Connect with us

top3

নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য: ছাত্রশক্তি নেতার শাস্তির দাবিতে শাবিপ্রবিতে মানববন্ধন

Published

on

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে জাতীয় ছাত্রশক্তির এক নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) একদল শিক্ষার্থী। এ সময় বক্তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সাজিদ আহমেদ মোল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তিনি শাখা ছাত্রশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং সাম্প্রতিক সময়ে নারীকে অবমাননা, ভিকটিম ব্লেমিং ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের মতো একাধিক ঘটনার ধারাবাহিকতার অংশ। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় নারীবিদ্বেষী মনোভাব আরও উৎসাহিত হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন শাবিপ্রবি শাখার সংগঠক নাজনীন লিজা বলেন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে অভিযুক্ত ছাত্রশক্তি নেতার মন্তব্য অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও নারীর প্রতি অবমাননাকর। এছাড়া একটি শিশুকে নিয়ে তার এরকম মন্তব্য যে কি না অপ্রাপ্ত-বয়স্ক মেয়ে । যেটাকে বলা হয় পেডোফিল, অর্থাৎ শিশুকামিতার মতো জঘন্য একটা কাজের সাথে এই লোকটা জড়িত এবং আপনারা খেয়াল করে দেখবেন পরবর্তীতে তার কোনো অনুতাপ নেই।

এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, এর আগেও ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনায়ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের ভিকটিম ব্লেমিং, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ এবং নারীদের হেয় করার অভিযোগ উঠেছে।

এসময় তিনি বলেন, “শুধু পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া কোনো শাস্তি হতে পারে না। আমি একটা সংগঠন করি। আমি জানি অব্যাহতি দেওয়া মানে আমি তিন মাস পরে আপনাকে কো-অপ্ট করতে পারি। ছয় মাস পরে আপনাকে আবারও সংগঠনে নিয়ে আবারও পদধারী করতে পারি। আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই, এর দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।”

নাজনীন লিজা আরও বলেন, “নারীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, স্লাট শেমিং এবং অভিযোগকারীর পরিচয় প্রকাশের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ আরও সংকুচিত হবে।”

মানববন্ধনে শাবিপ্রবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান বলেন, এই ২৬ সালে এসেও কিছু নরপিশাচ বিকৃত মন মানসিকতার মানুষের জন্য আজকে আমাদের মা বোনরা নিরাপদ নয়। “নারীদের ভোগের বস্তু হিসেবে দেখার মানসিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযুক্তের বক্তব্য প্রমাণ করে তার বিকৃত মানসিকতা রয়েছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।”

তিনি আরও বলেন, “আজ যে ঘটনা অন্য কারও সঙ্গে ঘটেছে, আগামীকাল তা আমাদের পরিবারের কারও সঙ্গেও ঘটতে পারে। তাই এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।”

মানববন্ধন থেকে বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ-পুসাব’ নামে একটি ফেসবুক পেজের পোস্টে শাবিপ্রবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সাজিদ আহমেদ মোল্লার মেসেঞ্জারের কথোপকথনের কিছু অংশ ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারের নির্দেশক্রমে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

ইবি সিআরসি’র নেতৃত্বে তানভীর-মাহবুব

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কাম ফর রোড চাইল্ড’ (সিআরসি) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আল অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুব আলম দায়িত্ব পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রাসেল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাকিব মুন্সী স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ বিষয়ে জানা যায়। আগামী ১ বছরের জন্য এই কমিটিতে অনুমোদন দেওয়া হয়।

কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. রেজাউল করিম, আল-গালিব ও রাদিফা মুমতাহিনা। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন আখি আলমগীর ও রুবাইয়া হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইমা খাতুন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইদী হোসেন, কোষাধ্যক্ষ আবুল হাসান মো. অলি উল্লাহ, উপ-কোষাধ্যক্ষ মারুফ হাসান, দপ্তর সম্পাদক মো. তানজিদ, উপ-দপ্তর সম্পাদক শাহেদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক নাদির আহমেদ, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রেদোয়ানুল হাসান রায়হান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক সিফাত মিয়া, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক ফাহমিদা আজিম রিশা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী ও ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. সবুজ হাসান।

