Connect with us

top1

এনসিপি নেতাকে গুলির বিষয়ে যা জানা যাচ্ছে, তরুণীকে খুঁজছে পুলিশ

Published

on

খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক এবং খুলনা বিভাগীয় আহ্বায়ক মো. মোতালেব শিকদারকে (৪২) সোনাডাঙ্গার একটি ভাড়া বাসার ভেতরে গুলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ‘অভ্যন্তরীণ বিরোধে’ সোমবার বেলা ১১টার দিকে ‘মুক্তা হাউজ’ নামের একটি বাসার নিচতলায় ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক কোনও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। গুলিবিদ্ধ মোতালেব এখন শঙ্কামুক্ত। তবে যে বাসায় ঘটনাটি ঘটেছে, সেটির ভাড়াটিয়া এক এনজিওকর্মী তরুণী। তাকে খুঁজছে পুলিশ। তাকে আটকের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কী ঘটেছিল

ঘটনাস্থলের পাশের একটি ফার্মেসি থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই বাসার মালিক ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানায়, মোতালেব শিকদারের মাথায় গুলি করা হয় মুক্তা হাউজের নিচতলায়। ওই বাসার ফ্ল্যাটটি গত ১ নভেম্বর ভাড়া নেন এক এনজিওকর্মী তরুণী। তিনি এক তরুণকে স্বামী পরিচয়ে ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে সেখানে নানা পুরুষের যাতায়াত ছিল। গতকাল রাতভর বাসায় মদপানসহ আড্ডা চলেছে। সোমবার সকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মোতালেব হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ওই বাসায় যায় পুলিশ। তখন বাসায় মাদক ও নারীর ব্যবহৃত জিনিসপত্র পাওয়া যায়। গত দেড় মাসে মাঝেমধ্যে সেখানে যাতায়াত করতেন মোতালেব। ঘটনার পরপরই ওই ভাড়াটিয়া তরুণী আত্মগোপন করেন।

যে কক্ষে গুলির ঘটনা ঘটেছে সেখানে তল্লাশি করে পাওয়া যায় মদের ছয়টি খালি বোতল, বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনের সামগ্রী, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং অনৈতিক কার্যক্রমের আলামত। এ ছাড়া উদ্ধার হয়েছে একটি গুলির খোসা। পুলিশের ধারণা, ওই বাসায় মাদক সেবন কিংবা অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে গুলির ঘটনাটি ঘটেছে।

পরে আহত অবস্থায় মোতালেবকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে তার মাথায় গুলি ঢোকেনি। তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত। বর্তমানে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন। তার সিটি স্ক্যান রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে।

‘অভ্যন্তরীণ বিরোধ’ বলছে পুলিশ 

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুরে পুলিশের কাছে খবর আসে এনসিপির একজন গুলিবিদ্ধ হন। তিনি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আছেন। গাজী মেডিক্যাল কলেজের পাশের রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে আমাদের জানানো হয়। ভুক্তভোগীর কাছে পুলিশের দল পাঠানো হয়। গাজী মেডিক্যাল কলেজের পাশের একটি ফার্মেসি থেকে ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়। ওই ভিডিও ফুটেছে দেখা যায়, রবিবার রাতে ভুক্তভোগী এবং তার সঙ্গে আরও দুজন পুরুষ একটি গাড়িতে করে আসেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে নেমে গাজী মেডিক্যালের পেছন দিকের আল আকসা মসজিদের দিকে আসেন। ওই সূত্র ধরেই ঘটনাস্থল শনাক্ত করা হয়।’

বাসায় মিললো মাদক ও গুলির খোসা

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মুক্তা হাউজ নামের বাড়িতে এসে দেখতে পাই, ঘটনাস্থল এখানেই। এখানে বিভিন্ন স্থানে আমরা রক্তের দাগ পেয়েছি। ঘরটিতে ঢোকার পর আমরা দেখতে পাই, সেখানে মাদকের ছড়াছড়ি। বিদেশি মদের বোতল, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং সেখানে আমরা একটি গুলির খোসাও পেয়েছি। এসব আলামত দেখে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে এখানে যারা ছিলেন, তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধে গুলির ঘটনাটি ঘটেছে।’

