Connect with us

top1

দুই-একদিনেই সংসদে উঠছে মাদক প্রতিরোধ আইন সংশোধনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published

on

আগামী দুই একদিনের মধ্যে মাদক প্রতিরোধ আইন সংশোধনী সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার (২৬ জুন) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ এর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমলী আদালতের পাশাপাশি প্রয়োজন মতো মাদক মামলার বিষয়ে ট্রাইবুনাল গঠন করা হবে। আইনের পাশাপাশি সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি করতে হবে না। তাই মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই সহজ হবে।

মাদকের কারণে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে ৮২ লাখ মানুষ মাদক গ্রহণ করে, যা মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এখানে জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত ৯টি মানি লন্ডারিংয়ের মামলা দায়ের করেছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

বিশ্ববাজারে আবারো বেড়েছে তেলের দাম

Published

on

By

ওমান উপকূলের কাছে একটি পণ্যবাহী জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলার আঘাতের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে।

এই ঘটনার পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহন নিরাপত্তা এবং এই অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে বিশ্ববাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৫২ ডলার বা ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৭৫ দশমিক ২৬ ডলারে স্থির হয়।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৫৮ ডলার বা ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭১ দশমিক ৯২ ডলারে উঠেছে।

এর আগের দিন অবশ্য বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তখন উভয় সূচকই গত ২৭ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কারণে আগের দিন দাম কমেছিল।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ (২০ শতাংশ) এই কৌশলগত জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হতো। নতুন করে জাহাজে এই হামলার ঘটনা জ্বালানি তেলের বাজারকে আবারও ঊর্ধ্বমুখী করে তুলেছে।

Continue Reading

top1

‘আমি এখন কার জন্য বাঁচব?’, মা ও তিন বোনের মরদেহের সামনে দাঁড়িয়ে সিফাতের আহাজারি

Published

on

By

এক নিমিষেই চিরতরে বদলে গেল আঠারো বছর বয়সী তরুণ জুনায়েদ ইসলাম সিফাতের চেনা পৃথিবী। আর দশটা সাধারণ দিনের মতোই সকালে জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাড়ি ফিরে তাকে মুখোমুখি হতে হলো এক অবর্ণনীয় বাস্তবতার। নিজের চিরচেনা ঘরে ফিরে তাকে দেখতে হলো জন্মদাত্রী মা আর আদরের তিন বোনের রক্তাক্ত, নিথর দেহ। যে ঘরটি প্রতিদিন মুখরিত থাকত মায়ের স্নেহময় ডাক, বোনদের খুনসুটি আর সুন্দর ভবিষ্যতের সম্মিলিত স্বপ্নে, আজ সেখানে কেবলই বিষাদের স্তব্ধতা আর বাতাসের বুকে ভেসে বেড়ানো কান্নার হাহাকার।

এই হতভাগ্য পরিবারের বিপর্যয়ের শুরু অবশ্য আরও আগে। ২০১৯ সালের এক বৃষ্টিভেজা দিনে আকস্মিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান সিফাতের বাবা কামাল হোসেন। ফেরি করে হাঁড়ি-পাতিল ও সিলভারের সামগ্রী বিক্রি করে তিনি কোনোমতে সংসারের চাকা সচল রাখতেন। ভরসা হারানো সেই কঠিন সময়ে পুরো পরিবারটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও হাল ছাড়েননি মা শাহিনুর বেগম। একমাত্র ছেলে আর তিন কন্যাসন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করার এক বুক স্বপ্ন নিয়ে তিনি প্রতিদিন জীবনসংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। চরম অভাব-অনটনের মাঝেও সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হতে দেননি। মায়ের এই লড়াইয়ে শামিল হয়ে বড় দুই সন্তানও ছোটখাটো কাজের মাধ্যমে সংসারের হাল ধরতে আপ্রাণ চেষ্টা করছিল।

ঘাতকের আঘাতে ফুসফুস বেরিয়ে যায় এক মেয়ের, প্রতিবেশীর মুখে নৃশংসতার বর্ণনাঘাতকের আঘাতে ফুসফুস বেরিয়ে যায় এক মেয়ের, প্রতিবেশীর মুখে নৃশংসতার বর্ণনা
সব দুঃখ-কষ্ট পেছনে ফেলে পরিবারটি যখন নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন বুনছিল, ঠিক তখনই বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে এক পৈশাচিক হামলায় তাদের সব স্বপ্ন রক্তে বিলীন হয়ে যায়। ঘাতকের ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান সিফাতের মা শাহিনুর বেগম, বড় বোন সায়মা আক্তার, মেজো বোন ইকরা আক্তার এবং ছোট বোন শিফা আক্তার। পরবর্তীতে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত যুবক অন্তর মজুমদার স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে নিহত হয়।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সিফাত এখন আক্ষরিক অর্থেই পুরো পৃথিবীতে একা। বাবা, মা কিংবা তিন বোন—আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো আপনজন আর অবশিষ্ট নেই তার। চোখের সামনে নিমেষেই পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার এই ধাক্কায় সম্পূর্ণ নির্বাক ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এই তরুণ।

