Connect with us

ক্যাম্পাস

বুটেক্সে পাটশিল্পের উপর “হাফিজউদ্দিন আহমেদ ও ফাতেমা আহমেদ ট্রাস্ট লেকচার–২০২৫” অনুষ্ঠিত

Published

on

অভিষেক দত্ত, বুটেক্স প্রতিনিধি 

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) স্পিনার্স ক্লাবের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে “হাফিজউদ্দিন আহমেদ ও ফাতেমা আহমেদ ট্রাস্ট লেকচার–২০২৫” শীর্ষক সেমিনার। আগামীতে সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ও টেকসই উন্নয়নে পাটের ভূমিকা নিয়ে এ সেমিনারে আলোকপাত করা হয়। 

১৫ অক্টোবর (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টা থেকে সেমিনারটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্বে ছিলেন বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. মো. জুলহাস উদ্দিন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর পরিচালক ড. নারগিস আখতার, আইইবি-এর সহ সভাপতি ইঞ্জি. খান মঞ্জুর মোরশেদ, আইটিইটি-এর আহ্বায়ক ইঞ্জি. আহসানুল করিম কায়সার, আইইবি-এর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মহিউদ্দীন আহমেদ। মূল বক্তা হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম। 

অনুষ্ঠানের শুরুতেই উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক রাশিদা আখতার খানম। আরো বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম, ইঞ্জি. মহিউদ্দীন আহমেদ, শেখ বশির উদ্দিন, ড. নারগিস আখতার, ইঞ্জি. খান মঞ্জুর মোরশেদ, ইঞ্জি. আহসানুল করিম কায়সার এবং সবশেষে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. মো. জুলহাস উদ্দিন।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেন, “আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে যেমন সুযোগ রয়েছে, তেমনি বাধা আছে। একসময়ের টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে পাটের চাহিদা বর্তমানে আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। আমরা যতদিন না বাস্তবতার আলোকে বিচার-বিশ্লেষণ করতে পারবো, ততদিন আমরা আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবো ও পিছিয়ে যাবো। আমার মতে আমাদের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে, নিজেদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তা আনতে হবে ও প্রয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে যা আমাদেরকে অন্যদের থেকে আলাদা করবে।”

ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম তার বক্তব্যে বলেন, “বর্তমানে পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ প্লাস্টিক পলিথিনের ব্যবহার। আমরা চেষ্টা করলে এর ব্যবহার বন্ধ করে বিকল্প আনতে পারি। এসব ক্ষেত্রে পাটের ব্যবহার অন্যান্য ফাইবারের তুলনায় অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব। এক সময় চাহিদার শীর্ষে থাকা পাট আমাদেরই অসতর্কতার কারণে যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। পাটের ব্যবহার যে-রকম পরিবেশবান্ধব তেমনি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। পাটসহ অন্যান্য পরিবেশবান্ধব ফাইবার ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাবে।”

উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. মো. জুলহাস উদ্দিন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “পাট যেহেতু প্রাকৃতিক এবং পরিবেশ-বান্ধব ফাইবার, এটি নিয়ে বিস্তর পড়াশোনা এবং গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। শুধু চটের কিংবা শপিং ব্যাগই নয়, কীভাবে অন্যান্য ক্ষেত্রগুলোতেও পাটের ব্যবহার বাড়ানো যায় সেটি নিয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। আমি চেষ্টা করবো বুটেক্সে জুট ফাইবার নিয়ে একটি নতুন বিভাগ এবং গবেষণা কেন্দ্র তৈরি করা। পাটের কাঁচামাল থেকে কীভাবে উন্নতমানের টেক্সটাইল পণ্য তৈরি করা যায় সেটির উপায় খুঁজে বের করতে হবে। তবেই পাটের যে হারানো গৌরব সেটি আমরা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবো।”

বক্তব্য শেষে উপস্থিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান ও স্টল পরিদর্শনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।

শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করছেন, বুটেক্স অডিটোরিয়ামে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণে সেমিনারটি বস্ত্র ও পাট খাতের টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং বাংলাদেশের সবুজ অর্থনীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

তরুণদের দক্ষ করে তুলতে না পারলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড হারাবে বাংলাদেশ: শিবির সভাপতি

Published

on

By

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী। কিন্তু এই তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে না পারলে দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের (কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সুবিধা) সুযোগ নষ্ট হবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দক্ষ ও যোগ্য মানুষ তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শাখার উদ্যোগে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া মানেই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করা। প্রথম বর্ষেই নিজের লক্ষ্য ঠিক করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শুধু স্বপ্ন দেখার জায়গা নয়, স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়ার জায়গাও।”

নিজেকে সময়ের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণী ডাইনোসর টিকে থাকতে পারেনি, কিন্তু তেলাপোকা এখনো টিকে আছে। কারণ, তেলাপোকার অভিযোজন ক্ষমতা বেশি। “জীবনেও একই বিষয়। পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে বদলাতে না পারলে কেউ টিকে থাকতে পারবে না,” বলেন তিনি।

শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করার পর চাকরি জন্য সবাইকে ছুটাছুটি করতে হয়। বিসিএসের জন্য ৫-৬ বছর প্রস্তুতি নিতে হয়। “বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর কেন আবার পাঁচ-ছয় বছর বিসিএসের জন্য পড়তে হবে? বিশ্ববিদ্যালয় যদি দক্ষতা তৈরি করতে পারে, তাহলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি কর্মক্ষেত্রে যেতে পারবে।”
এসময় তিনি বলেন, বিদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বিভাগ চালুর আগে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়, যাতে সেখান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এমন ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান তিনি।

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সময়কাল খুবই সীমিত। এই সময়কে কাজে লাগাতে না পারলে ভবিষ্যতে অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়বে। চীন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এসব দেশ দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করেই অর্থনৈতিকভাবে এগিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু ভালো সিজিপিএ অর্জন করলেই হবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), পাইথন, এক্সেল, গবেষণা, পরিসংখ্যান এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হবে। তিনি বলেন, “থার্ড ইয়ার থেকেই পাইথন, এআই, স্ট্যাটিসটিকস ও গবেষণার টুল শেখা শুরু করুন। ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে এগুলোই আপনাকে এগিয়ে রাখবে।”

অর্থনীতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, অর্থনীতি আমাদের বলে পৃথিবীতে সম্পদের স্বল্পতা রয়েছে। কিন্তু সম্পদের অভাবের চেয়ে বড় সমস্যা সম্পদের অসম বণ্টন। তিনি দাবি করেন, বিশ্বের ৫ভাগ মানুষের হাতে ৯০ভাগ সম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়ায় বৈষম্য বাড়ছে। সুশাসন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এই বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিয়েও কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, “একজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করিয়ে যদি থাকার ব্যবস্থা না করা যায়, তাহলে ভর্তি করেন কেন? আবাসন না দিতে পারা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। এসময় তিনি গণরুম-গেস্টরুমের সংস্কৃতি বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ভালো বন্ধু নির্বাচন করতে হবে, শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। “যে শিক্ষকের ভালো গবেষণা আছে, তার কাছেই বেশি বেশি যান। গ্রুপ স্টাডি করুন, একে অপরকে সহযোগিতা করুন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সহযোগিতার সংস্কৃতিও থাকতে হবে,” বলেন তিনি।

রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে, তবে নিজেদের মূল লক্ষ্য হতে হবে জ্ঞান অর্জন ও দেশ গঠনে ভূমিকা রাখা। তিনি বলেন, “মেধাবীরা রাজনীতিতে এলে রাষ্ট্র আরও ভালোভাবে পরিচালিত হবে।”

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ সমাজ ও রাষ্ট্রের একটি বড় বিনিয়োগ। তাই শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। “নিজের পরিবার, সমাজ ও দেশের কথা মাথায় রেখে নিজেকে দক্ষ, সৎ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন। সঞ্চালনা করেন শাখা সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম। পরে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ এবং উপহার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং ছাত্রশিবিরের বর্তমান ও সাবেক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

top3

সাজিদ হত্যার বিচারহীনতার এক বছর: হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটির উদ্বেগ

