Connect with us

অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য

সিরাজগঞ্জে বিসিক শিল্পপার্কে অনিশ্চয়তায় চীনা প্রকল্প, হতাশায় দেশীয় উদ্যোক্তারা

Published

on

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্কে চীনা উদ্যোক্তাদের জন্য ৫৫০টি প্লট এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য প্রায় ২৭৯ প্লট বরাদ্দ নির্ধারণ করে বিসিক শিল্প পার্ক কর্তৃপক্ষ।
তথ্য বলছে, দেশীয় উদ্যোক্তাদের নিকট গত বছর ২৮ জুন অধিকাংশ প্লট হস্তান্তর করা হলেও চীনা উদ্যোক্তারা আজও বুঝে নেয়নি প্লট।
দেশীয় উদ্যোক্তারা প্লট বরাদ্দ পেলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পূর্ণ না হওয়ায় আজও শুরু করতে পারেনি শিল্প কারখানা স্থাপন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক ঋণ ও প্লট বরাদ্দের কিস্তি পরিশোধ করে কারখানা স্থাপনে বিলম্ব হওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

এদিকে চীনা উদ্যোক্তাদের জন্য নির্ধারিত প্লট বরাদ্দ নিয়ে সিরাজগঞ্জ শিল্প পার্কে সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিরন্ময় বর্দ্ধন বলেন, এবিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।ভিজুয়াল বক্তব্য দেওয়া নিষেধ রয়েছে। ভিজুয়াল বক্তব্য বিষয়ে আঞ্চলিক পরিচালক জাফর বায়োজিদ সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
এবিষয়ে আঞ্চলিক পরিচালক জাফর বায়োজিদ জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিষেধ রয়েছে বক্তব্য প্রদানে। আপনাকে হিরন্ময় বর্দ্ধন বক্তব্য দিতে পারবে না। এসময় তিনি আরও জানান, যারা এখনও শিল্প পার্ক স্থাপন করেনি, অতিদ্রুত শুরু না করলে, তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হবে।

এসময় দেশীয় উদ্যোক্তা রনি জানায়, কেবল ৮টি শিল্প প্রতিষ্ঠান কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করেছে, নেই স্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ। পানি, গ্যাস সংযোগ কোনো ব্যবস্থা নেই, প্লট গুলোর মাটির কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। আগামী চার বছরেও কারখানা চালু করতে পারব কিনা বলতে পারছি না। ব্যাংক ঋণ ও প্লট বরাদ্দের কিস্তি পরিশোধ করে কারখানা স্থাপন করে উৎপাদনে যাব এনিয়ে খুব চিন্তায় আছি।

সূত্র বলছে, স্থানীয় উদ্যোক্তারা রয়েছে চরম হতাশায়। গত বছর ঘটা করে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিসিক শিল্প পার্কের উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্লট বরাদ্দ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু একটা সময় চীনা কোম্পানির সঙ্গে একটা সময় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলেও, সম্প্রতিক সময়ে আর কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি বিসিক কর্তৃপক্ষ।

বিসিক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের কাছে বর্তমানে চীনা উদ্যোক্তাদের কি অবস্থা, তাদের সঙ্গে প্লট বরাদ্দের কোনো চুক্তি হয়েছিল কিনা, যদি না করা হয়ে থাকে, তাহলে বর্তমান অগ্রগতি কি?
প্রশ্ন করা হলে, তিনি জানান, একটা সময় তাদের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছিল, এ জন্য প্লট নির্ধারণ ছিল। তাঁরা প্লট নিবে কিনা, এজন্য মন্ত্রনালয়ে সিদ্ধান্তের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে, এরপর সিদ্ধান্ত। আমরা তাদের সঙ্গে পুনঃরায় যোগাযোগের চেষ্টা করছি। তাঁরা যদি প্লট না নেয় তাহলে দেশীয় উদ্যোক্তাদের দেওয়া হবে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্কের প্লট এলাকা গর্ত গর্ত হয়ে আছে, রাস্তা, ড্রেন নির্মাণে অনিয়ম, নক্সসার ত্রুটিতে ২০ একর পুকুর ঠিক মতো না থাকায় পড়ে আছে, কয়েক দফা দরপত্র আহ্বান করেও ইজারা হয়নি, প্রকল্প শেষের দুই বছরেও হয়নি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ লাইন।

