Connect with us

ক্যাম্পাস

৫৩ একরে এক শান্ত চারপেয়ে সদস্য: ববি’র ‘মানতের গরু’র গল্প

Published

on

মাফিদুল হাসান, ববি

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বর মানেই আড্ডা, মিছিল, স্লোগান আর একঝাঁক তরুণ প্রাণের উচ্ছ্বাস। কিন্তু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) চিত্রটি একটু ভিন্ন। এখানে শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের কোলাহলের মাঝে মিশে আছে চারপেয়ে এক শান্ত সদস্য। সে কোনো শিক্ষার্থী নয়, নয় কোনো কর্মচারী—তবুও সে এই ক্যাম্পাসেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। জানা যায়, কয়েক বছর আগে এক অজানা মানত পূরণের উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাসে ছেড়ে যাওয়া সেই গরুটি আজ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পরম মমতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

ঘটনাটি কয়েক বছর আগের। জনৈক এক ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত মানত পূরণের উদ্দেশ্যে একটি গরু ক্রয় করেন। ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক বিশ্বাস থেকে তিনি গরুটি কোনো কসাইখানা বা হাটে না পাঠিয়ে বেছে নেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে। একদিন নিঃশব্দে গরুটি ক্যাম্পাসে ছেড়ে দিয়ে তিনি চলে যান। কোনো মালিকানা নেই, কোনো নির্দিষ্ট গোয়াল নেই—পুরো ক্যাম্পাসটাই হয়ে ওঠে গরুটির নতুন ঠিকানা।

তবে গরুটিকে বেশ কিছুদিন ধরে ক্যাম্পাসে দেখতে পাওয়া যায়নি। গরুটিকে না দেখতে পেয়ে অনেক শিক্ষার্থী বিচলিত হয়ে পড়েন। অনেকে ভাবতে থাকেন ক্যাম্পাস থেকে গরুটি চুরি হয়ে গেলো কী না? কিন্তু সম্প্রীতি গরুটিকে আবার ক্যাম্পাসে দেখতে পেয়ে আনন্দিত শিক্ষার্থীরা।

শুরুতে অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল, মুক্তভাবে বিচরণ করা এই প্রাণীটি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হবে কি না। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে গরুটি প্রমাণ করেছে, সে কোনো উটকো আগন্তুক নয়, বরং এই পরিবারেরই এক নীরব সদস্য।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে যখন ফুটবল বা ক্রিকেটের আসর বসে, তখন এক অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ে। একপাশে যখন শিক্ষার্থীরা ঘাম ঝরিয়ে গোল করার নেশায় মত্ত, মাঠের সীমানায় দাঁড়িয়ে গভীর মনোযোগে তা পর্যবেক্ষণ করে এই গরুটি। তার চাহনিতে থাকে এক অদ্ভুত স্থিরতা। সাধারণ প্রাণীদের মতো সে কেবল ঘাস খেয়েই ক্ষান্ত থাকে না; বরং মানুষের খেলাধুলার প্রতি তার এই ‘মানুষের মতো’ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিস্ময় জাগায়। অনেক শিক্ষার্থী মজা করে বলেন, “আমাদের এই বন্ধুটি হয়তো মনে মনে কোনো এক দলের সমর্থন দিচ্ছে!

গরুটির সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো তার স্বভাবজাত শিষ্টাচার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সরু পথগুলোতে যখন শিক্ষার্থীদের ভিড় থাকে, তখন প্রায়ই দেখা যায় গরুটি পথের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, কোনো শিক্ষার্থীকে আসতে দেখলেই সে নিজে থেকেই পথ ছেড়ে পাশে সরে দাঁড়ায়। কাউকে গুঁতো দেওয়া বা বিরক্ত করার কোনো রেকর্ড তার ডায়েরিতে নেই। এই আচরণটি কেবল সহজাত প্রবৃত্তি নয়, বরং শিক্ষার্থীদের প্রতি তার এক অদ্ভুত মায়ারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন অনেকে।

