Connect with us

top1

আসছেন তারেক, উৎসবের আমেজে সংবর্ধনার প্রস্তুতি

Published

on

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে অবশেষে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশের মাটিতে পা রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সব কিছু ঠিক থাকলে এদিন দুপুর ১১টা ৫৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট।

তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনের তারিখ নির্দিষ্ট হওয়ার পর থেকেই সারা দেশের বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তবে শেষ সময়ে এর মাত্রা আরও বেড়েছে। নেতাকে বরণ করতে দুই-একদিন আগেই সারা দেশ থেকে ঢাকায় আসা শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা।

বুধবারও বিভিন্ন রুটের যানবাহনে ঢাকামুখী নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়ছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে একই চিত্র। নেতাকর্মীদের যাতায়াতের জন্য দলের পক্ষ থেকে ১০টি রুটে বিশেষ ট্রেন বুকিং দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমানকে বরণ করতে দলের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড মোড় থেকে পূর্বাচলমুখী সড়কের উত্তর অংশে দক্ষিণমুখী করে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুটের বিশাল মঞ্চ।

এরই মধ্যে মঞ্চের মূল কাঠামো তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ সাজসজ্জার কাজ শেষ হবে বলে জানা গেছে।

আর বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট ও কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত থাকবে ৯০০ মাইক। এ উপলক্ষে সারা দেশেই নান্দনিক ব্যানার-ফেস্টুন করা হয়েছে। সংবর্ধনাস্থলের আশপাশে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। নেতাকে বরণের মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা করছেন তার অনুসারীরা। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা আশা করছেন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সারা দেশের, মহানগর, জেলা ও উপজেলা শাখাসহ তৃণমূল পর্যায় থেকেই আসছেন নেতাকর্মীরা। অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষ নেতারা ছাড়াও যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের নেতাকর্মীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনই রাজপথ থেকে সফল হয়েছে। ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। আর ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। ঠিক ২৪-এর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে লন্ডন থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তারেক রহমান। অর্থাৎ দেশের পক্ষে প্রতিটি আন্দোলনেই নেতৃত্বের আসনে ছিল জিয়া পরিবার। সেই পরিবারের যোগ্য উত্তরসূরি ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে দেশের মাটিতে আসছেন। সেটা তো আমাদের নেতাকর্মীদের আবেগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই তাকে বরণ করতে আমাদের সর্বস্তরের জনশক্তি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। সর্বোচ্চ সম্মান ও ভালোবাসায় নেতাকে বরণ করতে আমরা উন্মুখ। সে অনুযায়ী ৩০০ ফুট এলাকাসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্পটকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে।’’

প্রস্তুত বিশাল মঞ্চ, থাকছে ৯০০ মাইক

তারেক রহমানকে বরণের জন্য মঞ্চ নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে। যার উচ্চতা ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুট। কুড়িল বিশ্বরোড মোড় থেকে পূর্বাচলমুখী সড়কের উত্তর অংশে দক্ষিণমুখী করে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি এ মঞ্চের মূল কাঠামোর কাজ শেষ পর্যায়ে। সন্ধ্যা নাগাদ সাজসজ্জা সম্পন্ন হবে বলা জানা গেছে। ব্যানারে লেখা থাকবে তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কমিটি।

এর আগে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে নির্মাণাধীন মঞ্চের কাজ পরিদর্শন করেছেন তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নানান দিকনির্দেশনা দেন।

আর বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট ও কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত থাকবে ৯০০ মাইক।

মঞ্চের সামনে নেতাকর্মীদের ভিড়, ছবি: নাসিরুল ইসলামঢাকামুখী নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়ছে

তারেক রহমানের সংবর্ধনায় যোগ দিতে দুই দিন থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসা শুরু করেছেন। অনেকে আবাসিক হোটেলে অবস্থান নিয়েছেন। বুধবার নেতাকর্মীদের আগমনের পরিধি বাড়ছে। সকাল থেকেই গাবতলী ও সায়দাবাদসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে ভিড় দেখা গেছে। এছাড়াও রেল ও নৌপথেও একই চিত্র। অনেকে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে এসেছেন। কুমিল্লা থেকে এসেছেন দক্ষিণ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আহছান উল্লাহ। তিনি বলেন, জেলা থেকে প্রায় অর্ধলক্ষ জনশক্তি আসবে। তিনি আগেই নেতাকর্মীদের নিয়ে এসে পড়েছেন।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী থেকে সমাবেশে যোগ দিতে এসেছেন বিএনপির কর্মী আলী আজগর। তিনি বলেন, নেতার প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে আগেভাগে এসেছেন। এমন অসংখ্য নেতাকর্মীই এসে পড়েছেন।

