Connect with us

top1

চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো ‘সাহসী’ তাজুল ইসলামকে

Published

on

পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামকে। তার জায়গায় নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম। জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বহুল আলোচিত বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যেই এ পরিবর্তন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বিচারকাজের গতি ও ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়। তার আন্তরিকতা, সাহসিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যূনালে জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারকাজ দ্রুততার সঙ্গে এগিয়েছে। তার দেড় বছরের দায়িত্বকালে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির ফাঁসিসহ বিভিন্ন কারাদণ্ড হয়েছে।

বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও তার টিম এবং বিচারকরা এর প্রশংসার দাবিদার। তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় ট্রাইব্যূনালে চলমান মামলাগুলো আগের গতিতে এগোবে কি না এ নিয়ে কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করেন।

নতুন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুলের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জে। তিনি খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ইতঃপূর্বে দায়িত্ব পালন করেন। গতকাল সোমবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর মনজুরুল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নতুন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাটর্নি জেনারেলের সমান পদমর্যাদা, প্রাপ্য বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

বিদায় বেলায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব পালনে তিনি সবার সহযোগিতা পেয়েছেন এবং নতুন চিফ প্রসিকিউটরও একই সহযোগিতা পাবেন বলে আশা করেন। তিনি বলেন, যে অপরাধগুলোর বিচার চলছে, সেগুলোর রায় সম্পন্ন হওয়ার পর যেন বাংলাদেশে আর এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমরা এ ধরনের অপরাধকে আর অ্যাফোর্ড করতে পারব না। আবার গুম হয়ে যাবে, যখন-তখন যাকে খুশি তুলে নিয়ে হত্যা করবে। পুলিশ নির্বিচারে গুলি করে মানুষ মারবে এমন দিন আমরা আর দেখতে চাই না।

তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রশাসনিক পরিবর্তন স্বাভাবিক বিষয় এবং আমি মনে করি, এখানে ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কোনো শঙ্কার কারণ নেই। নতুন যিনি দায়িত্বে আসছেন, তিনি বিচারপ্রার্থী নির্যাতনের শিকার ও বেদনাহত মানুষের কথা মাথায় রাখবেন। তাদের প্রতি সুবিচারের স্বার্থে এ বিচারপ্রক্রিয়া সামনে অগ্রসর হবে।

চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে তাজুল ইসলামের ভূমিকা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগের দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায়। জুলাই-আগস্টের এক মাসের আন্দোলনে এক হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হন এবং ২৫ হাজারেরও বেশি ছাত্র-জনতা মারাত্মকভাবে আহত হন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে তাজুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

তাজুল ইসলাম প্রায় দেড় বছর চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশি-বিদেশি সব বাধা-হুমকি উপেক্ষা করে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারে দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যান। নানা বাধা ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শেখ হাসিনাসহ জুলাই খুনিদের বিচারে সাহসী ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে সেনা ও র‌্যাব কর্মকর্তাদের বিচার শুরুর ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত মামলার রায়

তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয় ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এ। এর মধ্যে ২১টি মামলার বিচার চলছে এবং তিনটির রায় ঘোষণা হয়েছে। ঘোষিত রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ২৬ জন দণ্ডিত হন।

রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা। এছাড়া রামপুরায় সংঘটিত একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।

এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের মামলারও বিচার চলছে ট্রাইব্যুনালে। বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানও। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট বহু এমপি-মন্ত্রীও এখন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি।

তাজুল ইসলামের দৃঢ় ভূমিকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণহত্যা প্রথম মামলায় পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান কামালের মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। ২৬ জানুয়ারি ২০২৬-এ ঘোষিত এ রায়ে আরো পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং পলাতক আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এরপর ট্রাইব্যুনাল-২-এ আশুলিয়ায় আন্দোলনকারীদের হত্যা ও লাশ পোড়ানোর মামলার রায় হয় গত ৫ ফেব্রুয়ারি। সাতজনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করে।

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে এবং রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এছাড়াও সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে এমন মামলার মধ্যে রয়েছে, শেখ হাসিনা এবং ১১ জন সেনা কর্মকর্তা ও অন্যান্যসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে গুম ও নির্যাতনের অভিযুক্ত মামলা। জেআইসি বা আয়নাঘরে গুমের মামলার শেখ হাসিনা ও ১২ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। শতাধিক মানষকে গুম খুনের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান। অন্যদিকে জুলাই বিপ্লবের সময় রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিচার শুরু হয়েছে।

