Connect with us

top1

আজ প্রতীক নিয়ে কাল থেকে মাঠের লড়াইয়ে নামবেন প্রার্থীরা

Published

on

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আজ বুধবার চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতে প্রতীক তুলে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে নির্বাচনের চূড়ান্ত আমেজ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা নামবেন মাঠের প্রচারে। এতে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বল আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে, যা চলবে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত।

কয়েকদিন ধরে নানা জল্পনা-কল্পনার পর গতকাল শেষ হয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিকতা। যারা ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর তারা সরে গেছেন, এখন মাঠে রয়েছেন শুধু চূড়ান্ত প্রার্থীরা। আজ প্রতীক পাওয়ার পর আগামীকাল থেকেই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার। এরই মধ্যে মাইকিংসহ প্রচারের সব প্রস্তুতি সেরে রেখেছেন প্রার্থীরা। সকাল থেকেই প্রার্থীরা তাদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। ‘ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়া’, ‘পথসভা’ আর ‘উঠান বৈঠকে’ মুখর হয়ে উঠবে পাড়া-মহল্লা। সারা দেশে শীতের আমেজের সঙ্গে যোগ হচ্ছে নির্বাচনী উষ্ণতা। প্রার্থীরা তাদের ইশতেহার নিয়ে ধরনা দেবেন সাধারণ মানুষের কাছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে নির্বাচনের বল এখন পুরোপুরি মাঠে গড়াল। কে হাসবেন শেষ হাসি, আর কার গলায় উঠবে জয়ের মালা, তা নির্ধারণে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। ভোট ও প্রচার নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ। চায়ের দোকান থেকে ড্রয়িং রুম—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ‘ভোট’ এবং শুধুই ভোট।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৯ ডিসেম্বর, নির্ধারিত সময়ে এবার ৩০০ সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৩ হাজার ৪২২ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। সেখান থেকে যাচাই-বাছাইকালে ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৬৩৯ জন আপিল করলে শুনানি শেষে ৪৩১ জনের প্রার্থীতা ফেরত দেয় কমিশন। গতকাল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩০৫ জন নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন। ফলে সারা দেশে ২৯৮টি আসনে কমবেশি ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে মাঠে থাকলেন। রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়রি থেকে আপিল আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে চলে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। ১০ জানুয়ারি থেকে আপিল শুনানি শুরু হয়ে একটানা রোববার পর্যন্ত চলে। অবশ্য পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে আগে বৈধ হওয়া ১১ জন প্রার্থী (আগের তপশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা ১৩ জনের) এ তালিকা থেকে বাদ যাবে। ভোটের দিন একই রেখে এ দুই আসনে নতুন তপশিল ঘোষণা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে দশ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত গোলাম আকবর খোন্দকারও রয়েছেন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় জোটে চট্টগ্রাম-৮ আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি জামায়াতের প্রার্থী। রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ের তথ্যমতে, প্রত্যাহার শেষে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১১ জন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, গতকাল দিন শেষে মোট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারীর সংখ্যা ১২ জন। তারা হলেন চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএসপির মো. ওসমান আলী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এইচ এম আশরাফ বিন এয়াকুব, চট্টগ্রাম-৫ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মুক্তার আহমেদ, চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির গোলাম আকবর খোন্দকার, চট্টগ্রাম-৭ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. আবুল কালাম, চট্টগ্রাম-৮ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. এনায়েত উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনে নেজামে ইসলাম পার্টির মো. নেজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১১ আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির মো. লোকমান, চট্টগ্রাম-১২ আসনে গণঅধিকার পরিষদের এমদাদুল হাসান, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. ইমরান, চট্টগ্রাম-১৬ আসনে এলডিপির মো. কফিল উদ্দিন চৌধুরী ও নেজামে ইসলাম পার্টির মো. মুসা।

তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকারকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। সেখানে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন দশদলীয় জোট থেকে চট্টগ্রাম-৮ আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী এনসিপি মনোনীত প্রার্থী জোবাইরুল হাসান সেখানে নির্বাচনী মাঠ গুছিয়ে আসছিলেন। কিন্তু দেখা গেছে, শেষ পর্যন্ত ওই আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. আবু নাছের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে আসনটিতে জোটের দুজন প্রার্থী রয়ে গেলেন।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষে চট্টগ্রাম-১ আসনে ৭ জন, চট্টগ্রাম-২ আসনে ৭ জন, চট্টগ্রাম-৩ আসনে ৪ জন, চট্টগ্রাম-৪ আসনে ৯ জন, চট্টগ্রাম-১০ আসনে ৯ জন, চট্টগ্রাম-১১ আসনে ১০ জন, চট্টগ্রাম-১২ আসনে ৭ জন, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে ৬ জন, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ৮ জন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ৩ জন ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনে ৭ জন প্রার্থী বহাল রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জে আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহার শেষে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে। মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীরা হলেন—নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুল কায়ুম শিকদার, নারায়ণগঞ্জ-২ আসন থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল কালাম এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ইলিয়াস আহমেদ। এ তিন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় বর্তমানে চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন ৪৭ জন প্রার্থী।

রাজশাহীতে ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার: রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীর ৬টি সংসদীয় আসনে ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারী প্রার্থীরা হলেন রাজশাহী-১ আসনের সুলতানুল ইসলাম তারেক (স্বতন্ত্র), রাজশাহী-৩ আসনের মো. ওয়াহেদুজ্জামান (এলডিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুহাম্মাদ ফজলুল করিম। রাজশাহী জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার ইসলাম নাসিফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নোয়াখালীতে ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার: নোয়াখালীর ছয়টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৪৭ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে নোয়াখালীর ৬টি নির্বাচনী আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২ প্রার্থীসহ ৫ প্রার্থী নিজেদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

নোয়াখালী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাহার করা প্রার্থীরা হচ্ছেন নোয়াখালী-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী সাইয়েদ আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন, নোয়াখালী-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসনা জসীম উদ্দিন মওদুদ, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আলী আহমদ ও নোয়াখালী-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী শাহ মাহফুজুল হক।

কর্মীদের বাধার মুখে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারলেন না জামায়াত প্রার্থী: নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে জোটগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থিতা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীর জন্য ছেড়ে দেওয়া হলেও মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেননি জামায়াত মনোনীত প্রার্থী। গতকাল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আমজাদ হোসাইনকে তার নিজ বাসায় আটকে রাখেন দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা। ফলে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেননি।

এদিকে, মঙ্গলবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুজন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তারা হলেন নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মো. ফারুক ভূঁইয়া এবং নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী জগলুল হায়দার আফ্রিক।

নওগাঁর ছয়টি আসনে চার প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার: নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, নওগাঁর ছয়টি আসনে চারজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ছয়টি সংসদীয় আসনে এখন ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীরা হলেন নওগাঁ-২ আসনের ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন, খেলাফতে মজলিস প্রার্থী আব্দুর রহমান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হুমায়ুন কবির চৌধুরী এবং নওগাঁ-৫ আসনের এবি পার্টির কাজী আতিকুর রহমান।

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে দিনাজপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ফলে মোট ৪০ জন প্রার্থী আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

দিনাজপুর-২ (বিরল-বোঁচাগঞ্জ) আসন থেকে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সুধীর চন্দ্র শীল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত রেজাউল করিম মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর) আসনে জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন, জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের মনোনীত ডা. আব্দুল আহাদকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। একই আসনের আরেক প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত আব্দুল কাদের চৌধুরীও মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

এ ছাড়া দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর) আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টি মনোনীত আব্দুল হক শেষ দিনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, শরীয়তপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে বৈধতা পাওয়া ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে দুজন তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় বর্তমানে তিন আসনে মোট বৈধ প্রার্থী ২১ জন। মনোনয়ন প্রত্যহারকারী দুজন হলেন শরীয়তপুর-১ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. মোশারফ হোসেন ও শরীয়তপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহানা কাদের রহমান।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ঝালকাঠি-১ ও ঝালকাঠি-২ আসনে ডা. মাহমুদা মিতুসহ ৪ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। বিকেলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের কাছে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ফরম জমা দেন।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহমুদা মিতু, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম আজম সৈকত এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। অন্যদিকে, ঝালকাঠি-২ আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) মনোনীত প্রার্থী শেখ জামাল তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে মুন্সীগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মোট চারজন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এর ফলে জেলায় মনোনয়ন দাখিলকারী মোট ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় বর্তমানে তিনটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে।

মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরফত আলী সপু ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এর আগে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়ন বাতিল হলেও আপিলের মাধ্যমে তিনি বৈধতা ফিরে পেয়েছিলেন।

মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে দুজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তারা হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক এভিএম ফজলুল করিম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম। ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উভয় প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

এদিকে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাজি আব্বাস কাজী দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

আলজাজিরার কলাম/ট্রাম্প-শি শীর্ষ সম্মেলন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি সমস্যা সামনে এনেছে

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এ ওয়াশিংটন ডি.সি.-র হোয়াইট হাউসে একটি রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বক্তব্য প্রদানের পূর্বে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্রে এই রাষ্ট্রীয় সফরের সাথে সব ধরণের জাঁকজমক অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মধ্যে ছিল বি-২ সামরিক বিমানের ফ্লাইওভার, পান্ডা এবং নিক্সন আমলের ঐতিহাসিক টোস্ট। তবে গ্লোবাল সাউথ থেকে যারা এই ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছিলেন, তাঁদের জন্য এই দৃশ্যমান জাঁকজমক মূল বিষয় ছিল না। এর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের “গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতা”র ওপর জোর দেওয়া। রিয়াদ থেকে নয়াদিল্লি বা জাকার্তা পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের রাজধানীর জন্য এই শীর্ষ সম্মেলনটি চলতি দশকের বাকি সময়ে দুই পরাশক্তির সাথে কীভাবে সম্পর্ক পরিচালনা করা যায় তার একটি স্পষ্ট আভাস দিয়েছে।

বেইজিং এই শীর্ষ সম্মেলন থেকে কোনো সামরিক ঝামেলায় না জড়িয়ে কূটনৈতিক সুরক্ষার সুবিধা নিয়ে বের হয়েছে। বিপরীতে, ওয়াশিংটন ততক্ষণে সাত মাসের কাছাকাছি সময় ধরে চলা মার্কিন-ইসরায়েলি ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল, বাণিজ্য বিষয়ে মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল, লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য পুনর্প্রতিষ্ঠা করছিল এবং চীনকে ঠেকানোর প্রচেষ্টায় গ্লোবাল সাউথকে যেকোনো এক পক্ষ বেছে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছিল। ট্রাম্প নিজে শি-র উদ্দেশ্যে পরীক্ষা করেন এবং সম্মেলনটিকে সফল বলে ঘোষণা করলেও বেইজিং থেকে দূরত্ব বজায় রাখার তাগিদ পাওয়া গ্লোবাল সাউথের সরকারগুলোর কাছে এই স্পষ্ট বৈপরীত্য নজর না এড়িয়ে যাবে না।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এই বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প চান যে ইরানের সর্ববৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার চীন যেন ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরায়েলি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অবরুদ্ধ থাকা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে সাহায্য করে। শি যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তীতে শান্তি আলোচনায় ফেরার সমর্থনের কথা বললেও, চীনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে প্রণালী খুলে দেওয়া বা ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি ছিল না। বেইজিং কৌশলগতভাবে নিজেদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মনে হচ্ছে। রিয়াদ, আবুধাবি এবং দোহার জন্য এর স্পষ্ট সুবিধা রয়েছে। চীন একজন সৈন্যও না পাঠিয়ে বা কোনো সামরিক ঘাঁটি দাবি না করেই তেহরানে সরাসরি কথা বলতে পারে, জাতিসংঘে প্রস্তাব দিতে পারে বা মধ্যস্থতার প্রস্তাব রাখতে পারে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন এই যুদ্ধের সরাসরি পক্ষ এবং সংকটের কারণে নিরাপত্তা নিশ্চয়তাকারী হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো সামরিক সরঞ্জামের জন্য মার্কিন নিরাপত্তা ছত্রছায়ায় থাকলেও, কূটনৈতিক সংকট ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য বেইজিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের ঝুঁকি কমাচ্ছে। সহজ কথায়, চীনের উপযোগিতা কিছুটা হলেও এই তথ্যের মধ্যে রয়েছে যে ওয়াশিংটন যেসব যুদ্ধ লড়ছে চীন তাতে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিচ্ছে না।

এই হিসাব-নিকাশ সমগ্র অঞ্চলে বিস্তৃত রয়েছে। ইরাক, মিশর ও আলজেরিয়ার মতো দেশগুলো, যারা জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং নৌপথ অবরুদ্ধ হওয়া প্রত্যক্ষ করছে, তাদের কাছে চীনের এই সংযমের বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। গ্লোবাল সাউথের নতুন কোনো পরাশক্তিকে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার প্রয়োজন নেই; তাদের এমন কাউকে প্রয়োজন যিনি রক্তপাত না ঘটিয়ে সব পক্ষের সাথে আলোচনা করতে পারেন। বেইজিং সেই ভূমিকা পালনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে।

গ্লোবাল সাউথের অন্যান্য সরকারের জন্য এটি কঠিন কিছু সিদ্ধান্তের সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প নিজে চীনের সাথে নতুন করে যুক্ত হওয়া সত্ত্বেও অন্যান্য দেশকে চীনের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। ওয়াশিংটন ও বেইজিং নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আরও দুই মাসের জন্য বাড়ালেও, বাকিদের শুল্ক ও সরবরাহ ব্যবস্থার ধাক্কা সহ্য করতে বলা হচ্ছে। এর ফলে ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, পরাশক্তিগুলোর বৈরিতার মূল্য অন্যান্য দেশের বহন করা আশা করা হলেও ওয়াশিংটন ও বেইজিং নিজেদের মধ্যে দরকষাকষির স্বাধীনতা বজায় রাখছে। এর প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান। ভারত রাশিয়ার তেল কেনার পাশাপাশি মার্কিন প্রযুক্তি ও চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ করে বহুপাক্ষিক ভারসাম্য বজায় রাখছে। ইন্দোনেশিয়া ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয়ের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে তাদের “মুক্ত এবং সক্রিয়” পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিল ব্রিকস (BRICS) প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে নিজেদের সুরক্ষার উপায় হিসেবে, যা কোনো পশ্চিমবিরোধী পদক্ষেপ নয় বরং এমন এক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিমা যেখানে অন্যরা নিয়ম নির্ধারণ করে। এই শীর্ষ সম্মেলনটি এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেনি, তবে এটি তা আরও জোরালো করতে পারে।

হুতিদের সামরিক শক্তির নেপথ্যে রুশ-ইরানি গোয়েন্দা তথ্য

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গ্লোবাল সাউথের জন্য একটি ভিন্ন প্রশ্ন তোলে: নিয়ম নির্ধারণের সুযোগ কার হাতে? শি-র “মানব নিয়ন্ত্রণ”-এর ওপর জোর দেওয়া এবং নতুন এআই নিয়মের প্রতি ট্রাম্পের অনীহা দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধিত্ব করে, তবে এর কোনোটিই গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর স্বার্থকে কেন্দ্রে রেখে তৈরি হয়নি। উভয় পক্ষ একটি নতুন এআই সংলাপ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে এবং দুর্ঘটনা-বিজ্ঞপ্তি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে, তবে কোনো বাধ্যবাধকতাযুক্ত নিয়ম তৈরি হয়নি। অনেক দেশই অন্যত্র তৈরি এআই ব্যবস্থা, অবকাঠামো ও মানদণ্ডের ওপর নির্ভরশীল থেকে যাবে, যেখানে এসব নিয়ম পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের খুব কম ভূমিকা থাকবে। চীনের রাষ্ট্র পরিচালিত মডেলকে আমেরিকার কর্পোরেট পরিচালিত বিকল্পের চেয়ে আকর্ষণীয় মনে হতে পারে, তবে এটিও এক প্রকারের নির্ভরতা। তবুও গ্লোবাল সাউথ সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় নয়। ভারত নিজস্ব বৃহৎ ভাষা মডেল (LLM) তৈরি করছে এবং তার ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামোর মডেল রফতানি করছে; সংযুক্ত আরব আমিরাত নিজেকে একটি প্রধান এআই হাব হিসেবে গড়ে তুলেছে; এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন ডেটা-সারভৌমত্ব কাঠামো তৈরি করছে যাতে আফ্রিকান রাষ্ট্রগুলো তাদের ডেটা ও ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ পায়।

