Connect with us

top1

স্লো পয়জনিং করা হয়েছিল খালেদা জিয়াকে

Published

on

কারাগারে থাকা অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। বিভিন্ন সময় দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা এ দাবি করেছেন।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর মির্জা ফখরুল প্রথমবারের মতো ‘স্লো পয়জনিং’ নিয়ে কথা বলেন। সে সময় তিনি প্রশ্ন রেখেছিলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে স্লো পয়জন দেওয়া হয়েছিল কি না?

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ প্রশ্ন তুলেছিলেন।

সেখানে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বয়স ৭৫ বছরের বেশি। তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিতে ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে যে চক্রান্ত শুরু হয়েছিল, সেই চক্রান্তের অংশ হিসেবে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে দুই বছরের বেশি সময় আটক রাখা হয়েছিল। স্যাঁতসেঁতে কারাগারের কক্ষে ইঁদুর ঘোরাঘুরি করত। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এখন অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, সেই সময়ে খালেদা জিয়াকে কোনো স্লো পয়জনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল কি না, আমরা পরিষ্কার করে জানতে চাই। তাদের পক্ষে কিছুই অসম্ভব নয়। ডাক্তাররা বলছেন আমাদের সব বিদ্যা, জ্ঞান শেষ; আমরা এখানে আর কিছু করতে পারব না।

এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পলায়নের পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ধামরাইয়ে বিএনপির সমাবেশে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেন, স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, তিনি ওই কারাগারে থাকা অবস্থায় তাকে স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তারপরে তার শরীর খুব খারাপ হয়ে যায়। ভয়াবহ অত্যাচার-নিপীড়ন থেকে আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও রেহাই পান নাই। তাকে মিথ্যা সাজা দিয়ে মিথ্যা মামলাতে সাজা দিয়ে ছয় বছর বন্দি করে রেখেছে। দুই বছর পুরনো ঢাকার সেই কারাগারে একটা ঘরের মধ্যে বন্দি করে রেখেছিল। তারপর দুই বছর হাসপাতাল রেখেছিল বন্দি করে। আর দুই বছর বাড়িতে বন্দি করে রেখেছে।

এ বছরের ২৯ নভেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসও খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছিল বলে দাবি করেন। রাজধানীতে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ দাবি করেন।

তিনি বলেন, ভারতীয় এক সাংবাদিক ঢাকায় এসেছিলেন। যখন আমার সঙ্গে দেখা হয় তখন তিনি বলেন, আমরা কী নিয়ে লাফালাফি করছি, উনি (খালেদা) তো বাঁচবেন না দুই বছরও। আমি বললাম কেন? তিনি বললেন, ওভাবেই ডিজাইন করা আছে। অর্থাৎ এমন করে ডিজাইন করা হয়েছে, উনি ধীরে ধীরে মৃত্যুবরণ করবেন।

তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়ার আজকের অসুস্থতা স্বাভাবিক কিছু নয়। তিনি অস্বাভাবিক পরিস্থিতির শিকার হয়ে এমন অসুস্থ হয়েছেন। বিগত সরকারের সময় কারাগারে থাকা অবস্থায় আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছিল

গত ৪ ডিসেম্বর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনও একই দাবি করেন। তিনি নরসিংদী শিশু একাডেমিতে এক মতবিনিময় সভায় বলেন, খালেদা জিয়া সুস্থ অবস্থায় কারাগারে গিয়েছিলেন। তাকে ব্রিটিশ আমলের জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত কারাগারে নিয়ে রাখা হয়। যেখানে মানুষ থাকার কোনো পরিবেশ ছিল না, পোকামাকড়ের আশ্রয়স্থল ছিল। সেখানে রেখে তাকে স্লো পয়জনিং করে ও মানসিক যন্ত্রণা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তাকে ছয়টি বছর বিনা অপরাধে জেলে আটকে রাখা হয়েছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে বেনজীরের প্রয়োজনীয় নথিপত্র