জুলাইয়ে যাত্রাবাড়ীর তাইমুর হত্যা মামলা, কল্যাণপুরে জাহাজবাড়ি জঙ্গি নাটকে গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত চলমান মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৩ সালের হেফাজত হত্যাকাণ্ড, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোদিবিরোধী বিক্ষোভে গণহত্যা, জুলাই বিপ্লবে ফার্মগেটে গণহত্যা, উত্তরায় তাপস-নানকের গণহত্যার মামলা।

এসব মামলা অল্প সময়ের মধ্যে বিচারের প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসার পেছনে বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের কঠোর পরিশ্রম, চেষ্টা ও আন্তরিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সব মিলিয়ে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এ ২৪টি মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে; ট্রাইব্যুনাল-১-এ ১৮টি ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ ছয়টি। বিচার চলছে ২১টি মামলার, ট্রাইব্যুনাল-১-এ ১৬টি ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ পাঁচটি। রায় ঘোষণা হয়েছে তিনটি; ট্রাইব্যুনাল-১-এ দুটি ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ একটি।

সাজা দেওয়া হয়েছে শেখ হাসিনাসহ ২৬ জনকে। একজনকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। বিচারাধীন মামলায় সর্বমোট আসামির সংখ্যা ৪৫৭ জন। উভয় আদালতে গ্রেপ্তার আসামির সংখ্যা ১৬১ জন। পলাতক আসামির সংখ্যা ২৯৩ জন। জামিন দেওয়া হয়েছে একজনকে। মারা গেছেন একজন এবং খালাস পেয়েছেন একজন।

এছাড়া রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ মামলা দুটি। আবু সাঈদ হত্যা মামলা ও রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলির মামলা। এ দুই মামলায় ৩৫ জন আসামি। বিচারাধীন মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির মধ্যে আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৭৪ জন। এছাড়া পুলিশের ৬৫ জন, সেনাবাহিনীর ২০ জন ও আনসারের একজন।

এছাড়া বিবিধ মামলার সংখ্যা ৩৪টি, ট্রাইব্যুনাল-১-এ ৩২টি ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ দুটি। আসামির সংখ্যা ২২১ জন। গ্রেপ্তার ৯৬ জন। পলাতক ১২৫ জন।

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বিচারকাজে সহযোগিতা করব আমিনুল

গতকাল সোমবার চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আমিনুল ইসলাম। দুপুর আড়াইটার দিকে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এ সময় বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান।

এরপর প্রেস ব্রিফিংয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালে যেসব বিচার চলমান আছে এবং আগামী দিনে যে মামলাগুলো বিচারের জন্য আসবে, আমি সম্পূর্ণরূপে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

তিনি বলেন, আমি শুধু একটা কথা বলতে চাই। এ ট্রাইব্যুনালে যেসব অপরাধী বিচারের সম্মুখীন তাদের জন্য সুস্পষ্ট মেসেজযারা কোনো অন্যায় করেনি, অন্তত প্রসিকিউশনের মাধ্যমে তারা কোনো হয়রানির শিকার হবেন না। কিন্তু যারা প্রকৃত অপরাধী তাদের প্রাপ্য সাজা পেতে হবে।

নতুন সরকারের অধীনে ট্রাইব্যুনালের বিচার মন্থর হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজের গতি আরো বাড়বে বলে আমি প্রত্যাশা করছি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি মেধা ও যোগ্যতায় হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী

Published

on

By

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সময়ের চাহিদানুযায়ী আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, পদোন্নতি কিংবা পদায়নের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করলে পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘সেনাসদর সিলেকশন বোর্ড’ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। মেধা এবং যোগ্যতাই হয়ে উঠুক একজন সেনা অফিসারের পদোন্নতি অর্জনের প্রধান মাপকাঠি।

তিনি বলেন, পদোন্নতির জন্য একজন অফিসারের শারীরিক যোগ্যতা এবং ফিজিক্যাল এপিয়ারেন্স অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত।

রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও আন্তঃসীমান্ত হুমকি, সাইবার ও তথ্যভিত্তিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমসহ বহুমাত্রিক ও জটিল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। ফলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা এবং জনগণের প্রত্যাশা ও সহনশীলতাকে বিবেচনায় রেখে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই মডেল অনুসরণ করা এখন সময়ের দাবি।

তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারপ্রধান এবং একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি কেবল সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতায় নয়, বরং সমগ্র জাতির ঐক্য, প্রস্তুতি ও সহনশীলতায় নিহিত।’

