Connect with us

top1

জমিদারি প্রথার মতো চাঁদাবাজি

Published

on

সুত্র: আরটিএনএন 

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশেই যে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুতই ভেঙে পড়ে। ক্ষমতার শূন্যতার সুযোগ নিয়ে ৬ আগস্ট সকাল থেকেই সংঘবদ্ধ দখলদার চক্র আবার সক্রিয় হয়ে রাস্তা, ফুটপাত ও জনপরিসর পুনর্দখল শুরু করে। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন স্থায়ী না হওয়ায় কারা এই দখলদার, কীভাবে তারা সংগঠিত, কারা নেপথ্যে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং প্রতিদিনের চাঁদার অর্থ কোন স্তর পেরিয়ে কোথায় পৌঁছায়—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গত এক মাস ধরে রাজধানীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অনুসন্ধান চালায় আরটিএনএন টিম। সেই অনুসন্ধানে দখলদার চক্রের কাঠামো, অর্থ আদায়ের পদ্ধতি ও বণ্টনের পূর্ণ চিত্র উঠে এসেছে, যার দ্বিতীয় পর্ব আজ প্রকাশ করা হলো।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর—ঢাকার দুটি ঘনবসতিপূর্ণ ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। অথচ এই এলাকাগুলোতেই দিনের পর দিন গড়ে উঠেছে একটি সুসংগঠিত চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক, যা স্থানীয়দের ভাষায় ‘জমিদারি প্রথা’র আদলে পরিচালিত হচ্ছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ভ্যান ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, ভবন নির্মাণকারী এমনকি বাসাবাড়ির বাসিন্দারাও এই চক্রের বাইরে নন।

চাঁদাবাজির অদৃশ্য শেকলস্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোহাম্মদপুর ও আদাবরে ব্যবসা পরিচালনা বা বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে চাঁদা দেওয়া কার্যত বাধ্যতামূলক। পরিবহন খাত থেকে শুরু করে বর্জ্য সংগ্রহের নামেও নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদাবাজদের দাপটে অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না।

সরকার বদলায়, চাঁদাবাজি টিকে থাকেসরকার পরিবর্তন হলেও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় চাঁদাবাজি বন্ধ হয় না—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বরং ক্ষমতার পালাবদলের পর নিয়ন্ত্রণের হাতবদল ঘটে, আরও সংগঠিতভাবে চাঁদাবাজি শুরু হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলা, মারধর এমনকি খুন-জখমের ঘটনাও ঘটছে বলে জানান স্থানীয়রা।

‘ডন’ কাঠামো ও রাজনৈতিক আশ্রয়অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রতিটি ওয়ার্ড বা এলাকায় একজন করে ‘ডন’ নিয়োগ দিয়ে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এসব ডনের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক গডফাদার। সামাজিক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্লাবগুলোকে ব্যবহার করে গড়ে তোলা হয়েছে এই অপরাধ নেটওয়ার্ক, যার অধীনে সক্রিয় ছোট-বড় গ্রুপ ও কিশোর গ্যাং।

নিয়ন্ত্রণের হাতবদলএকসময় এই এলাকাগুলোতে শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ–হারিসের ভাতিজা ও তৎকালীন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসিফ আহমেদের প্রভাব ছিল। তার আগে কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজিবের নাম ছিল আলোচনায়, যার পেছনে তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের আশীর্বাদ থাকার অভিযোগ স্থানীয়দের।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধিকাংশ এলাকায় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় বিএনপি সংশ্লিষ্ট নেতাদের হাতে—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে পিচ্চি হেলাল ও ক্যাপ্টেন ইমনকে কেন্দ্র করে এই চক্র পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

কারা কোথায় নিয়ন্ত্রণেঅনুসন্ধানে জানা যায়, পিচ্চি হেলালের হয়ে ৩২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি বেলাল আহমেদ, যুবদল নেতা জাহিদ মোড়ল এবং ‘শুটার পাপ্পু’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করেন। টাউন হল, লালমাটিয়া, কৃষি মার্কেটের একাংশ ও আদাবরের কিছু এলাকা তাদের আওতায় রয়েছে। অন্যদিকে ক্যাপ্টেন ইমনের হয়ে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় জসিম নামে এক ব্যক্তি সক্রিয়। বর্জ্য বাণিজ্যের আড়ালে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।

