Connect with us

ক্যাম্পাস

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ডাকসু নির্বাচন আজ

Published

on

অলটাইম নিউজ ডেস্ক

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দিনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে। দীর্ঘ ছয় বছরেরও বেশি সময়ের বিরতির পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। চলবে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ক্যাম্পাস নির্ধারিত আটটি ভোট কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে ভোটাররা তাদের ভোট প্রয়োগ করবেন। ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে গণনা শুরু করবে এবং নবাব নওয়াব আলী সিনেট অডিটোরিয়ামে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

এই নির্বাচন কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই নয়, দেশের জাতীয় রাজনীতির জন্যও দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ডাকসু থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলকেও প্রভাবিত করে।

১৮টি হলের প্রতি হল সংসদে ১৩টি করে মোট ২৩৪টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এক হাজার ১০৮ জন। নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ২০ হাজার ৮৭৩ জন এবং ছাত্রী ভোটার ১৮ হাজার ৯০২ জন। আটটি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে প্রত্যেক ভোটারকে ডাকসু ও হল সংসদের মোট ৪১টিতে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। প্রার্থীর নামের পাশের বর্গাকৃতির ঘরে ক্রস চিহ্ন আকার মাধ্যমে ভোট দিবেন ভোটাররা। আটটি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে চলবে ভোটগ্রহণ।

এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঢাবি প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি প্রবেশপথে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, মোবাইল পেট্রোল, ডগ স্কোয়াড, বিশেষায়িত টিম, বোম এক্সপোজাল ইউনিট, সোয়াত টিম, ডিবি (সাদা পোশাকে), সিসিটিভি মনিটরিং সেল, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ নিয়োজিত রয়েছে।

নির্বাচন ঘিরে বেশ চাপে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কোনো প্রকার অঘটন সামাল দিয়ে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা, ভোট গণনা স্বচ্ছ করা, ফলাফল ঘোষণার পর কোনো প্রকার অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা সৃষ্টি হলে তা সামাল য়ো ও সর্বোপরি বিশ্বব্যিালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান প্রশাসনের জন্য যেন অগ্নিপরীক্ষা। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘন, সাইবার বুলিংসহ নানান অভিযোগ সামাল দিয়ে এ পর্যন্ত আসাটা কমিশনের বড় সার্থকতা।

এ দিকে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে ছাত্রছাত্রীরে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এই নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘গুজব একটি সামাজিক ব্যাধি। কোনো ঘটনা ঘটেনি, কিন্তু চারদিকে গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

এলইডি স্ক্রিনে দেখা যাবে ভোট গণনা-ফলাফল

ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা করা হবে অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন (ওএমআর) মেশিনে। প্রত্যেক কেন্দ্রের বাইরে এলইডি স্ক্রিনে ফলাফল গণনা প্রদর্শিত হবে। প্রত্যেক কেন্দ্রের ফলাফল সেখানেই ঘোষণা করা হবে, পাশাপাশি স্ক্রিনেও দেখা যাবে। সবশেষে সিনেট ভবন মিলনায়তনে সব কেন্দ্রের মোট ফলাফল ঘোষিত হবে। তবে এর আগেই সব কেন্দ্রের ফলাফল যোগ করে যে কেউ মোট ফলাফল বের করতে পারবেন।

ভোটারদের সুবিধার্থে চলবে চক্রাকার শাটল

শিক্ষার্থীরা যেন আজ নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছতে পারেন, সেই লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে বিশেষ চক্রাকার শাটল সার্ভিস চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বব্যিালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভোটারদের সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আজ সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত শাটল সার্ভিস চলবে।

ডাকসু নিয়ে সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে : ঢাবি ভিসি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।

সোমবার বিকেলে ডাকসু নির্বাচন কমিশন অফিসের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ১১ মাসের দীর্ঘ প্রস্তুতি, হাজারো শিক্ষার্থীর আকাঙ্ক্ষা আর নানা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আমরা আজ চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি। ডাকসুকে ঘিরে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রক্টরিয়াল টিম, বিএনসিসি, ভলান্টিয়ার টিমসহ সবাই মাঠে রয়েছে। তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

