Connect with us

top2

ভবিষ্যৎ বিশ্বের কান্ডারি ‘এআই’

Published

on

প্রযুক্তিই সব সময় মানবসভ্যতার ইতিহাসের গতিপথ বদলেছে। একসময় আগুন ও চাকা করেছিল এ কাজটি। এরপর বিজ্ঞান মানুষকে মাটির নিচ থেকে ‘তরল সোনা’ তেল আবিষ্কারের পথ দেখিয়েছে। এই আবিষ্কারের পর দীর্ঘদিন ধরে ভূ-রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে একে কেন্দ্র করে। এমনকি এখনো। যদি আমরা রাশিয়াকে রুখতে পশ্চিমা বিশ্বের তোড়জোড় দেখি, তাহলেই বুঝব—তেল এখনো কৌশলগত অস্ত্র। কিন্তু সেই অবস্থাও দ্রুত বদলাচ্ছে। ক্রমেই তেলের জায়গা নিচ্ছে তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)।

মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় ক্ষমতার ভারসাম্য সব সময়ই প্রযুক্তির সীমানা দিয়ে নির্ধারিত হয়েছে। যে প্রথম লোহা গলিয়েছে, সে-ই রাজ্য গড়েছে। যে প্রথম বন্দুক বানিয়েছে, সে-ই সাম্রাজ্য চালিয়েছে। আর এখন—যে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণ করবে, সে-ই পুরো সভ্যতার নিয়ন্ত্রণ হাতে নেবে। ২১ শতকের ভূ-রাজনীতিতে ক্ষমতা ক্রমেই কেন্দ্রীভূত হচ্ছে ডেটা, অ্যালগরিদম আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতায়। এআই-ই হয়ে উঠছে আগামী দিনের নতুন ‘পারমাণবিক বোমা।’ যার কাছে এই ‘অস্ত্র’ থাকবে, তথ্য থাকবে, আগামীর বিশ্ব থাকবে তারই পদতলে।

আজকের দুনিয়ায় সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি—ডেটা। আর এর পরিচালনার ইঞ্জিন ‘অ্যালগরিদম।’ ব্রিটিশ বিজ্ঞানী নিক বোস্ট্রম লিখেছিলেন, ‘যে মুহূর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবমস্তিষ্ককে ছাড়িয়ে যাবে, সেই মুহূর্তে মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে কাদের হাতে সেই শক্তি থাকবে তার ওপর।’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখনো হয়তো সেই অবস্থানে যায়নি, কিন্তু এরই মধ্যে তা বিশ্বরাজনীতির নয়া ‘হট জোনে’ পরিণত হয়েছে। একে শুধু প্রযুক্তিগত বিপ্লব বলা যায় না; বরং এটি ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোসেফ নাই বলেছেন, যে রাষ্ট্র তথ্যপ্রবাহ ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখবে, ভবিষ্যতের ক্ষমতার ভারসাম্য তার হাতেই থাকবে। বিষয়টি খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছে বর্তমান বিশ্বের দুই শীর্ষ শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। এর বাইরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানও প্রবেশ করেছে এই প্রতিযোগিতায়।

এআই বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধের ধারণাও পাল্টে গেছে। এখন যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষ নয়, সিদ্ধান্ত নিচ্ছে মেশিন। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে চালু করে জয়েন্ট আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সেন্টার (জেএআইসি), যার লক্ষ্য যুদ্ধক্ষেত্রে এআই ব্যবহার বাড়ানো। পরে এটি একীভূত হয় চিফ ডিজিটাল অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অফিসের (সিডিএও) সঙ্গে, যা এখন পেন্টাগনের এআই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ‘প্রজেক্ট মেভেন’-এর উদ্যোগে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে হাজারো ঘণ্টার ড্রোন ফুটেজ বিশ্লেষণ করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা হয় কয়েক সেকেন্ডে।

অন্যদিকে, চীনও বসে নেই। প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং ২০১৭ সালে ঘোষণা দেন ‘নিউ জেনারেশন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানের।’ যেখানে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীন হবে বিশ্বের প্রধান এআই শক্তি। দেশটির সেনাবাহিনী বা পিপলস লিবারেশন আর্মি এখন ‘ইন্টেলিজেন্টাইজড ওয়ারফেয়ার’ ধারণার ওপর কাজ করছে। এই ধারণা অনুযায়ী, ভবিষ্যতের যুদ্ধ মানবশক্তি নয়, তথ্যশক্তি দ্বারা পরিচালিত হবে। এরই মধ্যে চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালিত রোবট ডগ, বিভিন্ন ধরনের ড্রোন তৈরি করার কাজে লেগে পড়েছে। এসব কাজে গতি আনতে চীন তাদের ‘সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়’ নীতির মাধ্যমে বেসরকারি প্রযুক্তি কোম্পানি যেমন বাইদু, আলিবাবা ও টেনসেন্টকে সরাসরি প্রতিরক্ষা গবেষণায় যুক্ত করেছে।

নিজ দেশে নৈতিকতার কথা বললেও ওরাকল, মাইক্রোসফট, আমাজন, গুগল, স্টারলিংক, পলান্টির, ক্লিয়ারভিউয়ের মতো মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ইউক্রেনকে তাদের ