Connect with us

ক্যাম্পাস

জকসু নির্বাচনে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে  তাড়াহুড়ো করেছে প্রশাসন- জবি ছাত্রদল

Published

on

ডেস্ক নিউজ 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের বিধিমালাতে নতুন ১০ পদ সংযোজনের দাবি জানিয়েছে শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। একইসাথে নির্বাচন কেন্দ্রিক ক্যাম্পাসে যেন কোনো সহিংসতা না ঘটে, সব সংগঠন যেন স্বাধীনভাবে তাদের মত প্রকাশ করতে পারে, এবং প্রশাসন যেন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহিদ রফিক ভবনের নিচে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।

তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল প্রশাসন একটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত জকসু নীতিমালা প্রণয়ন করবেন। কিন্তু আমরা দেখেছি, প্রশাসন একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে তাড়াহুড়ো করেছে, যা হতাশাজনক।

তিনি আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রথমবার জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক হবে আশাবাদী। প্রশাসন সকল ছাত্র সংগঠনকে সমান সুযোগ দেবে, যাতে প্রত্যেকে গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। জকসু কোনো দলীয় প্রভাব বা পক্ষপাতদুষ্টতার শিকার না হয়ে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচনের  মুক্ত মঞ্চ হোক। জকসু শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠুক। এছাড়া জকসুর নেতৃত্ব এই সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করবে।

বিধিমালা পর্যালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন,  সংবিধির বেশ কিছু ধারা শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় ইতিবাচক হলেও কিছু জায়গায় আরও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি। জকসুর মেয়াদ ও দায়িত্বের ক্ষেত্র নির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত করা। সদস্যপদে অংশগ্রহণের যোগ্যতা আরও সহজ করা। সংবিধিতে শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক কার্যক্রমের ওপর জোর দেওয়া। উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের সাথে সমন্বয় করার ক্ষমতা শুধু সহ-সভাপতিাকে রাখা হয়েছে, এর সাথে। সাধারণ সম্পাদক ও সহসাধারণ সম্পাদককে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজনীয়।

সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত নতুন পদসমূহ হলো- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী বিষয়ক সম্পাদক; ছাত্রীকল্যাণ বিয়ষক সম্পাদক (শুধু নারীদের জন্যে বরাদ্দ থাকবে); দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক সম্পাদক); ধর্ম ও সম্প্রীতি বিষয়ক সম্পাদক; মিডিয়া ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক; দফতর সম্পাদক; বিতর্ক সম্পাদক এবং আলাদাভাবে দুটি সম্পাদক করতে হবে; স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক থেকে (ক) স্বাস্থ্য সম্পাদক, (খ) পরিবেশ সম্পাদক আলাদাভাবে করতে হবে; সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক থেকে করে দুটি সম্পাদক (ক) সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক, (খ) সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পাদক; কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক

এর আগে ছাত্রদলের প্রস্তাবিত দাবির মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক সহ একটি সদস্য পদ জকসু বিধিমালায় সংযোজন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, আমাদের যেসব নেতাকর্মী আছেন, সকলেই যোগ্য। তবে এখনও প্যানেলে কারা থাকবেন এ নিয়ে আলোচনা হয়নি। জকসু নির্বাচনে অধিকরতর গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের নিয়েই প্যানেল প্রকাশ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা এমফিল ও পিএইচডি’র শিক্ষার্থীদের রাখার দাবি জানিয়েছিলাম। সেটা রাখা হয়নি। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাবল এমফিল সুযোগ পেলেও জকসুতে সে সুযোগ নেই। এছাড়া বিগত ফ্যাসিস্টদের বিচার করা হয়নি। এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

বেরোবিতে বাংলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, অতিরিক্ত নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ ইউজিসির

Published

on

By

আনাস মাহমুদ; বেরোবি প্রতিনিধি :

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বাংলা বিভাগে একটি প্রভাষক পদের বিপরীতে দুজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বাজেট অ্যাসেসমেন্ট দলের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। নিয়মবহির্ভূত অতিরিক্ত নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে এ পর্যন্ত দেওয়া বেতন-ভাতা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন।

