Connect with us

ক্যাম্পাস

দালালদের একটি চক্র ফ্যাসিস্টদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে -ইবি সহ-সমন্বয়ক সৌরভ

Published

on

ইবি প্রতিনিধি 

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার সাবেক সহ-সমন্বয়ক ইয়াশীরুল কবীর সৌরভ বলেছেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দোসরদের শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু সেই দালালদের একটি চক্র তাদের বাচানোর চেষ্টা করছে।

রবিবার (২ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার পর ইবি শিক্ষার্থীদের আয়োজিত জুলাই বিরোধী শক্তির আস্ফালনের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে এমন বক্তব্য দেন তিনি। 

তিনি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দোসরদের শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু সেই দালালদের একটি চক্র তাদের বাচানোর চেষ্টা করছে। আমরা ধারণা করি তাদেরই কেউ কেউ হয়তো বিভিন্ন উস্কানি দিয়, মগজ ধোলাই দিয়ে জুলাইয়ের বিপক্ষে শিক্ষার্থীদের দাড় করাচ্ছে। সেইসব কালপ্রিটদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চলছে, চলবে।

তিনি আরও বলেন, চব্বিশে দীর্ঘ ৩৬ দিন যুদ্ধ করে আমরা সতেরো বছরের স্বৈরাচারের শাসনের অবসান করেছি। কিন্তু তার যে দোসররা যারা সেই স্বৈরাচারকে স্বৈরাচার হতে সাহায্য করেছে, স্বৈরাচারের দুর্নীতিকে মৌন ও লিখিতভাবে সম্মতি দিয়েছ, সেই দালালরা এখনও আমাদের চারিপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। 

তিনি জানান, জুলাই আন্দোলন চলাকালীন ইবি থেকে প্রথম গ্রেফতার হওয়া আমাদের বন্ধু আল ফিকহ এন্ড ল বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৌরভকে কিন্তু প্রথমে গুম করে রাখা হয়েছিল। আমরা তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেছিলাম এবং তার সন্ধানের জন্য বলেছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের কোনো প্রকার সহযোগিতা করেনি। পরবর্তীতে যখন আমরা আল্টিমেটাম দিয়েছি যে তাকে যদি ফেরত দেয়া না হয় তাহলে আমরা শৈলকূপা থানা ঘেরাও করবো। তখন আমাদের সেই বন্ধুকে ফেরত দেয়া হয়। সেই সময় থেকেই আমরা দেখতে পাই কিভাবে আমাদের সহযোদ্ধাদের জিম্মি করে, তাদের পরিবারকে জিম্মি করে, বিভিন্ন হুমকিধামকি দিয়ে, কিভাবে একটি নাটক সাজিয়েছিল আন্দোলন প্রত্যাহার করার জন্য।  সেই ফ্যাসিস্টদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হয়। 

এসময় এসময় শাখা ছাত্রদলের সদস্য নুর উদ্দীন বলেন, গতদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কতিপয় শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয় এবং হাতে গোণা কয়েকজন ছাত্রের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ্য করেছি যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের ইবি শাখার সভাপতির নাম ছাড়া একটা প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর আমরা সকল ছাত্রসমাজ তার প্রতিবাদ জানাই। কিন্তু তারপরও এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের টনক নড়েনি। আমরা গত কয়েকদিন আগে যখন দেখলাম যে তারা ৩০ তারিখে সিন্ডিকেটের কথা বললো, সেই সিন্ডিকেটে তারা আরাফাতকে বাদ দিয়ে তারা চুনোপুঁটিকে বহিষ্কার করলো। আমরা এই নাটককে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। 