একই কথা বলেছেন সোনাডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অনিমেষ মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘প্রথমে ভুক্তভোগী আমাদের জানিয়েছিলেন, রাস্তায় মোটরসাইকেলে এসে তাকে গুলি করে চলে যায়। পরে দেখলাম যে ঘটনা ঘরের ভেতরের। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, একজন–দুজন তাকে ধরে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। তাকে কারা হাসপাতালে নিয়ে যায়, সেটাও আমরা খুঁজে দেখছি।’

যা বলছেন মুক্তা হাউজের মালিক

এ বিষয়ে মুক্তা হাউজের মালিক আশরাফুন নাহার বলেন, ‘যে ফ্ল্যাটে গুলির ঘটনা ঘটেছে, সেটি নভেম্বর মাসে একজন তরুণী ভাড়া নেন। স্বামীসহ থাকবেন বলেছিলেন। কিন্তু বাসাটিতে নিয়মিত অন্যদের যাতায়াত ছিল। রাত-বিরাতে ওই নারী অন্য পুরুষদের নিয়ে আসায় নানা ধরনের অভিযোগ পাচ্ছিলাম। এ কারণে তাকে বাসা ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়। এই মাস শেষে চলে যাওয়ার কথা ছিল। তার মধ্যে ঘটলো এমন ঘটনা। তবে গতকাল রাতে কারা বাসায় এসেছিল, তা আমার জানা নেই।’  

যা বলছেন এনসিপির নেতারা

এনসিপির খুলনা মহানগরের সংগঠক সাইফ নেওয়াজ বলেন, ‘মোতালেব শিকদার এনসিপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক এবং খুলনা বিভাগীয় আহ্বায়ক। সামনে দলের একটি বিভাগীয় শ্রমিক সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল, সেটির প্রস্তুতিতে তিনি যুক্ত ছিলেন। এজন্য খুলনায় এসেছিলেন। কারা তাকে গুলি করেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে জানানো হোক।’

এনসিপির খুলনার সংগঠক হামীম আহম্মেদ রাহাত জানান, তারা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন যে ব্যক্তিগত কাজে বের হওয়ার সময় তার ওপর হামলা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করে বের করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এনসিপি নেতার গাড়ি উদ্ধার

তিনি বলেন, ‘খুলনা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বিগত দিনে খুলনায় অহরহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব সন্ত্রাসী গ্রুপ আওয়ামী নেতাদের সহযোগী। আওয়ামী লীগের নেতাদের মদতে সন্ত্রাসীরা খুলনাকে অশান্ত করার মিশনে নেমেছে। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।’

রবিবার সন্ধ্যায় স্ত্রীর সঙ্গে সবশেষ কথা হয় মোতালেবের 

ছেলেকে গুলি করার ঘটনা জানতে পেরে হাসপাতালে ছুটে আসেন মোতালেবের মা রাবেয়া বেগম, স্ত্রী ফাহিমা আক্তার ও তিন বছরের কন্যাসন্তান। তারা জানিয়েছেন, রবিবার সন্ধ্যায় তার সঙ্গে সর্বশেষ মোবাইলে কথা হয় স্ত্রীর। মোতালেব তাকে জানান খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাদের একজন কর্মী আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। তার সার্বিক খোঁজখবর নেওয়ার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আছেন। এই কথা বলে মোতালেব ফোন রেখে দেন। রাতে আর কোনও কথা হয়নি। সোমবার বেলা ১১টার দিকে একজন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ফোন করে জানান গুলি করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে দেখতে আসেন তারা।

মোতালেবের মা বলেন, ‘আমার ছেলে আগে কোনও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল না। এনসিপি দিয়ে তার রাজনীতি শুরু। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছে।’

