Connect with us

top1

বিএনপিতে মনোনয়ন নিয়ে সংঘাত বাড়ছে

Published

on

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে ২৩৭ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে, মনোনয়ন নিয়ে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। এমনকি মনোনয়ন ঘিরে সংঘর্ষে নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। 

দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়িত অনেক নেতা বঞ্চিত হওয়ায় তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ থেকে এই সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সংঘাত নিরসনে দলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সে সঙ্গে প্রয়োজনে প্রার্থীদের নিয়ে বসে দ্বন্দ্ব নিরসনের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে দলের জন্য নির্যাতিত হয়েছেন বিএনপির অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক। গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে আগামী নির্বাচন ঘিরে মনোনয়নকে দলের কাছে মূল্যায়িত হওয়ার অংশ হিসেবে দেখেছেন তারা। দীর্ঘদিনের নিপীড়িত-নির্যাতিত এসব নেতাকে ঘিরে স্বপ্ন বুনছেন তাদের কর্মী-সমর্থকরা। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিতর্কিত প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত কোথাও কোথাও প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নিয়েছে।

যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই মনোনয়নের মাধ্যমে যে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, সেটি সম্ভাব্য। বিভিন্ন স্থানে এটির রদবদলও হতে পারে। তবে বিতর্কিত ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই—এমন অনেক প্রার্থীর নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রার্থী পুনর্বিবিবেচনার দাবি উঠেছে তৃণমূল থেকে। বিক্ষোভ, মশাল মিছিল, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। এ ছাড়া যেসব আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি, সেগুলোর কিছু কিছুতে দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়নের দাবি জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।

এর মধ্যে গত রোববার ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় তানজিন আহমেদ আবিদ (৩০) নামে এক ছাত্রদলকর্মী নিহত হন। গৌরীপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর মাদারীপুর-১ (শিবচর), মেহেরপুর-২ (গাংনী), কুষ্টিয়া-৩ (সদর), চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড), চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী), কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর), কুষ্টিয়া-৪, কুমিল্লা-৬ (সদর ও সেনানিবাস), কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলা), চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ), বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী), ঠাকুরগাঁও-২, জয়পুরহাট-২, জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ), ঢাকা-১২, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল), ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা), সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর), দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ), রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর), রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর), চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (ভোলাহাট, গোমস্তাপুর ও নাচোল), কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস), কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ), নাটোর-১ (লালপুর ও বাগাতিপাড়া), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর), গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি), খুলনা-২ (সোনাডাঙ্গা ও খুলনা সদর) আসনে বিদ্রোহ, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা, বান্দরবানসহ বেশ কয়েক স্থানে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এর মধ্যে ফেনী সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ধানক্ষেতে দাঁড়িয়ে ক্রিকেটারের ভঙ্গিতে ‘রিভিউ আবেদন’ করে আলোচনায় এসেছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল। তার অভিনব এই প্রতিবাদ ইতোমধ্যেই দল ও দলের বাইরে সাড়া ফেলেছে।

এ ছাড়া বক্তব্যের শেষে আওয়ামী স্টাইলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মনোনয়ন হারিয়েছেন মাদারীপুর-১ (শিবচর উপজেলা) আসনের কামাল জামান মোল্লা। এ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।

একইসঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ৯০ বছর বয়সি সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমানের নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনীতি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন। কানাডার নাগরিক সাবেক এই সচিব সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। এ নিয়ে দলের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘোষণা নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষিত হওয়ায় এমন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আসনটিতে এবার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম ওবায়দুল হক নাসিরকে। এরপর থেকেই লাগাতার আন্দোলন করে যাচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী, চারবারের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদের কর্মী-সমর্থকরা। বিক্ষোভকারীরা জানান, যে পর্যন্ত এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তন না হবে, সে পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।

জানতে চাইলে লুৎফর রহমান খান আজাদ বলেন, ৩৭ বছর ধরে দলের সঙ্গে আছি। তবে এই মনোনয়ন নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি নই। মনোনয়নের মাধ্যমে নির্বাচনি এলাকার বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে আজাদ বলেন, ‘জনআকাঙ্ক্ষা আদৌ পূরণ হয়নি। তবে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—এটি চূড়ান্ত নয়, সম্ভাব্য তালিকা। প্রয়োজনে অদল-বদল হতে পারে। এখন দলের হাইকমান্ড বিষয়টি বিবেচনা করবে। সে সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করব।’

