Connect with us

top1

আজ প্রতীক নিয়ে কাল থেকে মাঠের লড়াইয়ে নামবেন প্রার্থীরা

Published

on

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আজ বুধবার চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতে প্রতীক তুলে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে নির্বাচনের চূড়ান্ত আমেজ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা নামবেন মাঠের প্রচারে। এতে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বল আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে, যা চলবে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত।

কয়েকদিন ধরে নানা জল্পনা-কল্পনার পর গতকাল শেষ হয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিকতা। যারা ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর তারা সরে গেছেন, এখন মাঠে রয়েছেন শুধু চূড়ান্ত প্রার্থীরা। আজ প্রতীক পাওয়ার পর আগামীকাল থেকেই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার। এরই মধ্যে মাইকিংসহ প্রচারের সব প্রস্তুতি সেরে রেখেছেন প্রার্থীরা। সকাল থেকেই প্রার্থীরা তাদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। ‘ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়া’, ‘পথসভা’ আর ‘উঠান বৈঠকে’ মুখর হয়ে উঠবে পাড়া-মহল্লা। সারা দেশে শীতের আমেজের সঙ্গে যোগ হচ্ছে নির্বাচনী উষ্ণতা। প্রার্থীরা তাদের ইশতেহার নিয়ে ধরনা দেবেন সাধারণ মানুষের কাছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে নির্বাচনের বল এখন পুরোপুরি মাঠে গড়াল। কে হাসবেন শেষ হাসি, আর কার গলায় উঠবে জয়ের মালা, তা নির্ধারণে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। ভোট ও প্রচার নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ। চায়ের দোকান থেকে ড্রয়িং রুম—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ‘ভোট’ এবং শুধুই ভোট।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৯ ডিসেম্বর, নির্ধারিত সময়ে এবার ৩০০ সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৩ হাজার ৪২২ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। সেখান থেকে যাচাই-বাছাইকালে ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৬৩৯ জন আপিল করলে শুনানি শেষে ৪৩১ জনের প্রার্থীতা ফেরত দেয় কমিশন। গতকাল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩০৫ জন নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন। ফলে সারা দেশে ২৯৮টি আসনে কমবেশি ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে মাঠে থাকলেন। রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়রি থেকে আপিল আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে চলে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। ১০ জানুয়ারি থেকে আপিল শুনানি শুরু হয়ে একটানা রোববার পর্যন্ত চলে। অবশ্য পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে আগে বৈধ হওয়া ১১ জন প্রার্থী (আগের তপশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা ১৩ জনের) এ তালিকা থেকে বাদ যাবে। ভোটের দিন একই রেখে এ দুই আসনে নতুন তপশিল ঘোষণা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে দশ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত গোলাম আকবর খোন্দকারও রয়েছেন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় জোটে চট্টগ্রাম-৮ আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি জামায়াতের প্রার্থী। রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ের তথ্যমতে, প্রত্যাহার শেষে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১১ জন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, গতকাল দিন শেষে মোট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারীর সংখ্যা ১২ জন। তারা হলেন চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএসপির মো. ওসমান আলী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এইচ এম আশরাফ বিন এয়াকুব, চট্টগ্রাম-৫ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মুক্তার আহমেদ, চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির গোলাম আকবর খোন্দকার, চট্টগ্রাম-৭ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. আবুল কালাম, চট্টগ্রাম-৮ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. এনায়েত উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনে নেজামে ইসলাম পার্টির মো. নেজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১১ আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির মো. লোকমান, চট্টগ্রাম-১২ আসনে গণঅধিকার পরিষদের এমদাদুল হাসান, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. ইমরান, চট্টগ্রাম-১৬ আসনে এলডিপির মো. কফিল উদ্দিন চৌধুরী ও নেজামে ইসলাম পার্টির মো. মুসা।

তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকারকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। সেখানে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন দশদলীয় জোট থেকে চট্টগ্রাম-৮ আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী এনসিপি মনোনীত প্রার্থী জোবাইরুল হাসান সেখানে নির্বাচনী মাঠ গুছিয়ে আসছিলেন। কিন্তু দেখা গেছে, শেষ পর্যন্ত ওই আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. আবু নাছের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে আসনটিতে জোটের দুজন প্রার্থী রয়ে গেলেন।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষে চট্টগ্রাম-১ আসনে ৭ জন, চট্টগ্রাম-২ আসনে ৭ জন, চট্টগ্রাম-৩ আসনে ৪ জন, চট্টগ্রাম-৪ আসনে ৯ জন, চট্টগ্রাম-১০ আসনে ৯ জন, চট্টগ্রাম-১১ আসনে ১০ জন, চট্টগ্রাম-১২ আসনে ৭ জন, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে ৬ জন, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ৮ জন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ৩ জন ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনে ৭ জন প্রার্থী বহাল রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জে আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহার শেষে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে। মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীরা হলেন—নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুল কায়ুম শিকদার, নারায়ণগঞ্জ-২ আসন থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল কালাম এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ইলিয়াস আহমেদ। এ তিন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় বর্তমানে চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন ৪৭ জন প্রার্থী।