তরুণীকে খুঁজছে পুলিশ

র‌্যাব, পুলিশ ও সিআইডি সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতভর ওই ফ্ল্যাটে মোতালেব শিকদারের সহযোগীরা ইয়াবা সেবন, মদপান করাসহ আড্ডা দিয়েছেন। নিজেদের মধ্যে কোনও বিরোধ নিয়ে মোতালেবকে গুলি করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সকাল ১০টা ৫৯ মিনিটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কান চেপে ধরে মোতালেব ওই বাসা থেকে বের হয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। এ সময় এক সহযোগী তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। গলির মাথায় মজিদ সরণিতে এসে তারা রিকশাযোগে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। এ ঘটনার পরপরই ওই ফ্ল্যাটে তালা দিয়ে বেরিয়ে যান ভাড়াটিয়া ওই নারী। এরপর থেকে তাকে খুঁজছে পুলিশ।

র‌্যাব, পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এনসিপি নেতা মোতালেব খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর অনুসারী সৌরভ এবং তার সহযোগীদের সঙ্গে চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিলেন অভিযোগ আছে। এ নিয়ে আগে থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। চাঁদার অর্থের ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে অন্তর্কোন্দলের সূত্রপাত থেকে তাকে গুলি করা হয়েছে বলে ধারণা তাদের।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মোতালেব শুরুতেই ভুল তথ্য দিয়েছেন আমাদের। পরে ঘটনাস্থল খুঁজে বের করি আমরা। কিন্তু আশপাশে কোনও সাক্ষী খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ওই বাসার নিচে এনসিপির দলীয় স্টিকার সংবলিত প্রাইভেটকার দেখে সন্দেহ হলে ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোতালেবসহ আরও দুজন এখানে আসেন এবং রাতে ওই ফ্ল্যাটেই ছিলেন। সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে বলে জানতে পেরেছি আমরা। সহযোগীদের সঙ্গে কোনও কোন্দলের কারণে গুলির ঘটনাটি ঘটে। এর সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত আছে। মোতালেবকে জিজ্ঞাসা করলে আমরা বাকিদের নাম-পরিচয় জানতে পারবো। ওই তরুণী ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাকে খুঁজছি আমরা। ঘটনায় জড়িত সবাইকে শিগগিরই আইনের আওতায় আনতে পারবো। তখন এর আসল রহস্য জানা যাবে।’

শঙ্কামুক্ত মোতালেব

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘গুলিটি মোতালেব শিকদারের কানের নিচ দিয়ে চামড়া স্পর্শ করে বেরিয়ে যায়। এতে রক্তক্ষরণ হলেও প্রাণে বেঁচে যান। বর্তমানে খুলনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং শঙ্কামুক্ত। খুলনা সিটি ইমেজিং সেন্টারে তার মাথার স্ক্যান করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদনে মাথায় গুলির কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

মধ্যপ্রাচ্যে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

Published

on

By

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজ বুধবার (২৭ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের আমেজে মুসলমানরা ঈদের নামাজ, কুরবানি এবং হজের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিচ্ছেন।

ঈদের আগে মঙ্গলবার হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’ পালন করেন হাজিরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ মুসল্লি আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন। ইহরাম পরিহিত হাজিদের দোয়া, তওবা ও ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

নামিরা মসজিদে হজের খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম শায়খ আলি আল হুদাইফি। খুতবায় মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, শান্তি ও ইসলামী মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাসহ ৩৫টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার করা হয়েছে।

সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফায় রাত কাটান এবং মিনায় পাথর নিক্ষেপের জন্য কঙ্কর সংগ্রহ করেন। বুধবার মিনায় বড় জামারায় পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর তারা কুরবানি ও হজের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদ ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে।

Continue Reading

top1

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতিঝিলের অফিস বন্ধ ঘোষণা

Published

on

By

নিজের মতিঝিলের কার্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে এক পোস্টের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে মতিঝিলের হোটেল পারাবাতের গ্যারেজের অস্থায়ী অফিস কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সব সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এখন থেকে রূপায়ণ টাওয়ারের ১৫ তলায় পরিচালিত হবে।’

সবাইকে নতুন অফিসে যোগাযোগ করার জন্য আহ্বান জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পথচলা অব্যাহত থাকবে, জনগণের আস্থা, রাজনৈতিক শালীনতা, নিরাপত্তা ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে।’

