Connect with us

top1

ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ড, পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের গন্ধ!

Published

on

গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া একের পর এক অগ্নিকাণ্ড সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর মিরপুরে কেমিক্যাল গোডাউনের আগুনে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু, চট্টগ্রামের ইপিজেডে পোশাক কারখানায় ব্যাপক ক্ষতি এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও বড় প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষ থেকে উদ্যোক্তা, রাজনীতিবিদ অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এগুলো নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র?

এছাড়া ছোট বড় প্রতি ঘণ্টায় অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ছে। এমন ঘটনায় হিমশিম খাচ্ছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কেন থামানো যাচ্ছে আগুন- প্রশ্নজনমনে!

‘আর্থিক ধ্বস’, ‘ষড়যন্ত্রের’ গন্ধ

পরপর ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডগুলো কেবল ধ্বংসই নয়, দেশের ব্যবসা খাত ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মিরপুরের কেমিক্যাল গোডাউন, চট্টগ্রামের পোশাক কারখানা ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-প্রত্যেকটিরই ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি, অভ্যন্তরীণ ত্রুটি এবং সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের দিকগুলো সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে, শুধু দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনাকেও অবহেলা করা যায় না। বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের কারণে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এটি নিছক দুর্ঘটনা নাও হতে পারে। কারণ, কার্গো সেকশনটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এখানে কাস্টমসের জব্দ পণ্য, আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের দলিলপত্র, ওষুধশিল্প ও কৃষিপণ্যের কাঁচামাল সংরক্ষিত থাকে।

ইন্টারন্যাশনাল এয়ার এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএইএবি) সভাপতি কবির আহমেদ জানিয়েছেন, ‘বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এয়ার এক্সপ্রেস ইউনিট পুরোপুরি পুড়ে গেছে।’

দেশের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ’স্কাইবাই বিডি’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাসেল বিন আহাদ বলেন, বিমানবন্দর কার্গো শেডে আগুনে স্কাইবাই বিডির দুই কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এটি শুধু প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, হাজার হাজার গ্রাহকের জন্যও ক্ষতি।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘কার্গো ভিলেজের ভেতরের লোক ও বাইরের চক্র মেলবন্ধনে এই ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার। সেখানে অনেক পণ্য চুরি হয় এবং ধামাচাপা দেয়ার জন্যই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে কিনা, সেটি তদন্ত করা প্রয়োজন। এত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কাজ করা সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যানসহ প্রত্যেককেই দায়িত্ব নিতে হবে। পানির পাইপ নষ্ট, ফায়ার ফাইটিং কার্যকর নয়- এভাবে কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে?’

ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর টিআইএম নুরুল কবির বলেন, ‘শাহজালাল বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আমদানি-রফতানিতে বড় প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিকভাবে ফায়ার সেফটির অব্যবস্থাপনা দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’

শঙ্কা ও আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা

তথ্য বলছে, গত কয়েকদিনে স্থানীয় ও রফতানিমুখী একাধিক পোশাক কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনা উদ্যোক্তাদের মধ্যে নিরাপত্তা বিষয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতি বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। কারণ কার্গো ভিলেজের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে যে এটি কতটা অনিরাপদ।

এই ঘটনা কেবল একটি দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত শুরু করা উচিত।

রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ

বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। শাহজালালে আগুন লাগার পর ফেসবুকে তিনি অভিযোগ করেন, ‘এগুলো স্বৈরাচারের দোসরদের দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তের অংশ। তথাকথিত তদন্ত কমিটির নাটক বাদ দিয়ে এর পেছনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা হোক।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মিরপুর ও চট্টগ্রামের অগ্নিকাণ্ডের পর বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ড কী আকস্মিক দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা, এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। বিমানবন্দরের মতো কৌশলগত স্থাপনায় এই ঘটনা প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও নিরাপত্তা ঘাটতির প্রমাণ। যদি কোনো গাফিলতি বা নাশকতার উপাদান থাকে, তা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করতে হবে। দোষীদের আইনের আওতায় আনা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া সময়ের দাবি। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’

অগ্নিকাণ্ডগুলো পরিকল্পিত বলে বিএনপি নেতা রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘ভারত চায় না বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় থাকুক। তারা সবসময় শেখ হাসিনার মতো অবৈধ সরকারকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে কোনো বড় রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি, অথচ ভারতের কূটনীতিকেরা এরশাদকে সেই নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি করাতে এসেছিলেন। এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে সরাসরি হস্তক্ষেপ।’

এদিকে, এক বিবৃতিতে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জানিয়েছে, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি সংঘটিত একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার তা গভীরভাবে অবগত। আমরা সব নাগরিককে আশ্বস্ত করতে চাই-নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রতিটি ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে।’

তদন্ত কমিটি

অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। আহ্বায়ক হিসেবে নিযুক্ত আছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারী। কমিটির কাজ হলো অগ্নিকাণ্ডে সৃষ্ট সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত নিরূপণ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা।

এ নিয়ে দুর্যোগ ও ত্রাণ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম রবিবার সচিবালয়ে এক জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, “ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ড তদন্তে ৭ সদস্যের কোর কমিটি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সদস্য আরও বাড়তে পারে।”

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

দিল্লিজুড়ে ধরপাকড়, দীপকে, নেহা, মমতা ও কেজরিওয়ালসহ আটক বহু নেতা

Published

on

By

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে রাজনীতিক, ছাত্রনেতা, অধিকারকর্মী ও অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতাসহ বহু মানুষকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, ছাত্রনেতা নেহা বোরা, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। সাবেক ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকেও আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি রয়েছে আন্দোলনকারীদের। তাদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ সংশোধন করা হচ্ছে।

দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের যাতায়াত ঠেকাতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে অনেককে আটক করে বাস ও ভ্যানে করে অস্থায়ী আটককেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড বসানো, যানবাহনে তল্লাশি এবং মেট্রো চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

তবে আটক ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভিন্নতা রয়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস শনিবার বিকেল পর্যন্ত দিল্লিতে প্রায় দুই হাজার মানুষকে আটকের কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, আগের দিন ককরোচ জনতা পার্টির এক মুখপাত্র দাবি করেছিলেন, দেশজুড়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। 

Continue Reading

top1

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, সড়ক অবরোধ পরীক্ষার্থীদের

Published

on

By

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে স্থগিত হওয়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পরীক্ষার্থীরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগে এ সিদ্ধান্ত জানানো হলে ক্ষোভে সড়কে নামেন চাকরিপ্রার্থীরা। এতে কয়েকটি এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

সকাল ১১টায় অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসায় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে।

এরপর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সাতমসজিদ রোড, বাংলা কলেজ ও খিলগাঁওসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু করেন পরীক্ষার্থীরা। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার ব্যাখ্যা ও দায়ীদের জবাবদিহি দাবি করেন।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করে শেরেবাংলা নগর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. লোকমান হোসেন বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনকারীরা আড়ং সিগনালে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন।

তিনি জানান, আসাদগেট থেকে ধানমন্ডিগামী সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ধানমন্ডি থেকে আসাদগেটমুখী সড়কে অবস্থান নিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভের সময় চাকরিপ্রার্থীদের ‘প্রশ্ন ফাঁস হলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

May be an image of one or more people, crowd and text

কেন্দ্রে পৌঁছেও পরীক্ষা দিতে পারেননি প্রার্থীরা
পরীক্ষায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসেছিলেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী। নির্ধারিত কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিতের খবর পেয়ে তারা বিপাকে পড়েন। অনেকের অভিযোগ, আগে থেকে কোনো ঘোষণা না দিয়েই পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

রাজধানীর মাদারটেকের এ আজিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা ঈমান জানান, তারা কেন্দ্রে প্রবেশ করে নির্ধারিত আসনে বসার পর পরিদর্শক এসে জানান, পরীক্ষা হবে না। কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করেছে।

কেন পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না, তা জানতে চাইলে ঈমান মোল্লা বলেন, কেন্দ্র থেকে কোনো কারণ জানানো হয়নি। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে তারা শুনেছেন। তিনি ফরিদপুর থেকে পরীক্ষা দিতে ঢাকায় এসেছিলেন।

একই কেন্দ্রের আরেক পরীক্ষার্থী মো. তামিম জানান, তাদের কেন্দ্রেও একইভাবে পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানানো হয়।

পরীক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ৩০০টি পদের কথা উল্লেখ ছিল। এসব পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে লক্ষাধিক প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন তারা।

জানা গেছে, রাজধানীর কয়েকটি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বিতরণের পর পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ দিকে মানিক মিয়া এভিনিউতে রাস্তা অবরোধকারীদের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়েছে।

দাবিগুলো হলো:

১. প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

২. দূর থেকে পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

৩. আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নিতে হবে

দাবি বাস্তবায়নের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, আমরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা কিছু দাবি জানিয়েছে। আন্দোলনকারীদের বাইরে কেউ যেনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয় খেয়াল রাখা হচ্ছে।

Continue Reading

top1

দিল্লিতে বিক্ষোভের আগেই আটক ককরোচদের শীর্ষ নেতারা

Published

on

By

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে ধরপাকড় শুরু করেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির পুলিশ।

ইতোমধ্যে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, ইউটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠিসহ আরও কয়েক নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। এ ছাড়া বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা প্রায় হাজার মানুষকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

এক প্রতিবেদনে রয়টার্স বলছে শনিবার সকালে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। এ ছাড়া দলের দুই সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা এবং আইন সহায়তা বিভাগের প্রধান রত্না সিংকেও আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অপরদিকে সিজেপির সেই কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়া ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে শনিবার ভোরে রাজধানী সংলগ্ন শহর গুরুগ্রাম থেকে আটক করেছে পুলিশ।

একইভাবে বিক্ষোভে যোগ দিতে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রায় ১ হাজার জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইয়ের বরাতে জানা গেছে, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ঠেকানোর কথা বলে এই পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ।

ভারত, দিল্লি, বিক্ষোভ, ককরোচ জনতা পর্টি, সিজেপিমুম্বাই থেকে শনিবার সকালে দিল্লিতে পৌঁছান ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরই পুলিশ তাকে আটক করে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আটকের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

আটকের আগে দীপকে জানিয়েছিলেন, কারাগারে যেতে হলেও কিংবা জাতীয় নিরাপত্তা আইনে অভিযুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তাদের আন্দোলন থামবে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তা

এদিকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান জন্তর মন্তরসহ দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগে বিধিনিষেধ, একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং ট্রেন চলাচলে বিঘ্নের খবরও পাওয়া গেছে। ফলে বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ

ককরোচ জনতা পার্টির এবারের আন্দোলনের মূল দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। সংগঠনটির অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষে প্রভাবিত করা হচ্ছে। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি- দুই পক্ষই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটি বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সরকারের জবাবদিহির মতো ইস্যুতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এবার নির্বাচনি স্বচ্ছতার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে তারা।

এদিকে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন ককরোচ জনতা পার্টি ও বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনকে ‘নৈরাজ্যবাদী’ কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছেন, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে।

বিক্ষোভের আগেই আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের আটক এবং শত শত মানুষকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

Continue Reading

Trending