১০ রুটে বিশেষ ট্রেন

বিএনপির আবেদনের ভিত্তিতে ১০ জোড়া বিশেষ ট্রেনের অনুমোদন দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার থেকে ঢাকা, জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা, টাঙ্গাইল-ঢাকা, ভৈরববাজার-নরসিংদী-ঢাকা, গাজীপুরের জয়দেবপুর-ঢাকা সেনানিবাস, পঞ্চগড়-ঢাকা, খুলনা-ঢাকা, পাবনার চাটমোহর-ঢাকা সেনানিবাস, রাজশাহী-ঢাকা এবং যশোর-ঢাকা।

কর্মসূচি শেষে প্রতিটি ট্রেন বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় এসে আবার নির্ধারিত গন্তব্যে ফিরে যাবে।

বিশেষ ট্রেন এবং অতিরিক্ত কোচে দলীয় নেতাকর্মীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে শর্ত হিসেবে ‘নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা-২০২৫’ প্রতিপালন করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

থাকবেন যুগপতের সঙ্গীরাও

তারেক রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপির বাইরেও যুগপতের সঙ্গীরাও আমন্ত্রণ পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাদের নেতাকর্মীরাও মিছিল সহকারে যাবেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তিনিসহ গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতাদের সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাদের নেতাকর্মীরাও অংশ নেবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘‘তারেক রহমানকে বরণে গোটা জাতি প্রস্তুত।’’

উৎসবের আমেজ

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে সারা দেশেই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তবে নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পূর্বাচল এলাকা। অনুষ্ঠানের একদিন আগেই আশপাশে অবস্থান নিয়েছেন অসংখ্য নেতাকর্মী। অনেকের হাতেই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ জিয়া পরিবারের ছবি শোভা পাচ্ছে। ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে দলীয় পতাকা। নেতাকে বরণের মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা করছেন তার অনুসারীরা।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

আলজাজিরার কলাম/ট্রাম্প-শি শীর্ষ সম্মেলন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি সমস্যা সামনে এনেছে

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এ ওয়াশিংটন ডি.সি.-র হোয়াইট হাউসে একটি রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বক্তব্য প্রদানের পূর্বে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্রে এই রাষ্ট্রীয় সফরের সাথে সব ধরণের জাঁকজমক অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মধ্যে ছিল বি-২ সামরিক বিমানের ফ্লাইওভার, পান্ডা এবং নিক্সন আমলের ঐতিহাসিক টোস্ট। তবে গ্লোবাল সাউথ থেকে যারা এই ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছিলেন, তাঁদের জন্য এই দৃশ্যমান জাঁকজমক মূল বিষয় ছিল না। এর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের “গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতা”র ওপর জোর দেওয়া। রিয়াদ থেকে নয়াদিল্লি বা জাকার্তা পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের রাজধানীর জন্য এই শীর্ষ সম্মেলনটি চলতি দশকের বাকি সময়ে দুই পরাশক্তির সাথে কীভাবে সম্পর্ক পরিচালনা করা যায় তার একটি স্পষ্ট আভাস দিয়েছে।

বেইজিং এই শীর্ষ সম্মেলন থেকে কোনো সামরিক ঝামেলায় না জড়িয়ে কূটনৈতিক সুরক্ষার সুবিধা নিয়ে বের হয়েছে। বিপরীতে, ওয়াশিংটন ততক্ষণে সাত মাসের কাছাকাছি সময় ধরে চলা মার্কিন-ইসরায়েলি ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল, বাণিজ্য বিষয়ে মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল, লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য পুনর্প্রতিষ্ঠা করছিল এবং চীনকে ঠেকানোর প্রচেষ্টায় গ্লোবাল সাউথকে যেকোনো এক পক্ষ বেছে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছিল। ট্রাম্প নিজে শি-র উদ্দেশ্যে পরীক্ষা করেন এবং সম্মেলনটিকে সফল বলে ঘোষণা করলেও বেইজিং থেকে দূরত্ব বজায় রাখার তাগিদ পাওয়া গ্লোবাল সাউথের সরকারগুলোর কাছে এই স্পষ্ট বৈপরীত্য নজর না এড়িয়ে যাবে না।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এই বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প চান যে ইরানের সর্ববৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার চীন যেন ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরায়েলি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অবরুদ্ধ থাকা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে সাহায্য করে। শি যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তীতে শান্তি আলোচনায় ফেরার সমর্থনের কথা বললেও, চীনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে প্রণালী খুলে দেওয়া বা ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি ছিল না। বেইজিং কৌশলগতভাবে নিজেদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মনে হচ্ছে। রিয়াদ, আবুধাবি এবং দোহার জন্য এর স্পষ্ট সুবিধা রয়েছে। চীন একজন সৈন্যও না পাঠিয়ে বা কোনো সামরিক ঘাঁটি দাবি না করেই তেহরানে সরাসরি কথা বলতে পারে, জাতিসংঘে প্রস্তাব দিতে পারে বা মধ্যস্থতার প্রস্তাব রাখতে পারে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন এই যুদ্ধের সরাসরি পক্ষ এবং সংকটের কারণে নিরাপত্তা নিশ্চয়তাকারী হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো সামরিক সরঞ্জামের জন্য মার্কিন নিরাপত্তা ছত্রছায়ায় থাকলেও, কূটনৈতিক সংকট ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য বেইজিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের ঝুঁকি কমাচ্ছে। সহজ কথায়, চীনের উপযোগিতা কিছুটা হলেও এই তথ্যের মধ্যে রয়েছে যে ওয়াশিংটন যেসব যুদ্ধ লড়ছে চীন তাতে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিচ্ছে না।

এই হিসাব-নিকাশ সমগ্র অঞ্চলে বিস্তৃত রয়েছে। ইরাক, মিশর ও আলজেরিয়ার মতো দেশগুলো, যারা জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং নৌপথ অবরুদ্ধ হওয়া প্রত্যক্ষ করছে, তাদের কাছে চীনের এই সংযমের বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। গ্লোবাল সাউথের নতুন কোনো পরাশক্তিকে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার প্রয়োজন নেই; তাদের এমন কাউকে প্রয়োজন যিনি রক্তপাত না ঘটিয়ে সব পক্ষের সাথে আলোচনা করতে পারেন। বেইজিং সেই ভূমিকা পালনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে।

গ্লোবাল সাউথের অন্যান্য সরকারের জন্য এটি কঠিন কিছু সিদ্ধান্তের সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প নিজে চীনের সাথে নতুন করে যুক্ত হওয়া সত্ত্বেও অন্যান্য দেশকে চীনের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। ওয়াশিংটন ও বেইজিং নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আরও দুই মাসের জন্য বাড়ালেও, বাকিদের শুল্ক ও সরবরাহ ব্যবস্থার ধাক্কা সহ্য করতে বলা হচ্ছে। এর ফলে ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, পরাশক্তিগুলোর বৈরিতার মূল্য অন্যান্য দেশের বহন করা আশা করা হলেও ওয়াশিংটন ও বেইজিং নিজেদের মধ্যে দরকষাকষির স্বাধীনতা বজায় রাখছে। এর প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান। ভারত রাশিয়ার তেল কেনার পাশাপাশি মার্কিন প্রযুক্তি ও চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ করে বহুপাক্ষিক ভারসাম্য বজায় রাখছে। ইন্দোনেশিয়া ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয়ের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে তাদের “মুক্ত এবং সক্রিয়” পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিল ব্রিকস (BRICS) প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে নিজেদের সুরক্ষার উপায় হিসেবে, যা কোনো পশ্চিমবিরোধী পদক্ষেপ নয় বরং এমন এক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিমা যেখানে অন্যরা নিয়ম নির্ধারণ করে। এই শীর্ষ সম্মেলনটি এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেনি, তবে এটি তা আরও জোরালো করতে পারে।

হুতিদের সামরিক শক্তির নেপথ্যে রুশ-ইরানি গোয়েন্দা তথ্য

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গ্লোবাল সাউথের জন্য একটি ভিন্ন প্রশ্ন তোলে: নিয়ম নির্ধারণের সুযোগ কার হাতে? শি-র “মানব নিয়ন্ত্রণ”-এর ওপর জোর দেওয়া এবং নতুন এআই নিয়মের প্রতি ট্রাম্পের অনীহা দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধিত্ব করে, তবে এর কোনোটিই গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর স্বার্থকে কেন্দ্রে রেখে তৈরি হয়নি। উভয় পক্ষ একটি নতুন এআই সংলাপ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে এবং দুর্ঘটনা-বিজ্ঞপ্তি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে, তবে কোনো বাধ্যবাধকতাযুক্ত নিয়ম তৈরি হয়নি। অনেক দেশই অন্যত্র তৈরি এআই ব্যবস্থা, অবকাঠামো ও মানদণ্ডের ওপর নির্ভরশীল থেকে যাবে, যেখানে এসব নিয়ম পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের খুব কম ভূমিকা থাকবে। চীনের রাষ্ট্র পরিচালিত মডেলকে আমেরিকার কর্পোরেট পরিচালিত বিকল্পের চেয়ে আকর্ষণীয় মনে হতে পারে, তবে এটিও এক প্রকারের নির্ভরতা। তবুও গ্লোবাল সাউথ সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় নয়। ভারত নিজস্ব বৃহৎ ভাষা মডেল (LLM) তৈরি করছে এবং তার ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামোর মডেল রফতানি করছে; সংযুক্ত আরব আমিরাত নিজেকে একটি প্রধান এআই হাব হিসেবে গড়ে তুলেছে; এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন ডেটা-সারভৌমত্ব কাঠামো তৈরি করছে যাতে আফ্রিকান রাষ্ট্রগুলো তাদের ডেটা ও ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ পায়।