Published

on

By

দুবাইয়ে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্যে তার বিরুদ্ধে মামলাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র মঙ্গলবার (১৬ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ছয়টি মামলার মধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে করা একটি মামলায় আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলাম ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে আবেদন করে উল্লেখ করেন, বেনজীর বিদেশে অবস্থান করছেন এবং বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতার করা প্রয়োজন। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

আদালতের আদেশ পাওয়ার পর ১২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে আবেদন করেন। আবেদনে গ্রেফতারি পরোয়ানা, মামলার বিবরণ, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংযুক্ত করে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা বিষয়টি ইন্টারপোলে পাঠায়। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারপোল। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডাটাবেজে তার তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয় এবং পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের নজরে আসেন তিনি।

দুদক জানিয়েছে, দুবাইয়ে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এখন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী, গ্রেফতারের ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ প্রত্যর্পণের আবেদন জমা দিতে হবে। এ কারণে দুদক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তর সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আজ বেনজীর আহমেদের মামলাসংক্রান্ত সব প্রয়োজনীয় নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে।

Continue Reading

top1

ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে নেতানিয়াহুর, চাপে ইসরায়েল

Published

on

By

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রীতিমতো বাজি ধরেছিলেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সমন্বিত যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল কিংবা উৎখাত করবেন।

একইসঙ্গে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সখ্যতা আসন্ন নির্বাচনের আগে তাকে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। ওয়াশিংটন-তেলআবিব জোট মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতাই বদলে দেবে বলেও তার প্রত্যাশা ছিল।

কিন্তু বাস্তবতার গতিপথ ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। এখন ইসরায়েলের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র ট্রাম্পের সঙ্গেই মতবিরোধের পথে হাঁটছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যুদ্ধের শুরুতে উভয় পক্ষ যে লক্ষ্যগুলোর কথা বলেছিল, তার সিংহভাগই এখন অর্জিত হয়নি। একইসঙ্গে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানও জটিল অবস্থায় আটকে আছে।

আপাতত, এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছেন। কারণ তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ট্রাম্প যেন অসন্তুষ্ট না হন। অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমালোচকদের বিষয়ে বরাবরই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, প্রাথমিক চুক্তিটি ‘ইসরায়েলের জন্য ভয়াবহ’। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সেনাপ্রধান পর্যন্ত ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের কেউই এটিকে ভিন্নভাবে দেখছেন না।

যদিও ওয়াশিংটনের দাবি, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উদ্বেগ, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার পথ তৈরি হবে।

তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, আলোচনার সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইসরায়েলের উদ্বেগগুলো অমীমাংসিত থেকেই যাবে এবং দেশটি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতার মুখে পড়বে।

লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান সীমিত করতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের মধ্যে বারবার মতবিরোধ হয়েছে। অথচ যুদ্ধবিরতি ছিল ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি।

চলতি মাসের শুরুতে এক উত্তপ্ত ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ বলে অভিহিত করেন। একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলাকালে বৈরুতে হামলা না করার নির্দেশ দেন। সেদিন নেতানিয়াহু হামলা স্থগিত করলেও এক সপ্তাহ পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরে আবারও আক্রমণ চালান। ইসরায়েলের দাবি, এর জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পরে ট্রাম্প উভয় পক্ষকেই প্রকাশ্যে তিরস্কার করেন।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচু্ক্তিতে বাগড়া ইসরায়েলের, জোরালো আক্রমণের ঘোষণা

রোববার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েল আবারও বৈরুতে হামলা চালায়। এর আগে লেবানন থেকে ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছিল। ট্রাম্প ওই হামলাকে ‘ছোট ও অর্থহীন’ বলে বর্ণনা করেন।

পরদিন রাতে জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, দৃঢ় ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের কারণে ইসরায়েল এখন ‘শক্তিশালী ও স্থিতিশীল’। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার মাঝে মাঝে মতপার্থক্য হয়েছে।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। অনেক বিষয়ে আমাদের মত এক হয়, আবার কিছু বিষয়ে ভিন্নতাও থাকে। আমি ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার দায়িত্বে আছি।’

নির্বাচনের আগে বাড়ছে চাপ

আসন্ন শরতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে নেতানিয়াহুর পরাজয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি ট্রাম্পের অবস্থান উপেক্ষা করতে আরও আগ্রহী হতে পারেন। কারণ জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ইসরায়েলি জনগণের একটি বড় অংশ এখন দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে সন্দিহান।

বারাক এইচ ওবামা প্রশাসনের সময়ে ইসরায়েলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড্যান শ্যাপিরো বলেন, ‘এটি স্বার্থগত বিভেদের একটি অত্যন্ত স্পষ্ট মুহূর্ত’।

বর্তমানে আটলান্টিক কাউন্সিলের এই গবেষক বলেন, নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে চুক্তির বিরোধিতা করে ট্রাম্পের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চাইবেন না। তবে তিনি ইঙ্গিত দেবেন যে, ইসরায়েল এ চুক্তি মানতে বাধ্য নয় এবং প্রয়োজনে নিজস্ব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।

ইসরায়েল ইতোমধ্যে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতায় তারা বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে না।

শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও এর বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, এতে লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে সেনা মোতায়েন বজায় রাখবে এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘অপারেশনাল স্বাধীনতা’ ধরে রাখবে।

তিনি বলেন, ইরান চেয়েছিল আমরা সেখান থেকে সরে আসি। কিন্তু আমি সেই অবস্থান মেনে নেইনি। আমরা আমাদের কার্যক্রম পরিচালনার স্বাধীনতা বজায় রাখছি এবং উত্তরাঞ্চলের নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা বলয়ও ধরে রাখছি।

ইসরায়েলের উদ্বেগ কাটছে না

অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ পুনরায় খুলে যাবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যত ৬০ দিনের আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধের শুরুতে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প উভয়েই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দমন এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থন বন্ধ করাকে যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু এসব বিষয় বর্তমান আলোচনার আনুষ্ঠানিক এজেন্ডায় নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

তিনজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের ধারণা ৬০ দিনের চুক্তির মেয়াদ ৯০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে বৃহত্তর সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলজুড়ে তার সামরিক উপস্থিতিও বজায় রাখবে।

আরও দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ট্রাম্প যখন প্রথমবারের মতো বলেন যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, তখন ইসরায়েল বিস্মিত হয়েছিল। তাদের মতে, আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে ইসরায়েল খুব কমই সফল হয়েছে।

সব কর্মকর্তাই পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কথা বলেছেন, কারণ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার অনুমতি তাদের ছিল না।

‘এই চুক্তি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করা কঠিন’

ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামা ও জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ও নেতানিয়াহু একাধিকবার ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়েছিলেন। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি ভোটারদের কাছে নিজেকে রিপাবলিকান ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে দক্ষ নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর করে এবং আব্রাহাম চুক্তিকে সমর্থন দেয়। এর মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। একই সময়ে ট্রাম্প ওবামা আমলের ইরান পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেন, যেটিকে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল বলে সমালোচনা করে আসছিল।

২০১৯ সালের নির্বাচনে নেতানিয়াহু তেলআবিব ও জেরুজালেমে বড় বড় বিলবোর্ড টাঙিয়েছিলেন। সেখানে তাকে ট্রাম্পের সঙ্গে হাসিমুখে করমর্দন করতে দেখা যায়। তবে বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জোনাথন রাইনহোল্ডের মতে, বর্তমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নেতানিয়াহুর সেই রাজনৈতিক সুবিধাকেই দুর্বল করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, নেতানিয়াহু এই চুক্তি ইসরায়েলি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারবেন না। সর্বোচ্চ তিনি আশা করতে পারেন, আলোচনা ব্যর্থ হবে এবং ৬০ দিনের মধ্যে ইসরায়েলের অনুকূলে যুদ্ধ আবার শুরু হবে।

ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের শুক্রবার প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৪১ শতাংশ ইহুদি ইসরায়েলি মনে করেন, ট্রাম্পের কাছে তাদের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। গত মার্চ মাসে এ হার ছিল ৬৪ শতাংশ।

