Connect with us

top1

অবৈধ অস্ত্রে দেশজুড়ে তৎপর সন্ত্রাসী- পুলিশের কড়া নির্দেশনা

Published

on

বাংলাদেশজুড়ে অবৈধ অস্ত্রের ভয়ঙ্কর বিস্তার ও সন্ত্রাসীদের লাগাতার সশস্ত্র হামলা জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সময় থানাসহ সরকারি স্থাপনা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন—এই অস্ত্রগুলোর একটি বড় অংশ বর্তমানে সন্ত্রাসীদের হাতে, যা দেশজুড়ে খুন, হামলা ও নাশকতা বাড়িয়ে তুলেছে।

সন্ত্রাসীদের হাতে আধুনিক অস্ত্র—ক্রমবর্ধমান হামলা ও হত্যাকাণ্ড
ঢাকা, পাবনা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যার বেশির ভাগেই ব্যবহার করা হয়েছে পিস্তল, রিভলভার ও আধুনিক বিদেশি অস্ত্র। ঢাকার পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা, পুরান ঢাকায় সন্ত্রাসী তারিক সাঈদ মামুনকে গুলি করে হত্যা, পাবনায় বিএনপি নেতা বিরু মোল্লাকে দিনে-দুপুরে গুলি—এসব ঘটনায় সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ব্যবহার স্পষ্ট।
আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রতি লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া এবং সীমান্ত এলাকা দিয়ে নতুন অস্ত্র প্রবেশ—এই দুই কারণে সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়েছে।

নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে গুপ্ত হামলার শঙ্কা
জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে চোরাগোপ্তা হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং নাশকতার আশঙ্কা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ঢাকার বিজয়নগরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার পর গোটা নির্বাচনপূর্ব পরিবেশ আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। পুলিশ আশঙ্কা করছে—একটি সংঘবদ্ধ নাশকতাকারী চক্র নির্বাচনী কার্যক্রম ব্যাহত করতে হামলার মাত্রা বাড়াতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনী অফিস, সম্ভাব্য প্রার্থী এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে নাশকতার টার্গেট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের কঠোর নির্দেশনা—শুরু হচ্ছে ‘ডেভিল হান্ট’ বিশেষ অভিযান
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তর একাধিক জরুরি বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা দেশে নতুন করে ‘ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ অভিযান শুরু হচ্ছে। এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য—অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, ভাড়াটে কিলার ও নাশকতা পরিকল্পনাকারী গোষ্ঠীগুলোকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা।
আইজিপি বাহারুল আলম বলেছেন— “একটি অশুভ মহল দেশকে অস্থিতিশীল করতে চক্রান্ত করছে। তাদের সেই স্বপ্ন সফল হবে না। সারা দেশে কঠোর নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে—যে কোনো মূল্যেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”

বিশেষ অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার—তবে উদ্বেগ কাটেনি
সাম্প্রতিক এক বিশেষ অভিযানে দেশব্যাপী ১,৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার এবং বিদেশি পিস্তল, রিভলভার, পাইপগানসহ নানা ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন—লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার করা এখনো সম্ভব হয়নি।
পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে—

সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদ
শহর-গ্রামে টহল বাড়ানো
সিসিটিভি কার্যকারিতা নিশ্চিত করা
সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো
নির্বাচনী অফিস ও প্রার্থীদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া
আন্ডারওয়ার্ল্ড–সংশ্লিষ্ট কিলার গ্রুপগুলোকে নজরদারিতে আনা

নানা স্থানে হামলা ও হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হলেও পুলিশ ও র‍্যাবের দাবি—দেশব্যাপী নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে, এবং বিশেষ অভিযান পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সাহায্য করবে। র‍্যাব জানিয়েছে, “উদ্বেগের কিছু নেই—অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে শক্ত হাতে কাজ চলছে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের মূল শেকড় উৎখাত করতে অভিযান আরও জোরদার করতে হবে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

দেশের আকাশে চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদ শনিবার

Published

on

By

দেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে এবার ৩০ রোজা পূর্ণ হবে, আর পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে শনিবার (২১ মার্চ)।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

