Connect with us

ক্যাম্পাস

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ডাকসু নির্বাচন আজ

Published

on

অলটাইম নিউজ ডেস্ক

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দিনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে। দীর্ঘ ছয় বছরেরও বেশি সময়ের বিরতির পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। চলবে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ক্যাম্পাস নির্ধারিত আটটি ভোট কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে ভোটাররা তাদের ভোট প্রয়োগ করবেন। ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে গণনা শুরু করবে এবং নবাব নওয়াব আলী সিনেট অডিটোরিয়ামে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

এই নির্বাচন কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই নয়, দেশের জাতীয় রাজনীতির জন্যও দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ডাকসু থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলকেও প্রভাবিত করে।

১৮টি হলের প্রতি হল সংসদে ১৩টি করে মোট ২৩৪টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এক হাজার ১০৮ জন। নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ২০ হাজার ৮৭৩ জন এবং ছাত্রী ভোটার ১৮ হাজার ৯০২ জন। আটটি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে প্রত্যেক ভোটারকে ডাকসু ও হল সংসদের মোট ৪১টিতে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। প্রার্থীর নামের পাশের বর্গাকৃতির ঘরে ক্রস চিহ্ন আকার মাধ্যমে ভোট দিবেন ভোটাররা। আটটি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে চলবে ভোটগ্রহণ।

এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঢাবি প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি প্রবেশপথে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, মোবাইল পেট্রোল, ডগ স্কোয়াড, বিশেষায়িত টিম, বোম এক্সপোজাল ইউনিট, সোয়াত টিম, ডিবি (সাদা পোশাকে), সিসিটিভি মনিটরিং সেল, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ নিয়োজিত রয়েছে।

নির্বাচন ঘিরে বেশ চাপে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কোনো প্রকার অঘটন সামাল দিয়ে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা, ভোট গণনা স্বচ্ছ করা, ফলাফল ঘোষণার পর কোনো প্রকার অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা সৃষ্টি হলে তা সামাল য়ো ও সর্বোপরি বিশ্বব্যিালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান প্রশাসনের জন্য যেন অগ্নিপরীক্ষা। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘন, সাইবার বুলিংসহ নানান অভিযোগ সামাল দিয়ে এ পর্যন্ত আসাটা কমিশনের বড় সার্থকতা।

এ দিকে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে ছাত্রছাত্রীরে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এই নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘গুজব একটি সামাজিক ব্যাধি। কোনো ঘটনা ঘটেনি, কিন্তু চারদিকে গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

এলইডি স্ক্রিনে দেখা যাবে ভোট গণনা-ফলাফল

ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা করা হবে অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন (ওএমআর) মেশিনে। প্রত্যেক কেন্দ্রের বাইরে এলইডি স্ক্রিনে ফলাফল গণনা প্রদর্শিত হবে। প্রত্যেক কেন্দ্রের ফলাফল সেখানেই ঘোষণা করা হবে, পাশাপাশি স্ক্রিনেও দেখা যাবে। সবশেষে সিনেট ভবন মিলনায়তনে সব কেন্দ্রের মোট ফলাফল ঘোষিত হবে। তবে এর আগেই সব কেন্দ্রের ফলাফল যোগ করে যে কেউ মোট ফলাফল বের করতে পারবেন।

ভোটারদের সুবিধার্থে চলবে চক্রাকার শাটল

শিক্ষার্থীরা যেন আজ নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছতে পারেন, সেই লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে বিশেষ চক্রাকার শাটল সার্ভিস চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বব্যিালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভোটারদের সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আজ সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত শাটল সার্ভিস চলবে।

ডাকসু নিয়ে সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে : ঢাবি ভিসি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।

সোমবার বিকেলে ডাকসু নির্বাচন কমিশন অফিসের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ১১ মাসের দীর্ঘ প্রস্তুতি, হাজারো শিক্ষার্থীর আকাঙ্ক্ষা আর নানা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আমরা আজ চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি। ডাকসুকে ঘিরে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রক্টরিয়াল টিম, বিএনসিসি, ভলান্টিয়ার টিমসহ সবাই মাঠে রয়েছে। তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

প্রার্থীরে উদ্দেশ্য করে ভিসি বলেন, আপনারা একে-অপরের প্রতি সহনশীল হোন। হার-জিত যাই হোক, আমাদের মধ্যে এমন কিছু নেই যাতে বড় কোনো সঙ্ঘাত সৃষ্টি হয়। যি তবুও কেউ আইন ভঙ্গ করে তবে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাইবার বুলিংয়ের জবাব ব্যালটের মাধ্যমে দিতে হবে : আবিদুল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, যারা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমে মোকাবেলা করতে চায়, তারে ব্যালটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রতিহত করবে। গতকাল দুপুরে মধুর ক্যান্টিনের সামনে সাইবার অ্যাটাক নিয়ে এক জরুরি সংবা সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা ৫ আগস্টের পরে সুস্থ রাজনীতি চর্চা করতে গিয়ে অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছি। ২০১৬ সাল থেকে আমরা বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে এখানে এসেছি। দেশের স্বাধীনতা ও শিক্ষার্থীদের প্রশ্নে কখনো আপস করিনি, অন্যায় মেনে নেইনি। ৫ আগস্টের পর একই নোংরামির শিকার হতে হবে এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