ভ্যান থেকেই কোটি কোটি টাকাসবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে ভ্যান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। তিন রাস্তার মোড় থেকে বেরিবাঁধ এবং শিয়া মসজিদ থেকে শ্যামলী রিং রোড—এই দুটি পয়েন্টেই প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার ভ্যান থেকে গড়ে ৩০০ টাকা করে চাঁদা আদায় হয়। এতে দৈনিক প্রায় ৬ লাখ টাকা, মাসে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ এবং বছরে প্রায় পৌনে ২২ কোটি টাকা আদায় হচ্ছে বলে হিসাব উঠে এসেছে। এক ভ্যান বিক্রেতা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আমরা চাঁদা দিই বলেই তো প্রভাবশালীরা বিলাসী জীবনযাপন করে।

পরিবহন ও নির্মাণ খাতেও চাঁদাপরিবহন শ্রমিকরা জানান, মোহাম্মদপুর থেকে চলাচলকারী বিভিন্ন রুটের যানবাহন থেকেও নিয়মিত চাঁদা নেওয়া হয়। একইভাবে ঢাকা উদ্যান, সাত মসজিদ হাউসিং, বসিলা মডেল টাউনসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন নির্মাণে চাঁদা ছাড়া কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে নিরাপত্তার কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি।

বর্জ্য সংগ্রহের নামে চাঁদাবাজিঅনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, বর্জ্য সংগ্রহের নামে বাসাবাড়িতে রসিদ দিয়ে ইচ্ছামতো অঙ্ক বসিয়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এই অর্থের একটি অংশ রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালীদের কাছে পৌঁছে যায়।

এত বড় পরিসরে চাঁদাবাজি চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া এই ‘জমিদারি চাঁদাবাজি’ বন্ধ করা সম্ভব নয়। অনুসন্ধান বলছে, মোহাম্মদপুর ও আদাবরের চাঁদাবাজি শুধু অপরাধ নয়—এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় রূপ নিয়েছে, যা ভাঙতে হলে প্রয়োজন রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও শক্ত হাতে আইন প্রয়োগ।

রাজধানীতে মাসে ২০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি

৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশজুড়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া লাগার কথা থাকলেও বাস্তবে তা দেখা যায়নি। রাজধানী ঢাকার বাস্তবতা খুব দ্রুতই ভিন্ন রূপ নিতে শুরু করে। স্বাধীনতার পর থেকে যাদের হাতে ছিল ঢাকার রাস্তা-ঘাট, ফুটপাত ও জনপরিসরের নিয়ন্ত্রণ—ঘটনার দিন তারা সবকিছু ফেলে শূন্য করে পালিয়ে যায়। সেই শূন্যতার ভেতর নতুন করে স্বপ্ন দেখেছিল জাতি—দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মমুক্ত একটি বাংলাদেশের। কিন্তু সেই স্বপ্ন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ৫ আগস্ট শেষ না হতেই ৬ আগস্টের সকাল থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র হুমড়ি খেয়ে নামে দখলদারিত্বে, আগের জায়গাগুলো নতুনভাবে কব্জা করতে শুরু করে।

একটি বেসরকারী হিসাব অনুযায়ী রাজধানীতে ভ্রাম্যমান ফুটপাতের দোকানের সংখ্যা ২লাখ ৮০ হাজার থেকে ৩ লাখের মত। প্রতিদিন এসব দোকান থেকে গড়ে ২শ টাকা করে চাঁদাবাজি হয়। সে হিসেবে প্রতি মাসে ১৮০ থেকে ২শ কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়।

কারা এই দখলদার, কেন তারা আবার সক্রিয় হলো এবং কীভাবে পুরো ব্যবস্থা পুনর্দখল করা হলো—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে মাঠে নামে আরটিএনএন টিম। রাজধানীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গত এক মাস ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে আমাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদকরা চিহ্নিত করেছেন দখলদার চক্র ও তাদের নেপথ্য নিয়ন্ত্রকদের। প্রতিদিন কত টাকা চাঁদা ওঠে, কারা আদায় করে, সেই অর্থের ভাগ কোথা থেকে শুরু হয়ে কোন কোন স্তরে কত শতাংশ বণ্টিত হয়—সবকিছুর ময়নাতদন্ত উঠে এসেছে এই অনুসন্ধানে। আজ সেই ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রথম রিপোর্ট প্রকাশ করা হলো।