এদিকে ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, ইরান যদি তার পারমাণবিক বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করে, তবে ইসরায়েল একাই ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ইরান যদি তার পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনরায় চালুর চেষ্টা করে, আমরা সেখানে থাকব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

Continue Reading

top1

‘ব্রাজেন্টিনা’ দিয়ে অভিনয়ে নামছেন ফুটবলার জামাল ভূঁইয়া, নায়িকা কে

Published

on

By

সবুজ গালিচার পর এবার ক্যামেরার সামনে নতুন রূপে হাজির হচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘ব্রাজেন্টিনা’ নামের আট পর্বের একটি ওয়েব সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। সোমবার রাজধানীর কলাবাগান মাঠে সিরিজটির শুটিং শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ জুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিনে এটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

তারিক মুহাম্মাদ হাসানের পরিচালনায় এই সিরিজে জামাল ভূঁইয়ার বিপরীতে অভিনয় করছেন তাসনুভা তিশা। এছাড়া বিভিন্ন চরিত্রে রয়েছেন শরাফ আহমেদ জীবন, লামিমা লাম, সহিদ উন নবী এবং ইশতিয়াক আহমেদ।

এর আগে টুকটাক বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করলেও ওয়েব সিরিজ বা নাটকে এটাই জামাল ভূঁইয়ার প্রথম অভিনয়। নতুন এই জগতে পা রাখা নিয়ে শুরুতে বেশ দ্বিধায় ছিলেন তিনি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক জানান, চার বছর আগেও পরিচালক তাকে নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সে সময় ব্যস্ততার কারণে রাজি হননি। এবারও শুরুতে প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তবে পরিচালকের আগের কাজগুলো দেখে এবং সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি শেষ পর্যন্ত অভিনয়ে রাজি হন।

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে জামাল ভূঁইয়া বলেন, পুরো বিষয়টি তার কাছে জাদুকরি মনে হলেও কাজটিকে বেশ কঠিন বলেই মনে করছেন তিনি। পেশাদার অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করাটা তার কাছে চ্যালেঞ্জিং হলেও তিনি তা উপভোগ করছেন। কাকতালীয়ভাবে কলাবাগানের যে মাঠে সিরিজটির শুটিং চলছে, সেখান থেকেই নিজের ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন এই তারকা মিডফিল্ডার।

এদিকে প্রথম দিনের শুটিংয়ে ফুটবল অধিনায়কের কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নির্মাতা। তিনি জানিয়েছেন, অভিনয়ে নতুন হলেও জামাল ভূঁইয়ার আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। প্রতিটি দৃশ্য খুব আগ্রহ নিয়ে বোঝার পাশাপাশি খুব দ্রুত অভিনয়ের ভাষা আয়ত্ত করে নিচ্ছেন তিনি।

সিরিজটির গল্প প্রসঙ্গে পরিচালক তারিক মুহাম্মাদ হাসান জানান, বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় দর্শকদের মাঝে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে ঘিরে যে উন্মাদনা দেখা যায়, মূলত সেটিই এই সিরিজের উপজীব্য। তবে গল্প উপস্থাপনে ভিন্নতা রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। চমক সৃষ্টির জন্য নয়, বরং গল্পের চরিত্র ও দর্শক চাহিদার কথা বিবেচনা করেই জামাল ভূঁইয়াকে এই সিরিজে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

‘ব্রাজেন্টিনা’ সিরিজের শুটিংয়ে (বাম থেকে) লামিমা লাম, জামাল ভূঁইয়া ও তাসনুভা তিশা

উল্লেখ্য, দেশের ক্রীড়াতরকাদের নিয়ে নাটক নির্মাণের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে পরিচালক তারিক মুহাম্মাদ হাসানের। এর আগে তিনি ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলকে নিয়ে ‘টি-টুয়েন্টি’, নারী ক্রিকেটার জাহানারা আলমকে নিয়ে ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’ এবং জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক আমিনুল হককে নিয়ে ‘টাইব্রেকার’ নামের নাটক নির্মাণ করেছিলেন। এবার সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলেন জামাল ভূঁইয়া।

Continue Reading

Trending