সূত্র জানায়, ফ্যাসিস্ট  আমলের প্রভাবশালী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরাফাত কনস্ট্রাকশনসহ একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-দুর্নীতি সত্ত্বেও শতভাগ বিল দেয়া হয়; এতে প্রকৌশল বিভাগের পরিচালক আব্দুল মতিন ও প্রকল্প পরিচালক জাফর বায়েজিদের যোগসাজশের বিষয়টি উঠে আসছে বলে বিসিকের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। শিল্প পার্ক নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির নানা তথ্য উঠে আসলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ইউনুস সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া বিসিক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামও। সূত্র বলছে, বিসিক চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় থাকায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি বিসিক কর্তৃপক্ষ।

তবে অনুসন্ধান বলছে, ২০২৪ সালে শিল্প পার্কের নির্মাণ কাজ নিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। যেখানে হেরিংবন্ডে নিম্নমানের অর্ধাংশ ইট ব্যবহার, নিম্নমানের ইট দিয়ে খোয়া তৈরি, টেন্ডার শর্তের বাইরে কাজ করা, কার্পেটিংয়ের কাজ ৭৫ মিঃলিঃ ধরা থাকলেও কোথাও ৬০ মিঃলিঃ থেকে সর্বোচ্চ ৬৫ মিঃলিঃ কার্পেটিং করার বিষয়টি উঠে আসে। সেসময় সাববেজের মান নিয়েও নানা অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। প্রায় শত কোটি টাকার রাস্তা বছরের ব্যবধানে ব্যবহারের আগেই পিচের রাস্তা উঠে যাচ্ছে ।
২০২৪ সালের জুন মাসে প্রায় ২‘শ কোটি টাকার বিল দেয় বিসিক কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তদন্তে নামে দুদক এবং বিসিক। দুর্নীতি দমন কমিশন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে। তবে ওই তদন্ত নিয়েও কিছু জানা যায়নি। ২০২৫ সালের ১৬ আগষ্ট বিসিক শিল্প পার্কের প্রধান পরিচালক আব্দুল মতিন ও বিসিক শিল্প পার্কের একাধিক কর্মকর্তা, প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এসময় তাকে বিসিকের ড্রেন, ড্রেনে ব্যবহৃত মালামাল, রাস্তার পুরুত্ব, রাস্তায় ব্যবহৃত মালামাল ও প্রকল্প এলাকার বালু ব্যবহার করে সাববেজ ও সোলডারের কাজ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এসময় তড়িঘরি করে গাড়িতে উঠে চলে যান।
সূত্র জানায়, ২০২০- ২০২১ অর্থ বছরে ড্রেন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান খান ও রাস্তা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স লিঃ নির্দিষ্ট সময়ে কাজ বাস্তবায়ন না করার কারণে প্রায় ২০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। যদিও তা আজও আদায় করতে পারেনি বিসিক।

যমুনা সেতুর পশ্চিম পাশে সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলী, পশ্চিম মোহনপুর, বনবাড়িয়া, বেলটিয়া ও মোরগ্রাম মৌজার অংশ নিয়ে প্রায় ৪০০ একর জমিতে বিসিক শিল্প পার্কটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। কয়েক দফায় সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি করতে করতে সর্বশেষ প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ৭১৯ কোটি ২১ লক্ষ টাকা। শিল্প পার্কের ৮২৯টি প্লটে কমপক্ষে ৫৭০টি শিল্প স্থাপনের কথা রয়েছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

চাল আমদানির গুজবে আশুগঞ্জে ধান-চালের বাজারে ধস

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

ভারত থেকে চাল আমদানির গুজব এবং সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের ধীরগতির প্রভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ মোকামে ধান ও চালের বাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন হাওরাঞ্চলের কৃষক ও ধান-চাল ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন ধরনের ধানের দাম প্রতি মণে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে চালের বাজারেও। প্রতি মণ চালের দাম কমেছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। দাম আরও কমতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেক চাতালকল মালিক ধান কেনা কমিয়ে দিয়েছেন।