পর্ব-১: গুলিস্তানে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ রাজনৈতিক বলয়ের হাতে

রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা গুলিস্তানে চাঁদাবাজি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ফুটপাতের দোকানি, ছোট-বড় ব্যবসায়ী এবং পরিবহনশ্রমিকদের একটি বড় অংশ প্রতিদিন চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রকাশ্যেই চাঁদা আদায় হলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার না থাকায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের হাতেই গুলিস্তানের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এই নিয়ন্ত্রণের পেছনে রয়েছে সরাসরি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা।

গুলিস্তানের গোলাপশাহ মাজার, জিরো পয়েন্ট ও সিটি করপোরেশন মার্কেটসংলগ্ন এলাকা, কাপ্তানবাজার, মুরগিপট্টি, ফলপট্টি এবং বায়তুল মোকাররম এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এলাকাভিত্তিকভাবে চাঁদা আদায় করছে। কোথাও দৈনিক, কোথাও সাপ্তাহিক, আবার মার্কেটগুলোতে মাসিক হারে চাঁদা নেওয়া হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দোকান বসাতে বাধা, হুমকি কিংবা মারধরের অভিযোগও রয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর কিছু মার্কেটে দোকান দখলের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

গতবছরের সেপ্টেম্বরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানাধীন তালতলা এলাকার জনতা হাউজিং গেটের সামনে ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে মো.বাবলু নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে প্রায় এমন সংঘষ ও সংঘাতের ঘটনা ঘটে।

সিটি করপোরেশন মার্কেট এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বংশাল–ফুলবাড়িয়া এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করেন ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মামুন আহমেদ মামুন। নবাবপুর অঞ্চলও তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব এলাকায় গালিব, মনা, জুম্মন ও ডালিমসহ একটি দল চাঁদা আদায় করে থাকে। মূলত তারাই এসব এলাকার নিয়ন্ত্রণকারী। তাদের ছাড়া এখানে একটি দোকানও বসার কোন সুযোগ নেই।

ব্যবসায় টিকে থাকা এবং জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করেই এক ব্যবসায়ী জানান, সিটি করপোরেশন মার্কেট থেকে প্রতি মাসে প্রায় এক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এ ছাড়া ফুটপাতের দোকান থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) ও বঙ্গবাজার এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করেন ২০ নম্বর ওয়ার্ডের টিটু ও সুফিয়ান। তাদের পেছনে ওই ওয়ার্ডের একটি রাজনৈতিক দলের নেতা স্বপনের ‘শেল্টার’রয়েছে বলে অভিযোগ। পরিবহনে ‘সিটি টোল’নামে চাঁদাবাজিতেও ২০ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তারা নিজেদের বিএনপির নেতাকর্মী বলে পরিচয় দেন।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরো গুলিস্তানকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে রাজনৈতিক পরিচয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। জাতীয় স্টেডিয়াম, ভাসানী স্টেডিয়াম ও আউটার স্টেডিয়াম এলাকা ইউনিট বিএনপি ও যুবদলের পরিচয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন এস এম আব্বাস ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত মিজানুর রহমান টিপু।

বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেট থেকে উৎসব কাউন্টার হয়ে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের বন্ধন কাউন্টার পর্যন্ত একই নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গুলিস্তান নাট্যমঞ্চ পার্ক ও পশ্চিম পাশের ফলপট্টি যুবদলের নামে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেট এলাকার ফুটপাতের প্রায় ২০০ দোকান থেকে কাদের ও খোকন চাঁদা আদায় করেন। তারাও নিজেদের বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মী বলে পারিচয় দেন। তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মোবাইল চোরা মার্কেট থেকে আউটার স্টেডিয়ামের পশ্চিম পাশ পর্যন্ত এলাকা।