বুকের ভেতর জমে থাকা পাথর চাপা কষ্ট নিয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে সিফাত শুধু একটি প্রশ্নই বারবার আওড়াচ্ছে, তার মা আর বোনদের আসলে কী অপরাধ ছিল? কোন অপরাধের শাস্তি হিসেবে তাদেরকে এভাবে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দেওয়া হলো? এখন আর কার মুখের দিকে তাকিয়ে, কার জন্য সে বেঁচে থাকবে? আদি বাড়ি কুমিল্লায় হলেও সেখানেও এখন তাদের তেমন কোনো আপনজন নেই বলে জানা গেছে।

সিফাতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ওমর ফারুক রনি তাদের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে জানান, সিফাতের ভাই-বোনেরা প্রত্যেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও পড়াশোনার প্রতি দারুণ অনুরাগী ছিল। তাদের বাবা হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে সংসার চালাতেন, যিনি পরবর্তীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। বন্ধুকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে রনি বলেন, এই একটি নির্মম ঘটনায় পরিবারটি এখন পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে গেল।

প্রত্যেকের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত, ফুসফুস বের হয়ে ছিল মেজো মেয়েরপ্রত্যেকের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত, ফুসফুস বের হয়ে ছিল মেজো মেয়ের
রায়পুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ জানান, সিফাত তাদের একটি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে প্রায় সাত-আট মাস আগে মাত্র আট হাজার টাকা বেতনে চাকরিতে যোগ দিয়েছিল। ঘটনার দিন সকালেও সে যথারীতি বাসা থেকে কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়। সবার সম্মিলিত সহযোগিতা ও ভালোবাসায় পড়াশোনাসহ পরিবারটি বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিল। এমন একটি সম্ভাবনাময় পরিবারের সদস্যদের এই মর্মান্তিক ও নৃশংস মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এদিকে দুপুরের দিকে লক্ষ্মীপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক হাসপাতাল এবং ঘটনাস্থল সশরীরে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি ওই বাড়ির মালিক, অন্যান্য ভাড়াটিয়া এবং প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় অন্যান্য সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে শাহীনুর বেগম তার সন্তানদের নিয়ে রায়পুরের দেনায়েতপুর এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে আমির হোসেন মাস্টারের ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। সেখানে থাকাকালীন সকালেই এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপের পর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক জানান, নিহতদের ঘর ও ঘাতকের পূর্ব পরিচয় সূত্র ধরে তদন্তে জানা গেছে, ঘাতক অন্তর তার স্ত্রীকে নিয়ে প্রায় দেড় বছর ওই একই ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করত। তবে গত সাত-আট মাস আগে সে ওই বাসা ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যায়। যেহেতু আগে থেকেই তাদের মধ্যে একটি জানাশোনা বা পূর্ব পরিচিতি ছিল, সম্ভবত সেই সুবাদেই অন্তর সকালে ওই বাসায় অনায়াসে প্রবেশ করতে পেরেছিল এবং পরবর্তীতে এই বর্বর হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

পুলিশ সুপার আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় আফরোজা বেগম রানী নামের এক প্রতিবেশী অন্তরকে ওই বাসায় সন্দেহজনক অবস্থায় দেখে সেখানে আসার কারণ জানতে চেয়েছিলেন। তখন অন্তর নিজেকে পানির পাইপ মেরামতের মিস্ত্রি বলে দাবি করে। তবে রানী তার সেই কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে বিচক্ষণতার সঙ্গে বাইরে থেকে ঘরের কলাপসিবল গেটটি আটকে দেন এবং দ্রুত প্রতিবেশীদের খবর দেন। প্রতিবেশী রানীর এই তাৎক্ষণিক ও সাহসী পদক্ষেপের কারণেই মূলত এই লোমহর্ষক খুনের ঘটনার রহস্য এবং ঘাতকের পরিচয় এত দ্রুত উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে

Continue Reading

top1

তারেক রহমান ও শি জিনপিং বৈঠক আজ

Published

on

By

বিনিয়োগ সহযোগিতাসহ ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ ও চীন। গতকাল বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের উপস্থিতিতে এসব স্মারক সই হয়। এর আগে দুই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের রূপরেখা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
গতকাল দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। শুভেচ্ছা বিনিময় এবং দুই দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিচয় পর্বের পরে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। অভিবাদন মঞ্চে তারেক রহমান ও লি কিয়াংকে সশস্ত্র সালাম দেয় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকশ দল। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানিয়ে তোপধ্বনি দেওয়া হয়। দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন। পরে দুই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবর অনুযায়ী, বৈঠকে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বলেন, কৌশলগত পারস্পরিক আস্থা সুদৃঢ় করতে, বাস্তবমুখী সহযোগিতা সম্প্রসারণ করতে এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য আরো বেশি সুফল বয়ে আনতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চীন প্রস্তুত রয়েছে। চীন ও বাংলাদেশ ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন পথ অনুসরণের ক্ষেত্রে চীন দৃঢ়ভাবে বাংলাদেশকে সমর্থন করে এবং নতুন সরকারের প্রতি বেইজিংয়ের সমর্থন রয়েছে। তিনি আরো বলেন, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে উচ্চমানের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ সহযোগিতা এগিয়ে নিতে, বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি উন্নত মানের পণ্য আমদানি করতে, সক্ষম চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে সহায়তা করতে এবং নতুন জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্য-যোগাযোগের মতো উদীয়মান শিল্পখাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করতে আগ্রহী।

সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার। বাংলাদেশ সরকার ‘এক-চীন’ নীতিতে দৃঢ়ভাবে অবিচল এবং যে কোনো ধরনের ‘তাইওয়ান স্বাধীনতা’র বিরোধী। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে চীনের সহায়তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে এবং উভয় দেশের উন্নয়ন কৌশলের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে আগ্রহী। বৈঠকের পর, তারেক রহমান ও তার প্রতিনিধিদল গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত এক ভোজসভায় যোগ দেন।

শি জিনপিং-তারেক রহমান বৈঠক আজ :প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরের শেষদিন আজ শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব পিপল’-এ বৈঠক হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, এ বৈঠকে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর আজ গ্রেট হলে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সাক্ষাত্ এবং চীনের জাদুঘর পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করবেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা।

১৩ সমঝোতা স্মারক সই :বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল বিকালে বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এই সমঝোতা স্মারকগুলো সই হয়। সমঝোতা স্মারকে সই করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এক সাংবাদ সম্মেলনে জানান, সমঝোতা স্মারকগুলো মূলত বিনিয়োগ সহযোগিতা, সবুজ উন্নয়ন (গ্রিন ডেভেলপমেন্ট) ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সই করা হয়েছে। এছাড়া, বৈঠকে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা (জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান) নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, আমাদের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অর্থাত্ যার অধীনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়গুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়ে এমওইউ হয়েছে। একই সঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়নে একটি পৃথক কো-অপারেশন প্ল্যান সই হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল রপ্তানি বিষয়েও একটা এমওইউ হয়েছে।

তিনি বলেন, টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনে সহযোগিতায় দুটো পৃথক এমওইউ হয়েছে। গণমাধ্যম খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চীন সরকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি তাদের সম্পূূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। ট্রেড, এডুকেশন, কালচার, বাণিজ্যসহ সকল বিষয়ে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চায়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও কথা বলেছেন। এ বিষয়ে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছে

বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনা বিনিয়োগকারীদের পরবর্তী এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময় রচনায় অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে গতকাল বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে ব্যবসায়ী নেতা, শিল্পপতি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আপনাদের এশিয়ার পরবর্তী অর্থনৈতিক বিস্ময়ের অংশীদার হওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। ইতিমধ্যে বহু চীনা বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশকে নতুন দৃষ্টিতে দেখার জন্য আরো বেশি চীনা কোম্পানির দেশটিতে আসা উচিত। তিনি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, তাদের বিনিয়োগ যথাযথ মূল্যায়ন পাবে, উদ্বেগ ও প্রত্যাশার বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে এবং আরো গতিশীল ও সংবেদনশীল বিনিয়োগ পরিবেশের মাধ্যমে তাদের প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এবং আমাদের অন্যতম দীর্ঘদিনের ও বিশ্বস্ত বন্ধু চীনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, আমরা চীনা কোম্পানিগুলোকে তাদের মূল্যশৃঙ্খল বাংলাদেশে সম্প্রসারণের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, তার সরকার আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে ব্যাপক সংস্কার আনতে একটি ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা সরাসরি আমলাতান্ত্রিক জড়তাকে মোকাবিলা করছি। স্বচ্ছতা, পূর্বাভাসযোগ্যতা এবং গতি বাড়ানোর জন্য আমরা দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতা উন্নত করছি, একাধিক নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া হ্রাস এবং সরকারি পরিষেবাগুলোকে ডিজিটাইজ করছি। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী বৈষম্যহীন সুবিধা, মূলধন ও লভ্যাংশ দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ এবং শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা পাবেন। তারেক রহমান বলেন, আমরা চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলছি। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, খুব শিগিগরই চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় চালু করা হবে। তিনি বলেন, নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ১৫ দিনেরও কম সময়ে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।

তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রী লি গোওইং। বৈঠকে তিস্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। গতকাল দুপুরে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পানিসম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে দেশে চলমান নদী খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন এবং বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চীন সরকারের সহযোগিতা চান।

চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রী সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি ২০০৫ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এবং গত বছর চীনের পানি বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাস্তবভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে লিউ হাইশিং এর সাক্ষাত্ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠকে লিউ হাইশিং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নয় বার চীন সফরের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার চীন সফরের ছবি তার সম্মানে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

লিউ হাইশিং বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) কথা উল্লেখ করে দুই দলের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরো জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের দৃঢ় সমর্থক। পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপরও তিনি জোর দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

সূত্র: বাসস ও সিনহুয়া।

Continue Reading

Trending