Connect with us

top1

ইসরায়েলের পরমাণু অস্ত্র প্রকল্পে গোপনে সহায়তা দিয়েছিল জার্মানি

Published

on

ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত ডিমোনা পারমাণবিক চুল্লির অস্তিত্ব প্রথম প্রকাশ্যে আসে ১৯৬০ সালের ডিসেম্বরে। এরপর থেকে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তর গবেষণা, বই এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জার্মানি ‘গোপনে’ এই প্রকল্পে ‘অর্থায়ন’ করেছিল।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাভনার কোহেনের ‘ইসরায়েল অ্যান্ড দ্য বোম্ব’সহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, পাশাপাশি সিমুর হার্শ, জাকি শালোম এবং আদম রাজের গবেষণায় এই কর্মসূচির উৎস, বিকাশ এবং গোপনীয়তা বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ২০২৪ সালে সাংবাদিক শ্যানি হাজিজার প্রামাণ্যচিত্র সিরিজ ‘দ্য অ্যাটম অ্যান্ড মি’ এই গল্পে ব্যক্তিগত ও সামাজিক মাত্রা যোগ করে।

তবে দশকের পর দশক গবেষণার পরও দুটি বড় প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত রয়ে গেছে—প্রকল্পের মোট খরচ কত ছিল এবং সেই অর্থ কে জুগিয়েছিল? প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ১৯৬১ থেকে ১৯৭৩ সালের মধ্যে বন সরকার (তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির রাজধানী) গোপন ঋণ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিবছর ১৪০ থেকে ১৬০ মিলিয়ন জার্মান মার্ক ইসরায়েলে পাঠায়। মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২ বিলিয়ন মার্ক, যা বর্তমান মূল্যে প্রায় ৫ বিলিয়ন ইউরো (৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি)। ১৯৮৯ সালে স্বাক্ষরিত পরবর্তী এক পরিশোধ চুক্তির মাধ্যমে এই ঋণ কার্যত অনুদানে পরিণত হয় বলে জানা যায়।

এই দাবি সত্য হলে, ইসরায়েলের পারমাণবিক প্রকল্পের বড় অংশ ইসরায়েলি করদাতা বা ব্যক্তিগত দাতাদের অর্থে নয়, বরং জার্মান সরকারি অর্থে নির্মিত হয়েছিল।

ফ্রান্সের সহায়তা, জার্মান সমর্থন

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৫৭ সালে, যখন ১৯৫৬ সালের সিনাই যুদ্ধের পর ইসরায়েল-ফ্রান্স সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্স কূটনৈতিকভাবে ইসরায়েলকে সমর্থন দেয় এবং দুই দেশের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে গোপনে একটি পারমাণবিক চুল্লি পেতে সহায়তায় সম্মত হয়। তবে তৎকালীন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন গুরিয়ন কেবল ফরাসি সমর্থনে আশ্বস্ত ছিলেন না। তিনি আশঙ্কা করছিলেন, মিসরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গামাল আব্দেল নাসের এবং প্যান-আরব জাতীয়তাবাদের উত্থানের কারণে ইসরায়েল দীর্ঘমেয়াদি অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।

এ কারণে বেন-গুরিয়ন এমন এক শক্তির সন্ধান শুরু করেন, যাকে তিনি নাকি ‘বৃষ্টির দিনের ছাতা’ বা বিপদের সঙ্গী বলে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর দৃষ্টিতে পশ্চিম জার্মানিই ছিল সবচেয়ে উপযুক্ত। এটি ছিল দ্রুত উত্থানশীল ইউরোপীয় শক্তি, নাসেরবিরোধী এবং নেতৃত্বে ছিলেন কনরাড অ্যাডওয়ারের মতো ব্যক্তিত্ব, যিনি হলোকাস্টের পর ইসরায়েলের প্রতি জার্মানির নৈতিক দায়বদ্ধতায় বিশ্বাস করতেন।

বনে গোপন সম্পর্কের সূচনা

১৯৫৭ সালের ৩ জুলাই বন শহরে এক গোপন বৈঠকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক শিমন পেরেস এবং পশ্চিম জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফ্রাঞ্জ জোসেফ স্ট্রাউস বৈঠকে বসেন। এটি ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বেন-গুরিয়নের আশঙ্কা ছিল, জার্মানির সঙ্গে প্রকাশ্য সম্পর্ক ইসরায়েলের ভেতরে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে বন সরকার ভয় পাচ্ছিল, ইসরায়েলের সঙ্গে দৃশ্যমান সহযোগিতা আরব বিশ্বে তাদের অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং পূর্ব জার্মানিকে কূটনৈতিক সুবিধা দেবে।

পশ্চিম জার্মানি ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়াকে নৈতিক দায়িত্ব এবং কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে দেখছিল। আর ইসরায়েল চাইছিল সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন। আলোচনায় পেরেস জানান, ১৯৫২ সালের ক্ষতিপূরণ চুক্তির বাইরে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়া উচিত। স্ট্রাউস ইতিবাচক সাড়া দেন, এমনকি সাবমেরিন সরবরাহের অনুরোধেও। যদিও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এগুলোকে অপরিহার্য মনে করেনি, তবুও এই অনুরোধ বৃহত্তর প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পথ খুলে দেয়।

শেষ পর্যন্ত সাবমেরিনগুলো ব্রিটেন থেকে জার্মান অর্থায়নে কেনা হয়। পশ্চিম জার্মানি ইসরায়েলের কাছ থেকে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জামও কেনে, যা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

১৯৬০ সালের বৈঠক: মোড় ঘোরানো মুহূর্ত

এরপর, ১৯৬০ সালের ১৪ মার্চ নিউইয়র্কের ওয়াল্ডর্ফ অ্যাস্টোরিয়াতে বেন-গুরিয়ন ও অ্যাডেনওয়ারের বৈঠককে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হয়। বৈঠকটি প্রকাশ্যে হলেও আলোচনার বিষয়বস্তু বহু বছর গোপন ছিল। কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিলিপি নেই, তবু এটিকে ইসরায়েল-জার্মানি নিরাপত্তা সম্পর্কের ইতিহাসে বড় ঘটনা হিসেবে ধরা হয়।

আলোচনায় বেন-গুরিয়ন নাকি ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে সরাসরি হলোকাস্টের সঙ্গে যুক্ত করেন। তাঁর মতে, ইউরোপীয় ইহুদিদের ধ্বংস জায়নবাদী প্রকল্পকেও মারাত্মকভাবে দুর্বল করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে জার্মান সহায়তাকে তিনি অতীত অপরাধের ক্ষতিপূরণই নয়, ভবিষ্যতে ইসরায়েলের টিকে থাকার জন্যও অবদান হিসেবে উপস্থাপন করেন।

‘নেগেভ উন্নয়ন’ ছিল আড়াল

জার্মান সামরিক সহায়তা নজর কাড়লেও প্রকৃত গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল গোপন আর্থিক ব্যবস্থা, যা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নেগেভ উন্নয়ন’ সহায়তা হিসেবে দেখানো হয়। অ্যাডেনওয়ারে দপ্তর এই পরিকল্পনার কোডনাম দেয় অ্যাকশিওন গুশাফসফ্রন্ড বা অপারেশন বিজনেস ফ্রেন্ড। এর আওতায় ইসরায়েলকে ১০ বছর ধরে বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হওয়ার কথা ছিল, সুদের হার ৩.৬ শতাংশ।

প্রথমে বন সরকার চেয়েছিল ১৯৬৫ সালে ক্ষতিপূরণ প্রদান শেষ হওয়ার পর এই ব্যবস্থা কার্যকর হোক। কিন্তু ইসরায়েলের চাপের কারণে তা আগেই শুরু হয় এবং প্রথম অর্থ স্থানান্তর হয় ১৯৬১ সালের ডিসেম্বরে। গোপনীয়তা বজায় রাখতে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি করা হয়নি। পরিবর্তে ইসরায়েলের প্রতিনিধি ফেলিক্স শিনার এবং অ্যাডেনওয়ারের উপদেষ্টা হারমান অ্যাবস এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করেন, যাতে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ঋণের মতো করে অর্থ পাঠানো হয়।

অর্থের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন রাখতে সরকারি কাগজে এগুলোকে অজ্ঞাত উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আর্থিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখানো হয়। জার্মানির অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয় এই ব্যবস্থা অনুমোদন দেয়, তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

সে সময়, ১৯৬০ সালের মে মাসে বেন-গুরিয়ন নাৎসি কর্মকর্তা এডলফ আইখম্যানকে গ্রেপ্তার এবং জেরুজালেমে বিচার করার পরিকল্পনা ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। পশ্চিম জার্মান কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেন, এই বিচার অ্যাডেনওয়ার সরকারের সেইসব উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের দিকে নজর টানতে পারে, যারা নাৎসি আমলে কাজ করেছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন তাঁর চিফ অব স্টাফ হ্যান্স গ্লবকে, যিনি নুরেমবার্গ আইন প্রণয়নে ভূমিকা রেখেছিলেন এবং ইসরায়েলের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক সম্পর্কেও অবগত ছিলেন।

গোপন অর্থায়ন ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হারমান অ্যাবসও নাৎসি আমলে শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকার ছিলেন।