আবিদ আরো বলেন, আমরা কখনো পেছন থেকে আঘাত করার চেষ্টা করিনি। যোগ্যতার বিরুদ্ধে যোগ্যতা, অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সুস্থ রাজনীতি করে এসেছি। এখন একদল রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে একটি গোষ্ঠী সাইবার অ্যাটাকের পথ বেছে নিয়েছে। মিথ্যার শক্তিতে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। সত্যের জয় সুনিশ্চিত। আগামীকাল ঝড়, বৃষ্টি বা প্রতিকূল পরিস্থিতি হোক না কেন আপনারা ভোটকেন্দ্র আসবেন।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সমীকরণ

এবারের নির্বাচনে মোট ২৮টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৭১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ভিপি পদে ৪৫, জিএস পদে ১৯ এবং এজিএস পদে ২৮ জন লড়ছেন। সবশেষ প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, ডাকসু নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৩৯ হাজার ৬৩৯ জন শিক্ষার্থী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের ডাকসু নির্বাচন শুধু ক্যাম্পাস রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি জাতীয় রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এবারের নির্বাচন ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আলোচিত প্রার্থীরা

ছাত্রদল সমর্থিত আবিদুল ইসলাম খান, ভিপি পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত আবু সাদিক কায়েম, স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসরে আবদুল কাদের এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের বিন ইয়ামিন মোল্লা আলোচনায় আছেন। জিএস পদে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত শেখ তানভীর বারী হামিম, শিবির সমর্থিত এস এম ফরহাদ, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের আবু বাকের মজুমদার ও সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদের ফাতেহা শারমিন এ্যানি।

ক্যাম্পাস

পদ্মার পাড়ে ‘ফুল বিজু’ উদযাপন ইবিস্থ পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের, ছুটি না থাকায় আক্ষেপ

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

চাকমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব বিজুর অংশ হিসেবে ‘ফুল বিজু’ উদযাপন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অধ্যয়নরত সংশ্লিষ্ট ধর্মালম্বী শিক্ষার্থীরা। প্রতিবছর নির্বিঘ্নে এসব উৎসব পালন করতে ১২ থেকে ১৬ এপ্রিল একাডেমিক ক্যালেন্ডারে ছুটি অন্তর্ভুক্ত চান তারা।

আজ রোববার (২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দে) ইবিস্থ জুম্ম ছাত্র কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা এ আয়োজন করেন।উৎসবের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা পদ্মার মোহনা পাড়ে গঙ্গা মাতার উদ্দেশ্যে ফুল নিবেদন করেন। এসময় তারা পুরনো সব দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে আরও সুন্দরভাবে বরণ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সম্মিলিতভাবে উৎসব পালন করে নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরেন তারা। তবে ক্যালেন্ডারে ছুটি না থাকায় অনেকের বাড়ি ফেরা হলো না।

জুম্ম ছাত্র কল্যাণ সমিতির সদস্য ও বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জেসি চাকমা বলেন, “বিজু হচ্ছে আমাদের চাকমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব। আমরা সাধারণত ১২, ১৩ ও ১৪ এপ্রিল এই তিন দিন উৎসবটি পালন করি। কিন্তু এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম ও পরীক্ষা থাকায় বাড়ি যাওয়া হয়নি। তাই আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে ফুল বিজুর আয়োজন করেছি, যাতে আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখা যায়।”

উপাচার্যের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান, “প্রতি বছর বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিহু, চাংক্রান-সহ এসব উৎসব উপলক্ষে ১২ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম ও পরীক্ষা স্থগিত রাখা হোক।”

ছাত্র কল্যাণ সমিতির সদস্য ও অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী প্রবাসী চাকমা বলেন, “প্রতিবছর আদিবাসীদের বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু ও চাংক্রান উৎসব পালন করা হয়। আমি সাধারণত বিজুতে বাড়িতে থাকার চেষ্টা করি। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে থাকার পর ক্লাস থাকতে পারে ভেবে ক্যাম্পাসে এসেছি। কিন্তু জিএসটি পরীক্ষা চলমান থাকায় ক্লাস বন্ধ রয়েছে এবং অনেক বিভাগে সেমিস্টার পরীক্ষা চলছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও সব জায়গায় তা হয়নি। যেহেতু এটি আদিবাসীদের বৃহত্তর সামাজিক উৎসব, তাই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছুটি দেওয়া উচিত। ক্যাম্পাসে বিজু পালন করতে পেরে ভালো লাগছে এবং এর মাধ্যমে আমরা আমাদের স্বকীয়তা তুলে ধরতে পেরেছি।”

