Connect with us

top1

অভিশপ্ত ২৮ অক্টোবর: স্বৈরাচারের শুরু থেকে ১৯ বছরের কালো অধ্যায়

Published

on

আজ ২৮ শে অক্টোবর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। মানুষ রুপি হায়েনাদের নৃত্য মৃত লাশের উপর যেন শকুনের থাবা কেউ হার মানায়।২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার একটি স্মরণীয় অধ্যায় রচিত হয়। ওইদিন ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাসুমসহ কয়েকজন নিহত হন। জামায়াত-বিএনপি জোটের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও সমর্থিত বামপন্থী সংগঠনগুলোর কর্মীরা “”লগি-বৈঠা” নিয়ে রাজপথে নেমে আসে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের দাবিতে বিএনপি-জামায়াত জোটের কর্মসূচির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচি দেয়।
সংঘর্ষের সময়: ঢাকার পল্টন ও আশপাশের এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়।

নিহতদের মধ্যে: জামায়াতে ইসলামীর কর্মী মাসুমসহ কয়েকজন নিহত হন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, নিহতদের দেহের উপর কিছু ব্যক্তি নাচানাচি করছে, যা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।

জামায়াত ও বিএনপি এই ঘটনাকে “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস” হিসেবে অভিহিত করে এবং বিচার দাবি করে।

গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিক্রিয়া: বিভিন্ন সংস্থা ও সংবাদমাধ্যম এই ঘটনার নৃশংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিকটি তুলে ধরে।
এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিভাজনমূলক ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।
সোমবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের আয়োজনে শহীদদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠান করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের হাতে পৈশাচিক হত্যাকা-ের শিকার পরিবারের সদস্যরা।

লগি-বৈঠা নিয়ে ঢাকা অবরোধের নির্দেশ ॥

২০০৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পল্টন ময়দানের মহাসমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা তার কর্মীদের লগি-বৈঠা নিয়ে ঢাকা অবরোধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তারা এই আহ্বানে সাড়া দিয়েই আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের কর্মীরা লগি-বৈঠা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ২৭ অক্টোবর থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। সেদিনও মুক্তাঙ্গনে আওয়ামী লীগের সভাস্থল থেকে বারবার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছিল ‘জামায়াত-শিবিরের ওপর হামলা কর, ওদের খতম কর’। ১৪ দলীয় জোট ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল, তোফায়েল আহমদ, আবদুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন বারবার উত্তেজনাকর বক্তব্য দিয়ে হামলার জন্য তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীকে উৎসাহিত করছিলেন।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর যা ঘটেছিল ॥

২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রেডিও-টিভিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। মূলত এ ভাষণ শেষ হওয়ার পরপরই দেশব্যাপী শুরু হয় লগি-বৈঠার তা-ব। বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াত অফিসসহ নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি যেমন চালানো হয় পৈশাচিক হামলা, তেমনি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় অনেক অফিস, বাড়িঘর । তার প্রথম শিকার হয় গাজীপুরে জামায়াতে ইসলামীর অফিস। এ সময় লগি-বৈঠা বাহিনীর তা-বে শহীদ হন রুহুল আমিন।

সুপরিকল্পিত হামলা চারদলীয় জোট সরকারের ৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বিকেল ৩টায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ ছিল। সকাল থেকেই সভার মঞ্চ তৈরির কাজ চলছিল। হঠাৎ করেই বেলা ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের লগি, বৈঠা ও অস্ত্রধারীরা জামায়াতের সমাবেশস্থলে হামলা চালায়। তাদের পৈশাচিক হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয় জামায়াত ও শিবিরের অসংখ্য নেতাকর্মী। তাদের এই আক্রমণ ছিল সুপরিকল্পিত ও ভয়াবহ। তারা একযোগে বিজয়নগর, তোপখানা রোড ও মুক্তাঙ্গন থেকে পল্টন মোড় দিয়ে আক্রমণ চালায়। এক পর্যায়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পল্টনের বিভিন্ন গলিতে ঢুকে পড়ে এবং নিরীহ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বেধড়ক পেটাতে থাকে।

পল্টন মোড়ের পৈশাচিকতা সেদিন পুরো পল্টনজুড়ে ছিল লগি-বৈঠা বাহিনীর তা-ব। লগি-বৈঠা আর অস্ত্রধারীদের হাতে একের পর এক আহত হতে থাকে নিরস্ত্র জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা। তারা শিবির নেতা মুজাহিদুল ইসলামকে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। লগি-বৈঠা দিয়ে একের পর এক আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিনকে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা তার লাশের ওপর উঠে নৃত্য-উল্লাস করতে থাকে।

সেদিন আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা বাহিনী শুধু জামায়াতের সভা প- করার জন্যই পৈশাচিক হামলা চালায়নি, তারা জামায়াতকেই নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল জামায়াতের সভামঞ্চে আগুন ধরিয়ে দিতে। প্রথম দফা হামলার পর তারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে থাকে। আশপাশের ভবনের ছাদে উঠে বোমা ও বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রসহ অবস্থান নেয়। সভার শেষদিকে মাওলানা নিজামীর বক্তব্য শুরু হলে তারা তাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পুনরায় হামলা চালায়।

একদিকে ভবনের ছাদ থেকে বৃষ্টির মতো বোমাবর্ষণ করতে থাকে, অপরদিকে পল্টন মোড় থেকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে লগি-বৈঠাধারীরা সমাবেশের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এ সময় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা তৈরি করে মানবঢাল। আওয়ামী অস্ত্রধারীদের ছোড়া গুলি মাথায় বিদ্ধ হয়ে রাজপথে লুটিয়ে পড়েন জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমান ও জুরাইনের জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিন। এ ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের ১৫ জন নেতাকর্মী শহীদ এবং আহত হন সহস্রাধিক।

হামলা ছিল একতরফা ॥ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে বিকেলে সমাবেশের জন্য সকাল থেকেই মঞ্চ তৈরির কাজ চলছিল। এজন্য মঞ্চ তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাসহ জামায়াত ও শিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মী মঞ্চের পাশে ছিল। এ সময় ১৪ দলের নেতাকর্মীরা জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করছিল। তাই জামায়াত ও ১৪ দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অবস্থানের কোনো সুযোগ ছিল না। বিকেলে সমাবেশ হওয়ার কারণে সকালে মঞ্চ তৈরির সংশ্লিষ্ট লোক ছাড়া মিছিল করার মতো জামায়াত ও শিবিরের কোনো নেতাকর্মী ছিল না। হঠাৎ করেই বেলা ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সেলিমের নেতৃত্বে লালবাগ থানা আওয়ামী লীগ লগি-বৈঠা হাতে বিশাল মিছিল নিয়ে পল্টন মোড়ে আসে।

একই সময় জিপিও এলাকায় অবস্থানরত ১৪ দলের শত শত কর্মী লগি-বৈঠা নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। ১৪ দলের কর্মীরা প্রকাশ্যে গুলি করা ছাড়াও লগি-বৈঠা নিয়ে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একের পর এক আঘাত হানতে থাকে নিরীহ জামায়াত ও শিবিরের কর্মীদের ওপর। মঞ্চ গুঁড়িয়ে দিতে এগিয়ে যেতে থাকে বায়তুল মোকাররম উত্তর সড়কের দিকে।

এ হামলায় পিস্তলসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ডা. এইচবিএম ইকবালও তার বাহিনী নিয়ে যোগ দেয়। সেদিন বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজ থেকে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা ডা. ইকবাল সেদিন পল্টন মোড় থেকে একটু এগিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) অফিসের সামনে তার অনুগত একদল যুবককে হাত নেড়ে সামনে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে। ডা. ইকবাল হাত নেড়ে নির্দেশ দেওয়ার পরই এক যুবককে ঘেরাও করে লগি-বৈঠা বাহিনী নির্মমভাবে পিটাতে থাকে। চতুর্দিক থেকে আঘাতে আঘাতে সে পড়ে যায় রাস্তার কিনারে। সাপের মতো লগি-বৈঠা দিয়ে তাকে পিটানো হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার লাশের ওপর উঠে নারকীয় উল্লাস করে লগি-বৈঠা বাহিনী। বিকল্প পথে মঞ্চ দখলের জন্য বিজয়নগর, পল্টন মসজিদের গলি দিয়ে ঢুকে পড়ে লগি-বৈঠা বাহিনী।

যেখানেই দাড়ি-টুপিধারী মানুষ দেখেছে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তারা। শিবির নেতা মুজাহিদুল ইসলামকে তারা এ সময় পেয়ে যায় পল্টন মোড়ের কাছে। ঘিরে ধরে তাকে। লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে নরপিশাচরা। আঘাতে আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মুজাহিদ। তারপর ঐ পিশাচরা লগি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নিজেদের জিঘাংসা চরিতার্থ করে। লালবাগের জসিমকে প্রীতম হোটেলের সামনে একাকী পেয়ে লগি-বৈঠা দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। তিনি বারবার উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করেন। এ দৃশ্যই টিভি চ্যানেলগুলোতে দেখা যায়। আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ, বোমা ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পর আহতদের সারি বেড়েই চলছিল। আহতদের প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় জামায়াতের ঢাকা মহানগরী অফিসে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

গুরুতর আহতদের নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দফায় দফায় হামলা চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এ সময় বারবার পুলিশকে অনুরোধ করা হলেও তারা রাস্তার পাশে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। অনেক পুলিশকে সেদিন বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর চত্বরের ভিতরে অবস্থান নিতে দেখা যায়। দুপুর পৌনে ২টার দিকে ১৪ দলের লগি-বৈঠাধারী সন্ত্রাসীরা হামলা জোরদার করে পল্টন মোড় থেকে সিপিবির অফিসের সামনে চলে আসে। এ সময় তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া কয়েকজন জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীকে ধরে নিয়ে যায়। পুলিশ কাছে দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা কোনো ভূমিকা পালন করেনি। একই সময় বিজয়নগর, পুরানা পল্টন মসজিদ গলিসহ আশপাশের এলাকা দিয়ে চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে থাকে। তারপরও সমাবেশ সফল হলো।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে জামায়াতের সমাবেশ শুরু হয়। এ সময় পল্টন মোড়ের দিকে না হলেও বিজয়নগরসহ অন্যান্য এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে থাকে লগি-বৈঠা বাহিনী। তবে সমাবেশ চলতে থাকে স্বাভাবিকভাবে। যথারীতি আছর নামাজের বিরতি হয়। বিরতির পর বক্তব্য রাখেন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মাওলানা আবদুস সুবহান, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। এরপরই বক্তব্য দিতে দাঁড়ান জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী।

মাওলানা নিজামীর বক্তব্য শুরু হওয়ার ৪/৫ মিনিট পর ৪টা ৪৩ মিনিটে পল্টন মোড়ে উত্তেজনা দেখা যায়। এ সময় নির্মাণাধীন র‌্যাংগস টাওয়ারের (বাসস ভবনের পূর্ব পাশের বিল্ডিং) ছাদ থেকে সমাবেশ লক্ষ্য করে ১০/১২টি বোমা ও প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে দফায় দফায় গুলি ছোড়ে ১৪ দলের সন্ত্রাসীরা। এ সময় পুলিশ নিজেদের নিরাপদ স্থানে হটিয়ে নেয়। আবার শুরু হয় ১৪ দলের মরণ কামড়ের মতো আক্রমণ। সমাবেশ ভ-ুল করে দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে তারা। মাগরিবের আজানের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে আসে যখন বিডিআর পল্টন মোড়ে অবস্থান নেয়। এর আগে সমাবেশের কোনো বক্তাই উত্তেজনাকর বক্তব্য দেননি, আক্রমণাত্মক কথাও বলেননি কেউ।

সেদিন আওয়ামী হায়েনারা জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমানকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি লাশটি টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিল গুম করার জন্য। কিন্তু পুলিশের সহায়তায় যখন লাশটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলো সেখানেও চলতে থাকে আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সেলিম বাহিনীর লাশ দখলের খেলা। তারা নকল বাবা-মা সাজিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিল লাশটি। পরবর্তীতে এ কারসাজি ধরা পড়ায় নকল বাবা-মা সটকে পড়ে। এখানেই শেষ নয়। আওয়ামী লীগ হাবিবুর রহমানকে নিজেদের কর্মী দাবি করে তার লাশের ছবি ব্যবহার করে পোস্টারও ছেপেছিল। লাশ নিয়ে রাজনীতি এর চেয়ে জঘন্য নমুনা আর কী হতে পারে?

পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা ॥

ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যময়। পুলিশের উপস্থিতিতেই আওয়ামী লীগের আগ্নেয়াস্ত্র ও লগি-বৈঠাধারী সন্ত্রাসীরা জামায়াতের সমাবেশস্থলে হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। অসহায় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীদের শত অনুরোধেও পুলিশ কোনো ভূমিকা রাখেনি। জামায়াতের অভিযোগ তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের ভূমিকাও ছিল রহস্যজনক। ২৮ অক্টোবরের আগ থেকেই পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার ঘোষণা করা হচ্ছিল লগি-বৈঠা, কাস্তে বা অন্য কোনো অস্ত্রশস্ত্র বহন নিষিদ্ধ ও বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু পুলিশ এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আওয়ামী লীগের অফিসে লগি-বৈঠা সংরক্ষণ করা হচ্ছে বলে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল সচিত্র প্রতিবেদন প্রচার করলেও পুলিশ এ ব্যাপারে ছিল একেবারেই নীরব।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

উত্তরায় ভবনে আগুন, নিহত ৩

Published

on

By

উত্তরার ১১ নং সেক্টরের ৭ তলা ভবনের ২য় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৩ জন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরার ১১ নং সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের একটি ৭ তলা ভবনের ২য় তলায় বাসাবাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ৭টা ৫৪ মিনিটে খবর পেয়ে সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

আগুনের ঘটনায় উত্তরা ফায়ার স্টেশনের ২টি ইউনিট কাজ করেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সকাল ১০টায় পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়।

তালহা বিন জসিম বলেন, এ ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ১৩ জনকে উদ্ধার করে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Continue Reading

top1

দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ছাড় দেবে না বিএনপি

Published

on

By

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের চার দিন আগেও দলের ‘অভিমানী’ নেতাদের নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে বিএনপি। ধানের শীষ না পেয়ে এখনো অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপি নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া এসব নেতাকে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে দেখছে দলটি। তবে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ছাড় দেবে না বিএনপি।

দলটি মনে করছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে ভোটের মাঠে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। তাই দলীয় নানা উদ্যোগের পরও যেসব স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজেদের নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে নেবেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে দল। নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ধানের শীষ ও জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হওয়ায় এখন পর্যন্ত ১১ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিএনপির অবস্থান হচ্ছে, দলের ডাকে এখন ‘বিদ্রোহী’ নেতারা সাড়া না দিলে পরবর্তী সময়ে তাদের ডাকেও দল সাড়া দেবে না। তবে অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা ও ত্যাগ বিবেচনায় নিয়ে এজন্য মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন অর্থাৎ আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত দেখবে দল। বিএনপির প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলের অধিকাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীই তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বিএনপির মতো এত বড় দলে যোগ্য প্রার্থী প্রচুর। তবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় এখনো শেষ হয়নি। আমরা আহ্বান জানিয়েছি, দলের সিদ্ধান্তের প্রতি যেন তারা শ্রদ্ধাশীল হয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। অনেকে এরই মধ্যে প্রত্যাহার করার কথা জানিয়েছেন। আশা করি, তপশিল ঘোষিত সময়সীমার মধ্যেই বিএনপির বিদ্রোহীরা সবাই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন। সেটি না করা হলে দল থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শরিকদের জন্য ১৭টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী, নিবন্ধিত শরিকরা তাদের নিজেদের প্রতীকে আর অনিবন্ধিত শরিকরা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করছেন। অবশ্য বিজয় নিশ্চিতে কৌশলের অংশ হিসেবে শরিক কয়েকটি দলের নেতাদের বিএনপিতে যোগদান করিয়ে ধানের শীষ দেওয়া হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, জোটের ৮ শীর্ষ নেতা ধানের শীষে ভোট করছেন। অন্যদিকে, নিবন্ধিত ছয়টি দলের ৯ জন নেতা তাদের নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করছেন। আসন ছেড়ে দেওয়া ১২টি দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ছাড়া বাকি দলগুলো আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক।

মনোনয়নপত্র দাখিলের পর দেখা গেছে, একদিকে জোটের প্রার্থীদের ধানের শীষ অথবা সমঝোতার ভিত্তিতে আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বিএনপির নেতারাও সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন। এ অবস্থায় মিত্রদের কাছে যাতে কোনো ভুল বার্তা না যায়, জোটের ঐক্যে কোনো ফাটল না ধরে, সেজন্য বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে বিএনপি। ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে জোট নেতাদের বিজয় সুনিশ্চিত করতে চায় দলটি। তাই বিদ্রোহী প্রার্থীদের বুঝিয়ে নির্বাচন থেকে সরাতে অঞ্চলভিত্তিক বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বেশ আগেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, সরাসরি কথা বলছেন; আগামী নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের গুরুত্ব তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কেও সতর্ক করা হচ্ছে। আর সর্বশেষ উদ্যোগ হিসেবে তারেক রহমান নিজেই ঢাকায় ডেকে তাদের কারও কারও সঙ্গে কথা বলছেন।

এরই মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতির জোনায়েদ সাকির বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বহিষ্কৃত হওয়া দলের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ একে একরামুজ্জামান, ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বহিষ্কৃত হওয়া দলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব, ঢাকা-১৪ আসনে দলের ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া দারুস সালাম থানা বিএনপির আহ্বায়ক এসএ সিদ্দিক সাজুসহ কয়েকজনকে ঢাকায় ডেকে কথা বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। জানা গেছে, তারেক রহমান ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করছেন। এর অংশ হিসেবে নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে ধানের শীষ অথবা বিএনপি জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের যথাযথ মূল্যায়নেরও আশ্বাস দিচ্ছেন। আর এরই মধ্যে বহিষ্কৃত হয়ে থাকলে শিগগির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ব্যাপারেও আশ্বস্ত করা হচ্ছে।

তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এরই মধ্যে আব্দুল খালেক ও সৈয়দ একে একরামুজ্জামান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এর পরপরই তাদের দুজনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আরএকে সিরামিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ একে একরামুজ্জামান বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সেই নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন।

তবে বিএনপি চেয়ারম্যানের নির্দেশনার পরও সাইফুল আলম নীরব ও এসএ সিদ্দিক সাজু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে থাকছেন। সে কারণে গত বুধবার সাজুকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাজু বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত এসএ খালেকের ছেলে।

জানতে চাইলে ঢাকা-১২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব কালবেলাকে বলেন, ‘আমি এই এলাকার সন্তান, এখানেই বড় হয়েছি, এই এলাকায় ৪৩ বছর রাজনীতি করি। এই এলাকায় এরশাদবিরোধী-হাসিনাবিরোধী আন্দোলন করেছি। এই এলাকার জনগণের সঙ্গে আমার সামাজিক বন্ধন আছে। অন্যদিকে যারা এমপি হতে এখানে নির্বাচন করতে আসছেন, তারা কেউ এই এলাকার সন্তান না। তারা এই এলাকায় এরশাদবিরোধী কিংবা হাসিনাবিরোধী আন্দোলনও করেননি, মামলাও খাননি।’

তিনি বলেন, ‘আমি গণসংযোগ করছি, এলাকার জনগণ আমার সঙ্গে আছে। সুতরাং আসন্ন নির্বাচনে আমি ঢাকা-১২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছি।’