প্রার্থীরে উদ্দেশ্য করে ভিসি বলেন, আপনারা একে-অপরের প্রতি সহনশীল হোন। হার-জিত যাই হোক, আমাদের মধ্যে এমন কিছু নেই যাতে বড় কোনো সঙ্ঘাত সৃষ্টি হয়। যি তবুও কেউ আইন ভঙ্গ করে তবে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাইবার বুলিংয়ের জবাব ব্যালটের মাধ্যমে দিতে হবে : আবিদুল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, যারা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমে মোকাবেলা করতে চায়, তারে ব্যালটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রতিহত করবে। গতকাল দুপুরে মধুর ক্যান্টিনের সামনে সাইবার অ্যাটাক নিয়ে এক জরুরি সংবা সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা ৫ আগস্টের পরে সুস্থ রাজনীতি চর্চা করতে গিয়ে অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছি। ২০১৬ সাল থেকে আমরা বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে এখানে এসেছি। দেশের স্বাধীনতা ও শিক্ষার্থীদের প্রশ্নে কখনো আপস করিনি, অন্যায় মেনে নেইনি। ৫ আগস্টের পর একই নোংরামির শিকার হতে হবে এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

আবিদ আরো বলেন, আমরা কখনো পেছন থেকে আঘাত করার চেষ্টা করিনি। যোগ্যতার বিরুদ্ধে যোগ্যতা, অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সুস্থ রাজনীতি করে এসেছি। এখন একদল রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে একটি গোষ্ঠী সাইবার অ্যাটাকের পথ বেছে নিয়েছে। মিথ্যার শক্তিতে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। সত্যের জয় সুনিশ্চিত। আগামীকাল ঝড়, বৃষ্টি বা প্রতিকূল পরিস্থিতি হোক না কেন আপনারা ভোটকেন্দ্র আসবেন।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সমীকরণ

এবারের নির্বাচনে মোট ২৮টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৭১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ভিপি পদে ৪৫, জিএস পদে ১৯ এবং এজিএস পদে ২৮ জন লড়ছেন। সবশেষ প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, ডাকসু নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৩৯ হাজার ৬৩৯ জন শিক্ষার্থী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের ডাকসু নির্বাচন শুধু ক্যাম্পাস রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি জাতীয় রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এবারের নির্বাচন ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আলোচিত প্রার্থীরা

ছাত্রদল সমর্থিত আবিদুল ইসলাম খান, ভিপি পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত আবু সাদিক কায়েম, স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসরে আবদুল কাদের এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের বিন ইয়ামিন মোল্লা আলোচনায় আছেন। জিএস পদে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত শেখ তানভীর বারী হামিম, শিবির সমর্থিত এস এম ফরহাদ, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের আবু বাকের মজুমদার ও সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদের ফাতেহা শারমিন এ্যানি।

top1

পদত্যাগ করলেন ঢাবি উপাচার্য

Published

on

By

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগ করেছেন।

মঙ্গলবার বিকালে উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একদিন আগে এ ঘোষণা দিলেন ঢাবি উপাচার্য।

পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সরে দাঁড়াচ্ছি, যেন নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার তাদের নিজেদের মতো করে প্রশাসন সাজাতে পারে।’

Continue Reading

top3

রাজধানীতে লিগ্যাল ইস্যু বিতর্ক প্রতিযোগিতা, চ্যাম্পিয়ন গোবিপ্রবি

Published

on

By

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি :

প্রথমবারের মতো আইন ও বিচারব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে তরুণদের যুক্তিবাদী বিতর্কচর্চা জোরদার করতে “হক ল একাডেমি” কর্তৃক আয়োজিত ‘ইন্টার ইউনিভার্সিটি ডিবেট অন লিগ্যাল ইস্যুজ’ -এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) আইন বিভাগের প্রতিনিধিত্বকারী দল “Law Verse”। উক্ত টিমের বিতার্কিকগণ হলেন মো. ইমন হোসেন, খন্দকার রামিম হাসান পায়েল, ফাঈদ হোসেন।

শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় রাজধানীর ফার্মগেটের  আর. এইচ. হোম সেন্টারে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল হকের সভাপতিত্বে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ।