এই প্রচেষ্টাগুলো প্রাথমিক স্তরে হলেও মার্কিন বা চীনা মডেলের মধ্যে একটিকে সহজভাবে বেছে নেওয়ার প্রবণতা এড়ানোর সংকল্প প্রদর্শন করে। বেইজিং তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছে, ‘গ্লোবাল এআই গভর্নেন্স ইনিশিয়েটিভ’ চালু করেছে এবং ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন’ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছে, যার প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তিতে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সাংহাইয়ে ২৯টি দেশ স্বাক্ষর করেছিল। কারও জন্য এটি পশ্চিমা কাঠামোর একটি বিকল্প; অন্যদের জন্য এটি এক নির্ভরতার বদলে অন্য নির্ভরতা গ্রহণ করা। প্রশ্ন হলো গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো নিজেরা নিয়ম তৈরি করতে যথেষ্ট সুসংগঠিত হতে পারবে কিনা।

আনুষ্ঠানিকতার বাইরে শীর্ষ সম্মেলনের বার্তাটি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। ওয়াশিংটন ছবি ও সাময়িক শুল্ক বিরতি নিশ্চিত করেছে; বেইজিং অর্জন করেছে নিজের শর্তে সম্পর্ক পরিচালনার কৌশলগত স্বীকৃতি। গ্লোবাল সাউথের সরকারগুলোর জন্য এই সম্মেলনটি পক্ষ নেওয়া এড়িয়ে চলা, উভয় পরাশক্তির সাথে সম্পর্ক রাখা এবং নিজেদের সুযোগ তৈরির কৌশলকে আরও শক্তিশালী করেছে। বেইজিংয়ের শর্তে পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা কোনো স্থায়ী শান্তি বয়ে আনে না। তবে রিয়াদ থেকে জাকার্তা পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের জন্য ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যবর্তী ক্ষেত্রটি প্রভাব তৈরি করা এবং নিজেদের স্বার্থ অনুসরণের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। মূল চ্যালেঞ্জ হলো ভবিষ্যতে এই দুই পরাশক্তির মধ্যকার চুক্তি যেন বাকি সবাইকে সমস্যার মধ্যে না ফেলে দেয়।

Continue Reading

top1

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সাক্ষাৎ

Published

on

By

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

মঙ্গলবার বিকেলে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সাক্ষাৎ।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিব ও শীর্ষ কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকসহ সফরের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি ভাষণটিকে ‘দূরদর্শী, দৃঢ়প্রত্যয়ী ও দিকনির্দেশনামূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

Continue Reading

top1

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: যুবলীগ নেতা অনিক গ্রেপ্তার

Published

on

By

অনলাইন ডেস্ক

জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাহ আলম অনিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ভাষানটেক থানা যুবলীগের সহসভাপতি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিবি সূত্রের দাবি, মিরপুরের সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত শাহাদাতের সঙ্গে অনিকের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। শাহাদাত ও ইব্রাহিমের হয়ে অনিক এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে সূত্রটি।

অনিককে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুর রহমান বলেন, তাকে কিছুক্ষণ আগে আটক করে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ডিবি সূত্রের দাবি, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি কনডোমিনিয়াম সিটিতে সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অনিক সরাসরি জড়িত ছিলেন। তবে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনিককে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিল ও মিরপুরের সাবেক স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত করা হতো। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিরপুর, ভাষানটেক, কাফরুল, পল্লবী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার কথাও জানিয়েছে সূত্র।

এ ছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে অনিক সামনের সারিতে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও সংগঠিত করার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে সূত্রের দাবি।

মিরপুর, পল্লবী, ভাষানটেক ও কাফরুল এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও অনিকের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছে সূত্র। বিদেশ থেকে আসা বিভিন্ন নির্দেশনা দেশে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রাখতেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ছোট ভাই মোতাহার হোসেন খান সুফলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সূত্রের দাবি, সুফল ও অনিক একসঙ্গে ঢাকায় অস্থিরতা তৈরির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

Continue Reading

Trending