Connect with us

top1

আজ প্রতীক নিয়ে কাল থেকে মাঠের লড়াইয়ে নামবেন প্রার্থীরা

Published

on

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আজ বুধবার চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতে প্রতীক তুলে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে নির্বাচনের চূড়ান্ত আমেজ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা নামবেন মাঠের প্রচারে। এতে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বল আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে, যা চলবে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত।

কয়েকদিন ধরে নানা জল্পনা-কল্পনার পর গতকাল শেষ হয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিকতা। যারা ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর তারা সরে গেছেন, এখন মাঠে রয়েছেন শুধু চূড়ান্ত প্রার্থীরা। আজ প্রতীক পাওয়ার পর আগামীকাল থেকেই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার। এরই মধ্যে মাইকিংসহ প্রচারের সব প্রস্তুতি সেরে রেখেছেন প্রার্থীরা। সকাল থেকেই প্রার্থীরা তাদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। ‘ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়া’, ‘পথসভা’ আর ‘উঠান বৈঠকে’ মুখর হয়ে উঠবে পাড়া-মহল্লা। সারা দেশে শীতের আমেজের সঙ্গে যোগ হচ্ছে নির্বাচনী উষ্ণতা। প্রার্থীরা তাদের ইশতেহার নিয়ে ধরনা দেবেন সাধারণ মানুষের কাছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে নির্বাচনের বল এখন পুরোপুরি মাঠে গড়াল। কে হাসবেন শেষ হাসি, আর কার গলায় উঠবে জয়ের মালা, তা নির্ধারণে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। ভোট ও প্রচার নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ। চায়ের দোকান থেকে ড্রয়িং রুম—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ‘ভোট’ এবং শুধুই ভোট।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৯ ডিসেম্বর, নির্ধারিত সময়ে এবার ৩০০ সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৩ হাজার ৪২২ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। সেখান থেকে যাচাই-বাছাইকালে ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৬৩৯ জন আপিল করলে শুনানি শেষে ৪৩১ জনের প্রার্থীতা ফেরত দেয় কমিশন। গতকাল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩০৫ জন নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন। ফলে সারা দেশে ২৯৮টি আসনে কমবেশি ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে মাঠে থাকলেন। রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়রি থেকে আপিল আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে চলে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। ১০ জানুয়ারি থেকে আপিল শুনানি শুরু হয়ে একটানা রোববার পর্যন্ত চলে। অবশ্য পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে আগে বৈধ হওয়া ১১ জন প্রার্থী (আগের তপশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা ১৩ জনের) এ তালিকা থেকে বাদ যাবে। ভোটের দিন একই রেখে এ দুই আসনে নতুন তপশিল ঘোষণা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে দশ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত গোলাম আকবর খোন্দকারও রয়েছেন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় জোটে চট্টগ্রাম-৮ আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি জামায়াতের প্রার্থী। রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ের তথ্যমতে, প্রত্যাহার শেষে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১১ জন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, গতকাল দিন শেষে মোট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারীর সংখ্যা ১২ জন। তারা হলেন চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএসপির মো. ওসমান আলী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এইচ এম আশরাফ বিন এয়াকুব, চট্টগ্রাম-৫ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মুক্তার আহমেদ, চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির গোলাম আকবর খোন্দকার, চট্টগ্রাম-৭ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. আবুল কালাম, চট্টগ্রাম-৮ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. এনায়েত উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনে নেজামে ইসলাম পার্টির মো. নেজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১১ আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির মো. লোকমান, চট্টগ্রাম-১২ আসনে গণঅধিকার পরিষদের এমদাদুল হাসান, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. ইমরান, চট্টগ্রাম-১৬ আসনে এলডিপির মো. কফিল উদ্দিন চৌধুরী ও নেজামে ইসলাম পার্টির মো. মুসা।

তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকারকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। সেখানে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন দশদলীয় জোট থেকে চট্টগ্রাম-৮ আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী এনসিপি মনোনীত প্রার্থী জোবাইরুল হাসান সেখানে নির্বাচনী মাঠ গুছিয়ে আসছিলেন। কিন্তু দেখা গেছে, শেষ পর্যন্ত ওই আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. আবু নাছের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে আসনটিতে জোটের দুজন প্রার্থী রয়ে গেলেন।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষে চট্টগ্রাম-১ আসনে ৭ জন, চট্টগ্রাম-২ আসনে ৭ জন, চট্টগ্রাম-৩ আসনে ৪ জন, চট্টগ্রাম-৪ আসনে ৯ জন, চট্টগ্রাম-১০ আসনে ৯ জন, চট্টগ্রাম-১১ আসনে ১০ জন, চট্টগ্রাম-১২ আসনে ৭ জন, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে ৬ জন, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ৮ জন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ৩ জন ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনে ৭ জন প্রার্থী বহাল রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জে আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহার শেষে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে। মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীরা হলেন—নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুল কায়ুম শিকদার, নারায়ণগঞ্জ-২ আসন থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল কালাম এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ইলিয়াস আহমেদ। এ তিন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় বর্তমানে চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন ৪৭ জন প্রার্থী।

রাজশাহীতে ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার: রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীর ৬টি সংসদীয় আসনে ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারী প্রার্থীরা হলেন রাজশাহী-১ আসনের সুলতানুল ইসলাম তারেক (স্বতন্ত্র), রাজশাহী-৩ আসনের মো. ওয়াহেদুজ্জামান (এলডিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুহাম্মাদ ফজলুল করিম। রাজশাহী জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার ইসলাম নাসিফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নোয়াখালীতে ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার: নোয়াখালীর ছয়টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৪৭ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে নোয়াখালীর ৬টি নির্বাচনী আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২ প্রার্থীসহ ৫ প্রার্থী নিজেদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

নোয়াখালী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাহার করা প্রার্থীরা হচ্ছেন নোয়াখালী-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী সাইয়েদ আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন, নোয়াখালী-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসনা জসীম উদ্দিন মওদুদ, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আলী আহমদ ও নোয়াখালী-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী শাহ মাহফুজুল হক।

কর্মীদের বাধার মুখে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারলেন না জামায়াত প্রার্থী: নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে জোটগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থিতা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীর জন্য ছেড়ে দেওয়া হলেও মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেননি জামায়াত মনোনীত প্রার্থী। গতকাল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আমজাদ হোসাইনকে তার নিজ বাসায় আটকে রাখেন দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা। ফলে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেননি।

এদিকে, মঙ্গলবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুজন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তারা হলেন নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মো. ফারুক ভূঁইয়া এবং নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী জগলুল হায়দার আফ্রিক।

নওগাঁর ছয়টি আসনে চার প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার: নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, নওগাঁর ছয়টি আসনে চারজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ছয়টি সংসদীয় আসনে এখন ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীরা হলেন নওগাঁ-২ আসনের ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন, খেলাফতে মজলিস প্রার্থী আব্দুর রহমান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হুমায়ুন কবির চৌধুরী এবং নওগাঁ-৫ আসনের এবি পার্টির কাজী আতিকুর রহমান।

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে দিনাজপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ফলে মোট ৪০ জন প্রার্থী আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

দিনাজপুর-২ (বিরল-বোঁচাগঞ্জ) আসন থেকে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সুধীর চন্দ্র শীল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত রেজাউল করিম মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর) আসনে জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন, জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের মনোনীত ডা. আব্দুল আহাদকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। একই আসনের আরেক প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত আব্দুল কাদের চৌধুরীও মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

এ ছাড়া দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর) আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টি মনোনীত আব্দুল হক শেষ দিনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, শরীয়তপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে বৈধতা পাওয়া ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে দুজন তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় বর্তমানে তিন আসনে মোট বৈধ প্রার্থী ২১ জন। মনোনয়ন প্রত্যহারকারী দুজন হলেন শরীয়তপুর-১ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. মোশারফ হোসেন ও শরীয়তপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহানা কাদের রহমান।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ঝালকাঠি-১ ও ঝালকাঠি-২ আসনে ডা. মাহমুদা মিতুসহ ৪ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। বিকেলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের কাছে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ফরম জমা দেন।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহমুদা মিতু, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম আজম সৈকত এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। অন্যদিকে, ঝালকাঠি-২ আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) মনোনীত প্রার্থী শেখ জামাল তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে মুন্সীগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মোট চারজন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এর ফলে জেলায় মনোনয়ন দাখিলকারী মোট ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় বর্তমানে তিনটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে।

মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরফত আলী সপু ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এর আগে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়ন বাতিল হলেও আপিলের মাধ্যমে তিনি বৈধতা ফিরে পেয়েছিলেন।

মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে দুজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তারা হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক এভিএম ফজলুল করিম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম। ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উভয় প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

এদিকে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাজি আব্বাস কাজী দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

হরমুজে ২ মার্কিন নৌযান ও ৮ তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি ইরানের

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

হরমুজ প্রণালীতে দুটি মার্কিন নৌযান ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, মার্কিন বাহিনীর পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার জবাবে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিবৃতিতে মার্কিন বাহিনীকে ‘আমেরিকান সন্ত্রাসী বাহিনী’ হিসেবে উল্লেখ করে আইআরজিসি। একই সঙ্গে মার্কিন সহায়তায় হরমুজ প্রণালীর ‘নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক অঞ্চল’ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা আরও ১০টি নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করা হয়েছে।

আইআরজিসি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালী এখনো তাদের ‘শক্তিশালী ও কর্তৃত্বপূর্ণ নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের’ আওতায় রয়েছে।

তবে হামলার এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র: আল জাজিরা

Continue Reading

top1

বাঁধনের ওপর হামলা আসলে গণতন্ত্রের ওপরই হামলা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

Published

on

By

জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং সংসদ সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একইসাথে ইতালির ভেনিস শহরে প্রখ্যাত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর বিগত সরকারের সমর্থকদের হামলা এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদ পাওয়ার বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বক্তব্যের শুরুতেই স্বৈরাচারী ও সন্ত্রাসী হাসিনা সরকারকে হটিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জুলাই যোদ্ধাদের অসামান্য আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন তিনি। একইসাথে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসা সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের অভিনন্দন জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

ইতালিতে হামলা: ‘বাঁধনকে দমানো এত সহজ নয়’

তিনি বলেন, আজমেরী হক বাঁধনের ওপর যে কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত সন্ত্রাসীরা, তা আসলে দেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ওপরই হামলা। এ বিষয়ে সকালে পররাষ্ট্র সচিবের সাথে কথা বলা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। ইতালীয় পুলিশ ও ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অভিনেত্রী বাঁধনকে সব ধরনের কনস্যুলার সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বাঁধনের সাথে ফোনে কথা বলে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় কোনও ছাড় নয়, আ.লীগ একটি মাফিয়া গ্যাং: তথ্য উপদেষ্টা

তিনি আরও বলেন, জনগণের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত এই সরকার ন্যায়বিচারের নীতিতে বিশ্বাসী। এ ধরনের হামলাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।

একইদিনে বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও গর্বের মুহূর্তের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদ লাভ করতে যাচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন আর কোনো দেশের গোলামি বা দাসত্ব করবে না। বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বকীয়তা ও গতিতে চলবে। সংসদ ও জনগণের সমর্থন নিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি শক্তিশালী মধ্যবর্তী প্রভাব বিস্তারকারী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

Continue Reading

top1

গঙ্গা-তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টনে ভারতের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

Published

on

By

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ন্যায়সঙ্গত ও গ্রহণযোগ্যভাবে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, অভিন্ন নদ-নদীর পানি ব্যবস্থাপনা দুই দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জবাবে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানান, এ বিষয়ে তার সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেয় বাংলাদেশ। সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা ও জনগণের কল্যাণকে ভিত্তি করে দুই দেশের মধ্যে সম্মানজনক ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে বাংলাদেশ আগ্রহী।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান ভারতের হাইকমিশনার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী।

রাষ্ট্রপতি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দুই দেশের সামর্থ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে। এ সময় হাইকমিশনারও দুই দেশ ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এবং দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।

Continue Reading

Trending