মুক্তাঙ্গন, পল্টন মোড় ও বায়তুল মোকাররমের লিংক রোডেও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এসব এলাকায় যুবদল ইউনিটের জিয়া, শহীদ ও লুচ্চা কামালের আধিপত্য রয়েছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। এর পেছনে মহানগর দক্ষিণ বদরুল আলম সবুজের নামও উঠে এসেছে।

চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে সম্প্রতি গুলিস্তান এলাকার মার্কেট ব্যবসায়ী মজিবর হোসেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও রাজধানীতে এখনো একটি সংঘবদ্ধ চক্র চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ২০ নম্বর ওয়ার্ড কমিটি স্থগিত করা হলেও বাস্তবে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গুলিস্তানের ফুটপাত, পুরান বাজার মার্কেট, গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স, ফুলবাড়িয়া, বঙ্গবাজার মার্কেট ও বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি চলছে। এতে ২০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন টিটু, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান ও নুরুল হক হাদীসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রত্যেক দোকান থেকে আট হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। পাশাপাশি খালি জায়গা ও প্রশস্ত গলিতে চৌকি বসিয়ে প্রায় ২০০ অবৈধ দোকান স্থাপন করা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এক ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গুলিস্তানের প্রায় ৬০০ ফুটপাত দোকান থেকে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জামানত বাবদ অফেরতযোগ্য চাঁদা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে নিয়মিত আদায় করা হয়। সম্প্রতি এক ব্যবসায়ীকে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোলাপশাহ মাজার এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে হয়। না দিলে জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলতে বলে। পুলিশ এলে সবাই সরে যায়, পরে আবার ফিরে আসে।

পরিবহনশ্রমিকদের ভাষ্য, বাস ও লেগুনা থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হয়। এক চালক জানান, দিনে একাধিকবার টাকা দিতে হয়, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত যাত্রী ভাড়ার ওপর পড়ে।

পথচারীদের মতে, সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দলবদ্ধভাবে অবস্থান নিয়ে কিছু লোক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, এতে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সেপ্টেম্বরে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে আসছে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

Published

on

By

সব ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে চলছে শেষ মুহূর্তের কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা। পরীক্ষামূলক সরবরাহ সফল হলে পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট ও লোডশেডিংয়ের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের অন্যতম বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। কবে নাগাদ কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, সে অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করানো হয়েছে। দুই ধাপে শতাধিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি পরীক্ষাগুলোও পর্যায়ক্রমে শেষ করা হচ্ছে। প্রতিটি ধাপ যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দিচ্ছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

একবার চালু হলে কেন্দ্রটি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। একবার জ্বালানি লোড করার পর প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এরপর নতুন জ্বালানি দিতে একটি ইউনিট সর্বোচ্চ প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ অন্য বিদ্যুতের তুলনায় বেশি নির্ভুল ও স্থিতিশীল গ্রিডের মাধ্যমে সরবরাহ করতে হয়। তাই রূপপুরের সঙ্গে যুক্ত জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।

রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঞ্চালনে বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি ও গোপালগঞ্জের আরেকটি ৪০০ কেভি অবকাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে বেশিরভাগ অবকাঠামোর কমিশনিং শেষ হয়েছে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য আরও প্রস্তুতি প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্রুতগতির বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের সিস্টেম এখনও পুরোপুরি সমন্বয় করার মতো সক্ষম নয়। এ সমন্বয় ঠিকভাবে না হলে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

এ জন্য পিডিবির পাশাপাশি নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ দেশগুলোর বিশেষজ্ঞ ও বিদেশি পরামর্শকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন ও প্রস্তুতির কাজ চলছে।

তবে রূপপুরের বিদ্যুতের চূড়ান্ত মূল্য এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর পর পিডিবির সঙ্গে আলাদা ক্রয়চুক্তি হবে। প্রকল্পের শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩ থেকে ৪ টাকা ধরা হলেও প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এখন সেই হিসাব পরিবর্তিত হয়েছে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রূপপুর প্রকল্পের বেশ কিছু পেমেন্ট আটকে আছে। রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে এসব অর্থ পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে। ফলে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

