Connect with us

সর্বশেষ

পুশ ইন: দ্বিতীয় দিনের মতো সীমান্তের শূন্যরেখায় ১০ নারী-পুরুষ-শিশু

Published

on

যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের ঠেলে পাঠানো (পুশ ইন) ১০ নারী-পুরুষ ও শিশু এখনও সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। সোমবার সন্ধ্যায় বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকে কোনও সমাধান না হওয়ায় দ্বিতীয় দিনের মতো তারা সেখানে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। আতঙ্ক আর ক্ষুধার্ত অবস্থায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

এর আগে, রবিবার দিবাগত গভীর রাতে কাঁটাতারের গেট খুলে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়। বিজিবি ঘটনাটি জানতে পেরে প্রতিহত করে।

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায় বিএসএফ-বিজিবির মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু কোনও সমাধান ছাড়াই তা শেষ হয়। বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশু দ্বিতীয় দিনের মতো আজও বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর মাঠের ভারত-বাংলাদেশের জিরো লাইনে অবস্থান করছেন।’

জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় কয়েকটি ট্রাকে অতিরিক্ত ফোর্সসহ আনুমানিক ১২০ জনকে ঠেলে পাঠানোর জন্য সীমান্তে আনে বিএসএফ। কয়েকটি গ্রুপ করে ১০-১২ জন মানুষকে সীমান্তে নিয়ে আসে বিএসএফ। প্রথমে তারা যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সাদিপুর-রঘুনাথপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের জয়ন্তীপুর সীমান্ত দিয়ে তাদের এপারে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিজিবির বাধার মুখে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে রাতভর আশেপাশের বেশ কয়েকটি কাঁটাতারের গেট খুলে তাদের ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করলে তাও ব্যর্থ হয়। যে গেট দিয়ে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে সেখানকার সীমান্তের সার্চলাইটগুলো বন্ধ করে দেয় বিএসএফ। এদিকে টহল দলের বিজিবি সদস্যরা সতর্ক থাকায় সে চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। পরে রাত ৩টার দিকে গেটের এপারে ঠেলে পাঠালেও ওই ১০ নারী-পুরুষ ও শিশু এখনও ভারতের ভূখণ্ডে একটি গাছের নিচে অবস্থান করছে।

এদিকে, এ ঘটনার পর বেনাপোলসহ আশেপাশের সীমান্তে বিজিবি জনবল ও সতর্কতা বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। জনসচেতনতা বাড়াতে সীমান্তের গ্রামগুলোতে মাইকিং করতে শোনা গেছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

খেলাধুলা

৪ মাস ফুটবল না খেলা ১৭ জনকে নিয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছে ইরান

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় বসতে চলা ফুটবল বিশ্বকাপের বাকি ৯ দিন। মঙ্গলবার ২৬ জনের দল জানাল এশিয়ার দেশ ইরান। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিপক্ষে যুদ্ধে থাকায় বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। সেটি কেটে গেছে। তবে সহিংসতার কারণে দেশটির ঘরোয়া লিগ বন্ধ ছিল বলে এমন ১৭ জন দলে ডাক পেয়েছেন যারা গত ফেব্রুয়ারি থেকে কোন ম্যাচ খেলেনি।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটিতে ঘরোয়া ফুটবল লিগ স্থগিত। গত ৪ মাস লিগের কোন ম্যাচ খেলা হয়নি। ফুটবলের বাইরে থাকার এই বিষয়টি অবশ্য কোচ আমির ঘালেনোইয়ের জন্য কোন বাধা হয়নি।

ডাক পেয়েছেন বিদেশী লিগে খেলা ৯ জন, যার একজন গ্রিসের অলিম্পিয়াকোসে খেলা তারকা ফরোয়ার্ড মেহদী তারেমি। আক্রমণে মেহদীর সতীর্থ সরদার আজমুনকে নেয়া হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানি কর্তৃপক্ষের উপরে ক্ষোভ প্রকাশ করে পোস্টে দেয়ায় আজমুনকে বাদ দেয়া হয়েছে। ইরান দলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাবে খেলে ৫ জন, বেলজিয়ামের ক্লাবের ২ জন, গ্রিস এবং রাশিয়ার ক্লাবে খেলা একজন করে আছেন।

তুরস্কের আনাতোলিয়ায় একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। শুক্রবার মেক্সিকোর টিহুয়ানায় টুর্নামেন্টের ক্যাম্পের জন্য রওনা হবে। তাদের পূর্বের ক্যাম্প ছিল অ্যারিজোনার টুকসনে। সেখান থেকে দেশটি সরে আসতে চাইলে, ফিফা অনুমোদন দেয়।

বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে প্রথম দুটি ম্যাচ খেলবে ইরান। ১৬ জুন বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যাত্রা শুরু করবে। ছয়দিন পর বেলজিয়ামের বিপক্ষে এবং ২৬ জুন লুমেন ফিল্ডে মিশরের মুখোমুখি হবে দেশটি।

জনপদ সংবাদ

ইরান বিশ্বকাপ দল
কোচ: আমির ঘালেনোই
গোলরক্ষক: আলিরেজা বেইরানভান্দ, সৈয়দ হোসেইন হোসেইনি, পায়াম নিয়াজমান্দ।
ডিফেন্ডার: দানিয়াল আইরি, এহসান হজসাফি, সালেহ হারদানি, হোসেইন কুহনানি, সুজা খলিলজাদেহ, মিলাদ মোহাম্মাদী, আলী নেমাতি, রামিন রেজাইয়ান।
মিডফিল্ডার: রুজবেহ চেশমি, সাঈদ ইজাতোলাহি, মেহদী ঘায়েদি, সামান ঘোদ্দোস, মোহাম্মদ ঘোরবানি, আলিরেজা জাহানবখশ, মোহাম্মদ মোহেবি, আমির মোহাম্মদ রাজ্জাঘিনিয়া, ‌মেহদী তোরাবি, আরিয়া ইউসোফি।
ফরোয়ার্ড: আলী আলিপৌর, দিনিজ দরগায়ি, আমিরহোসেইন হোসেইনজাদেহ, মেহদী তারেমি, শাহরিয়ার মোহঘানলু।