তিনি বলেন, ‘সে লক্ষ্যেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ধারণার আলোকে একটি আধুনিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। যেখানে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, শিল্প, প্রযুক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করবে। এই নীতিমালার উদ্দেশ্য যুদ্ধকে উৎসাহিত করা নয়, বরং সম্ভাব্য যে কোনো সংকট, আগ্রাসন বা দুর্যোগ মোকাবিলায় সদাপ্রস্তুত, স্থিতিশীল এবং আত্মনির্ভরশীল সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা, যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ সর্বতোভাবে সুরক্ষিত থাকে।’

উপস্থিত জেনারেলদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে যুদ্ধের ধরণ বদলেছে। নিরাপত্তা মানে কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আঞ্চলিক ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতা। তাই ড্রোন প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট নজরদারি, সাইবার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে চায়।

তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের জন্য একটি রূপরেখা প্রণয়নের কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বাহিনীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন। যেখানে গুরুত্ব পাবে সংখ্যার পরিবর্তে সক্ষমতা, সম্প্রসারণের পাশাপাশি কার্যকারিতা, প্ল্যাটফর্ম বৃদ্ধির পরিবর্তে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং একক বাহিনীকেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে যৌথতার ওপর গুরুত্বারোপ।

তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়গুলো হলো- সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গঠন, সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা জোরদার, যুগোপযোগী প্রতিরক্ষা নীতি ও কৌশল প্রণয়ন, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার মূল্যায়নে যথানিয়মে যোগ্যদের বাছাই করে স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত এই সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমেই পদায়ন কিংবা পদোন্নতির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীতে আগামী দিনের দূরদর্শী এবং পেশাদার নেতৃত্বের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হবে বলে বিশ্বাস করি।’

তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যে আমি একধরনের গৌরববোধ করি। আবার সেনাবাহিনীর কোনো নেতিবাচক খবরে অস্বস্তি অনুভব করি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্ট আমার গভীর আবেগ এবং স্মৃতিময় স্থান। আপনারা জানেন, ঘরে-বাইরে সেনা পরিবেশেই আমার কিশোর ও তারুণ্যের দিনগুলো কেটেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেনাবাহিনীর নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং বিধিবিধান সম্পর্কেও আমি অনেকটা ওয়াকিবহাল। এসব কারণে সেনাবাহিনী সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর হই।’

তিনি বলেন, ‘সেনা পরিবেশে অনুসৃত শৃঙ্খলা এবং নিয়মতান্ত্রিক অনুশাসনের মধ্যেই আমি আমার বাবা-মা এবং একমাত্র ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বেড়ে উঠেছি। সেনাবাহিনীকে বরাবরই আমার বৃহত্তর পরিবারের অংশ বলেই মনে করি’।

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তৎকালীন মেজর জিয়া সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য ইতিহাসে পরিণত করেছেন। নিঃসন্দেহে দেশের সেনাবাহিনীর জন্য এটি একটি গৌরবময় অধ্যায়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা থাকলেও স্বাধীনতার পরপরই সেনাবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট এবং সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা সৃষ্টির একধরনের অপপ্রয়াস লক্ষ্যণীয় ছিল। সেই অস্থির সময়েও সাবেক সেনাপ্রধান শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমেই সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকেই সেনাবাহিনীর সদস্যরা পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছেন। পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চলমান প্রায় ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বর্ডার রোড’ প্রকল্প শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নিশ্চিত করছে না, বরং দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।’

এছাড়া পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১২শ বর্গমিটার এলাকা মাইন ও বিস্ফোরকমুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিরক্ষা ও সন্ত্রাস দমনে নিয়োজিত থেকে শাহাদতবরণকারী ২১৭ জন বীর সেনা সদস্যের পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বিশ্বদরবারে বিশেষ গৌরব ও মর্যাদা অর্জন করেছে।’

তারেক রহমান বলেন, সম্প্রতি সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, দক্ষিণ সুদান এবং মালিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সম্মান সমুন্নত রেখেছেন। তবে এই গৌরবময় অর্জনের পেছনে রয়েছে আত্মোৎসর্গের ইতিহাস।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ সুদানে সংঘটিত ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী সদস্য শহীদ হন। আমি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী সংকটময় মুহূর্তে সেনাবাহিনী যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে, গণতন্ত্রকামী জনগণ সেটি ইতিবাচকভাবেই মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস করি। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো সময়জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর অকুণ্ঠ সহায়তা ছিল মূলত গণতান্ত্রিক বিধি-বিধানের প্রতি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসের অনন্য বহিঃপ্রকাশ। এছাড়াও বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সংকটময় পরিস্থিতিতেও তেল সংরক্ষণাগারগুলোতে দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার অভিযান এবং জুলাই গণজাগরণ ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ যেকোনো জাতীয় সংকটে সেনাবাহিনী সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের পেশাদারিত্ব হারিয়েছিল। সেনাবাহিনীকেও অনাকাঙ্ক্ষিত বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশে সেনাবাহিনীকে পুনরায় নিজেদের যোগ্যতা, দক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব দিয়ে জনগণের আস্থায় থাকতে হবে।