পোস্টের শেষে এক সতর্কবার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘কেউ যদি পূর্ববর্তী স্থানে গিয়ে কোনো ধরনের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি, হামলা, মামলা বা ক্ষতির সম্মুখীন হন, তার জন্য ব্যক্তি নিজেই সম্পূর্ণভাবে দায়ী থাকবেন। সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে, নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিন

Continue Reading

top1

যুদ্ধে ইরান বিজয়ী, ব্রিটিশ সাংবাদিক হার্স্টের বিশ্লেষণ

Published

on

By

ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড হার্স্ট লিখেছেন, ইরান বিশ্বক্ষমতার ভারসাম্যও বদলে দিয়েছে। বশ্যতার বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ আরব বিশ্বের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু কেউই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাছে পরাজিত হওয়া ছাড়া তাদের চোখে চোখ রেখে অন্য কিছু দাবি করতে পারবেন না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে চলা যন্ত্রণাদায়ক আলোচনায় প্রতিটি দিনই নতুন মোড় নিচ্ছে।

যখনই কোনো একটি বিষয়ে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে আসে, তখনই ট্রাম্প তার অপরাধের সহযোগী ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করেন এবং তারপর সেই আলোচনা থেকে সরে আসেন।

এমনটাই ঘটেছে দুটি বিষয়ের ক্ষেত্রে, যেগুলোতে ইরানি আলোচকেরা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন বলে মনে করেছিলেন। ইরানবিষয়ক বিশ্লেষক হাসান আহমাদিয়ানের মতে, প্রস্তাবিত ৩০-৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির দুটি মূল শর্ত ছিল যে, এই যুদ্ধবিরতি লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এবং ইরানের কিছু সম্পদ অবমুক্ত করা হবে।

কিন্তু পথটা যতই আঁকাবাঁকা হোক না কেন এবং এই চুক্তি ব্যর্থ হলেও ট্রাম্প যদি তৃতীয়বারের মতো ইরানের ওপর আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন, তবু এটা নির্মমভাবে স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি যুদ্ধে হেরে গেছে। এটা গত ২৫ বছরে তাদের ষষ্ঠ পরাজয়।

ইরানের হাতেই সব তাস রয়েছে, প্রধানত হরমুজ প্রণালি। কিন্তু সেই সঙ্গে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে অর্জিত প্রতিরোধব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। আরও কিছু তাস ইরান এখনো খেলেনি, যেমন—লোহিতসাগরের মোহনায় বাব এল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া। ট্রাম্পের হাতে এর কোনোটিই নেই।

বর্তমান শতাব্দীর প্রথম চতুর্থাংশে যুক্তরাষ্ট্রের এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা দৃশ্যমান যখন তার সামরিক শক্তি অবিসংবাদিত এবং এর ব্যবহারে তার একচেটিয়া অধিকার রয়েছে।

ইরানকে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প শুধু আফগানিস্তান, ইরাক, ইয়েমেন, লিবিয়া ও সিরিয়ায় তার পূর্বসূরিদের ভুলেরই পুনরাবৃত্তি করেননি; এর সঙ্গে তিনি নিজেরও কয়েকটি ভুল যোগ করেছেন।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ যেমন সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার মিথ্যা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরাক আক্রমণ করেছিলেন, তেমনি ট্রাম্পও মিথ্যা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরান আক্রমণ করেছেন।

কিন্তু অন্তত বুশের সন্দেহজনক ডসিয়ারটি তার নিজের গোয়েন্দা সংস্থাই সরবরাহ করেছিল। বিপরীতে ট্রাম্পের মিথ্যা গোয়েন্দা তথ্য মোসাদ তৈরি করেছে এবং মার্কিন কমান্ডার-ইন-চিফ তার নিজের গোয়েন্দা সংস্থার সেরা পরামর্শের বিরুদ্ধে গিয়ে তা পুরোপুরি বিশ্বাস করেছিলেন।

নেতানিয়াহু ও মোসাদের পরিচালক ডেভিড বারনিয়া ট্রাম্পকে বোঝান যে, জানুয়ারির অভ্যুত্থানের পর তেহরানের শাসনব্যবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে, সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার পর তা বড়জোর কয়েক দিন টিকবে।