রাজশাহীতে ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার: রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীর ৬টি সংসদীয় আসনে ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারী প্রার্থীরা হলেন রাজশাহী-১ আসনের সুলতানুল ইসলাম তারেক (স্বতন্ত্র), রাজশাহী-৩ আসনের মো. ওয়াহেদুজ্জামান (এলডিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুহাম্মাদ ফজলুল করিম। রাজশাহী জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার ইসলাম নাসিফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নোয়াখালীতে ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার: নোয়াখালীর ছয়টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৪৭ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে নোয়াখালীর ৬টি নির্বাচনী আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২ প্রার্থীসহ ৫ প্রার্থী নিজেদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

নোয়াখালী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাহার করা প্রার্থীরা হচ্ছেন নোয়াখালী-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী সাইয়েদ আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন, নোয়াখালী-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসনা জসীম উদ্দিন মওদুদ, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আলী আহমদ ও নোয়াখালী-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী শাহ মাহফুজুল হক।

কর্মীদের বাধার মুখে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারলেন না জামায়াত প্রার্থী: নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে জোটগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থিতা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীর জন্য ছেড়ে দেওয়া হলেও মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেননি জামায়াত মনোনীত প্রার্থী। গতকাল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আমজাদ হোসাইনকে তার নিজ বাসায় আটকে রাখেন দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা। ফলে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেননি।

এদিকে, মঙ্গলবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুজন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তারা হলেন নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মো. ফারুক ভূঁইয়া এবং নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী জগলুল হায়দার আফ্রিক।

নওগাঁর ছয়টি আসনে চার প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার: নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, নওগাঁর ছয়টি আসনে চারজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ছয়টি সংসদীয় আসনে এখন ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীরা হলেন নওগাঁ-২ আসনের ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন, খেলাফতে মজলিস প্রার্থী আব্দুর রহমান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হুমায়ুন কবির চৌধুরী এবং নওগাঁ-৫ আসনের এবি পার্টির কাজী আতিকুর রহমান।

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে দিনাজপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ফলে মোট ৪০ জন প্রার্থী আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

দিনাজপুর-২ (বিরল-বোঁচাগঞ্জ) আসন থেকে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সুধীর চন্দ্র শীল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত রেজাউল করিম মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর) আসনে জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন, জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের মনোনীত ডা. আব্দুল আহাদকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। একই আসনের আরেক প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত আব্দুল কাদের চৌধুরীও মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

এ ছাড়া দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর) আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টি মনোনীত আব্দুল হক শেষ দিনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, শরীয়তপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে বৈধতা পাওয়া ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে দুজন তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় বর্তমানে তিন আসনে মোট বৈধ প্রার্থী ২১ জন। মনোনয়ন প্রত্যহারকারী দুজন হলেন শরীয়তপুর-১ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. মোশারফ হোসেন ও শরীয়তপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহানা কাদের রহমান।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ঝালকাঠি-১ ও ঝালকাঠি-২ আসনে ডা. মাহমুদা মিতুসহ ৪ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। বিকেলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের কাছে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ফরম জমা দেন।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহমুদা মিতু, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম আজম সৈকত এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। অন্যদিকে, ঝালকাঠি-২ আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) মনোনীত প্রার্থী শেখ জামাল তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে মুন্সীগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মোট চারজন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এর ফলে জেলায় মনোনয়ন দাখিলকারী মোট ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় বর্তমানে তিনটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে।

মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরফত আলী সপু ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এর আগে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়ন বাতিল হলেও আপিলের মাধ্যমে তিনি বৈধতা ফিরে পেয়েছিলেন।

মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে দুজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তারা হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক এভিএম ফজলুল করিম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম। ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উভয় প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

এদিকে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাজি আব্বাস কাজী দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

মহাসড়কে ৬ দিন ট্রাক, কাডার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ: ডিএমপি

Published

on

By

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় গমনাগমন করবেন। ঈদের সময় আনুমানিক ১ কোটির বেশি মানুষ ঢাকা ত্যাগ করেন এবং প্রায় ৩০ লক্ষাধিক প্রবেশ করেন। তাদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাডার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

রোববার (২৪ মে) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে আগামীকাল ২৫ মে থেকে ২৯ মে পর্যন্ত ৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাডার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। তবে পশুবাহী যানবাহন, নিত্য প্রয়োজনীয় গৃহস্থালী ও খাদ্য-দ্রব্য, পঁচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ঔষধ, সার, এবং জ্বালানি বহনকারী যানবাহনসমূহ এর আওতামুক্ত থাকবে।

সড়ক/মহাসড়কে যান চলাচল সংক্রান্ত নির্দেশনায় আরও বলা হয়-

ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী, রুট পারমিটবিহীন বাস চলাচল করতে পারবে না। আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রী নিয়ে বাসগুলোকে সরাসরি গন্তব্যে যেতে হবে। সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো যাবে না। অনুমোদিত কাউন্টার ছাড়া রাস্তা থেকে যাত্রী তোলা-নামানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার রাস্তাসমূহে কোনভাবেই যানবাহন পার্কিং করা যাবে না। লক্কর-ঝক্কর, ফিটনেসবিহীন, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত ও কালো ধোঁয়া নির্গমণকারী গাড়ি রাস্তায় নামানো যাবে না।