সভা শেষে জানানো হয়, দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আজ বাংলাদেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এই অবস্থায় শনিবার থেকে শাওয়াল মাস গণনা শুরু হবে এবং ওই দিনই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বিনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগ কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা করে। ১৭ সদস্যের এই কমিটির বৈঠক আরবি মাসের প্রতি ২৯ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়।

Continue Reading

top1

কাতারে গ্যাস স্থাপনায় হামলা: বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের শঙ্কায় বাংলাদেশসহ ৩ দেশ

Published

on

By

কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে। এলএনজি আমদানিতে কাতারের ওপর অতিনির্ভরশীলতার কারণে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জ্বালানি খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাকিস্তান তাদের মোট এলএনজি আমদানির ৯৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ প্রায় ৭০ শতাংশ কাতার থেকে সংগ্রহ করে।

অন্যদিকে, বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল’ জানিয়েছে, ভারতের এলএনজি চাহিদোর ৪০ শতাংশের বেশি পূরণ করে কাতার। হামলার শিকার রাস লাফান হলো কাতারের প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। ফলে এই স্থাপনায় ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হওয়ায় সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘কাতার এনার্জি’ রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনে উৎপাদন সাময়িক স্থগিত করেছিল। তবে সাম্প্রতিক এই হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির কারণে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে কোম্পানিটির প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি দেরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানাগুলো বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

Continue Reading

top1

শহীদ মিনারে ছাত্র খুন: ‘ভাড়াটে কিলিং মিশন’ উন্মোচন, স্ত্রী-সংক্রান্ত সন্দেহেই টার্গেট রাকিব

Published

on

By

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কলেজ ছাত্র রাকিব আহমেদকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজনই ‘ভাড়াটে খুনি’ এবং পুরো হত্যাকাণ্ডটি ছিল পরিকল্পিত ‘কিলিং মিশন’-এমনটাই জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই হত্যার পেছনে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উঠে এসেছে ‘সাজিদ’ নামে এক ব্যক্তি, যিনি খুলনা অঞ্চলের মাদক কারবারি। তার স্ত্রী জান্নাত মুনের সঙ্গে রাকিবের যোগাযোগকে কেন্দ্র করে সন্দেহ থেকেই এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাকিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে টিকটকে কনটেন্ট তৈরি করতেন। সেই সূত্রে জান্নাত মুনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল এবং রাকিবকে হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল।

গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন, শিহাব, জয়, রাফিন, সাগর ও সালাউদ্দিন। এদের মধ্যে রাফিনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি আসামিদের খুলনা, পটুয়াখালী ও গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, এই পাঁচজনের মধ্যে চারজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। শিহাব, জয় ও রাফিন ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাকিবকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। এরপর ‘আলামিন’ নামে আরেকজন তার মাথায় গুলি করে। তবে আলামিন এখনও পলাতক।

অন্যদিকে, সালাউদ্দিন পুরো অভিযানের সমন্বয় করেন এবং অস্ত্র সরবরাহ করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে আরও সাত-আটজন জড়িত রয়েছে বলেও ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকারীরা খুলনা থেকে পরিকল্পনা করেই ঢাকায় আসে এবং বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান নেয়। রাকিবের গতিবিধি নজরদারি করে (রেকি) ঘটনার দিন পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলা চালানো হয়।

গত রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হামলার শিকার হন রাকিব। প্রথমে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়, পরে মাথায় গুলি করা হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

রাকিব বোরহান উদ্দিন কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ভোলা সদরে এবং ঢাকার নিমতলীতে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন।
ঘটনার পর থেকেই ‘নারী সংক্রান্ত বিরোধ’কে কেন্দ্র করে হত্যার আভাস মিলছিল। রাকিবের স্ত্রী হাবিবা আক্তারও শুরু থেকেই জান্নাত মুনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও তার স্বামীকে সন্দেহের কথা জানিয়েছিলেন। এখন পুলিশি তদন্তেও সেই সন্দেহেরই প্রতিফলন পাওয়া যাচ্ছে।

ডিসি মাসুদ আলম বলেন, জড়িত সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি আরও বলেন, “এই চক্র অত্যন্ত দুর্ধর্ষ। তারা টাকার বিনিময়ে যে কাউকে হত্যা করতে পারে।”

Continue Reading

Trending