নেতানিয়াহুর চেয়ে জোরালোভাবে আর কেউ বলেনি যে, এর জন্য শুধু একটি শেষ ধাক্কার প্রয়োজন। এটা ঘটলে তার জীবনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে চলেছিল। যুদ্ধ যেহেতু প্রায় শেষ, তাই এখন তার চেয়ে বড় পরাজিত আর কেউ নেই। এ কারণেই তিনি ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

কিন্তু এই যুদ্ধ যখন অবশেষে থামবে, তখন এ দজনের জন্যই চূড়ান্ত হিসাবনিকাশ নিশ্চিতভাবেই আসবে।

ক্ষমতার ভারসাম্য

তারা শুধু খারাপভাবে পরাজিত হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আঞ্চলিক পরিকল্পনার প্রতি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের হুমকি যথেষ্ট গুরুতর।

তিনটি মার্কিন প্রশাসনের নীতিই ছিল—ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ, জো বাইডেন এবং এখন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ—সুন্নি আরব দেশগুলোকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে উৎসাহিত করা।

প্রস্তাবিত এই নতুন ব্যবস্থাকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়েছে—সুন্নি-ইসরাইল জোট, আরব ন্যাটো, আব্রাহাম চুক্তি—কিন্তু এর রূপরেখা স্পষ্ট। এটি কোনোভাবেই সমতার অংশীদারিত্ব হবে না। ইসরাইলকে নতুন আঞ্চলিক আধিপত্যকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। এটি হবে এমন একটি কেন্দ্র যার মাধ্যমে অস্ত্র, উচ্চ প্রযুক্তি, তথ্য এবং বাণিজ্য পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হবে।

এই জোটের একমাত্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অংশীদার ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ। একমাত্র তিনিই দুটি ‘ছোট স্পার্টা’র একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং লোহিতসাগরের চারপাশে কৌশলগতভাবে ছড়িয়ে থাকা বিমানক্ষেত্র ও বন্দরের একটি পারস্পরিক লাভজনক সাম্রাজ্য গঠনের সুবিধা দেখেছিলেন।

ইরানের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের ফলে হয় শাহের পুত্র রেজা পাহলভীর মতো একজন দুর্বল লোককে ক্ষমতায় বসানো হতো অথবা গৃহযুদ্ধ শুরু হতো কিংবা ইরান খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যেত। ইসরাইল এসবের তোয়াক্কা করেনি। ইরাক এবং এখন সিরিয়ার খণ্ড-বিখণ্ড হওয়া ও স্থায়ীভাবে দুর্বল হয়ে পড়াটাই ইসরাইলের প্রতিষ্ঠিত নীতি।

সৌভাগ্যবশত, এটি এমন একটি কল্পনা, যা এখন কেবল ট্রাম্পের মাথাতেই বিদ্যমান। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকা এই অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্যকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে দিয়েছে।

প্রান্ত থেকে কেন্দ্রে

শুধু দেখুন কারা আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছে: পাকিস্তান ও কাতার। ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান বরাবরই এই অঞ্চলের প্রান্তে ছিল। ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার মতো অন্যান্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মতোই তারাও সহানুভূতি দেখিয়েছিল, শুধু এটুকুই।

মূল পরিবর্তনটি আসে ইরান যুদ্ধের চরম মুহূর্তে, যখন প্রধান আরব শক্তিগুলো—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত—দেখল যে মার্কিন সামরিক ছাতার জন্য তারা এত চড়া মূল্য দিলেও তা তাদের রক্ষা করতে পারছে না। ফলে তারা বিশাল সেনাবাহিনী এবং প্রতিষ্ঠিত বিমান শক্তি সম্পন্ন বাইরের শক্তিগুলোর দিকে তাকায়। তা হলো তুরস্ক ও পাকিস্তান।

হঠাৎ করেই পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির একজন প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হন।

পাকিস্তান এমন আরেকটি দেশ, যাকে একজন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তালেবানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের যুদ্ধে সহযোগিতা না করলে বোমা মেরে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