জুম্ম ছাত্র কল্যাণ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মন্টু চাকমা বলেন, “বিজু চাকমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব, যা চৈত্রের শেষ দুই দিন ও পহেলা বৈশাখ মিলে তিন দিনব্যাপী পালিত হয়। কিন্তু নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষার কারণে আমরা যথাযথভাবে পালন করতে পারিনি। তাই আজ ক্যাম্পাসেই ফুল বিজু উদযাপন করেছি।”

উপাচার্যের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিবছর এসব উৎসবের জন্য ১২ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত একাডেমিক ক্যালেন্ডারে ছুটি অন্তর্ভুক্ত করা হোক। অতীতের সব গ্লানি মুছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানিয়ে সবাইকে বিজুর শুভেচ্ছা জানাই।”

Continue Reading

top3

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে চবি শিক্ষার্থী মৃত্যু

Published

on

By

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল ৮টার দিকে পড়ার টেবিলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেয় সহপাঠীরা। পরে সকাল ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা যাওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম জীবক চাকমা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাসা রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায়। তার বাবার নাম রবিলেন্দু চাকমা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বশান্তি প্যাগোডার হোস্টেলে থাকতেন।

জীবক চাকমার মৃত্যুর বিষয়ে চবির মেডিকেল সেন্টারের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. আবু তৈয়ব চৌধুরী বলেন, আজ সকালে ওই শিক্ষার্থীকে অচেতন অবস্থায় মেডিকেল সেন্টারে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করি, তিনি ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন। তার কোনো জ্ঞান ছিল না। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন বলেন, আজ সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সহপাঠীরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন বলে আমরা জেনেছি।

Continue Reading

top3

শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে হল সংসদের এজিএসসহ ৩ জনের আবাসিকতা বাতিল

Published

on

By

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলের কক্ষে ‘নারী প্রবেশ সন্দেহে’ তল্লাশির অভিযোগে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে হল সংসদের এজিএসসহ ৩ শিক্ষার্থীর আবাসিকতা সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় হল সংসদের ভিপিকে (সহসভাপতি) কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে ঘটনাটির সুষ্ঠু ও অধিকতর সত্য অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শাস্তিপ্রাপ্তরা হলেন হল সংসদের এজিএস মো. ইসরাফীল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. সাকিব জুবায়ের ও আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী মো. ফোরকান হাফিজ জীম।

রবিবার (১২ এপ্রিল) ভোর চারটার দিকে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবার রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শনিবার আনুমানিক ভোর পাঁচটায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ১২১ নম্বর কক্ষে নারী প্রবেশের অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এতে ৩ শিক্ষার্থীর আবাসিকতা সাময়িকভাবে বাতিল করা হলো এবং হল ভিপি মো. মোজাম্মেল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে অধিকতর তদন্তে একটি কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। তদন্ত কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপনে তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত জমাদানের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ থাকবে।

এর আগে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. ইসরাফীল বলেন, ‘একটি জায়গা থেকে হলে মেয়ে আনার তথ্য পাই। পরে ভিপি ও জিএসের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি যাচাই করতে যাই। সেখানে এমন কিছু না পেয়ে পরে আমরা সরি বলে চলে আসি।’

জিয়া হল সংসদের ভিপি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ফজরের আগে একজন হলে মেয়ে নিয়ে আসার বিষয়ে জানায়। তখন আমি জিএস ও এজিএসকে জানাই এবং এ রকম কিছু হলে গোপনে মিটমাট করে ফেলতে বলি। এটা যাতে আলোচনার কোনো টপিক না হয় সেটাই চেয়েছিলাম এবং রাত গভীর হওয়ায় হল প্রশাসনের কাউকে জানানো হয়নি।’

এ বিষয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মাহবুবার রহমান বলেন, ‘হল প্রভোস্ট ছাড়া আবাসিক হলে তল্লাশি করার অনুমতি কারোর নেই। হোক সে হল ছাত্র সংসদের নেতা। যারা এমনটি করেছেন, তারা হলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ৩ শিক্ষার্থীর আবাসিকতা সাময়িকভাবে বাতিল এবং হল সংসদ ভিপিকে শোকজ করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ১২১ নম্বর কক্ষে ‘নারী অবস্থান করছে সন্দেহে’ ভোর চারটার দিকে অনুসন্ধান চালায় হল সংসদের এজিএস ইসরাফীল হোসাইনসহ কয়েকজন। পরে তারা সেখানে কাউকে না পেয়ে ফেরত আসেন। বিষয়টি নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবার রহমানের কার্যালয়ে একটি সভা বসে। সভায় উপস্থিত হল সংসদের নেতাদের ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

পরে হলের এজিএসসহ কয়েকজনের অনুপস্থিত থাকায় সভাটি স্থগিত হয় এবং রাত ১১টায় আবার শুরু হয়। এ সময় হল প্রাধ্যক্ষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। টানা কয়েক ঘণ্টার আলোচনা শেষে হল সংসদের এজিএসসহ তিনজনের আবাসিকতা সাময়িকভাবে বাতিল করে হল প্রশাসন।

Continue Reading

Trending