ঈদযাত্রার চাপ সামাল দিতে আগামী ২৫, ২৬ ও ২৭ মে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে কামারপাড়া হয়ে ধউর ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক একমুখী করা হবে। এ সময়ে এই পথে শুধু ঢাকা থেকে বের হওয়া যানবাহন চলাচল করতে পারবে। ঢাকায় প্রবেশকারী যানবাহনকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

এদিকে যানজট কমাতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিহারের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি। এর মধ্যে রয়েছে বনানী থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, যাত্রাবাড়ী থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, শ্যামলী থেকে গাবতলী পর্যন্ত মিরপুর রোড, ফুলবাড়িয়া থেকে বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত ঢাকা-কেরানীগঞ্জ সড়ক এবং আব্দুল্লাহপুর থেকে ধউর ব্রিজ সড়ক।

Continue Reading

top1

মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনের ফাঁসি আদেশ

Published

on

By

মেহেরপুরে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ঘটনায় শাকিল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন আদালত।

রবিবার (২৪ মে) দুপুর দেড়টায় মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।

দেশের ইতিহাসে প্রথমবার ২৯ কার্য দিবসের মধ্য স্ব-শরীর ও ভার্চুয়াল ভিডিও কলের মাধ্যমে তিন দিনে স্বাক্ষী জবানবন্দি জেরা গ্রহণ করে আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দাল হাসানের পুত্র।

ফাঁসি রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মেহেরপুর নারী ও শিশু দমন এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলা চাঁদপুর গ্রামের পঞ্চম শ্রেণীর পড়ুয়া মেয়ে তার পিতাকে বাড়ির পাশের আবাদী মাঠে খাবার দিতে যাওয়ার সময় ধর্ষক শাকিল হোসেন শিশুটিকে দেশীয় অস্ত্র ধারালো হাসুয়া দিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে পাশ্ববর্তী পাট খেতে নিয়ে গিয়ে শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

ধর্ষণ শেষে শিশুর চিৎকারে ধর্ষক পালিয়ে যায়। পরে মেয়েটির বাড়ি ফিরে তার পরিবারকে ধর্ষণের বিষয়টি জানালে গ্রামবাসী ধর্ষককে আটক করে গণপিটুনি দেয়।

পুলিশ ধর্ষককে উত্তেজিত মানুষের কাছ থেকে উদ্ধার করে আটক করে। পরে শিশুর পিতা ইছানুল হক গাংনী থানায় গিয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের পর পুলিশ ধর্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে।

মামলার তদন্ত রিপোট পুলিশ দাখিলের পর আদালত ২৯ কার্য দিবসের মধ্যে ধর্ষণ মামলায় ১২ জন সাক্ষীর ভার্চুয়ালি ভিডিও কলে ও সশরীরে জবানবন্দি জেরা গ্রহণ করেন।

সাক্ষ্য প্রমাণে এবং মেডিকেল পরীক্ষা রিপোর্টে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ধর্ষক শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ৩ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছর কারাদণ্ড আদেশ দেন। জরিমানার টাকা ধর্ষকের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লদ্ধ অর্থ আদালতের মাধ্যমে ভিকটিমের পরিবারকে পরিশোধের আদেশ দিয়েছে আদালত।

রায় ঘোষণাকালে আদালতে গণমাধ্যম কর্মীরা সহ আসামিপক্ষে আইনজীবী ও অন্য আইনজীবী, ধর্ষক উপস্থিত থেকে রায় শ্রবণ করেন। অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসাবে মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ড রায়ে ধর্ষিত শিশুর পরিবার খুশি বলে সাংবাদিকদের জানান। অন্যদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেনের আইনজীবী উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা বলেন

Continue Reading

top1

৭ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন , ছুটি বাতিল হতে পারে বিশেষ আদালতের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published

on

By

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি আরও বলেন, সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্যে যা করতে হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় করবে।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “আজ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে। বিশেষ এই আদালতে ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করা হবে বলে আশা করছি।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রামিসা হত্যার আসামিকে ৭ ঘণ্টার ভেতর গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে। আমরা খুব দ্রুততার সাথে ডিএনএ টেস্ট করিয়েছি। পোস্টমর্টেম সহ সব রিপোর্ট একত্র করে গতকাল রাতের মধ্যেই চার্জশিট তৈরি হয়েছে। আশা করছি বিচারও দ্রুততম সময়ের মধ্যে হবে। প্রয়োজনে বিশেষ আদালতের ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত হতে পারে’

এদিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে রোববার আদালতে হাজির করা হয়েছে।

এর আগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, ডিএনএ প্রতিবেদনের তথ্য আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে।

গত মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছর বয়সী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

পরে ২০ মে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন

Continue Reading

Trending