সরেজমিনে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চল থেকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা নৌপথে ধান নিয়ে আশুগঞ্জ মোকামে বিক্রি করতে আসেন। আশুগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৫০টি অটো ডায়ার ও দেড় শতাধিক চাতালকল রয়েছে। এসব মিলের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ হাজার মণ ধান বেচাকেনা হয়। এখানকার ধান থেকে উৎপাদিত চাল সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চাল আমদানির গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক মিল মালিক ধান কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে মোকামে ধানের বেচাকেনা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থেকে ধান নিয়ে আসা কৃষক মিলন চন্দ্র দাস জানান, তিনি প্রতি মণ ধান ১ হাজার ১৫০ টাকা দরে কিনেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে বাজারে দাম ৭০০ টাকা বলা হচ্ছে। তিন দিন ধরেও তিনি ধান বিক্রি করতে পারেননি।

মিঠামইনের ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া বলেন, হাওর থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা মণ দরে ধান কিনে এনে এখন ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রতিদিন নৌকা বসিয়ে রাখতে প্রায় ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় বাধ্য হয়ে লোকসানে ধান বিক্রি করছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা চাতালকল মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান ইমরান বলেন, বর্তমানে ধান থেকে চাল উৎপাদন করেও লোকসান গুনতে হচ্ছে। মিলগুলোতে পর্যাপ্ত চাল মজুত থাকলেও প্রতি মণ চাল ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।

আশুগঞ্জ উপজেলা চাতালকল সমিতির সভাপতি ও ধান ব্যবসায়ী হাজী মো. শাহজাহান সিরাজ বলেন, চাল আমদানির গুজবের কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অবিক্রিত চালের মজুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক মিল মালিক ধান কেনা কমিয়ে দিয়েছেন, যার প্রভাব পড়েছে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ওপর।

তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক নূর আলী বলেন, এলসির মাধ্যমে ভারত থেকে চাল আমদানি করা হচ্ছে—এমন তথ্য সঠিক নয়, এটি সম্পূর্ণ গুজব। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

Continue Reading

top3

মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, তিন কোম্পানির জ্যাম ও কেক বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

Published

on

By

বাণিজ্য ডেস্ক

মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের অভিযোগে তিনটি কোম্পানির নির্দিষ্ট জ্যাম ও কেকজাতীয় খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএফএসএ জানায়, ইস্ট কেক ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেডের ‘ইষ্ট কেক পুর পিঠা জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’, ইষ্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ‘ইষ্ট বেকার স্লাইস ব্রেড মিল্ক জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’ এবং আরবোটিং ফুড কোম্পানি লিমিটেডের ‘আরবোটিং ফুড স্লাইস ব্রেড মিক্স জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’ বাজার থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।

সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব পণ্যের বিপণনও বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ভোক্তাদের এসব খাদ্যপণ্য ক্রয় বা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩ জুলাই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ইস্ট বেকারিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছিল।

Continue Reading

অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য

দেশে স্বর্ণের দামে পতন, ভরি কত

Published

on

By

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ মূল্য সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের বিদ্যমান নীতিমালাই বহাল থাকবে।

এর আগে, গত ১০ জুলাই স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা। ওই মূল্যও কার্যকর হয়েছিল ১০ জুলাই সকাল ১০টা থেকে।

সবশেষ এই সমন্বয়ের মাধ্যমে চলতি বছরে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৯০ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ বার দাম বেড়েছে, ৪৫ বার কমেছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল; এর মধ্যে ৬৪ বার বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমিয়েছে বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম মোট ৫৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ বার দাম বেড়েছে এবং ২৮ বার কমেছে। আর ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল; এর মধ্যে ১০ বার বেড়েছিল এবং ৩ বার কমেছিল।

Continue Reading

Trending