নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত বহাল রাখায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগকে গুরুত্ব দিলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইসিসি ভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ করছে।
তার ভাষ্য, ‘ভারতের পাকিস্তানে না খেলার সিদ্ধান্ত আইসিসি মেনে নেয়। আবার পাকিস্তানের ভারতে খেলতে না চাওয়ার সিদ্ধান্তও আইসিসি মেনে নেয়। কিন্তু বাংলাদেশ যখন বাস্তব নিরাপত্তা হুমকির কারণে একই অনুরোধ করল, তখন আইসিসি বিপরীত অবস্থান নিল।’
ফারুকী লিখেছেন, ‘সম্প্রতি ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে মানুষকে পিটিয়ে হত্যার একাধিক ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ঠিক গতকালই, পশ্চিমবঙ্গে জন্ম নেওয়া মুসলিম ব্যক্তি মঞ্জুর লস্করকে বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দ্য টেলিগ্রাফ অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে।’
মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ আয়োজন নিয়ে শিবসেনা নেতা আদিত্য ঠাকরের সতর্কবার্তার বিষয়টি তুলে ধরে ফারুকী বলেন, ‘এ ঘটনাগুলোর সঙ্গে যদি দীর্ঘদিন ধরে চলমান বাংলাদেশবিরোধী ঘৃণা প্রচারণাকে যুক্ত করা হয়, যার ফল হিসেবে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাহলে মানতেই হবে যে ভারতে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপত্তা হুমকি বাস্তব ও গুরুতর।’
আইসিসির অভ্যন্তরীণ ও স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নের প্রসঙ্গ টেনে উপদেষ্টা ফারুকী লিখেছেন, সেখানেও মোস্তাফিজ দলে থাকলে এবং বাংলাদেশের জার্সি পরলে ভারতে বাংলাদেশ দলের জন্য মাঝারি থেকে উচ্চপর্যায়ের ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটের পরও আইসিসি বাংলাদেশের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ আমলে না নেওয়ায় ফারুকি লিখেছেন, ‘আইসিসি যদি সত্যিই নিজেকে সব সদস্য দেশের প্রতি ন্যায্য ও নিরপেক্ষ সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাহলে বাংলাদেশের উত্থাপিত নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত এবং ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়া প্রয়োজন। নিরপেক্ষতা প্রমাণের দায় এখন আইসিসির।’
ভারতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশি ক্রিকেটার ও সমর্থকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আইসিসিকে বাংলাদেশ দলের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের অনুরোধ করেছিল বিসিবি। তবে বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে বলেছে আইসিসি। বিসিবি ও বাংলাদেশ সরকার ভারতে না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে।