বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বাঁধন, হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হল ইউনিট এর উদ্যোগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘চা চক্র-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হলের কমনরুমে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
‘একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদান সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং বাঁধনের কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের পরিচিত করা।
অনুষ্ঠানে বাঁধন কেন্দ্রীয় পরিষদ, বাঁধন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জোনাল পরিষদ, বিভিন্ন হল ইউনিটের কর্মীবৃন্দ, বাঁধন হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হল ইউনিটের উপদেষ্টা ও কর্মীবৃন্দ এবং নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীরা নিজেদের নাম, শিক্ষাবর্ষ ও রক্তের গ্রুপসহ পরিচয় দেন। পরে বাঁধনের প্রতিষ্ঠার পটভূমি, সংগঠনের কার্যক্রম, রক্তদানের যোগ্যতা ও রক্তদানের উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি বাঁধন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জোনাল পরিষদ ও হল ইউনিটের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে নবীনদের অবহিত করা হয়।
বাঁধন,হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হল ইউনিট এর সভাপতি মোঃ লিমন মিয়া বলেন, “বাঁধনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই আমি উপলব্ধি করেছি, একজন মানুষের রক্ত আরেকজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। আমাদের হলের নবীন শিক্ষার্থীদের শুধু রক্তদানে উৎসাহিত করাই নয়, মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তৈরির জন্যও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। আশা রাখি, আজকের চা চক্র থেকে নবীনরা ভবিষ্যতে নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মানবসেবায় অংশ নেবে।”
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নবীন শিক্ষার্থী নাজমুল বলেন, “আজকের আয়োজনের মাধ্যমে বাঁধন সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। আগে রক্তদানকে শুধু একজন মানুষের রক্ত দেওয়ার বিষয় হিসেবে দেখতাম। কিন্তু আজ বুঝতে পেরেছি, একজনের দেওয়া রক্ত অন্য একজনের জীবন বাঁচাতে পারে। ভবিষ্যতে আমি নিজে রক্তদানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও রক্তদানে উৎসাহিত করতে চাই।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা নিয়মিত ও স্বেচ্ছায় রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ‘Every Blood Donor Is a Hero’ এবং ‘Every 4 Months You Have the Opportunity to Touch Someone’s Heart’ বার্তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রক্তদানে উৎসাহিত করা হয়। এ সময় নবীন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয় এবং কুইজের আয়োজন করা হয়। যেখানে প্রথম,দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়া, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার উদ্যোগে ‘তালিম ও তারবিয়াত ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়া শহরের শহীদ আব্দুস সোবহান মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শাখা সভাপতি এস এম শামীমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আরিফের সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইবি তালাবার সাবেক সভাপতি মাওলানা সাইফুল ইসলাম সায়েম, সাবেক সভাপতি আবু তহা মোহাম্মদ নূরুল্লাহ, সাবেক জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা মোর্শেদ খান, সাবেক সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাতুল্লাহ শেখসহ সংগঠনটির সাবেক ও বর্তমান দায়িত্বশীলরা।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে শাখা সভাপতি এস এম শামীম। এসময় তিনি বলেন “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে তার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে ফিরে যেতেই হবে। এ বিশ্ববিদ্যালয় ছিল বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন ও আন্দোলনকে বাস্তব রূপ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য ছিল ইসলামী শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে একটি আদর্শ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। যেখানে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিকতার চর্চা থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “দুঃখজনকভাবে বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রতিষ্ঠার মূল দর্শন ও উদ্দেশ্যের দিকে ফিরে যাক। কোনোভাবেই এই বিশ্ববিদ্যালয়কে তার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে ভিন্ন কোনো ধারায় প্রবাহিত হতে দেওয়া হবে না।”
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) অধ্যয়নরত হবিগঞ্জ জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘খোয়াই বন্ধন’র নবীনবরণ, বিদায় সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা ও মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে, কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই মানের সুবিধা পেতে ১৬ থেকে ১৭ লাখ টাকা টিউশন ফি গুনতে হতো।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারের দেওয়া ভর্তুকির টাকা মূলত দেশের খেটে খাওয়া গরীব-মেহনতী মানুষের রক্তঘামে অর্জিত। তাই এখান থেকে অর্জিত শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে কাজ করতে হবে।
হবিগঞ্জ জেলার সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে ড. জহিরুল হক বলেন, সিলেটকে হবিগঞ্জের ‘দ্বিতীয় ভূমি’ বলা যায়; এমনকি স্বাধীনতার পর সিলেটের প্রথম সংসদ সদস্যও ছিলেন হবিগঞ্জের সন্তান। কর প্রদানে হবিগঞ্জের অবস্থান দেশে দ্বিতীয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদে পঞ্চম হলেও এখানকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থমকে আছে। বিশেষ করে ওলিপুর কেন্দ্রিক শিল্প কারখানায় প্রায় দুই লাখ শ্রমিক কাজ করলেও যোগ্যতা অর্জন ও সুযোগের অভাবে স্থানীয়রা ন্যায্য চাকরি পাচ্ছেন না।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দক্ষতা অর্জন করতে হবে। পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয় চলে আসায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিজেদের যোগ্য প্রমাণ করেই এগিয়ে যেতে হবে।
সংগঠনের সভাপতি মো. ত্বোহা মিয়ার সভাপতিত্বে এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আদনান ফারহাদ ও সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী ত্রিবা ঘোষ তুষির যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ জালাল ফরিদ উস সামাদ, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রিদোওয়ান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম শামীম, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব উল হাকিম, আইপিই বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাজেরা আক্তার, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাবিহা মেরিন, শাবিপ্রবি শারীরিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, সিকৃবির প্রকৌশলী শাহীদ আলি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি নোমান ফয়সাল।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে খোয়াই বন্ধনের সাবেক সভাপতি মো. আরমান, শাকির আহমেদ, মোরশেদ আলম; সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাকিল হাসান এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সৌরভ গোপ শাওনসহ সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা পর্ব শেষে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (বাউরেস)-এর নবনিযুক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাসেমকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ছাত্রদলের একাংশের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নবনিযুক্ত পরিচালকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম রেজা, যুগ্ম আহ্বায়ক মিরাজ উদ্দিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নুরনবী হোসেনসহ অন্যান্য পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সাক্ষাৎকালে নেতৃবৃন্দ নবনিযুক্ত পরিচালকের সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে বাকৃবির গবেষণা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।