বাংলাদেশে অসংখ্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে কুকুর বা বিড়ালের অবাধ বিচরণ সাধারণ চিত্র। কিন্তু একটি গরু কোনো নির্দিষ্ট মালিক ছাড়া বছরের পর বছর ক্যাম্পাসে অবস্থান করা এবং শিক্ষার্থীদের সাথে এমন আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ঘটনা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কেই প্রথম এই তালিকায় স্থান করে দিয়েছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গরুটি আজ আর কেবল একটি প্রাণী হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। সে হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাসের মায়া, মমতা আর সহনশীলতার এক জীবন্ত প্রতীক। আধুনিক যান্ত্রিক যুগে যখন মানুষের সাথে মানুষের দূরত্ব বাড়ছে, তখন একটি অবুঝ প্রাণীর এই শান্ত আচরণ এবং শিক্ষার্থীদের তাকে আপন করে নেওয়া আমাদের শেখায়—মায়া দিলে মায়া পাওয়া যায়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

ইবি পূজা উদযাপন পরিষদের নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি :

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) পূজা উদযাপন পরিষদের নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ১১৬ নম্বর কক্ষে এ এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় নবীন শিক্ষার্থীদের গীতা, ফুল ও শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে বরণ, বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদানসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে সজীব বিশ্বাসের সঞ্চালনায় ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. লিটন বরণ সিকদার, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সহকারী অধ্যাপক বাপ্পা সরকার, কমিউনিকেশন বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার পাল, কোষাধ্যক্ষ দুরন্ত রায় মিলনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার পাল বলেন, ‘আজকের দিনটি আমাদের জন্য আনন্দ, আবেগ ও স্মৃতির। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের জায়গা নয়। নিজেকে গড়ে তোলা ও মানুষকে বোঝার জন্য অন্যতম মাধ্যম এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আজকের এই বিদায় কোনো বিচ্ছেদ নয়, এটি একটি সুন্দর সম্পর্কে নতুন ঠিকানায় নিয়ে যাওয়ার মুহূর্ত। আশা করি, নবীনদের অংশগ্রহণে আমাদের কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি পাবে।’

Continue Reading

ক্যাম্পাস

শাবিপ্রবির ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার কমিটি গঠন

Published

on

By

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ভর্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সৈয়দ সেলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ১৮৫তম সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়।  কমিটিতে সভাপতি হিসেবে ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আহমদ কবির চৌধুরী এবং সদস্যসচিব হিসেবে নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম জাকারিয়া মনোনীত হয়েছেন।

নতুন এ কমিটি ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

উল্লেখ্য, শাবিপ্রবির ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী বছরের জানুয়ারির ২৬ ও ২৭ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

বিশ্বের শীর্ষে ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ইবির ৬ শিক্ষক

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর ২০২৬ সালের তালিকায় স্থান পেয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৬ জন শিক্ষক গবেষক। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার যৌথভাবে সম্প্রতি এ তালিকা প্রকাশ করে।

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকা তৈরিতে গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, গবেষণার ধারাবাহিকতা এবং সহ-লেখকদের গবেষণাগত প্রভাবসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার মান ও প্রভাব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এ তালিকাটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

২০২৬ সালের তালিকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান পাওয়া ৬ গবেষক হলেন— মিজানুর রহমান (৮৪,৪৪৭), রুহুল আমিন ভূঁইয়া (১,৪৫,২৮৫), হাবিবুর রহমান (১,৭২,৩৮৯), শাহিন আলি (১,৯৮,২২৫), মোহাম্মদ মিজানুর রহমান (২,৮৪,৭২৭) ও নজরুল ইসলাম (৪,২০,২৪৫)।

এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীদের তালিকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে ৬ জন স্থান পেয়েছেন, তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এটা নিশ্চয়ই আনন্দের খবর। আশা রাখছি, আগামীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইবি থেকে গবেষকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

শিক্ষকদের এই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক গবেষণাক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তিশালী অবস্থান এবং বৈশ্বিক জ্ঞানচর্চায় ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন ও এইচ-ইনডেক্সের ভিত্তিতে বাংলাদেশের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।

Continue Reading

Trending