Connect with us

ক্যাম্পাস

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ডাকসু নির্বাচন আজ

Published

on

অলটাইম নিউজ ডেস্ক

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দিনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে। দীর্ঘ ছয় বছরেরও বেশি সময়ের বিরতির পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। চলবে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ক্যাম্পাস নির্ধারিত আটটি ভোট কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে ভোটাররা তাদের ভোট প্রয়োগ করবেন। ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে গণনা শুরু করবে এবং নবাব নওয়াব আলী সিনেট অডিটোরিয়ামে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

এই নির্বাচন কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই নয়, দেশের জাতীয় রাজনীতির জন্যও দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ডাকসু থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলকেও প্রভাবিত করে।

১৮টি হলের প্রতি হল সংসদে ১৩টি করে মোট ২৩৪টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এক হাজার ১০৮ জন। নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ২০ হাজার ৮৭৩ জন এবং ছাত্রী ভোটার ১৮ হাজার ৯০২ জন। আটটি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে প্রত্যেক ভোটারকে ডাকসু ও হল সংসদের মোট ৪১টিতে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। প্রার্থীর নামের পাশের বর্গাকৃতির ঘরে ক্রস চিহ্ন আকার মাধ্যমে ভোট দিবেন ভোটাররা। আটটি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে চলবে ভোটগ্রহণ।

এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঢাবি প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি প্রবেশপথে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, মোবাইল পেট্রোল, ডগ স্কোয়াড, বিশেষায়িত টিম, বোম এক্সপোজাল ইউনিট, সোয়াত টিম, ডিবি (সাদা পোশাকে), সিসিটিভি মনিটরিং সেল, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ নিয়োজিত রয়েছে।

নির্বাচন ঘিরে বেশ চাপে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কোনো প্রকার অঘটন সামাল দিয়ে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা, ভোট গণনা স্বচ্ছ করা, ফলাফল ঘোষণার পর কোনো প্রকার অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা সৃষ্টি হলে তা সামাল য়ো ও সর্বোপরি বিশ্বব্যিালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান প্রশাসনের জন্য যেন অগ্নিপরীক্ষা। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘন, সাইবার বুলিংসহ নানান অভিযোগ সামাল দিয়ে এ পর্যন্ত আসাটা কমিশনের বড় সার্থকতা।

এ দিকে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে ছাত্রছাত্রীরে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এই নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘গুজব একটি সামাজিক ব্যাধি। কোনো ঘটনা ঘটেনি, কিন্তু চারদিকে গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

এলইডি স্ক্রিনে দেখা যাবে ভোট গণনা-ফলাফল

ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা করা হবে অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন (ওএমআর) মেশিনে। প্রত্যেক কেন্দ্রের বাইরে এলইডি স্ক্রিনে ফলাফল গণনা প্রদর্শিত হবে। প্রত্যেক কেন্দ্রের ফলাফল সেখানেই ঘোষণা করা হবে, পাশাপাশি স্ক্রিনেও দেখা যাবে। সবশেষে সিনেট ভবন মিলনায়তনে সব কেন্দ্রের মোট ফলাফল ঘোষিত হবে। তবে এর আগেই সব কেন্দ্রের ফলাফল যোগ করে যে কেউ মোট ফলাফল বের করতে পারবেন।

ভোটারদের সুবিধার্থে চলবে চক্রাকার শাটল

শিক্ষার্থীরা যেন আজ নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছতে পারেন, সেই লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে বিশেষ চক্রাকার শাটল সার্ভিস চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বব্যিালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভোটারদের সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আজ সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত শাটল সার্ভিস চলবে।

ডাকসু নিয়ে সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে : ঢাবি ভিসি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।

সোমবার বিকেলে ডাকসু নির্বাচন কমিশন অফিসের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ১১ মাসের দীর্ঘ প্রস্তুতি, হাজারো শিক্ষার্থীর আকাঙ্ক্ষা আর নানা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আমরা আজ চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি। ডাকসুকে ঘিরে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রক্টরিয়াল টিম, বিএনসিসি, ভলান্টিয়ার টিমসহ সবাই মাঠে রয়েছে। তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