এসময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সাবেক সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, চব্বিশের বর্ষা বিপ্লবের প্রায় দেড় বছর পর আমাদেরকে আবারও মাঠে নামতে হচ্ছে। বর্তমান প্রশাসন আসার পরপরই চব্বিশে যে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল তার যেসব সহযোগীরা, যেসব দালালরা সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিল, যারা শেখ হাসিনার সেই গণহত্যাকে বৈধতা দিয়েছিল লেখনির মাধ্যমে, টকশোর মাধ্যমে, তাদের সকলকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমরা আহ্বান জানিয়েছিলাম। অনেকদিন পর হলেও একটি তালিকা দেয়া হয়েছে যে কাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে। কিন্তু এ তালিকা আমাদের আশা পূরণ করতে পারেনি। এ তালিকাটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত তালিকা। এর পর্যাপ্ততা নেই। কারণ শুধুমাত্র চার আগস্টেই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভটি সংঘটিত হয়েছিল, সেখানে প্রায়  শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষকরা ছিল। তাদের সবার নাম আসে নাই এবং তাদেরকে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছির তাদেরও নাম আসেনাই। সেসময় ছাত্রলীগকে যারা শেল্টার দিতো তাদেরও নাম আসেনাই। এ তালিকায় রাঘববোয়ালদের বাইরে রেখে যারা তুলনামূলক কম দোষী তাদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। আপনারা আগামী একসপ্তাহের মধ্যে এ তালিকা পূর্নাঙ্গ করবেন এবং যার যে দোষ তাকে সে শাস্তি দিবেন। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সাবেক সহ-সমন্বয়ক ইয়াশীরুল কবীর সৌরভ, গোলাম রব্বানী, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাফিজ আহমেদ, নুর উদ্দীন সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় জুলাই বিরোধী ভূমিকা থাকায় ১৯ জন শিক্ষক, ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরখাস্ত ও ছাত্রলীগ নেতাদের বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু তালিকায় বাদ যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি, ট্রেজারার, প্রক্টরসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের শেল্টারদানকারী বিভিন্ন প্রভাবশালী শিক্ষকের নাম। এছাড়াও তালিকায় নেই ইবি ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাতের নাম। তারই প্রতিবাদে আয়োজিত হয় এ বিক্ষোভ মিছিল। আবার তালিকায় থাকা ১৯ জন শিক্ষকের মধ্যে কিছুসংখ্যক পক্ষে পূথক আন্দোলন করেছে তিনটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

নিরাপত্তা শঙ্কায় হেলমেট পরে ক্লাসে জবি শিক্ষার্থীরা

Published

on

By

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গণিত বিভাগের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে গিয়ে আতঙ্কে অনেক শিক্ষার্থী এখন হেলমেট পরে অংশ নিচ্ছেন।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে গণিত বিভাগের একটি সেমিনার কক্ষে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর নিয়াজ ফাহিম ও মাহফুজুর রহমান মিতুল আহত হন।

ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক একাডেমিক ভবন দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মাঝেমধ্যে ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। এর আগেও গণিত বিভাগের একটি শিক্ষক কক্ষে একই ধরনের ঘটনা ঘটে।

নিরাপত্তার শঙ্কায় গণিত বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হেলমেট পরে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে শুরু করেছেন।

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম বলেন, কখন কার মাথায় পলেস্তারা পড়বে, তা বলা যায় না। তাই বাধ্য হয়েই হেলমেট ব্যবহার করছি।

আরেক শিক্ষার্থী নয়ন বলেন, কালকে আমার ছোট দুই ভাই আহত হয়েছেন, অথচ প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এখনও। আমাদের ক্লাস-পরীক্ষাও চলমান রেখেছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ক্লাসরুমে বসে ক্লাস-পরীক্ষা দিতে শঙ্কা বোধ করায় হেলমেট পরে পরীক্ষা দিতে আসছি।

শিক্ষার্থীরা জানান, অনেক শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার অনুপযোগী হলেও বিকল্প না থাকায় সেখানে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতারা প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলা করা হয়েছে। দ্রুত কার্যকর সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে। বড় ধরনের কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি জানান, ফলস সিলিং থাকার কারণে মূল ছাদের ফাটল আগে ধরা পড়েনি। এখন সেগুলো অপসারণ করা হচ্ছে। বিজ্ঞান ভবনের সংস্কারের নকশা ও ব্যয় হিসাবও প্রস্তুত রয়েছে।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

গোবিপ্রবির আইন বিভাগে সাফল্যের ঝলক: বার কাউন্সিল পরীক্ষায় ৮১ শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব

Published

on

By

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি:
এবারের বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) আইন বিভাগ অর্জন করেছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। চারটি ব্যাচ থেকে মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন মোট ৮১ জন শিক্ষার্থী।

নবীন বিভাগ হওয়া সত্ত্বেও ধারাবাহিকভাবে সাফল্যের ধারা বজায় রেখে চলেছে আইন বিভাগটি। বর্তমানে বিভাগে মোট ১০টি ব্যাচ অধ্যয়নরত রয়েছে। শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের মেধা, পরিশ্রম ও পারস্পরিক সহযোগিতার ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জানা গেছে, এই বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় ৩ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে বিচার বিভাগে যোগ দিয়েছেন।

গত ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, সারা দেশ থেকে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের মৌখিক পরীক্ষায় মোট ৮,৫৯৯ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। উত্তীর্ণরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অধীনস্থ আদালত, ট্রাইব্যুনাল ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষের অধীনে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তবে পেশা শুরু করতে হলে তাদের ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ গ্রহণ করতে হবে।

উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নব্য আইনজীবী ও ১৭তম বিজেএস-এ সুপারিশপ্রাপ্ত সিভিল জজ সাদিকুর রহমান রোমান বলেন, নবীন বিভাগ হওয়া সত্ত্বেও এখান থেকে ইতোমধ্যে ৩ জন বিচারক বের হয়েছেন এবং এবছর প্রায় ১০০ জন নতুন আইনজীবী তালিকাভুক্ত হয়েছেন, যা বিভাগের জন্য গর্বের। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন আইনজীবীরা ভবিষ্যতে পেশায় সুনাম অর্জন করবেন এবং বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

একইসঙ্গে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও সদ্য তালিকাভুক্ত আইনজীবী মোঃ রিয়াদ আহমেদ বলেন, আইন শিক্ষার্থীদের জন্য বেয়ার অ্যাক্টে গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শুধুমাত্র গাইড বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করলে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়। তিনি সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দক্ষ আইনজীবী হওয়ার আহ্বান জানান।

আইন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মানসুরা খানম বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানো বিভাগের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি নবীন আইনজীবীদের অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতেও এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সহযোগী অধ্যাপক ড. রাজিউর রহমান বলেন, বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে বিচার বিভাগ, উচ্চশিক্ষা, ব্যাংক-বীমা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন। নতুন আইনজীবীরাও পেশাগত জীবনে দক্ষতা ও সুনাম অর্জন করবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে ইবি ছাত্রদল নেতাদের, উঠতি নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিতে দিতে বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে অধিকাংশ নেতার। দীর্ঘদিন নেতৃত্বের পরিবর্তন না হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে, হতাশা দেখা দিয়েছে এই সিনিয়র নেতাদের এবং নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের মধ্যে। এদিকে গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) আনুমানিক ৪০ বছর উর্ধ্ব ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (ইবি) ও কেন্দ্রীয় সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদের বিয়ে হয়। এতে অন্যান্য ছাত্রদল নেতাদের বিয়ের বয়স পার হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে ক্যাম্পাসজুড়ে।

জানা যায়, ছাত্রদলের সদ্য-সাবেক সাধারণ সম্পাদক (ইবি) ও কেন্দ্রীয় সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদ আইন বিভাগের ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ফলে তার বয়স আনুমানিক ৪০ উর্ধ্ব। এদিকে বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ (২০০৭-৮ শিক্ষাবর্ষ), সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুন ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার পারভেজের (২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ) বয়স পার হলেও বিয়ে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। তাদের নাই কোনো কর্মসংস্থান। আহ্বায়ক কমিটির নামে ক্যাম্পাসে এখনও তৎপর তারা। সংগঠনটির আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ ২০০৭-৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়ায় আনুমানিক বয়স ৩৭ অধিক। এদিকে সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুন ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার পারভেজ ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হলে ২০১৭-১৮ দিকে শেষ হওয়ার কথা। যাদের আনুমানিক বয়স ৩২ এর কাছাকাছি।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৬ জুন মো. সাহেদ আহম্মেদকে আহ্বায়ক ও মাসুদ রুমী মিথুনকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্যের কমিটি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। কমিটিতে অছাত্রত্ব, বিবাহিত ও চাকরিজীবীদের পদ দেওয়ায় প্রতিবাদ করে কমিটি প্রত্যাখ্যান করে একাংশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, আহসান হাবীব, সবুজ হোসাইন ও সদস্য সাব্বির হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