এই প্রচেষ্টাগুলো প্রাথমিক স্তরে হলেও মার্কিন বা চীনা মডেলের মধ্যে একটিকে সহজভাবে বেছে নেওয়ার প্রবণতা এড়ানোর সংকল্প প্রদর্শন করে। বেইজিং তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছে, ‘গ্লোবাল এআই গভর্নেন্স ইনিশিয়েটিভ’ চালু করেছে এবং ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন’ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছে, যার প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তিতে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সাংহাইয়ে ২৯টি দেশ স্বাক্ষর করেছিল। কারও জন্য এটি পশ্চিমা কাঠামোর একটি বিকল্প; অন্যদের জন্য এটি এক নির্ভরতার বদলে অন্য নির্ভরতা গ্রহণ করা। প্রশ্ন হলো গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো নিজেরা নিয়ম তৈরি করতে যথেষ্ট সুসংগঠিত হতে পারবে কিনা।

আনুষ্ঠানিকতার বাইরে শীর্ষ সম্মেলনের বার্তাটি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। ওয়াশিংটন ছবি ও সাময়িক শুল্ক বিরতি নিশ্চিত করেছে; বেইজিং অর্জন করেছে নিজের শর্তে সম্পর্ক পরিচালনার কৌশলগত স্বীকৃতি। গ্লোবাল সাউথের সরকারগুলোর জন্য এই সম্মেলনটি পক্ষ নেওয়া এড়িয়ে চলা, উভয় পরাশক্তির সাথে সম্পর্ক রাখা এবং নিজেদের সুযোগ তৈরির কৌশলকে আরও শক্তিশালী করেছে। বেইজিংয়ের শর্তে পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা কোনো স্থায়ী শান্তি বয়ে আনে না। তবে রিয়াদ থেকে জাকার্তা পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের জন্য ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যবর্তী ক্ষেত্রটি প্রভাব তৈরি করা এবং নিজেদের স্বার্থ অনুসরণের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। মূল চ্যালেঞ্জ হলো ভবিষ্যতে এই দুই পরাশক্তির মধ্যকার চুক্তি যেন বাকি সবাইকে সমস্যার মধ্যে না ফেলে দেয়।

Continue Reading

top1

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সাক্ষাৎ

Published

on

By

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

মঙ্গলবার বিকেলে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সাক্ষাৎ।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিব ও শীর্ষ কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকসহ সফরের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি ভাষণটিকে ‘দূরদর্শী, দৃঢ়প্রত্যয়ী ও দিকনির্দেশনামূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

Continue Reading

top1

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: যুবলীগ নেতা অনিক গ্রেপ্তার

Published

on

By

অনলাইন ডেস্ক

জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাহ আলম অনিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ভাষানটেক থানা যুবলীগের সহসভাপতি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিবি সূত্রের দাবি, মিরপুরের সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত শাহাদাতের সঙ্গে অনিকের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। শাহাদাত ও ইব্রাহিমের হয়ে অনিক এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে সূত্রটি।

অনিককে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুর রহমান বলেন, তাকে কিছুক্ষণ আগে আটক করে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ডিবি সূত্রের দাবি, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি কনডোমিনিয়াম সিটিতে সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অনিক সরাসরি জড়িত ছিলেন। তবে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনিককে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিল ও মিরপুরের সাবেক স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত করা হতো। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিরপুর, ভাষানটেক, কাফরুল, পল্লবী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার কথাও জানিয়েছে সূত্র।

এ ছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে অনিক সামনের সারিতে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও সংগঠিত করার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে সূত্রের দাবি।

মিরপুর, পল্লবী, ভাষানটেক ও কাফরুল এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও অনিকের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছে সূত্র। বিদেশ থেকে আসা বিভিন্ন নির্দেশনা দেশে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রাখতেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ছোট ভাই মোতাহার হোসেন খান সুফলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সূত্রের দাবি, সুফল ও অনিক একসঙ্গে ঢাকায় অস্থিরতা তৈরির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

Continue Reading

Trending