প্রার্থীরে উদ্দেশ্য করে ভিসি বলেন, আপনারা একে-অপরের প্রতি সহনশীল হোন। হার-জিত যাই হোক, আমাদের মধ্যে এমন কিছু নেই যাতে বড় কোনো সঙ্ঘাত সৃষ্টি হয়। যি তবুও কেউ আইন ভঙ্গ করে তবে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাইবার বুলিংয়ের জবাব ব্যালটের মাধ্যমে দিতে হবে : আবিদুল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, যারা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমে মোকাবেলা করতে চায়, তারে ব্যালটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রতিহত করবে। গতকাল দুপুরে মধুর ক্যান্টিনের সামনে সাইবার অ্যাটাক নিয়ে এক জরুরি সংবা সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা ৫ আগস্টের পরে সুস্থ রাজনীতি চর্চা করতে গিয়ে অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছি। ২০১৬ সাল থেকে আমরা বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে এখানে এসেছি। দেশের স্বাধীনতা ও শিক্ষার্থীদের প্রশ্নে কখনো আপস করিনি, অন্যায় মেনে নেইনি। ৫ আগস্টের পর একই নোংরামির শিকার হতে হবে এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

আবিদ আরো বলেন, আমরা কখনো পেছন থেকে আঘাত করার চেষ্টা করিনি। যোগ্যতার বিরুদ্ধে যোগ্যতা, অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সুস্থ রাজনীতি করে এসেছি। এখন একদল রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে একটি গোষ্ঠী সাইবার অ্যাটাকের পথ বেছে নিয়েছে। মিথ্যার শক্তিতে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। সত্যের জয় সুনিশ্চিত। আগামীকাল ঝড়, বৃষ্টি বা প্রতিকূল পরিস্থিতি হোক না কেন আপনারা ভোটকেন্দ্র আসবেন।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সমীকরণ

এবারের নির্বাচনে মোট ২৮টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৭১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ভিপি পদে ৪৫, জিএস পদে ১৯ এবং এজিএস পদে ২৮ জন লড়ছেন। সবশেষ প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, ডাকসু নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৩৯ হাজার ৬৩৯ জন শিক্ষার্থী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের ডাকসু নির্বাচন শুধু ক্যাম্পাস রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি জাতীয় রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এবারের নির্বাচন ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আলোচিত প্রার্থীরা

ছাত্রদল সমর্থিত আবিদুল ইসলাম খান, ভিপি পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত আবু সাদিক কায়েম, স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসরে আবদুল কাদের এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের বিন ইয়ামিন মোল্লা আলোচনায় আছেন। জিএস পদে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত শেখ তানভীর বারী হামিম, শিবির সমর্থিত এস এম ফরহাদ, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের আবু বাকের মজুমদার ও সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদের ফাতেহা শারমিন এ্যানি।

ক্যাম্পাস

পরিবার থেকে দূরে গোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের রমজান

Published

on

By

শাকিল আহমেদ, গোবিপ্রবি প্রতিনিধি 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ হলো বন্ধুত্বের ও সোনালি স্মৃতির আধার, যা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষকে নস্টালজিক করে রাখে।” গত ২৬ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) ছুটি হলেও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ভিড় যেন কমছেই না। পরিবার থেকে দূরে শিক্ষার্থীদের রমজান কাটছে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে। ফ্রেন্ড সার্কেলদের সঙ্গে ইফতার মাহফিল এবং নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে তাদের রমজান মাস যেন এক আনন্দঘন পরিবেশে কাটছে।

সেহরিতে একে অপরকে দাওয়াত দিয়ে প্রভাতকেও করে তুলেছে আনন্দের শামিল। এ যেন পরিবারেই বসবাস করছেন তারা।

বিকেল হলে ক্যাম্পাসের সেন্ট্রাল ফিল্ড, প্রশাসনিক ভবনের সামনের মাঠ এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে তারা।

রমজান যতই এগোচ্ছে, ততই যেন তাদের ইফতার মাহফিল বাড়ছে। সেই সঙ্গে রমজানের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য তাড়াহুড়ারও যেন শেষ নেই। বিকেলে ইফতার মাহফিলে তারা বিভিন্ন ধরনের ইসলামী সঙ্গীত ও কোরআন তেলাওয়াতসহ নানা আয়োজন করে থাকে। শুধু মুসলিম শিক্ষার্থী নয়, ইফতার মাহফিলে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদেরও অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়।

রমজানে ক্যাম্পাসে থাকার অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাবিব বলেন, ‘ক্যাম্পাসে থাকার একটি উদ্দেশ্য হলো আমাদের ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ইফতার মাহফিল ছিল। সব মিলিয়ে আরও কিছু কাজ আছে, যেমন বন্ধের পর সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু হবে—সেজন্যও থেকে যাওয়া।’

“বন্ধুদের সাথে ইফতার-সেহরির আনন্দ”

বন্ধ ক্যাম্পাসে থাকার অনুভূতি প্রকাশ করেন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন,

‘ক্যাম্পাসে গত বছর থাকা হয়নি, কিন্তু এ বছর থাকার পর মনে হচ্ছে যত দিন যাচ্ছে ততই ভালো লাগছে। এখানে বন্ধুদের সঙ্গে এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ইফতারের আয়োজন হয়। আমরা বিকেলে সবাই একসঙ্গে ইফতার মাহফিলে যোগ দিই। এলাকায় যেভাবে আনন্দের সঙ্গে ইফতার ও সেহরি করি, এখানেও যেন সেই আনন্দই বহমান রয়েছে। যত দিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছে আরও কিছুদিন থেকে যাই। আমরা অনেকেই আছি, এজন্য দিনগুলো বেশ ভালোই কাটছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে বড় ভাই, ছোট ভাই এবং অন্যান্য সঙ্গী-সাথীদের সঙ্গে থাকতে থাকতে বাসার কথা যেন ভুলেই গেছি। সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসে রমজান মাস ভালোই কাটছে। এখনো বেশ কিছুদিন থাকব, হয়তো ঈদের দু-এক দিন আগেই বাসায় যাব।’

“বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার-সেহরিতে কম মনে পড়ে বাড়ির কথা”

ক্যাম্পাসে থাকার অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান হাওলাদার। তিনি বলেন,

‘আমাদের ছুটি যদিও অনেক আগেই হয়ে গেছে, তবুও আমরা এখানে আছি। অনেকে টিউশনের জন্য যেতে পারছি না। আবার বন্ধুদের সঙ্গে সেহরি ও ইফতার একসঙ্গে করতে পারায় খুব বেশি খারাপ লাগছে না এবং বাসার কথাও কম মনে পড়ছে। এখনো অনেকে থাকায় রমজানের পরিবেশ ভালোই লাগছে।’

“শূন্য ক্যাম্পাসে পূর্ণতার রমাদান”

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন ইসলামের অভিমতে, ‘শূন্য ক্যাম্পাসে পূর্ণতার রমাদান: এক টুকরো স্মৃতিকথা। বন্ধ ক্যাম্পাসে নিউমার্কেটের চেনা কোলাহল এখন নিস্তব্ধতার চাদরে ঢাকা। লাইব্রেরির টেবিলে জমেছে আলস্যের ধুলো। জনশূন্য এই করিডোরে ক্লাস-অ্যাসাইনমেন্টের দৌড়ঝাঁপ নেই ঠিকই, কিন্তু হলের প্রতিটি কোণে এক মায়াবী বসন্ত নেমেছে—পবিত্র রমজানের ছোঁয়ায়।

রাতের নিস্তব্ধতা, বসন্তের ফুলের সুগন্ধি মেশানো বাতাস সেহরির সময়টাকে করে তুলছে মায়াবী, স্মৃতিকাতর এবং অপার্থিব তৃপ্তিময়। ডাইনিংয়ের মামাদের হাঁকডাক, ছাতার দোকান কিংবা বালুর মাঠের মামাদের আমাদের জন্য অপেক্ষার প্রহর; এমনকি ক্যালিফোর্নিয়া এলাকায় হেঁটে বেড়িয়ে গল্পে মেতে বন্ধুদের সঙ্গে রাত জেগে সেহরির অপেক্ষা—এই স্মৃতিগুলোই ক্যাম্পাসের দিনগুলোকে রঙিন করে তোলে।

