দেখা যায়নি। ওই দিনও তিনি সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশের লেকপাড়ের বাসায় বসে দাপ্তরিক কাজ করেন এবং কিছু জরুরি ফাইলে সই করেন।

সংসদ এলাকা থেকে স্পিকারের পলায়নের বর্ণনা দিয়ে ওই কর্মকর্তা জানান, দুপুরের পর হাজার হাজার ছাত্র-জনতা গণভবন ও সংসদ ভবন অভিমুখে রওনা হওয়ার তথ্য তাকে জানানো হয়। এর পরই তিনি তড়িঘড়ি করে গানম্যান ও প্রটোকল রেখে ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়ে সংসদ এলাকা ত্যাগ করেন। ১২ বছরের আবাসন ত্যাগ করার সময় ওই গাড়িতে স্বামী সৈয়দ ইশতিয়াক হোসাইন ও ছোট ছেলে সঙ্গে ছিলেন।

গোপনে পাসপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকার ৫ আগস্টের পর শিরীন শারমিনসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ পাসপোর্ট বাতিল করে। এর পরপরই তিনি বিকল্প উপায়ে পাসপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট শাখার এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী গত বছরের ৩ অক্টোবর সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন ও তার স্বামী সৈয়দ ইশতিয়াক অনলাইনে ঢাকার আগারগাঁওয়ে পাসপোর্ট অফিসে সাধারণ ই-পাসপোর্ট পেতে আবেদন করেন। তারা রাজধানীর ধানমন্ডির ১৬ নম্বর সড়কের একটি বাড়ির ৪-ই নম্বর ফ্ল্যাটকে ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করলেও অজ্ঞাত স্থান থেকে আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিসের ছবি দেন। এসব কাজ অতিগোপনে সম্পন্ন হয়।

নতুন পাসপোর্টের আবেদন বাতিল করা হয়েছে জানিয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট শাখার ওই কর্মকর্তা জানান, অজ্ঞাত স্থান থেকে আবেদন করে পাসপোর্ট অফিসে না গিয়ে আঙুলের ছাপ ও ছবি দিয়ে ই-পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য শিরীন শারমিন ও তার স্বামীর অনলাইনে করা আবেদন আমরা বাতিল করে দিয়েছি। ওই আবেদনের ভিত্তিতে তারা পাসপোর্ট পাবেন না। তবে এর সঙ্গে অবশ্যই পাসপোর্ট অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত। তাদের চিহ্নিত করতে আমরা কাজ করছি।

যা বলছে আইন মন্ত্রণালয়

হত্যা মামলার আসামি হয়েও শিরীন শারমিনের গ্রেপ্তার না হওয়া প্রসঙ্গে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করে আমার দেশ। তার দপ্তর থেকে জানানো হয়, বিষয়টি এখন আদালত ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারাধীন। আদালত তদন্তের আদেশ দিয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষে প্রতিবেদন পেশ করা হলে আদালত পরবর্তী আদেশ দেবে। এখানে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো ভূমিকা নেই।

আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে যেসব হত্যা মামলা করা হয়, সেগুলোর বিষয়ে সরকারের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্দেশে সংঘটিত হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা ব্যতীত) বিচার হবে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে।

এছাড়া হত্যাসহ অপরাপর গুরুতর অপরাধের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার প্রসিকিউশনের কার্যক্রম সুষ্ঠু ও গতিশীল করার লক্ষ্যে কাজ করবে বিশেষ কমিটি। এ ধরনের মামলার মধ্যে যেসব মামলায় চার্জশিট দাখিল হয়েছে, সেসব মামলায় প্রসিকিউশনের কার্যক্রম পরিচালনায় বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করবে এবং উক্ত সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে কমিটি প্রয়োজনীয় সুপারিশ সরকারের নিকট প্রেরণ করবে।’

শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সদস্য মো. শহিদ উল্লাহ আমার দেশকে বলেন, সাবেক স্পিকারের বিষয়ে আমরা লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনব।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

ইসরায়েলে ক্লাস্টার বোমা হামলা চালিয়েছে ইরান

Published

on

By


ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্লাস্টার বোমা বা গুচ্ছ বোমার ‘সাব-মিউনিশন’ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, মঙ্গলবার ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলীয় এক এলাকায় ওই বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ওই এলাকায় এক ডজনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তেল আবিবের জেলা কমান্ডার হাইম সারগারফ বলেছেন, দেশের মধ্যাঞ্চলের একাধিক স্থানে ক্লাস্টার বোমা হামলার খবর পাওয়া গেছে। হামলায় অনেকে আহত এবং কিছু ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছিল, ইসরায়েলে ক্লাস্টার বোমা সমৃদ্ধ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। গত বছরের জুনের যুদ্ধেও ইরান একই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছিল বলে জানিয়েছে আইডিএফ।

ক্লাস্টার বোমা বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র নিচে নামার সময় এর মূল অংশ কিংবা ওয়ারহেড খুলে যায় এবং প্রায় ৮ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ২০টি ছোট ছোট বোমা ছড়িয়ে দেয়। প্রতিটি ক্ষুদ্র বোমায় প্রায় আড়াই কেজি (৫.৫ পাউন্ড) বিস্ফোরক থাকে।

আইডিএফ বলেছে, ক্লাস্টার বোমা হামলার ক্ষেত্রে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনায় আপাতত কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলেছে, ‌‌‘‘ইসরায়েলি তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল এবং জরুরি সেবা সংস্থার একাধিক ইউনিট বর্তমানে মধ্যাঞ্চলে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে কাজ করছে। হামলার পর সেখানকার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’

ইসরায়েলি চিকিৎসকরা বলেছেন, ইরানের সর্বশেষ এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ১২ জন সামান্য আহত হয়েছেন।

Continue Reading

top1

১০ মার্চ কড়াইল বস্তিতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

Published

on

By

১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এমন তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ বি এম জাহিদ হোসেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর ১০ মার্চ বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বগুড়া-৬ (সদর) আসনের আসন্ন উপনির্বাচনের কারণে তার বগুড়া সফর স্থগিত করা হয়েছে।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, ১০ মার্চের কর্মসূচিটি স্থগিত করা হয়েছে এবং পরে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।

জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন চলায় ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী কোনো কর্মসূচি রাখেননি।

Continue Reading

top1

অটোপাসের আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না: শিক্ষামন্ত্রী

Published

on

By

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, মেধাভিত্তিক জাতি গঠনের জন্য পরীক্ষার সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। অটোপাসের আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা নিয়ে সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় ‘ডিজিটাল ডিভাইসের’ মাধ্যমে নকল প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

সভায় মন্ত্রী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো ফের তদন্ত করে হালনাগাদ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী নির্দেশনা দেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় পরীক্ষার্থীদের যথাযথভাবে বডি সার্চ নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে নকল প্রতিরোধ জোরদার করতে হবে। পরীক্ষা চলাকালে কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্ন বা প্রশ্নসংক্রান্ত কোনো কনটেন্ট আপলোড হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রের টয়লেটে নকল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা হবে। নকল প্রতিরোধে দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলায় মোটিভেশনাল মিটিং আয়োজন করা হবে।

তিনি ব্যবহারিক পরীক্ষায় গড় নম্বর দেয়ার প্রচলিত প্রথা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Continue Reading

Trending