Connect with us

জাতীয়

কুমিল্লায় ‘ধর্ষণকাণ্ড’র নেপথ্যে বিএনপির ওয়ার্ড কমিটির পদ, অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য!

Published

on

কুমিল্লার মুরাদনগরে কথিত ‘সংখ্যালঘু নারী ধর্ষণ’ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার তুঙ্গে। কিন্তু ধর্ষণের দাবি করা হলেও নেপথ্যে উঠে এলো ভিন্ন ঘটনা। ভিডিও ভাইরাল, রাজনৈতিক উত্তাপ, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা- সব মিলিয়ে ঘটনার নেপথ্যে ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আর ফাঁসিয়ে দেওয়ার ঘৃণ্য চেষ্টা। অনুসন্ধানে উঠে আসছে এসব তথ্য। ধর্মীয় বিবাদ প্রকট ধারণ করলে মামলা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত ভুক্তভোগীর।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু ফজর আলীর সঙ্গেই নয়, বরং ফজর আলীর ছোট ভাই শাহ পরানের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল ভুক্তভোগী নারীর। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে ছিল অন্তর্দ্বদ্ধ। স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বও যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। অতীতে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে রাজনীতি করলেও ৫ আগস্টের পর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ফজর আলী। সেই সুবাদে গত ১০ মাস ধরে নিজ এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ান ফজর আলী। বিএনপি সমর্থিত দলবল নিয়ে প্রায়ই এলাকায় মোরাল পুলিশিং অপারেশন চালাতেন তিনি। বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপির একটি ওয়ার্ড থেকে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন ফজর আলী। ওয়ার্ড পর্যায়ের এই পদকে কেন্দ্র করেই সব কিছু ঘটে। তবে, রাজনীতির এসব মারপ্যাচ বুঝতে পারেননি ভুক্তভোগী ওই নারী। তিনি গোপনে বড় ভাই ফজর আলী ও ছোট ভাই শাহপরান উভয়ের সঙ্গেই সখ্যতা রক্ষা করে গেছেন।

এছাড়া এলাকার সবাই উভয়ের (প্রবাসীর স্ত্রী ও ফজর আলী) পরকীয়ার বিষয়টি অবগত বলে জানিয়েছেন রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া খোকন। তিনি বলেন, ওই এলাকার সবাই উভয়ের পরকীয়ার বিষয়টি অবগত। ফাঁদ পেতে দু’জনকে হাতেনাতে ধরেছে একটি গ্রুপ। হয়তো তাদেরকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার জন্যই করেছে। তবে নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দিয়ে জঘন্য অপরাধ করেছে তারা।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পাশের বাড়িতে পূজার অনুষ্ঠান শুরু হয়। ভুক্তভোগী ওই নারীর বাবা-মা পূজার অনুষ্ঠানে চলে গেলে ফজর আলীকে ডাকেন তিনি। ফজর আলী ওই বাড়ির দিকে রওনা করলে সেই সুযোগেই পরিকল্পিতভাবে ছোট ভাই শাহপরান ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন-সহ বেশ কয়েকজনকে নিয়ে ওই নারীর ঘরে যান। ফজর আলীকে বেধড়ক মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেয় তারা। আর প্রমাণ রাখতে ওই নারীর বিবস্ত্র ভিডিও ধারণ করা হয়। এসব ভিডিও শাহপরানের সংরক্ষণে থাকলেও স্থানীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সুমনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাতে পৌঁছায়। পরে আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজ থেকে সংখ্যালঘু ইস্যুতে দেশে অস্থিরতা তৈরির উদ্দেশ্যে তা ভাইরাল করে দেওয়া হয়। ফজর আলীকে বিএনপি নেতা উল্লেখ করা হলেও জানা গেছে ৫ আগস্টে আগে তিনি আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।

