Connect with us

top3

‘জামায়াতকে ভোট দেওয়া জায়েজ হবে না’

Published

on

সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে ভোট দেওয়া মুসলমানদের জন্য জায়েজ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী।

গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাজীর হাট বড় মাদ্রাসায় এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বোখারি শরিফ খতম উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে তিনি চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরকে সমর্থন দেওয়ার কথাও জানান।

হেফাজত আমির বলেন, ‘জামায়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ধর্মীয় কর্তব্য। কাদিয়ানীদের দিয়ে ইসলামের যে ক্ষতি হয়েছে, এর চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জামায়াতকে দিয়ে। জামায়াত সমর্থকদের কথাবার্তা ভালো না।’ তাদের আসন্ন নির্বাচনে বর্জন করারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে জিহাদে শরিক হয়েছে হেফাজতে ইসলাম। আমি ইলেকশন বুঝি না, এটি (নির্বাচন) একটি জিহাদ।

এ জামায়াত গোষ্ঠী যদি ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশে ইসলাম ধ্বংস করবে। এরা প্রকৃত ইসলামী দল নয়, তারা মওদুদিবাদী ইসলামে বিশ্বাসী।’

এর আগেও জামায়াতকে ‘ভণ্ড’ বলেও অভিহিত করেন মহিবুল্লাহ বাবুনগরী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে সমর্থন জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির। তিনি জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করে বলেন, ‘সব মুসলমানের জন্য জামায়াতকে ভোট দেওয়া হারাম, এটা কোনোভাবেই জায়েজ নয়।’ এ সময় উপস্থিত আলেম সমাজকে মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, ‘মওদুদির জামায়াতের সঙ্গে যারা জোট করেছে, তারাও মওদুদি। আমার কাছে এটা নির্বাচন নয়, এটা জামায়াতের বিরুদ্ধে জিহাদ।’

অনুষ্ঠানে শীর্ষ আলেম-ওলামা ও বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আমিরের দেওয়া এমন বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যাতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীকে বলতে শোনা যায়, ‘সমস্ত মুসলমানদেরও বলুন, তাদের ভোট দেওয়া কী? হারাম; জায়েজ হবে না।’

এরপর কাছাকাছি বসা বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরকে দেখিয়ে হেফাজতের আমির বলেন, ‘আমরা উনাকে ভোট দিচ্ছি তা নয়, উনাকে সামনে রেখে উনার মাধ্যমে জিহাদ করছি। কার সঙ্গে; মওদুদির জামায়াতের সঙ্গে। আমি ইলেকশন-টিলেকশন বুঝি না; এটা জিহাদ। আমরা যদি কঠোরভাবে ভোট থেকে তাদের বঞ্চিত করতে না পারি, তারা যদি বাংলাদেশে আসে, তাহলে ইসলামের গোড়া কেটে ফেলবে; মুসলমানের গোড়া কেটে দেবে; রগ কাটার গোষ্ঠী তারা।

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমাদের মৌলিক ও আকিদাগত বিরোধ রয়েছে। তারা দ্বীনের সঠিক ব্যাখ্যা দেয় না। তাই এ বাতিল শক্তির উত্থান ঠেকাতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘পূজা আর রোজা একই বলে—এগুলো কি ইসলাম? পয়গম্বর-সাহাবিদের নিষ্পাপ মানে না, সত্যের মাপকাঠি মানে না, তাহলে কি ইমান থাকে? হজরত ওমরের (রা.) চরিত্র হনন করে, যা রাসুল (সা.) এর জমানায় কাফেররাও করেনি। মওদুদির ফেতনা কাদিয়ানীর চাইতেও বড় ফেতনা। মুসলমানদের ভেতরে থেকেই ইসলামের গোড়া কেটে দিচ্ছে। প্রতিহত না করলে বাংলাদেশে মুসলমান থাকবে না। কুফরি প্রতিষ্ঠার জন্য জামায়াতকে কেউ সামনের নির্বাচনে সমর্থন দেবেন না।’

হেফাজত আমিরের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া মেলেনি।

অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর, নানুপুর ওবায়দিয়া মাদ্রাসার মোহতামিম সালাহউদ্দিন নানুপুরী, নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা হাবিবুল্লাহ কাসেমী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বোখারি শরিফ খতম শেষে দেশ, জাতি ও ইসলামের কল্যাণ কামনা করে দোয়া-মোনাজাত করা হয়

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

ঝিনাইদহে দাড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্টের স্বাক্ষরিত ২৩টি রেজাল্ট শীট উদ্ধার

Published

on

By

ঝিনাইদহে দাড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্টের স্বাক্ষরিত ২৩টি রেজাল্ট শীট উদ্ধার
ঝিনাইদহে দাড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্টের স্বাক্ষরিত ২৩টি রেজাল্ট শীট উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঝিনাইদহ-৪ আসনের কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫নং কেন্দ্র সলিমুন্নেছো মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

