সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে ভোট দেওয়া মুসলমানদের জন্য জায়েজ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী।
গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাজীর হাট বড় মাদ্রাসায় এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বোখারি শরিফ খতম উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে তিনি চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরকে সমর্থন দেওয়ার কথাও জানান।
হেফাজত আমির বলেন, ‘জামায়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ধর্মীয় কর্তব্য। কাদিয়ানীদের দিয়ে ইসলামের যে ক্ষতি হয়েছে, এর চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জামায়াতকে দিয়ে। জামায়াত সমর্থকদের কথাবার্তা ভালো না।’ তাদের আসন্ন নির্বাচনে বর্জন করারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে জিহাদে শরিক হয়েছে হেফাজতে ইসলাম। আমি ইলেকশন বুঝি না, এটি (নির্বাচন) একটি জিহাদ।
এ জামায়াত গোষ্ঠী যদি ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশে ইসলাম ধ্বংস করবে। এরা প্রকৃত ইসলামী দল নয়, তারা মওদুদিবাদী ইসলামে বিশ্বাসী।’
এর আগেও জামায়াতকে ‘ভণ্ড’ বলেও অভিহিত করেন মহিবুল্লাহ বাবুনগরী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে সমর্থন জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির। তিনি জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করে বলেন, ‘সব মুসলমানের জন্য জামায়াতকে ভোট দেওয়া হারাম, এটা কোনোভাবেই জায়েজ নয়।’ এ সময় উপস্থিত আলেম সমাজকে মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, ‘মওদুদির জামায়াতের সঙ্গে যারা জোট করেছে, তারাও মওদুদি। আমার কাছে এটা নির্বাচন নয়, এটা জামায়াতের বিরুদ্ধে জিহাদ।’
অনুষ্ঠানে শীর্ষ আলেম-ওলামা ও বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আমিরের দেওয়া এমন বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যাতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীকে বলতে শোনা যায়, ‘সমস্ত মুসলমানদেরও বলুন, তাদের ভোট দেওয়া কী? হারাম; জায়েজ হবে না।’
এরপর কাছাকাছি বসা বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরকে দেখিয়ে হেফাজতের আমির বলেন, ‘আমরা উনাকে ভোট দিচ্ছি তা নয়, উনাকে সামনে রেখে উনার মাধ্যমে জিহাদ করছি। কার সঙ্গে; মওদুদির জামায়াতের সঙ্গে। আমি ইলেকশন-টিলেকশন বুঝি না; এটা জিহাদ। আমরা যদি কঠোরভাবে ভোট থেকে তাদের বঞ্চিত করতে না পারি, তারা যদি বাংলাদেশে আসে, তাহলে ইসলামের গোড়া কেটে ফেলবে; মুসলমানের গোড়া কেটে দেবে; রগ কাটার গোষ্ঠী তারা।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমাদের মৌলিক ও আকিদাগত বিরোধ রয়েছে। তারা দ্বীনের সঠিক ব্যাখ্যা দেয় না। তাই এ বাতিল শক্তির উত্থান ঠেকাতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘পূজা আর রোজা একই বলে—এগুলো কি ইসলাম? পয়গম্বর-সাহাবিদের নিষ্পাপ মানে না, সত্যের মাপকাঠি মানে না, তাহলে কি ইমান থাকে? হজরত ওমরের (রা.) চরিত্র হনন করে, যা রাসুল (সা.) এর জমানায় কাফেররাও করেনি। মওদুদির ফেতনা কাদিয়ানীর চাইতেও বড় ফেতনা। মুসলমানদের ভেতরে থেকেই ইসলামের গোড়া কেটে দিচ্ছে। প্রতিহত না করলে বাংলাদেশে মুসলমান থাকবে না। কুফরি প্রতিষ্ঠার জন্য জামায়াতকে কেউ সামনের নির্বাচনে সমর্থন দেবেন না।’
হেফাজত আমিরের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া মেলেনি।
অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর, নানুপুর ওবায়দিয়া মাদ্রাসার মোহতামিম সালাহউদ্দিন নানুপুরী, নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা হাবিবুল্লাহ কাসেমী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বোখারি শরিফ খতম শেষে দেশ, জাতি ও ইসলামের কল্যাণ কামনা করে দোয়া-মোনাজাত করা হয়