জানা যায়, দেশের ২৪ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সমসাময়িক আইন ও বিচারসংক্রান্ত ইস্যুতে তাদের যুক্তি, বিশ্লেষণ ও বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এতে ১ম রাউন্ডে দুইটি স্লটে বিতর্ক করে ১২টি দল ২য় রাউন্ডে উত্তীর্ণ হয়। পরে ২য় রাউন্ডে কোয়ার্টার ৮টি দল ও সেমিফাইনালে ৪টি দল বিতর্ক করে।

ফাইনালে সরকারি দলে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এবং বিরোধী দলে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করেন। এতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাফরিন সুলতানা, মন্ত্রী হিসেবে মাহির লাবিব ও সাংসদ হিসেবে তামিম মাহমুদ এবং  বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে ইমন হোসেন, উপনেতা হিসেবে ফাইদ হোসেন ও সাংসদ হিসেবে খন্দকার রামীম হাসান অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিযোগিতা শেষে  চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফিসহ ১২ হাজার টাকা ও রানার্স আপ দলকে ট্রফিসহ ১০ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া  অংশগ্রহণকারী সকলকে সনদ প্রদান করা হয়।

হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি মোহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যৎ আইনজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের চিন্তাশক্তি ও গণতান্ত্রিক বিতর্ক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে”।

উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তারিকুল আলম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল আহাদ, মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোতাসিম বিল্লাহ, বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মিল্টন হোসেন এবং বিচারক হিসেবে রাকিব আহমেদ, ফায়জুল ইসলাম, রায়হান হোসেন ও মাশরাফী ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

বিএনপিতে যোগদানের কারণ জানালেন জাকসু ভিপি জিতু

Published

on

By

আগামীর রাষ্ট্র বিনির্মাণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভূমিকার প্রতি আস্থার কথা তুলে ধরে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) আবদুর রশিদ জিতু। এ সময় তিনি দলটির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ঐতিহাসিক লড়াইয়ের কথাও উল্লেখ করেন। 

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন ভিপি আবদুর রশিদ। 

তিনি লেখেন, বাংলাদেশ আজ ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও গনঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই রাষ্ট্র বারবার নতুন করে নিজের পথ খুঁজে নিয়েছে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে শুরু করে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান এই ধারাবাহিক সংগ্রাম আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে অন্যায়, দমন-পীড়ন ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকতে হয়। এই ঐতিহাসিক চেতনাই আমার রাজনৈতিক বিশ্বাসের মূল ভিত্তি।

স্ট্যাটাসে আবদুর রশিদ লেখেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ ও সাহসী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং আজ দেশনায়ক তারেক রহমানের রাষ্ট্র সংস্কার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাস্তবভিত্তিক ও সময়োপযোগী ভিশন আমাকে গভীরভাবে আশাবাদী করে।’ 

তিনি আরও লেখেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার এক ঐতিহাসিক শক্তি। একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে বিএনপি ঐতিহাসিকভাবে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে।’

আবদুর রশিদ তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, এই বিশ্বাস ও দায়বদ্ধতা থেকেই আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির বিস্তৃত পরিসরে জনগণের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করা এবং আগামীর বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে ছাত্রসমাজ ও তরুণদের শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখাই আমার প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, আমি প্রত্যাশা করি, আগামীর বাংলাদেশ হবে গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র। সেই বাংলাদেশ বিনির্মাণের সংগ্রামে সততা, সাহস ও দায়বদ্ধতা নিয়ে আমি আমার ভূমিকা পালন করতে চাই। পাশাপাশি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে আস্থা, প্রত্যাশা  নিয়ে আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন, সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষায় আমি অবিচল থাকবো। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার, যৌক্তিক দাবি এবং গণতান্ত্রিক স্বার্থ আদায়ে সর্বদা সোচ্চার ও সচেষ্ট থাকবো ইনশাআল্লাহ।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ৩৩ বছর পর গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আবদুর রশিদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সহসভাপতি পদে বিজয়ী হন। এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য ছিলেন এবং আল-বেরুনী হল ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলেন। পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরুতে তিনি কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। পরে সমন্বয়ক পদ থেকে সরে গিয়ে ‘গণ-অভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন এবং এর আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Continue Reading

Trending