দলীয় তথ্য মতে, ৩১ সদস্যের কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবু দাউদ চাকরিজীবী ও বিবাহিত, মো. ওমর শরীফ চাকরিজীবী ও দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয়, নাজমুল ইসলাম চাকরিজীবী ও নিষ্ক্রিয়, নৌশিন তাবাসসুম বিবাহিতা ও সদস্য মাহমুদুল মৃদুলও বিবাহিত। এছাড়াও যুগ্ম আহ্বায়ক শাহানুর হোসেন, মো. সবুজ হোসাইন, মেহেদী হাসান হিরা, মনিরুল ইসলাম, তুহিন হোসাইন, লিমন হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কার্যক্রমে আসেন না। এছাড়াও ‘অপরিচিত’ হিসেবে কমিটিতে আছেন সদস্য রাজু আহমেদ, মো. সম্রাট হোসাইন, সানজিদা ইসলাম ও রুমা খাতুন। ইবি শাখার সক্রিয় নেতাকর্মীরা তাদেরকে চেনেন না বলে দাবি করেছেন। এদিকে বর্তমান কমিটিকে আঁকড়ে ধরলেও কিছু নেতার বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব ও আনারুলের বয়সও পার হয়ে গেছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক তরুণ কর্মী জানান, কর্মী হিসেবে তাদের বয়সও পর্যাপ্ত। বাড়িতে কারো কারো বিয়ের আলাপ হলেও পদের আশায় প্রহর গুনছেন। নেতাদের তো অনেক আগেই বয়স পার হয়েছে। কমিটি ধরে রাখলে কর্মী বাড়বে না। কর্মীরা কেন রাজনীতিতে জড়ায়? একটা পরিচয় দেওয়ার সুযোগ না হলে কর্মী সমর্থক বাড়বে কী করে? আমাদেরও সুযোগ দিক আর ভাইয়েরাও সুযোগ নিক। এতে সমালোচনা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

ছাত্রদলের তরুণ কর্মী তৌহিদুল ইসলাম জানান, “বিয়ের বিষয়টা ব্যক্তিগত, এতে কমেন্ট করতে পারি না। হয় তো সংগঠনকে ভালোবাসে বলেই সেক্রিফাইস করছেন। যদিও বিয়ে নিয়ে সংগঠনে লিখিত কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নাই। এদিকে একটা আফসোসের জায়গা থাকবে যে নিজের নামের সাথে কোনো পদবি না নিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়তে হচ্ছে। পুরাতন কমিটি প্রায় ৫ বছর হয়ে যাচ্ছে। নতুন করে রাজনীতিতে যারা যুক্ত হয়েছে তারাও পুরাতন হয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদও শেষ, ওটা নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। আমাদের নিয়ে ভাবার সময় হয়তো আরও বিলম্ব হলো।” 

আরেক তরুণ ছাত্রদল কর্মী স্বাক্ষর জানান, “আমাদের সিভি নিয়েছেন রানিং স্টুডেন্টদের। রানিং দিবে কিনা বা মিক্সড করে নেতৃত্ব ঠিক করবে কিনা একান্ত সেন্ট্রাল ভালো জানবেন। আমরা আশাবাদী ভালো কিছু হবে।” 

আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাফিজ আহমেদ জানান, “বিবাহিত হলে সংগঠনে পদ পদবি পায় না, সেই দৃষ্টিকোণ থেকে অনেকে সেক্রিফাইজ করেন। যদিও এটা কেন্দ্রের মৌখিক নির্দেশনা। নতুন কমিটির বিষয়ে শুনে আসছি রানিং স্টুডেন্ট দিয়ে দিবেন। বাকিটা কেন্দ্র বুঝবেন।”

বিয়ে নিয়ে সংগঠনের ধারণা

শুধু ‘ছাত্রত্ব’ দিয়ে ছাত্র রাজনীতি করা যাবে না, হতে হবে ‘অবিবাহিত’ – এমনই রীতি ছাত্রদলের ওপর আরোপ করে দেন বিএনপি। এ নিয়ে দলটির দায়িত্বশীলদের যৌক্তিক ব্যাখ্যাও আছে। তারা মনে করেন— ছাত্ররা যেহেতু সমাজ পরিবর্তনের নিয়ামক, ফলে বিবাহিত অবস্থায় রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের পক্ষে ঝুঁকি নেওয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণেই ছাত্রদলে অলিখিত অবিবাহিত শর্ত আরোপ হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত, ছাত্রত্ব থাকলেই যে কোনো ছাত্র সংগঠন করার অধিকার একজন শিক্ষার্থীর রয়েছে। এছাড়া ছেলেদের ২১ এবং মেয়েদের ১৮ বছর বয়সে বিয়ে করার আইনগত ও সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। রাজনীতির দোহাই দিয়ে ছাত্রনেতাদের এ অধিকার কেড়ে নেওয়া বেআইনি ও অন্যায্য। বরং রাজনৈতিক সংগঠনের কাজই হলো ছাত্র তথা সব নাগরিকের এসব অধিকার নিশ্চিত করা। তা করতে প্রয়োজন রাষ্ট্রীয়ভাবে কাজ করা।

সম্প্রতি সাংবাদিকদের এক সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, “কারো বিরুদ্ধে বিয়ের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে আমরা পদোন্নতির বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

Continue Reading

Trending