সব মিলিয়ে এই বিবরণ থেকে বোঝা যায়, ডিমোনা প্রকল্প শুধু ফ্রান্সের প্রযুক্তিগত সহায়তায় নয়, বরং পশ্চিম জার্মানির গোপন আর্থিক সহায়তার ওপরও দাঁড়িয়ে ছিল। এই ব্যবস্থা পুরোপুরি নিশ্চিত হলে, তা ইসরায়েলের পারমাণবিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অথচ কম আলোচিত দিকগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে। হলোকাস্টের স্মৃতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং গোপন কূটনীতির জটিল মিশ্রণে এই ইতিহাস গড়ে উঠেছে

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

বাসে সিনিয়র-জুনিয়র মারামারির ঘটনায় ইবি ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, আহত ৪

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস থেকে ঝিনাইদহগামী বাসে (মধুমতি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীকে লোকপ্রশাসন বিভাগের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর মারধরের ঘটনায় দুই বিভাগের মধ্যকার দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৪ জন আহত হয়েছে।

রবিবার (১৭ মে) রাত সাড়ে আটটার বাস ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার সময় প্রধান ফটকে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে বাসে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সায়মন আহমেদ হৃদয় এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের অন্তর বিশ্বাস।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিকেলে মধুমতি বাস নিয়ে ঝিনাইদহের উদ্দেশে রওনা হন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা। এসময় হৃদয়সহ তাঁর কয়েকজন বন্ধু বাসে উচ্চস্বরে কথাবার্তা ও হইচই করছিলেন। এতে বিরক্ত হয়ে অন্তরের পাশের সিটে বসা এক শিক্ষার্থী তাঁদের থামতে বলেন। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে হৃদয় তেড়ে এসে অন্তরের গায়ে হাত তোলেন এবং উপর্যুপরি আঘাত করেন। বাসের এই ঘটনার জের ধরে অন্তর ও হৃদয়ের বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে অবস্থান নেয় এবং রাত আটটার বাসে অভিযুক্ত হৃদয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামানের উপস্থিতিতেও ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ মোতায়েন সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভিসি, ট্রেজারার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত হয়ে পরিবেশ শান্ত করে।

এদিকে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী জিহাদুল করিম, বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাগর, লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রাসু প্রধান ফটকের সামনে সংঘটিত সংঘর্ষে আহত হন। পরে ইবি মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল চিকিৎসক তাদের বিষয় নিশ্চিত করে জানান, “একজনের নাকে, আরেক শিক্ষার্থীর পায়ের আঙুলে, অন্যজনের ঘাড়ে সামান্য আঘাত ছিল। ট্রিটমেন্ট দেওয়ার পর ঠিক হয়ে গেছে। বড় ধরনের সমস্যা নেই।”

এবিষয়ে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, “ঘটনার পর রাত আড়াই পর্যন্ত উভয় পক্ষের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের উপস্থিতিতে মীমাংসা করা হয়েছে। অভিযুক্তরা ক্ষমা চাওয়ায় এবং ভুক্তভোগীরা ক্ষমা করে দেওয়ায় বিষয়টি সমাধান হয়েছে। উভয় পক্ষ মুচলেকা দিয়েছে।”

Continue Reading

top1

পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ

Published

on

By

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার পশু জবাইয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার আওতায় রাজ্যজুড়ে প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে নির্ধারিত সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং পশু চিকিৎসকের দেওয়া ফিটনেস সনদ ছাড়া গরু, ষাঁড় বা মহিষের মতো কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই নিয়ম অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, যা রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নতুন এই সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ স্বাক্ষর করা সনদ ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই বিধিনিষেধ গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর এবং স্ত্রী ও পুরুষ মহিষসহ সব ধরনের গবাদি পশুর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

জবাইয়ের উপযোগী হিসেবে সনদ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট পশুর বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে এবং সেটি প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী হতে হবে। এ ছাড়া গুরুতর আঘাত, বিকলাঙ্গতা বা অনিরাময়যোগ্য রোগের কারণে কোনো পশু স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তবেই সেটিকে জবাইয়ের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে।

পশু জবাইয়ের জন্য স্থান নির্ধারণের বিষয়েও কড়াকড়ি আরোপ করেছে রাজ্য সরকার বিজেপি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমতিপ্রাপ্ত পশু শুধুমাত্র পৌরসভার কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত নির্দিষ্ট স্থানেই জবাই করতে হবে। রাস্তাঘাট বা জনসমাগমপূর্ণ কোনো খোলা জায়গায় পশু জবাই করা এখন থেকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

নিয়মটি যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা তদারকি করার জন্য পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাপতি বা অনুমোদিত সরকারি কর্মকর্তারা যেকোনো স্থাপনা বা চত্বর পরিদর্শন করতে পারবেন। এই পরিদর্শন কাজে বাধা দেওয়াকেও আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে।

শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, এই নতুন আইনের যেকোনো ধারা ভঙ্গ করলে অপরাধীকে এক হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা, ছয় মাসের জেল অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। এ ছাড়া এই সংক্রান্ত সব ধরনের অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই এই আমূল পরিবর্তন আনা হলো। বিশেষ করে ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর জয় এবং নতুন সরকারের এই ত্বরিত সিদ্ধান্তগুলো পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Continue Reading

top1

ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

Published

on

By

পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে টানা দুই টেস্ট জিতে নতুন ইতিহাস লিখেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের লাল বলের সেই জয়ের ছন্দটা এবার লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা ধরে রাখল ঘরের মাঠেও। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টে অতিথি পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু করল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এতে নতুন ইতিহাস লিখল বাংলার দামাল ছেলেরা। ঘরের মাটিতে প্রথমবার টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় জয় পেল দেশের ক্রিকেটাররা। এর আগে নিজেদের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য এসেছিল ২০১৫ সালে। ওই বছর খুলনাতে পাকিস্তানে সঙ্গে প্রথম টেস্ট ড্র করেছিল বাংলাদেশ। এই প্রথম ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হারালো লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।এই ব্যাট-বলের দুরন্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে দাপুটে এ জয়ে দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম ফাইফারের দেখা পেয়েছেন নাহিদ রানা। তার ফাইফারের ওপর ভর করে মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ১৬৩ রানে। তাতে ১০৪ রানের বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এই প্রথম ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হারালো লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ব্যাটিংয়ের মাঝে ভালো করলেও শুরুতে আর শেষ দিকে দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় লড়াই জমিয়ে তুলতে পারেননি পাকিস্তান। শেষের ৭ উইকেট সফরকারীরা হারিয়েছেন মাত্র ৪৪ রানের ব্যবধানে। যে কারণে লড়াই থেকে ছিটকে যায় শান মাসুদের দল। অথচ ৪ উইকেট হারিয়ে ১১৯ রান তুলে ফেলেছিল পাকিস্তান।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৬৬ রানের দারুণ এক ইনিংস উপহার দেন আব্দুল্লাহ ফজল। আর ২৬ রান আসে সালমান আগার ব্যাট থেকে। দলীয় স্কোরে সমান ১৫ রান করে যোগ করেন আজান আওয়াইস, সৌদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। নাহিদ ৪০ রান দিয়ে শিকার করে ৫ উইকেট। দুটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম।

তার আগে ১৭৯ রানের লিড নিয়ে আজ পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে মুশফিকুর রহিমকে হারালেও লিড বাড়াতে কোনো সমস্যা হয়নি। ৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে খেলা শুরু করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ব্যক্তিগত ১৬ রান নিয়ে দিন শুরু করা মুশফিক ফিরে যান ৩৭ বলে ২২ রান করেই। শাহিন শাহ আফ্রিদির বাউন্সারে ফাইন লেগে ক্যাচ তুলে দেন লিটন দাস। ফেরার আগে তার ব্যাটে আসে ২৮ বলে ১১ রান।


রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে লেগ বিফোরের শিকার হয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৮৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ৫৮ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে সেঞ্চুরির আভাসই দিয়ে যাচ্ছিলেন অধিনায়ক। কিন্তু জাদুকরী তিন অঙ্ক মিস করেছেন শান্ত। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরি করার সুযোগ ছিল তার সামনে। তবে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান তিনি। শান্তকে শতক থেকে বঞ্চিত করেন নোমান আলী।

ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং শুরু করেছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। নোমান আলীর বলে সালমান আগার হাতে ক্যাচ তুলে দেন। ফেরার আগে তার ব্যাটে আসে ২৭ বলে ২৪ রান। তাসকিন আহমেদ অনেকটা ওয়ানডে স্টাইলে করছিলেন ব্যাট। ৬ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ১১ রান। হাসান আলীর বলে তার বিদায়ের পর ইনিংস ঘোষণা করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তাতে বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় ২৬৭। আর তাতে পাকিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ১ম ইনিংসে ৪১৩/১০ ও ২য় ইনিংসে ২৪০/৯ ডিক্লে. (নাজমুল ৮৭, মুমিনুল ৫৬, মিরাজ ২৪, মুশফিক ২২, তাসকিন ১১; হাসান ৩/৫২, নোমান ৩/৭৬, শাহিন ২/৫৪)।
পাকিস্তান: ১ম ইনিংসে ৩৮৬/১০ ও ২য় ইনিংসে ১৬৩/১০ (ফজল ৬৬, সালমান ২৬; নাহিদ রানা ৫/৪০, তাইজুল ২/২২)।
ফল: বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: নাজমুল হোসেন শান্ত।
সিরিজ: ২ ম্যাচ টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ ১-০তে এগিয়ে।

Continue Reading

Trending