তাছাড়া ইফতারে বাড়ির ডাইনিংয়ের সেই চেনা পরিপাটি আয়োজন হয়তো নেই, তবে ক্যাম্পাসের নিস্তব্ধতায় বন্ধুদের সঙ্গে মাদুর পেতে অথবা নরম ঘাসের কোমল আদরে বসা—এ যেন এক পশলা মায়ার গল্প। ছোলা-মুড়ি মাখানো আর বরফ-ঠান্ডা শরবতের খোঁজে যখন নিউমার্কেট এলাকায় ছোটাছুটি; সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত তৃপ্তি।

সূর্যাস্তের ঠিক আগমুহূর্তে আজানের প্রতীক্ষায় যখন আমরা সেন্ট্রাল ফিল্ডে গোল হয়ে বসি, বাড়ির শূন্যতাটুকু তখন বন্ধুদের হাসিমুখ আর এই ‘ভাগ করে খাওয়া’র আনন্দেই পূর্ণতা পায়। বিদায়লগ্নে দাঁড়িয়ে এই শূন্য ক্যাম্পাসটাই এখন আমার সবচেয়ে পূর্ণতার গল্প। হ্যাঁ, এটাই ক্যাম্পাসে শেষ রমাদান।

“এমন সুখের দিন তুমি আর নাও পেতে পারো

প্রতিটা ক্ষণ আঁকড়ে ধরো, গাফলতি ঘুম ছাড়ো

খুশবু যে তার ছড়িয়ে যাবে ফেরদাউসের দ্বারে

সুশোভিত হয়ে দেখো দাঁড়ায়ে রাইয়ান।”

এছাড়াও টানা ৪৫ দিন ছুটি দেওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা বাসায় যেতে বিলম্ব করছে। সেই সঙ্গে তারা রমজানের আনন্দ বন্ধু ও সহপাঠীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করার জন্য অনেকে ক্যাম্পাসেই রয়ে গেছে। মাঝে মাঝে রমজানের গান তাদের ইফতারি ও বিভিন্ন আড্ডাকে আরও বেশি আনন্দমুখর করে তুলছে।

Continue Reading

top3

মধ্যরাতে ঢাবি ছাত্রলীগ কর্মী আটক , মারধরের পর থানায় সোপর্দ

Published

on

By

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পাবেল নামের এক শিক্ষার্থীকে আটক করে মারধরের পর শাহবাগ থানায় সোপর্দ করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।

পাবেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় পাবেল ক্যাম্পাসের কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থীকে নিয়ে বুয়েট ক্যান্টিনে খাবার খাওয়াচ্ছিলেন এবং তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লাহ, হাছিবুর রহমানসহ সংগঠনের অন্য নেতাকর্মীরা তাকে চিনতে পেরে আটক করেন। পরে তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

শাহবাগ থানা সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষার্থীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আহত হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাকে আবার থানায় আনা হবে। তবে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আটক করা হয়েছে কি না বা তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বর্তমানে থানায় না থাকায় তার সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত আছেন। তবে এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটি পুলিশ দেখবে। তিনি বলেন, যদি ওই শিক্ষার্থী কোনো মামলার আসামি হন বা অপরাধে জড়িত থাকেন, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে এখনো থানার সঙ্গে তার কোনো আলোচনা হয়নি।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

গুচ্ছের ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ

Published

on

By

গুচ্ছভুক্ত (জিএসটি) ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) স্বতন্ত্র ডি-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচিও প্রকাশিত হয়েছে।

রোববার (৮ মার্চ) জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ভর্তি পরীক্ষার নেতৃত্ব দেওয়া ইবির উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সি ইউনিট (বাণিজ্য) এর ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২৭ মার্চ শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। বি ইউনিট (মানবিক) এর পরীক্ষা ৩ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং এ ইউনিট (বিজ্ঞান) এর পরীক্ষা ১০ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে আর্কিটেকচার ব্যাবহারিক (ড্রয়িং) পরীক্ষা বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র ডি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১২ এপ্রিল রবিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, গুচ্ছভুক্ত ২০ টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়।

Continue Reading

Trending