সংঘাত নিরসনে এখন দলকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বিএনপির একটু সহানুভূতিশীল হওয়ার সুযোগ আছে। কারণ, দীর্ঘদিন তারা (নেতাকর্মীরা) নানারকম নির্যাতন-অত্যাচার সহ্য করে রাজনীতি করেছেন। এ কারণে তারা তো মনোনয়ন চাইতেই পারেন। কিন্তু দলের পক্ষে সবাইকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভবও হচ্ছে না। দল অনেক কিছু বিচার-বিশ্লেষণ করছে। পুরোটাই নির্ভর করবে দলের ওপর।

ড. সাব্বির বলেন, ‘তারা (বিএনপির হাইকমান্ড) যদি সমঝোতা করে, আলাপ-আলোচনা করে নিবৃত্ত করতে পারে—সেটা বরং দলের জন্য ভালো। অন্য কোনোভাবে দল পুরস্কৃত করে তাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করতে পারে। এটা দলকেই করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে মনোনয়নবঞ্চিত এসব নেতার অবদানকে স্বীকার করে, তাদের গুরুত্ব দিয়ে বোঝাতে হবে বলে মনে করেন ড. সাব্বির। তিনি বলেন, ‘সবাইকে তো একসঙ্গে খুশি করা যায় না। কিন্তু তাদের বোঝানোটা মনে হয় দলের জন্য কঠিন কোনো কাজ নয়। তারপরও দলের মধ্যে দু-একজন তো থাকেন, যারা কিছু মানতে চান না। তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন—সেটাও দলকে চূড়ান্তভাবে সহ্য করে নিতে হবে।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

ইরানের সঙ্গে ‘১০ দফা’ চুক্তির খবরকে ভুয়া বলে উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কথিত ‘১০ দফা’ চুক্তির খসড়ার খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাস্তব কোনো আলোচনার প্রতিফলন ঘটেনি। বরং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও সেনা ইরানের আশপাশেই থাকবে, যতক্ষণ না একটি বাস্তব চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হয়। চুক্তি মানা না হলে অভূতপূর্ব মাত্রার সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা।

এর আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে।

এদিকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে যে ‘১০ দফা’ প্রস্তাবের কথা বলা হচ্ছে, তাতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি চালু রাখার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে এসবের কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা এখনো পাওয়া যায়নি।

সূত্র : শাফাক নিউজ

Continue Reading

top1

এক দিন আগেই ভাইয়ের বাসায় এসেছিলেন শিরীন শারমিন

Published

on

By

গ্রেপ্তারের এক দিন আগে সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে চাচাতো ভাইয়ের বাসায় স্বামীসহ উঠেছিলেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। বাসাটি তার চাচাতো ভাই আরিফ মাসুদ চৌধুরীর। ৮/এ নম্বর সড়কের সাততলা অ্যাপার্টমেন্টের চারতলার এ/৩ ফ্ল্যাটে আগে থেকেই সাবেক স্পিকারের পরিবারের অন্য কয়েকজন সদস্য থাকতেন। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ওই বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সাবেক স্পিকার লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান। তবে তিনি যে ধানমন্ডির ওই বাসাটিতেই অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। বাড়িটির অন্যান্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দা, নিরাপত্তারক্ষী, তত্ত্বাবধায়কসহ কর্মচারীদের কেউই বিষয়টি জানতেন না। অন্য বাসিন্দারা সংবাদমাধ্যমে খবর দেখে বিষয়টি জানতে পেরে অবাক হয়েছেন বলে তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

গ্রেপ্তারের এক দিন আগে শিরীন শারমিন ওই ফ্ল্যাটে আসার বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন তার চাচাতো ভাই আরিফ মাসুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আগের দিন তিনি স্বামীসহ আমাদের বাসায় এসেছিলেন। এসে খুব প্রাণবন্ত ছিলেন। আমাদের রান্নাবান্না করতে বলেছিলেন। তার চাওয়া অনুযায়ী রান্নাবান্নাও হয়েছিল।’ এক প্রশ্নের জবাবে মাসুদ চৌধুরী বলেন, ‘এর আগে নানা জায়গায় ছিলেন বলে শুনেছি। তবে কোথায় ছিলেন তা আমরা জানি না।’

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগ ও ডিবি পুলিশের একাধিক সূত্র কালবেলার কাছে দাবি করেছে, নির্বাচনের পরপরই সাবেক স্পিকার ওই ভবনে ওঠেন। তাকে তার এক চাচাতো ভাইয়ের বাসায়, চারতলায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্বাচনের আগে তিনি কোথায় ছিলেন, তা আমরা নিশ্চিত নই।