এটি একটি পারমাণবিক শক্তি এবং এর একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি রয়েছে। চীনের সঙ্গে এর একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্ক আছে। ফলে দেশটির কাছে চীনের তৈরি পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা ভারতের অত্যাধুনিক ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম।

গুরুত্বপূর্ণভাবে, উপসাগরীয় যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের অপ্রত্যাশিত আবির্ভাবে মোহাম্মদ বিন জায়েদের প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল তাদের দেওয়া অর্থ ফেরত চাওয়া।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০১৮ সালে পাকিস্তানকে ২ বিলিয়ন ডলার দিয়েছিল। সৌদি আরব আবুধাবিকে অর্থ পরিশোধের জন্য পাকিস্তানকে তহবিল সরবরাহ করে।

প্রধান আলোচক হিসেবে কাতারের অন্তর্ভুক্তিতে তেমন কোনো বিস্ময় ছিল না। ইরানের সঙ্গে আসন্ন চুক্তির ঘোষণা দেওয়া একটি পোস্টে ট্রাম্প অন্তত তিনজন কাতারি নাগরিকের নাম উল্লেখ করেছিলেন।

উদীয়মান জোট

কিন্তু এখন দুটি স্বতন্ত্র জোটের উদ্ভব ঘটেছে। যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যে গঠিত একটি জোটে রয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক, কাতার এবং ওমান। ধারণা করা হচ্ছে, কুয়েত পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে, অন্যদিকে গাজায় ইসরাইলের পরিকল্পনা নিয়ে মিশরের যথেষ্ট ভয় রয়েছে।

এই রাষ্ট্রগুলোর অধিকাংশই ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্য, কিন্তু ইরানের বিজয়ের পর এর কোনো অর্থই থাকে না। তারা সবাই গাজার অর্ধেক, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এবং পশ্চিম তীরের দুই-তৃতীয়াংশ স্থায়ীভাবে দখল করার ইসরাইলি প্রচেষ্টার বিরোধী।

এই উদীয়মান জোটের আরেকটি লক্ষণ ছিল তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বিবৃতি, যেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী সোমালিল্যান্ড অঞ্চলে ইসরাইলে দূতাবাস খোলার নিন্দা জানানো হয়। এতে অনুপস্থিত ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত।

সুন্নি মুসলিম দেশগুলোর একটি শক্তিশালী সামরিক ও কূটনৈতিক জোটের উত্থান ঠিক সেটাই, যা ইসরাইল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত চায়নি। এই জোট এখন শক্তিশালী এবং ক্রমশ প্রকাশ্য হয়ে উঠছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপিত হলে আবুধাবি নিজেকে তার সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি দেশের বন্দুকের নলের সামনে দেখতে পাবে, অন্তত রূপক অর্থে। এগুলো হলো প্রতিবেশী ইরান এবং সৌদি আরব।

ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে সৌদি আরবকে টেনে আনার আমিরাতের কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। রিয়াদ কমবেশি তার অবস্থানেই অটল থেকেছে এবং ইরানের সাথে তার সম্পর্ক ও ইয়েমেনের হুথিদের সাথে যুদ্ধবিরতি অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

একটি বিষয় নিশ্চিত। যদিও সুন্নি দেশগুলোর এই উদীয়মান জোট নিজেদের ইসরেইলবিরোধী হিসেবে পরিচয় দেবে না, তবে এর অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবেই ইহুদিবাদী জন্য সুবিধাজনক নয়।

প্রতিরোধকে শক্তিশালী করা

পৃথিবীতে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে আরেকটি প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। এটি এই অঞ্চলের অন্য সকল তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশের উপর তার প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও একবার প্রতিষ্ঠা করেছে, এবং ওমানের সাথে মিলে হরমুজের উপর তার কার্যত নিয়ন্ত্রণ আর কখনও ছেড়ে দেবে না।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে, পাকিস্তান ও চীনের উদ্দেশে হরমুজ দিয়ে ট্যাংকারগুলোর যাতায়াত কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। ইরান প্রমাণ করেছে যে তারা কলের মতো হরমুজকে যখন-তখন চালু বা বন্ধ করতে পারে।