এছাড়া সংগঠনের স্কুল পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত পৃথক কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন স্কুল পরিচালক সাইফুদ্দীন সিদ্দীক, উপ-স্কুল পরিচালক খালেদ সাইফুল্লাহ, স্কুল ও শিক্ষা বৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. সিয়াম এবং শিক্ষা ও পাঠ্যক্রম বিষয়ক সম্পাদক রিফাত জাহান মিষ্টি।

দায়িত্ব পেয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বলেন, “নতুন কমিটি আগামী এক বছর পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সকলের একতাবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা শুধু পথশিশু নয়, সমাজের সকল অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।”

শাখা সিআরসির নবনিযুক্ত সভাপতি তানভীর আহমেদ বলেন, “সিআরসি কেবল একটি সংগঠন নয়— এটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার, শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি মানবিক উদ্যোগ। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও সম্মিলিত দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, সুন্দর ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। আগামী দিনে সিআরসি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচালনার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকতে বদ্ধপরিকর।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের স্বপ্ন এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে কোনো শিশু শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না এবং ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও অবহেলার মধ্যে বেড়ে উঠতে হবে না। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সিআরসির মানবিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।”

প্রসঙ্গত, ‘কাম ফর রোড চাইল্ড’ (সিআরসি) একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এটি মূলত পথশিশুদের শিক্ষা, খাবার ও মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য কাজ করে। সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত এবং মানবকল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। সিআরসি পথশিশুদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য সহায়তা ও সচেতনতা তৈরি করে থাকে।

Continue Reading

top3

আইন বিভাগের ইমনের নেতৃত্বে  ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা।

Published

on

By

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি :
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ডিবেটিং ক্লাবের নতুন কমিটি নিয়োগকে কেন্দ্র করে আইন বিভাগ ও ইতিহাস বিভাগের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।

আজ ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার)  সন্ধ্যা 8:30 টায় দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিতুমীর হলের সামনে থেকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউমার্কেটে আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।

জানা যায়, ডিবেটিং ক্লাবের নতুন কমিটির পদ নিয়ে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে আইন বিভাগের ইমন ও ইতিহাস বিভাগের সবুজের (২০২২-২৩)  মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে মেসেঞ্জার ইনবক্সে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন  ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সবুজকে হুমকি দিলে উভয়ের মধ্যে ক্ষোভের উদ্রেক হয়।  ফলে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমনের নেতৃত্বে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরদেরকে লাঠিসোঁটা নিয়ে ৪০-৪৫ জন খুঁজে বেড়ায়। এক পর্যায়ে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরাও চড়াও হলে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।

অভিযুক্ত আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন বলেন, “এইরকম কোনো কিছু ঘটেনি বরং সবুজ উনি আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীর সম্মানিত মাকে তুলে গালমন্দ করে, যাঁর রেকর্ড রয়েছে। স্বয়ং মাননীয় সহকারী প্রক্টর আরিফ স্যার ও মাননীয় প্রক্টর আহসান সৌরভ স্যার ই সঙ্গে ছিলেন, তাদের থেকেও জানতে পারেন।”

এবিষয়ে প্রক্টর আহসান সৌরভ বলেন, ‘ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখতেছি। সলুশনের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর উভয় বিভাগের শিক্ষকদের সাথে কথা বলেছি তারা বলছে যে এটা যত দ্রুত সম্ভব একটা সলুশন হবে। আর আমরা পরিবেশ শান্ত রাখার জন্য চেষ্টা করছি। এখন আর সমস্যা নাই এখন পুরোপুরি শান্ত আছে। ‘

Continue Reading

top3

ইবিতে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্পেইন ও রক্তদান কর্মসূচি 