এদিকে, ঘটনার পর কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার রিজওয়ানা নাহিদ।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা বলেন, জব্দকৃত ২৩টি রেজাল্ট শীট জব্দ ও ছিড়ে ফেলা হয়েছে। নতুন রেজাল্ট শীট তৈরি করতে বলা হয়েছে এবং প্রিজাইডিং অফিসারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, বলেও জানান তিনি। এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের সহকারী প্রকৌশলী জেসমিন আরা।

Continue Reading

top3

বিএনপি ও স্বতস্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ

Published

on

By

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাট-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান ও স্বতস্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার এর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ৯ জন আহত হয়েছেন। তাদেরকে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জয়পুরহাট শহরের সরকারি কলেজ সংলগ্ন এলাকার তাঁতিপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- শহরের তাজুর মোড় এলাকার রোমান হোসেন (৩৯), ফরিদপুর জেলার নগরকান্দার আল হামজা (৩০), ফরিদপুর জেলা সদরের তানজিদ (২৯), পাঁচবিবি দানেজপুরের তৌফিক হোসেন (২৬), শহরের শান্তিনগরের রাজিব হোসেন (৪০), আল আমিন (৩৫), ফরিদপুর জেলা সদরের সোহাস (২৪), রোহান, (২৬), ফরিদপুরের সদরপুরের আব্দুল্লাহ (২৬)।

জয়পুরহাট জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের পৌর কমিটির সাবেক আহবায়ক ও শ্রমিক নেতা গোলাম মর্তুজা শিপলু ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মামুনুর রশিদ প্রধান অভিযোগ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার ভাড়াটে লোকজন নিয়ে এসে সরকারি কলেজ সংলগ্ন এলাকার তাঁতিপাড়া মহল্লায় টাকা দিয়ে ভোট কিনছিল। এসময় লোকজন বাধা দিলে ধানের শীষ প্রতীকের কয়েকজন কর্মীকে তার ভাড়াটেরা মারপিট করে। আহতরা হাসপাতালে ভর্তি আছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক রোহান, সোহাগ, আব্দুলাহ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা তাদের ভাবীর ভোটের জন্য জয়পুরহাট সরকারি কলেজে কেন্দ্রের পাশে বুথ ( স্লীপ সরবরারের জায়গা) ঠিক করার জন্য দেখতে গেলে কয়েকজন তাদের মারধর করেছে।

জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক বলেন, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, সবাই আশঙ্কামুক্ত।

সদর থানার ওসি আনিছুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি শান্ত আছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, স্বতস্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহারের শ্বশুর বাড়ি ফরিদপুর জেলা সদরে বলে জানা গেছে।

Continue Reading

top3

কর্মীসহ ইউনিয়ন জামায়াত নেতা জনতার হাতে আটক

Published

on

By

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতিসহ নেতাকর্মীদের আটক করেছে স্থানীয় জনতা। এ সময় একজনকে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়।

এ সংক্রান্ত দুটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে টাকা দিয়ে ভোট কেনার বিষয়টি অস্বীকার করে তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে জানান জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।

ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে চর বড়ধুল গ্রামে জামায়াতে ইসলামীর ঝাঐল ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের চর বড়ধুল গ্রাম ইউনিটের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান দৌঁড়ে পালাচ্ছেন অপর একজন বলছেন ভোট কিনে পালাচ্ছেন কেন, দাঁড়ান, দাঁড়ান। এরপর তিনি দৌঁড়ে পালিয়ে যান।

আরেকটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, বুধবার বিকেলে উপজেলার চৌবাড়ী গ্রামে রায়দৌলতপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সভাপতি নূরে আলমকে ৭১ হাজার টাকাসহ আটক করে স্থানীয়রা। এ সময় কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘টাকা দিয়ে ভোট চাচ্ছে, ভিডিও কর।’

এ ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লা আল মামুন। পরে তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভোট কেনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের আটকে মারধর করার অভিযোগ করে নেতাকর্মীরা। উভয়পক্ষকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটিতে চিঠি দেওয়া হবে।

এদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নাঈম হোসেন জানান, চর বড়ধুল গ্রামে আমাদের কর্মীর ওপর মিথ্যা অভিযোগ এনে ধাওয়া দেয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় তিনি দৌড়ে প্রাণে রক্ষা পান।

অপর ঘটনার ব্যাপারে সেক্রেটারি জানান, প্রতিপক্ষের লোকজনেরা আমাদের এজেন্টদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করেছে এবং বলেছে তোরা কেউ কেন্দ্রে যেতে পারবি না। সেখানে যাওয়ার সময় রায়দৌলতপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ৫/৭ জন নেতাকর্মী চৌবাড়ী গ্রামে পথরোধ করে তাদের ওপর হামলা করে মারধর করে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

রায়দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান মধু জানান, জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মীকে মারধর কিংবা হয়রানি করা হয়নি। স্থানীয়রা ভোট কেনার সময় একজনের পকেটে হাত দিয়ে টাকা বের করে।

Continue Reading

Trending