এদিকে ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খানের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুর্শিদা খাতুন (মুর্শিদা জামান পপি) এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তিনি জেলা বিএনপির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত শহীদুজ্জামান বেল্টুর স্ত্রী। ওদিকে মাদারীপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ভোলা-১ আসন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীর। এ আসনটি জোট শরিক বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শরিকদের আসন ছাড় দিয়ে বিএনপির তৃণমূলকে হাইকমান্ড থেকে এরই মধ্যে কঠোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এরপরও কিছু আসনে ‘বিদ্রোহী’রা মাঠে রয়ে গেছেন। ফলে মাঠপর্যায়ে এখনো দ্বিধা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে বিষয়টি জানানোর পর কিছু এলাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হলেও তা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম বলে জোট নেতারা মনে করছেন। বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধেও দলের নেতারা স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে রয়েছেন।

নাটোর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে ফারজানা শারমিন পুতুল। ধানের শীষ না পেয়ে এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু। টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল। বগুড়া-২ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি দলীয় প্রতীক ‘কেটলি’ নিয়ে লড়ছেন। এ আসনে বিএনপির শাহে আলমও দলীয় প্রার্থী হয়েছেন। পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তবে ধানের শীষ না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটে রয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুন। যদিও বহিষ্কারের আগেই দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি।

বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষ পান গণঅধিকারের রাশেদ খান। তবে এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে প্রথমে বিএনপির মনোনয়ন পান দলের উপজেলা শাখার সভাপতি শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। পরে এই আসনটি চূড়ান্তভাবে ১২ দলীয় জোট শরিক ‘অনিবন্ধিত’ জমিয়তের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রশিদ বিন ওয়াক্কাসকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। তবে স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন ইকবাল। নড়াইল-২ আসনে প্রথমে দলের মনোনয়ন পান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম। পরে জোট শরিক ‘অনিবন্ধিত’ এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে আসনটি ছেড়ে দেয় বিএনপি। তবে মনিরুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম। তিনি সিলভার লাইন গ্রুপের চেয়ারম্যান। জানতে চাইলে এম এ এইচ সেলিম কালবেলাকে বলেন, ‘একটা গ্যাপ হওয়ার কারণে আমি এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় কিংবা জেলা কমিটির কোনো পদে নেই। মূলত আমি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের অনুরোধে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি এবং তিনটি আসনেই নির্বাচন করব।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারম্যান যদি আমাকে ডাকেন, তিনি কী বলেন আমি শুনব; তারপর আমার সিদ্ধান্ত জানিয়ে আসব।’

এদিকে, ধানের শীষ না পেয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করা বিএনপি নেতাদের নিয়ে গত বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্ট দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করা আপনার ব্যক্তিগত ও সাংবিধানিক অধিকার, এতে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু ভুল করবেন না, বিএনপির চেয়ে বড় বিএনপি হতে যাওয়ার ইতিহাস কখনোই সুখকর নয়, বরং নিষ্ঠুর। বি. চৌধুরী, মান্নান ভূঁইয়া, শমসের মবিন চৌধুরী, তৈমুর আলম খন্দকার—এরা সবাই এক সময় সেই আত্মঘাতী ভুলটাই করেছিলেন। পরিণতি কী হয়েছিল, তা ব্যাখ্যার দরকার নেই; ইতিহাস নিজেই রায় দিয়ে রেখেছে।

Continue Reading

top1

২৫৩ আসনে সমঝোতার ঘোষণা, জামায়াত ১৭৯ ও এনসিপি ৩০

Published

on

By

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জোটের পক্ষ থেকে এ আসন সমঝোতার ঘোষণা দেন।

ঘোষণা অনুযায়ী— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৭৯, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০, খেলাফত মজলিস ১০, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি(এলডিপি) ৭, আমার বাংলাদেশ পার্টি(এবি পার্টি) ৩, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২ ও বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি ২।

এর বাইরে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জন্য আসন চূড়ান্ত করা হয়নি। চূড়ান্ত হয়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আসন সমঝোতার বিষয়টিও।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের প্রাথমিক বক্তব্যে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির(এলডিপি) অলি আহাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

Trending