ইরানের এই বিজয় অঞ্চলজুড়ে প্রতিরোধ আন্দোলনকেও শক্তিশালী করেছে। ফাঁদ পাতা পেজার এবং ধারাবাহিক হামলায় হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব একাধিকবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পর তাদের একটি যুদ্ধশক্তি হিসেবে বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতি-গোয়েন্দা কার্যক্রমের প্রাথমিক পাঠ শেখা এক নতুন প্রজন্মের যোদ্ধাদের (হিজবুল্লাহ যখন বুঝতে পারে যে তাদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তখন থেকে কেউ ফোন ধরে না) এবং এফপিভি ড্রোন নামক একটি নতুন অস্ত্রের সাহায্যে তারা লেবাননকে লেবানন সরকারের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকরভাবে রক্ষা করছে। অথচ লেবানন সরকার বর্তমানে ইসরাইলের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে!

ইরান বিশ্বক্ষমতার ভারসাম্যও বদলে দিয়েছে। অত্যন্ত স্বচ্ছন্দ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সামনে ট্রাম্পকে নতজানু হতে দেখাটা ছিল বেদনাদায়ক, যেখানে চীনা নেতা এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে, ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়েই তিনি তাইওয়ানকে স্পর্শ না করার সুস্পষ্ট হুমকি দেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা যথার্থই পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে এখন একটি দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করার পালা, যেখানে চীন স্থিতিশীলতার কণ্ঠস্বর এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে, এমনকি মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। গত ২৫ বছরে চীনই একমাত্র বৃহৎ শক্তি যা কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি।

বশ্যতার বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ আরব বিশ্বের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। বার্তাটি হলো- যথেষ্ট দৃঢ়সংকল্প এবং যথেষ্ট উচ্চ সহনশীলতা থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যম শক্তিগুলো মার্কিন ও ইসরাইলি ঔপনিবেশিক আধিপত্যকে প্রতিহত করতে এবং জয়ী হতে পারে।

ঐতিহাসিক পরাজয়

একটি কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর কী ঘটবে?

আমি মনে করি, ইসরাইল নতুন করে লেবানন ও গাজায় বোমাবর্ষণ পুনরায় শুরু করবে। নেতানিয়াহু লিটানি নদীর দক্ষিণে প্রতিটি বাড়ি, গ্রাম ও শহর ধ্বংস করতে চাইবেন, যাতে ইরানে তার বিপর্যয়কে যথাসম্ভব দীর্ঘ সময় ধরে আড়াল করা যায়। তিনি হামাসের নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে পুরো গাজা দখল করার কথাও বিবেচনা করতে পারেন।

কিন্তু তিনি নিজের রাজনৈতিক কবর নিজেই খুঁড়বেন, কারণ ইসরেইলের পক্ষে তার কোনো উদ্দেশ্য অর্জন করে এই ধারাবাহিক যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো সম্ভাবনাই নেই।

ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু কেউই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাছে পরাজিত হওয়া ছাড়া তাদের চোখে চোখ রেখে অন্য কিছু দাবি করতে পারবেন না।

গাজায় ইসরাইল তার গণহত্যায় যেমন আমেরিকান ইহুদিদের একটি পুরো প্রজন্মের সমর্থন হারিয়েছে, তেমনি ইরানের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ রিপাবলিকান ট্রাম্প সমর্থকদের বয়স্ক প্রজন্মের ওপর একই রকম প্রভাব ফেলেছে। ইসরাইল যে যুক্তরাষ্ট্রকে “দখল” করে রেখেছে, এই ধারণাটি দ্রুতগতিতে বাড়ছে রিপাবলিকান খ্রিস্টান মহলে।

আর আমি যদি আবুধাবির শাসক হতাম, তবে আমি নিজেকে তেহরানে সরকার পরিবর্তনের কথা জিজ্ঞেস করতাম না। আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করতাম, আমি আর কতদিন ক্ষমতায় থাকতে পারব?

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড হার্স্টের নিবন্ধ (সংক্ষেপিত)

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Continue Reading

Trending