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্পেইন ও রক্তদান’ কর্মসূচির আয়োজন করেছে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের সংগঠন মেডিসিন ক্লাব। 

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের নিচতলায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম মতিনুর রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন। এছাড়াও ইবি মেডিকেল চিফ ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা আলাদা আলাদা বুথে শিক্ষার্থীদের সেবা প্রদান করেন এছাড়া ভলেন্টিয়ার ও সহযোগিতায় ছিল ইবির ‘রক্তিমা’, ‘তারুণ্য’ এবং ‘গ্রিন ভয়েস’ সেচ্ছাসেবক সংগঠনের সদস্যরা।

এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের চর্মরোগ ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, রক্তচাপ পরিমাপ, রক্তে শর্করার পরিমাণ পরিমাপ ও সাধারণ শারীরিক পরীক্ষা ও ওষুধপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়াও যারা রক্তদানে ইচ্ছুক তাদের থেকে রক্ত নেওয়া হয়।

রক্তিমার একজন প্রতিনিধি বলেন, “এই ব্লাড ডোনেশন প্রোগ্রাম এবং ক্যাম্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে রক্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কোনো মানুষ যেন রক্তের অভাবে মারা না যায়, সেই দিক থেকে চিন্তা করেই আজকের এই প্রোগ্রাম। মূলত সমাজসেবা এবং মানবসেবার কাজের জন্যই আমরা এই প্রোগ্রামের আয়োজন করেছি।”

মেডিসিন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সালেহ সাদ্দাম শিমুল বলেন, “আমাদের এই ক্যাম্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো আমাদের কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশেই ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল অবস্থিত। সেখানে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ২০টির মতো অপারেশন হয়ে থাকে, যার জন্য প্রচুর রক্তের প্রয়োজন হয়। কয়েকদিন আগে একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে রক্তের অভাবে মাত্র ৬ বছরের একটি শিশু মারা যায়। আমরা যেন ভবিষ্যতে এমন সমস্যার সম্মুখীন না হই, সেই লক্ষ্যেই আজকের এই রক্তদান ও হেলথ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি বিভাগের প্রতিটি সেশন থেকে একজন করে এম্বাসেডর বা ‘মেডিসিন ক্লাব অফিসার’ নিয়োগ করা হবে। তারা তাদের নিজস্ব বিভাগের প্রতিটি সেশনের রক্তের তথ্যাদি ও ব্লাড গ্রুপ সংক্রান্ত বিবরণ আমাদের প্রদান করবেন। তাদের মেডিসিন ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি অফিসিয়াল আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। সেশন শেষে ফ্রি ফেস্ট, সার্টিফিকেট এবং গিফটের ব্যবস্থা থাকবে। প্রদানকৃত আইডি কার্ডটি ব্যবহার করে তারা মেডিকেল হাসপাতালগুলোতে বিশেষ সম্মাননা ও সেবা পাওয়ার পাশাপাশি মেডিসিন ক্লাবের যেকোনো সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রোগ্রামে বিশেষ আমন্ত্রণ পাবেন।”

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম মতিনুর রহমান বলেন, “ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অ্যান্ড ব্লাড ডোনেশন এই প্রোগ্রামটি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সকল চিকিৎসক, শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য যারা অফিশিয়ালি সংশ্লিষ্ট তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।  ইবির যে সকল অর্গানাইজেশন বিশেষ করে ‘রক্তিমা’, ‘তারুণ্য’ এবং ‘গ্রিন ভয়েস’ তাদের অংশীদারিত্বে এই প্রোগ্রামটি নিঃসন্দেহে মেডিকেল কলেজের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চমৎকার সম্পর্ক স্থাপিত করবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি টিম গঠন হবে, যাদেরকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদেরকে আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। যাতে তাদের মাধ্যমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা সেবাপ্রাপ্তিতে সাহায্য-সহযোগিতা পেতে পারে, সেই কাজটিও বাস্তবায়িত হবে।”

Continue Reading

Trending