Continue Reading

top1

বরিশাল/ দিনে ৬২ লাখ টাকার বিদ্যুৎ টেনে নিচ্ছে ব্যাটারি রিকশা

Published

on

By

সরকারি হিসাবের বাইরে বরিশাল নগরে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা। এসব যান চার্জ দিতে প্রতিদিন অন্তত ৬২ লাখ টাকার বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। ফলে তীব্র বিদ্যুৎ ঘাটতির মুখে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, যা জনজীবনে ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব।

বরিশাল নগরে সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, ইজিবাইকের সংখ্যা ৭ হাজার ৬০০ হলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, এই সংখ্যা ৩০ হাজারের কম নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও অন্তত ৪০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা। অর্থাৎ সরকারি অনুমোদনের বাইরে কয়েক গুণ বেশি যান চলায় এর কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব বা নিয়ন্ত্রণ নেই।

পাটের বাজারে বড় ধাক্কা, ১৫ দিনেই মণপ্রতি কমল হাজার টাকা

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩০ হাজার ইজিবাইক ও ৪০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ করতে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সর্বনিম্ন দাম ১০ টাকা ধরে এর আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬২ লাখ টাকা।

এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কতটা বাণিজ্যিক মিটারের মাধ্যমে হচ্ছে আর কতটা অবৈধ বা আবাসিক সংযোগে—তারও কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। ওজোপাডিকোর দুই অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলীরা ১২৭টি গ্যারেজে বাণিজ্যিক মিটার থাকার কথা বললেও কর্মচারীদের দাবি, প্রায় ২০০ গ্যারেজে মিটার ছাড়াই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। গভীর রাতে মূল লাইনে হুক লাগিয়ে বা আবাসিক মিটারে অবৈধভাবে চার্জ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

নগরের কাউনিয়া, নবগ্রাম রোড, ভাটিখানা, বটতলা, কেডিসি কলোনি, স্টেডিয়াম কলোনি, জিয়া সড়ক, নতুন বাজার, রূপাতলী, ধান গবেষণা রোড, চাঁদমারী, পলাশপুর ও আমানতগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যারেজ গড়ে উঠেছে। দিনের বেলায় এসব গ্যারেজে রিকশা ও ইজিবাইক রাখা হয়। রাত গভীর হলে শুরু হয় ব্যাটারি চার্জ।

কয়েকটি গ্যারেজে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবাসিক মিটারে বিদ্যুৎ নিয়ে ব্যাটারি চার্জ করা হচ্ছে। কোথাও আবার বিদ্যুতের মূল লাইন থেকে সরাসরি সংযোগ নেওয়ার কথাও গ্যারেজ মালিকেরা স্বীকার করেছেন।

স্টেডিয়াম কলোনির এক গ্যারেজ মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাসে ১০ হাজার টাকা দিতে হয় বিদ্যুতের লোকজনকে, যাতে লাইন কেটে না দেয়। সামান্য এই ঘুষের মাধ্যমে আমরা আবাসিক মিটার ব্যবহার করি। কম খরচে বেশি যানবাহন চার্জ দিতে পারি।

বিসিক এলাকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক গ্যারেজ মালিক বলেন, বেশি ব্যবসার জন্য রাত ১টার পর মেইন লাইনের সঙ্গে হুক দিয়ে দিই। এতে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। মিটার রিডারকে মাঝে মাঝে কিছু টাকা দিই। গ্যারেজে ১৮ থেকে ২০টি ব্যাটারিচালিত যান আছে। অনেক খরচ বেঁচে যায়।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) দাবি, বরিশাল বিভাগে বিদ্যুৎ ব্যবহারে অনিয়ম ও অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে গত ছয় মাসে ৬৮১টি মামলা করেছেন তারা। এসব মামলায় প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ওজোপাডিকোর তথ্য অনুযায়ী, আবাসিক মিটার ব্যবহার করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার ও বিদ্যুৎ চুরিসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়। এছাড়া অবৈধভাবে বিদ্যুৎ চুরির ঘটনায় তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ঘটনায় আদায় করা হয়েছে ২৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা।

ওজোপাডিকো-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমার আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৮০টি গ্যারেজ কাম চার্জিং স্টেশনে বাণিজ্যিক মিটার রয়েছে। আবাসিক মিটার ব্যবহার করে কেউ ব্যাটারি চার্জ করছে—এমন তথ্য পেলে অভিযান চালানো হয়।