গতকাল দুপুর ১২টায় ধানমন্ডির ৮/এ সড়কে লেকের পাড়ে রবীন্দ্র সরোবরঘেঁষা সেই বাসায় গিয়ে দেখা যায়, একাধিক নিরাপত্তারক্ষী মূল ফটকে দায়িত্ব পালন করছেন। সাততলা বাড়ির একেবারে নিচতলায় থমথমে পরিবেশ। দায়িত্বরত নিরাপত্তা রক্ষীদের কাছে শিরীন শারমিন চৌধুরীর গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে রিয়াজুল নামে একজন বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না। গত রাতে যারা এখানে ডিউটি করেছেন, তারা বলতে পারবেন। আমরা তো সকালের শিফটে ডিউটি শুরু করেছি, তাই কিছু বলতে পারব না।’

বাড়িটির তত্ত্বাবধায়ক জাকির হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘উনি (শিরীন শারমিন) এ বাসার চারতলার একটি ফ্ল্যাটে ছিলেন এবং সেখান থেকেই পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়। যদিও তাকে গ্রেপ্তারের আগে আমরা জানতাম না, উনি এই বাসায় থাকতেন। কখনো এখানে তাকে দেখিনি।’ কয়েক মাস ধরে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা এসে শিরীন শারমিনের অবস্থানের তথ্য চেয়ে খোঁজখবর নিচ্ছিলেন বলেও জানান জাকির হোসেন।

ওই বাড়ি এবং আশপাশের বাড়ির একাধিক বাসিন্দা ও নিরাপত্তাকর্মী কালবেলাকে বলেন, সাবেক স্পিকারকে যে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ওই বাড়ির একটি ফ্ল্যাটেই বসবাস করেন পুলিশ সদর দপ্তরের একজন ডিআইজি। শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান পর এ নিয়ে তারাও অবাক হন। তারা বলছেন, ডিআইজির ওপরতলাতেই আত্মগোপনে ছিলেন সাবেক স্পিকার।

প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে গ্রেপ্তার অভিযানের বর্ণনা: গতকাল ভোররাত আনুমানিক ৩টার পরে একটি টয়োটা ব্র্যান্ডের সাদা নোয়া কার ও একটি মাইক্রোবাস গিয়ে থামে ওই বাসাটির কাছাকাছি জায়গায়। প্রায় আধাঘণ্টা পরে সেই নোয়া গাড়িতে করে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরো ঘটনাটি কিছুটা দূর থেকে দেখছিলেন পাশের বাসার তত্ত্বাবধায়ক মো. ইউনুস। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘রাতে যখন বৃষ্টি থেমে গেল, তার পরপরই আমাদের বাসা পার হয়ে একটু সামনে এসে দাঁড়ায় নোয়া গাড়ি। গাড়িটি যখন আসে, তখন তো বুঝতে পারিনি। আমি মূলত বুটের শব্দ শুনে বাইরে তাকাই। দেখি যে, ওই গাড়ি থেকে খুবই দ্রুততার সঙ্গে মহিলা পুলিশ নামছে। নেমেই সবাই দৌড়ে ওই বাসার গেটের সামনে চলে গেছে। পরের গাড়িতেও ছিল আরও কয়েকজন পুরুষ ও নারী পুলিশ। সব মিলিয়ে ১৫-২০ জন নারী পুলিশ ছিল। সবাই পুলিশের পোশাক পরা ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘কেউ ওই বাসার ভেতরে ঢুকেছে, আবার কেউ কেউ বাইরে গেটের সামনেসহ বাড়ির চারপাশ ঘিরে রেখেছিল। আধাঘণ্টা বা পঁয়তাল্লিশ মিনিট পরে দুই গাড়িতে করেই আবার পুলিশ চলে যায়। তবে কাকে ধরে নিয়ে গেছে শুরুতে তা বুঝতে পারিনি।’

Continue Reading

top1

যুদ্ধবিরতিতে জিতেছে ইরান, বড় সাফল্য বলছে যুক্তরাষ্ট্র

Published

on

By

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতিকে ঘিরে উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয়ী হিসেবে তুলে ধরছে। হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক সাফল্যই শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করেছে।

ইরান বলছে, যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত লক্ষ্যগুলোকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতেই তারা এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

বুধবার (০৮ এপ্রিল) আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় বিজয় বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস।

একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর উদ্যোগেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, শুরু থেকেই ট্রাম্প ধারণা করেছিলেন যুদ্ধটি চার থেকে ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হবে। তিনি আরও বলেন, ৩৮ দিনের মধ্যেই ওয়াশিংটনের প্রধান সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তা অতিক্রমও করেছে।

ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেন, আমাদের সামরিক বাহিনীর সাফল্য সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করেছে, যার ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার দল আলোচনায় বসতে পেরেছেন। সেই আলোচনাই এখন কূটনৈতিক সমাধান ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে।

লেভিটের দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতেও সক্ষম হয়েছেন।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, তারা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে কারণ তাদের ভাষায়, ‘যুদ্ধের প্রায় সব লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।’ তারা ইসলামাবাদে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে আরও সুসংহত করা যায়।

Continue Reading

Trending