ফিজিক্যাল ফিটনেস তথা নিয়মিত শারীরিক কসরতের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করতে গিয়ে প্রয়াত মার্কিন জেনারেল ‘নরম্যান সোয়ার্জকফ’-এর একটি মন্তব্য বেশ প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জেনারেল এইচ নরম্যান সোয়ার্জকফ বলেছিলেন ‘দ্য মোর ইউ সোয়েট ইন পিস, দ্য লেস ইউ ব্লিড ইন ওয়্যার।’ তাই সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা আর ফিটনেসের ব্যাপারে কোনো পর্যায়েই আপসের সুযোগ নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নির্বাচন পর্ষদের মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাফল্য, গৌরব ও পেশাদারিত্বের ধারাবাহিকতা আরও সুদৃঢ় করবেন। বর্তমান সরকারের দর্শন হচ্ছে, দেশের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

Continue Reading

top1

ইরানে হামলা বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি মার্কিন গণমাধ্যমের

Published

on

By

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের চালানো সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সূত্রের বরাতে এ খবর দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও অ্যাক্সিওস। 

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, টানা ১৩ দিন ধরে চলা হামলার পর যুদ্ধ আরও তীব্র হলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুত বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ওই উদ্বেগ থেকেই হামলা বন্ধ করতে চাইছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার ট্রাম্প তার শীর্ষ উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের পর হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন।

অন্যদিকে দুইজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কেবল সাময়িক বিরতি নাকি দীর্ঘ সময়ের জন্য হামলা বন্ধ থাকবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে আপাতত ইরানে হামলা চালাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র।

অ্যাক্সিওস প্রতিবেদনে বলছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত একদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য আরও সুযোগ তৈরি করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন সফলতা হিসেবে ভাবা হচ্ছে।

তবে সূত্রগুলোর দাবি, প্রয়োজনে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত করছে।

Continue Reading

top1

ভারতে এবার সরকার পতনের ডাক

Published

on

By

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের বর্তমান সরকারকে অপসারণের সময় এসে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরেই তিনি এই মন্তব্য করেন। সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে চলা ব্যাপক ছাত্র আন্দোলনের জেরে শনিবার (২৫ জুলাই) ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।

শনিবার সকালে নয়াদিল্লিতে নিজের ১০ জনপথের বাসভবনে আন্দোলনরত একদল শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা করেন রাহুল গান্ধী। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি গণতন্ত্র, সংবিধান ও নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় রাজপথে নেমে আসা দেশের সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের পথে একটি বিশাল পদক্ষেপ।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সত্ত্বেও রাহুল গান্ধী জানান যে তাদের আরও দুটি দাবি এখনও পূরণ হয়নি। প্রথমত, ভারতের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার্থীদের সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা চাওয়া এবং দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। সমাজের অন্যান্য বঞ্চিত ও নিপীড়িত শ্রেণী—যেমন কৃষক, শ্রমিক ও দরিদ্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজের মর্যাদার জন্য সাংবিধানিক উপায়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকাই প্রকৃত সাহস। এই সরকারকে উৎখাত করার সময় এসে গেছে এবং কাউকে ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবং যন্তর মন্তর ও দেশজুড়ে চলমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো দেশবিরোধী শক্তি যাতে ফায়দা লুটতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এর আগে, অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র মুখপাত্ররা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। তার ঠিক একদিন পরেই এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটে।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর যন্তর মন্তরের মঞ্চ থেকে প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, গত ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তরুণদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, তার ফলেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে। যদিও প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে স্পষ্ট করেছিলেন যে তার ওই মন্তব্য সামগ্রিকভাবে বেকার যুবকদের উদ্দেশ্যে নয়, বরং জাল আইনজীবী ডিগ্রিধারীদের জন্য ছিল এবং গণমাধ্যমে তা ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, তবুও সেই মন্তব্য দেশজুড়ে ভাইরাল হয়েছিল এবং এই বিশাল ছাত্র আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।

Continue Reading

Trending