সূত্রটি আরও জানায়, ছোট ভাই শাহপরানের উদ্দেশ্য ছিল তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে ওই নারীর পরকীয়া সম্পর্ক থেকে আলাদা করা ও ওয়ার্ড কমিটিতে পদ ভাগিয়ে নেওয়া। কিন্তু ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভিডিও ভাইরাল করে সংখ্যালঘু নারী ধর্ষণের প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে সরকারবিরোধী অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশে হাঁচিল করেন।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ওই নারীর স্বামী দীর্ঘ ৫ বছর ধরে প্রবাসে রয়েছেন। এ সময়ই ফজর আলীর সঙ্গে গোপন সম্পর্ক গড়ে উঠে। একই সময়ে ফজর আলীর ছোট ভাই শাহপরানের সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে তুলেন ওই নারী। তবে ২৬ জুন রাতে ঘটনার পরদিন ২৭ জুন ওই নারী মুরাদনগর থানায় ধর্ষণের মামলা করেন। যদিও তিনি ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে রাজি হননি, যা ধর্ষণের অভিযোগকে দুর্বল করে দেয়। সর্বশেষ শনিবার (২৯ জুন) ওই নারীর বক্তব্য গণমাধ্যমে এসেছে। যেখানে তিনি মামলা তুলে নিতে চাইছেন। এই মামলা তিনি চালাতে চান না।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, এটি পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক। যা পরে রাজনৈতিক হাতিয়ারে রূপ নেয়। নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, ফজর আলী এখন বিএনপির ঘনিষ্ঠ, ওই রাতের ঘটনার সময়ও স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী তার সঙ্গে ছিল। অন্যদিকে ভিডিও ধারণ, মারধর এবং তা ভাইরাল করার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও এখন স্পষ্ট। সংখ্যালঘু নারীকে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক ইস্যু বানিয়ে সরকারবিরোধী প্রপাগান্ডা ছড়ানোর চেষ্টাও ছিল বলে সন্দেহ করছেন তারা।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ফজর আলীকে রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান বলেন, পুরো বিষয়টি এখন তদন্তানাধীন। ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, শেষ হলে বিস্তারিত জানাব। ফজর আলীকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেলে তাকে আদালতে তোলা হবে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, চাঁদাবাজির অভিযোগ নাকচ পুলিশের

Published

on

By

ডিজিটাল রিপোর্ট

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় চাঁদাবাজির কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের দাবি, নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গিয়াস উদ্দিন ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, হামলাটি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। নিউ গিনি প্রপার্টিজের মালিক পক্ষের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের বিরোধের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

তিনি বলেন, সালমান মুক্তাদিরের কাছে চাঁদা চাওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো যোগসূত্রও পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি প্রপার্টিজের মালিক পক্ষের ব্যক্তিগত বিরোধ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। স্টুডিওটি ওই প্রপার্টিজের ভেতরে থাকায় ভাঙচুরের সময় সেটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রপার্টিজে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতির ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি।

ভিডিওতে স্টুডিওর চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাব ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা যায়। কয়েকজন কর্মীকেও সেখানে কান্নারত অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওতে সালমান জানান, হামলায় তার স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির অভিযোগ করেছিলেন, চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা চালানো হয়েছে। স্টুডিওর সিসি ক্যামেরা, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও আসবাব ভাঙচুরের পাশাপাশি কিছু মালামাল লুটের অভিযোগও ওঠে।

তবে পুলিশের বক্তব্য, হামলার মূল কারণ ছিল নিউ গিনি প্রপার্টিজের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের বিরোধ। চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Continue Reading

top1

ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, পুলিশকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published

on

By

পুলিশের মধ্যে কেউ কেউ এখনো ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তাদের নানা ধরনের সংবাদ দিচ্ছে। এমন কার্যক্রমে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর ‘পদক প্রদান অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের মধ্যে কেউ কেউ এখনো ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে, তাদের নানা ধরনের সংবাদ দিচ্ছে। পুলিশের কোন সদস্য শৃঙ্খলা না মানলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকার পিছপা হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পানিশমেন্ট-রিওয়ার্ড’ চালু থাকবে। যারা ভালো কাজ করবেন এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের পুরস্কৃত করা হবে। আর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার ও অপব্যবহারের অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। অনেক পুলিশ সদস্যকে অবৈধ নির্দেশ পালনেও বাধ্য করা হয়েছিল। তবে এখন তাদের সামনে নিজেদের সংশোধন ও নতুনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণ এখন রাজা-বাদশাহ নয়, ‘জনগণের পুলিশ’ দেখতে চায়। কোনো সিনিয়র কর্মকর্তা এমন কর্মকাণ্ড করবেন না, যা জনগণের কাছে অস্বাভাবিক বা অগণতান্ত্রিক মনে হয়। একইভাবে অধস্তন কোনো সদস্যের এমন কর্মকাণ্ডেও অনুমতি বা আশ্রয় দেওয়া যাবে না, যা সমাজে অশান্তি বা অস্বস্তি তৈরি করে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে ভুলত্রুটি থাকলেও কেউ যদি সৎভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেন, তাহলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা কিংবা অপরাধ সংঘটিত হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য পুলিশ বাহিনীর জনবল, সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সুবিধা বাড়ানো হবে।