ইউজিসির নথি সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ ও ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে কমিশনের একটি দল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেট অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মোট ২৯টি গুরুতর পর্যবেক্ষণ ও অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে প্রথম ক্রমিকেই বাংলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৩ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলা বিভাগের জন্য মাত্র একটি স্থায়ী প্রভাষক পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি স্থায়ী প্রভাষক পদে নিয়োগ দেয় বলে ইউজিসির পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক হিসেবে গোলাম রব্বানী ও মনির হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউজিসির হিসাবে, অতিরিক্ত নিয়োগের কারণে বছরে প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকার অননুমোদিত আর্থিক দায় তৈরি হয়েছে। নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় এ খাতে কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ইউজিসির অ্যাসেসমেন্ট দলের চূড়ান্ত সুপারিশে নিয়মবহির্ভূত অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে এ পর্যন্ত দেওয়া বেতন-ভাতাসহ যাবতীয় অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গৃহীত ব্যবস্থা দ্রুত কমিশনকে অবহিত করতেও বলা হয়েছে।

ইউজিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাজেট অ্যাসেসমেন্টে চিহ্নিত ২৯টি পর্যবেক্ষণ নিষ্পত্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কমিশনের কাছে বক্তব্য পাঠানো হলেও বিষয়টি পুনরায় তুলে ধরা হয়।

কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব অনিয়ম দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নিতাই কুমার ঘোষ বলেন, “আমার কাছে এই বিষয়ে কোনো এভিডেন্স নেই। তাই আমি এখন কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।”

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান দাবি করেন, বিষয়টি ইউজিসির পর্যবেক্ষণে যেভাবে এসেছে, বাস্তবতা তেমন নয়। তিনি বলেন, “বিষয়টা এমন ছিল না। দুইটা বিজ্ঞপ্তিতে দুইটা নিয়োগ হয়েছে। আমরা ইউজিসিকে উত্তর দিয়েছি। বিষয়টি সময় নিয়ে আমরা তোমাদের উত্তর দেব। দুইটা বিজ্ঞপ্তি দুটো ভিন্ন সময়ে হয়েছিল।”

দুটি ভিন্ন বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ হয়ে থাকলে ইউজিসি কেন বিষয়টিকে অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করেছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার বলেন, “আমরা ইউজিসি থেকে যে টিম এসেছিল, তারা হয়তো বিষয়টি জানত না।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Continue Reading

top3

বেরোবির শিক্ষার্থীদের ‘দরিচা’, বিহারি নারীদের দক্ষতায় খুলছে সম্ভাবনার নতুন জানালা

Published

on

By

আনাস মাহমুদ; বেরোবি প্রতিনিধি

‘দরিচা’—উর্দু ভাষার এই শব্দের অর্থ জানালা। যে জানালা দিয়ে নতুন আলো আসে, দেখা যায় নতুন সম্ভাবনা, শুরু হয় নতুন পথচলা। আর এই ভাবনা থেকেই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) একদল শিক্ষার্থীর উদ্যোগে যাত্রা শুরু হয়েছে ‘দরিচা’র।

উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য, সুযোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিহারি কমিউনিটির নারীদের হারিয়ে যেতে বসা হস্তশিল্পের দক্ষতাগুলোকে নতুন করে তুলে ধরা এবং তাঁদের কাজের সঙ্গে বাজারের সংযোগ তৈরি করা।

বিহারি কমিউনিটির অনেক নারী কুরুশের কাজ, সেলাই, এমব্রয়ডারি, বুননসহ নানা ধরনের হস্তশিল্পে দক্ষ। একসময় এসব কাজ তাঁদের দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বাজারের সংযোগ হারিয়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত সুযোগের অভাব ও সামাজিক বৈষম্যের কারণে অনেকের সেই কাজ থেমে যায়।

উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্তরা জানান, কমিউনিটির অনেক নারী উচ্চশিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র পরিচয়ের কারণে কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। অথচ তাঁদের দক্ষতা, পরিশ্রম ও সৃজনশীলতার কোনো ঘাটতি নেই।

‘দরিচা’র মাধ্যমে সেই দক্ষতাগুলোকে আবার কাজে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। উদ্যোগটির উৎসাহ ও সহযোগিতায় নারীরা পুনরায় কুরুশের কাজসহ বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প তৈরি করছেন। নতুন উদ্যমে নিজেদের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করছেন বিভিন্ন পণ্য।

আজ তাঁদের তৈরি প্রতিটি পণ্য কেবল একটি হস্তশিল্প নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার গল্প, নিজের দক্ষতার স্বীকৃতি পাওয়ার গল্প এবং নতুন করে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার প্রত্যয়। পাশাপাশি তাঁদের কাজ পরিবারের আর্থিক আয়ে ইতিবাচক অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করছে এবং তাঁদের সৃজনশীল পরিচয়কে সামনে নিয়ে আসছে।

‘দরিচা’ সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এটি শুধু পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নয়; বরং এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে একজন নারীর পরিচয়ের চেয়ে তাঁর দক্ষতা, পরিশ্রম ও স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তাঁদের বিশ্বাস, বড় পরিবর্তন সবসময় বড় কোনো উদ্যোগের মাধ্যমে আসে না। কখনো কখনো একটি ছোট সুযোগই একজন মানুষের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। আর সেই ছোট্ট সুযোগের জানালাটি খুলে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে বেরোবির শিক্ষার্থীদের ‘দরিচা’।

Continue Reading

top3

ইবিতে ‘মানার শেখানোর’ নামে র‍্যাগিং, সোচ্চারের নিন্দা ও প্রতিবাদ

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (টিএইচএম) বিভাগে নবীন শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার শেখানো’ ও ‘পরিচয়পর্ব’-এর নামে র‍্যাগিং দেওয়ার অভিযোগ উঠায় সোচ্চার স্টুডেন্ট’স নেটওয়ার্ক (এসএসএন) ইবি শাখা তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

সোমবার (১০ জুলাই) সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাহাত ও সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ শিবলু এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাহাত ও সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ শিবলু এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, একজন নবীন শিক্ষার্থীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা, অপমানজনক বা অশ্লীল বক্তব্য দিতে বাধ্য করা, জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ ও প্রচার করা, শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ফেলা কিংবা কোনো নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধের হুমকি দেওয়া-কোনোটিই ‘ম্যানার শেখানো’, ‘সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক’ কিংবা ‘পরিচয়পর্ব’-এর অংশ হতে পারে না। এ ধরনের আচরণ শিক্ষার্থীর মর্যাদা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার ওপর সরাসরি আঘাত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশের পরিপন্থী। র‍্যাগিং কোনো গ্রহণযোগ্য আচরণ নয়; এটি শিক্ষার্থীর মর্যাদা ও নিরাপত্তার পরিপন্থী এক ধরনের নিপীড়ন। সুস্থ সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক কখনোই ভয়, অপমান, হুমকি বা জবরদস্তির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

অভিযোগগুলো তদন্তে একটি নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। তদন্তের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য, লিখিত অভিযোগ, ভিডিও/ডিজিটাল প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে।

উল্লিখিত ঘটনার তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ও যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ধরনের চাপ, ভয়ভীতি, হুমকি, সামাজিক হয়রানি বা অভিযোগ প্রত্যাহারের চেষ্টা বরদাশত করা যাবে না। তাঁদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে হবে।

অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগ, আটকে রাখা কিংবা নিরাপত্তা-হুমকির যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিকেও মূল অভিযোগের বাইরে না রেখে পৃথকভাবে তদন্ত করতে হবে। প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের ভবনের ছাদে ওঠানো, রাতের বেলায় ক্যাম্পাসে ঘোরানো, শারীরিক ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা, অপমানজনক আচরণ বা অশালীন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে বাধ্য করার মতো যেকোনো কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ ও হলে র‍্যাগিংবিরোধী নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ ও নিরাপদ অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

র‍্যাগিং বা নিপীড়নের শিকার শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে ও গোপনীয় মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা যাতে প্রতিশোধ, হয়রানি বা সামাজিক চাপের আশঙ্কা ছাড়াই অভিযোগ জানাতে পারেন, সেজন্য একটি স্বাধীন, গোপনীয় ও সহজলভ্য অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।

ইবি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, কোনো ব্যক্তি, ব্যাচ, সংগঠন বা প্রভাবের প্রতি পক্ষপাত না দেখিয়ে অভিযোগগুলোর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করুন এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী র‍্যাগিং, নিপীড়ন, হুমকি বা হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন। শিক্ষাঙ্গন হবে জ্ঞান, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার স্থান-ভয়, অপমান ও নিপীড়নের নয়।

Continue Reading

Trending