Continue Reading

জাতীয়

ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আত্মপ্রকাশ

Published

on

By

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন এবং সম্পাদকদের পেশাগত স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল বা এনইসি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দৈনিক আমার দেশ কার্যালয়ে এক বৈঠকে বিভিন্ন দৈনিকের সম্পাদকরা এই কাউন্সিল গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বৈঠকে যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমানকে আহ্বায়ক ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, সংগ্রাম সম্পাদক আযম মীর শাহীদুল আহসান, নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম, মানব কণ্ঠ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, লোকসমাজ সম্পাদক শান্তনু ইসলাম সুমিত, ডেইলি পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গনি মনসুর ও জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস উন নূর।

ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে সংবাদমাধ্যমের যে অবক্ষয় ঘটেছে, তার অবসানের লক্ষ্যে নতুন এই সংগঠন তৈরির প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সম্পাদকরা ঐকমত্য পোষণ করেন।

বৈঠকে সংগঠনের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, সাংবাদিকদের পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকের সম্পাদকদের নিয়ে জাতীয় কনভেনশন আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

Continue Reading

top1

স্বজন-প্রতিবেশীদের সাক্ষ্যে উঠে এলো রামিসা হত্যার ভয়াবহ চিত্র

Published

on

By

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন স্বজন, প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ১৯ মের সেই বিভীষিকাময় ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রামিসার বাবা-মা ও বড় বোনসহ একে স্বজন, প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা সাক্ষ্য দেন।

আদালতে সাক্ষীরা রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা, রক্তাক্ত ঘরের দৃশ্য এবং অভিযুক্ত সোহেল রানার পালিয়ে যাওয়ার বিষয় তুলে ধরেন।

রামিসার চাচি আদালতে বলেন, ‘আমার স্বামী ফোন দিয়ে বলেন, রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে গিয়ে দেখি বাসায় ভিড় ও কান্নাকাটি চলছে। ঘরে গিয়ে খাটের নিচে এক পাশে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পাই। তখন পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছিল।’

জেরায় তিনি বলেন, ‘আমি গলাকাটা মরদেহ দেখেছি, ধর্ষণের দৃশ্য দেখিনি।’

রামিসার চাচা মিজানুর রহমান লিটন আদালতে বলেন, ‘আমি মেট্রোরেলে থাকাকালে স্ত্রী ফোন করে জানান, রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছে না। বাসায় এসে দেখি রক্ত পড়ে আছে। একটি বড় বালতির মধ্যে রামিসার মাথা ছিল। তার গলা ও হাত কাটা ছিল।’ তিনি আদালতে উপস্থিত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে শনাক্ত করেন।

একই ভবনের বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে শব্দ শুনে নিচে নেমে দেখেন রামিসার মা সোহেল রানার দরজায় ধাক্কা দিচ্ছেন। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে রক্ত দেখতে পান। তিনি বলেন, ‘স্বপ্নাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। ভেতরের আরেকটি গেট তালাবদ্ধ ছিল। সেটি খুলে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পাই।’

প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজন আদালতে বলেন, ‘রামিসার মা ডাকাডাকি করলে ফিরে আসি। দরজা না খোলায় পরে ভেতরে ঢুকে প্রথমে বাথরুমে কাপড় পড়ে থাকতে দেখি। এরপর রক্ত দেখতে পাই। স্বপ্নাকে জিজ্ঞেস করলে সে কিছু জানে না বলে। পরে খাট উঁচু করে রামিসার মরদেহ দেখতে পাই। একটি বালতির মধ্যে মাথা ছিল।’

গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দেন আবু সামা নামের এক প্রতিবেশী। তিনি আদালতে বলেন, ‘সকাল প্রায় ১০টার দিকে নাস্তা করছিলাম। তখন দেখি পাশের বাসার জানালা বেয়ে এক ব্যক্তি খালি গায়ে নিচে নামছে। আমি তাকে চোর মনে করে ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার করি। পরে পাশের বাসা থেকে চিৎকার শুনে গিয়ে রামিসার মরদেহ দেখি।’

জেরায় তিনি বলেন, ‘পরে মিডিয়ায় ছবি দেখে নিশ্চিত হই, জানালা দিয়ে নামা ব্যক্তিই আসামি সোহেল রানা।’

আরেক সাক্ষী মনিরুজ্জামান শাহীন আদালতে জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি একটি পাতলা ছুরি এবং বালতির মধ্যে রামিসার মাথা দেখতে পান।

পুলিশ সদস্য রুমা আক্তারও আদালতে সাক্ষ্য দেন। তবে তার সাক্ষ্যের বিস্তারিত অংশ দুপুরে বিরতির পর আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল রহমান দুলু সাংবাদিকদের বলেন, সাক্ষীদের বক্তব্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ভুক্তভোগীর বাবা-মায়ের সাক্ষ্যে ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা উঠে আসে। এছাড়া আসামি সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যার পর গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও সাক্ষ্যে তথ্য এসেছে। মামলার ১০ সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ দুপুরের বিরতির পর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

Continue Reading

Trending