পুলিশের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট গঠনের কথাও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে আলাদা সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে। এর সদর দপ্তরের পাশাপাশি মেট্রো, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শাখা থাকবে। আধুনিক প্রযুক্তি, ফরেনসিক ল্যাবসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অপরাধের বড় একটি অংশ সাইবার স্পেসকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হচ্ছে। তাই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও অপরাধ দমনের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটকে নতুন কাঠামোর আওতায় এনে আরও কার্যকর করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী মেট্রো ও অন্যান্য এলাকায় বিশেষ ইউনিটের সক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং অবকাঠামো ও লজিস্টিক সুবিধা দেওয়া হবে।

পুলিশের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব পুলিশের সবচেয়ে বেশি। সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করলে পুলিশই সমাজ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর আসার আগেই আপনাদের পরিবর্তনটা দেখাতে হবে’।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশকে স্বাধীনভাবে ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিচ্ছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশকে আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিষয়ে পুলিশের গোয়েন্দা সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে। দেশের জনগণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Continue Reading

top1

৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি, ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ

Published

on

By

৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৬ এর মাধ্যমে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ জন সহকারী সার্জন এবং ৩০০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন নিয়োগের কথা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগামী ১ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন পদ সৃষ্টি, পদ বিলুপ্তি, পদোন্নতি ও অন্যান্য কারণে শূন্য পদের সংখ্যা পরিবর্তন হতে পারে। ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর যাদের বয়স ২১ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে, তারা এ বিশেষ বিসিএসে আবেদন করতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইট অথবা পিএসসির ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। সাধারণ প্রার্থীদের জন্য আবেদন ফি ২০০ টাকা। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য ফি ৫০ টাকা। এর সঙ্গে টেলিটকের ভ্যাট ও ডেটা ভেরিফিকেশন চার্জ হিসেবে অতিরিক্ত ৫ টাকা দিতে হবে।

আবেদনের শেষ সময় ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা। তবে ওই সময়ের মধ্যে ইউজার আইডি পাওয়া প্রার্থীরা পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

আরও বলা হয়, পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের পথে থাকা প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। তবে তাদের সব লিখিত পরীক্ষা অবশ্যই ২৫ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হতে হবে। দেশি বা বিদেশি ডিগ্রির সমমানের সনদ এবং বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মৌখিক পরীক্ষার সময় জমা দিতে হবে।

সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রার্থীদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আবেদন করতে হবে বলে উল্লেখ করেছে পিএসসি।

আউটসোর্সিং সেবা গ্রহণ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা

পরীক্ষাপদ্ধতি ও নম্বর বণ্টন

৫১তম বিশেষ বিসিএসে মোট ৩০০ নম্বরের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হবে। এর মধ্যে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা থাকবে। লিখিত পরীক্ষা হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে।

লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ২০ নম্বর করে থাকবে। মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তিতে থাকবে ১০ নম্বর করে। সংশ্লিষ্ট ক্যাডার বা পদের প্রাসঙ্গিক বিষয়ের জন্য থাকবে ১০০ নম্বর। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ৫০ নম্বর কাটা হবে।

পিএসসি জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যেই লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরীক্ষা মূলত ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

বিশেষ সতর্কতা

কোনো ধরনের তদবির করলে তা প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য হবে। মিথ্যা তথ্য দেওয়া, সনদ জাল করা কিংবা পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বন করলে প্রার্থিতা বাতিল করা হতে পারে।

এ ছাড়া এসব অনিয়মের ক্ষেত্রে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া বা ভবিষ্যতের সরকারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

Continue Reading

Trending