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের এক বছরেও অপরাধীদের চিহ্নিত ও বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইবি শাখা হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটি (এইচআরডিএস)।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সংগঠনটির সভাপতি আলী আহসান মুহাম্মদ জুবাইর ও সাধারণ সম্পাদক মো. খাদেমুল ইসলাম এক যৌথ বিবৃতি দেন, এইচআরডিএস এর দপ্তর সম্পাদক মানিক হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিবৃতিতে মানবাধিকারকর্মীদ্বয় বলেন, গত বছরের ১৭ জুলাই বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুর থেকে সাজিদ আব্দুল্লাহর লাশ উদ্ধার করা হয়। ভিসেরা রিপোর্ট অনুযায়ী, তাকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়, যা দেশজুড়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিলেও, গত এক বছরে তদন্ত প্রক্রিয়া ও আইনি কার্যক্রমে স্থবিরতা লক্ষ্য করা গেছে। একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একজন শিক্ষার্থীর এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া এক বছরেও ঝুলে থাকা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি অপরাধীদের যেমন উৎসাহিত করে, তেমনি ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ জনগণের মনে বিচার ব্যবস্থার প্রতি চরম অনাস্থা তৈরি করে।

তারা আরো বলেন, কোনো হত্যাকাণ্ড বা অপরাধের বিচার দীর্ঘসূত্রতার বেড়াজালে আটকে থাকা নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সাজিদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে যে মানসিক যন্ত্রণা ও ন্যায়বিচারের আকুতি নিয়ে দিন কাটাচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া এরূপ অপ্রত্যাশিত ঘটনা শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।

বিবৃতিতে প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, শিক্ষাঙ্গনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষায় অবিলম্বে সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অপরাধীদের চিহ্নিত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জোর দাবি জানাচ্ছি। এছাড়াও ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রয়োজনীয় আইনি ও নিরাপত্তা সহায়তা প্রদানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানায় হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটি।

Continue Reading

top3

সাজিদ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ইবিতে শিবিরের বিক্ষোভ মিছিল

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন, দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইবি শাখা ছাত্রশিবির।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত সোয়া ৯টায় এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে একত্রিত হয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।

বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীদের “বিচার বিচার চাই সাজিদ হত্যার বিচার চাই; সাজিদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না; তুমি কে আমি কে সাজিদ সাজিদ; সাজিদ আব্দুল্লাহ কবরে খুনি কেন বাহিরে; প্রশাসনের টালবাহানা চলবে না, চলবে না; খুনি ধর জেলে ভর; সাজিদ হত্যার তদন্ত, আর নয় বিলম্ব” ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, গত বছর ১৭ জুলাই সাজিদ হত্যাকাণ্ড ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো রহস্য উন্মোচন করতে দেখিনি। এই হত্যাকাণ্ডের পরে খুনিদের ধরতে এবং তদন্তে বিলম্ব হওয়ায় একজন ম্যামকেও বলি হতে হয়েছে। ম্যামের খুনিকে গ্রেপ্তার করা হলেও আমরা বিচারের মধ্যে এখনও ধীরগতি দেখতে পাচ্ছি। অতি দ্রুত বিচার করে খুনিদেরকে ফাঁসির কাষ্টে ঝুলিয়ে দিতে হবে।

প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেখেছি, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা কর্মীর গায়ে হাত তোলা হয়, প্রশাসন এখনও আঙুল চুষছে। কিসের ভয়ে এটা করছে আমরা জানি না। তবে, আপনারা যদি জুলুমতন্ত্রকে সায় দেন এবং স্বৈরাচার হয়ে ওঠেন, তাহলে খুনি হাসিনা থেকে শিক্ষা নেবেন। খুনি হাসিনাকে যেভাবে ভারত পালাতে বাধ্য করা হয়েছে, আপনাদেরকেও ভারত পালাতে বাধ্য করা হবে যদি আপনারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারেন।

দাবিদাওয়া জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সহ অন্যান্য সংগঠন মিলে সাজিদ আব্দুল্লাহ’র নামে হল বা স্থাপনা নির্মাণের দাবি জানিয়েছি, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেন নাই। এছাড়া সাজিদের বাবাকে কিছু ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি। এ দেশের মাটিতে ইনসাফ কায়েম করতে, অন্যায় এবং জুলুমতন্ত্রকে উচ্ছেদ করতে আমরা এসেছি।

Continue Reading

Trending