ওজোপাডিকো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার জানান, আমার আওতাধীন এলাকায় ৪৭টি গ্যারেজে বাণিজ্যিক মিটার রয়েছে। অনিয়ম হলে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।

বরিশাল নগরের বিদ্যুৎ চাহিদা প্রতিদিন ৭০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে মাত্র ৫৪ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। এই ঘাটতির মধ্যে রাতভর হাজার হাজার ব্যাটারি চার্জ হচ্ছে। নগরবাসী বলছেন, এর প্রভাব পড়ছে তাদের দৈনন্দিন জীবনে।

ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ, বরিশালের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. গোলাম সালেহ আহমেদ ছালেমের মতে, ৭০ হাজার ব্যাটারিচালিত যান চার্জ করতে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার হতে পারে। এত বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহার নগরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এমন অবস্থায় গ্রাহকরা সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ পেতে চাইলে ব্যাটারিচালিত যানবাহনগুলোতে চার্জ করতে সোলার সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে। আসলেই এর কোনো বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে যদি ব্যাটারিচালিত যানবাহনগুলোর সোলার সিস্টেম ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বিদ্যুৎ নিয়ে সকল সমস্যার ৯০ ভাগ সমাধান হয়ে যাবে।

সু শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল নগর কমিটির সম্পাদক মো. রফিকুল আলম বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক নগরের মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তাই এগুলো একদিনে বন্ধ করার বাস্তবতা নেই। কিন্তু যানগুলোর সংখ্যা, নিবন্ধন, রুট, চার্জিং স্টেশন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এর চাপ শেষ পর্যন্ত পড়ছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরই। ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আনা জরুরি। সিটি করপোরেশন এ যানগুলোর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বিদ্যুৎ সংকটের ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমবে।

ওজোপাডিকো (পরিচালন ও সংরক্ষণ) বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরিতোষ চন্দ্র সরকার বলেন, বরিশাল নগরের আয়তনের তুলনায় যে পরিমাণ অটোরিকশা রয়েছে, তা দেশের অন্য কোনো শহরে নেই। আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। যদি কোথাও ব্যাটারিচালিত যানবাহন চার্জ করতে কেউ অবৈধ পথ বেছে নেয়, তাহলে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত যানবাহন বিদ্যুৎ সংকটে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। নগরীতে প্রথমে ৫ হাজার ও পরে আরও ২ হাজার ৬০০টি ব্যাটারিচালিত যান চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে এসব যান পুনঃনিবন্ধনের আওতায় রয়েছে। অনুমোদনের বাইরে থাকা যানবাহনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অটোরিকশা ও ইজিবাইক সীমিত পর্যায়ে আনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Continue Reading

top1

ধানমন্ডিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আটক দুই তরুণী ৬ মাস আগের মামলায় গ্রেপ্তার

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে আটক দুই তরুণীকে ছয় মাস আগে করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। রোববার (১৬ আগস্ট) তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।

পরে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গ্রেপ্তার দেখানো দুই তরুণী হলেন—জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে জান্নাত (২১) এবং সুমা বড়াল ওরফে ডলি (২৯)। শুনানিতে জান্নাতের পক্ষে আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম এবং সুমা বড়ালের পক্ষে আইনজীবী লিটন মিয়া জামিন আবেদন করেন।

পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবুল বাশার আবদুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক আবু সোলায়মান সুমন আদালতে জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোরে ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত মহিলা আওয়ামী লীগের ২০-২৫ জন নেতা-কর্মী সরকারবিরোধী মিছিলের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছিলেন বলে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায়। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে কয়েকজনকে আটক করে এবং অন্যরা পালিয়ে যায়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আটক ব্যক্তিরা সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে সেখানে সমবেত হয়ে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।

ওই মামলায় রোববার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে আটক হওয়া জান্নাতুল ফেরদৌস ও সুমা বড়ালকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী লিটন মিয়া বলেন, ছয় মাস আগের ওই মামলায় শনিবার আটক দুই তরুণীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অথচ মামলার এজাহারে তাদের নাম ছিল না।

Continue Reading

Trending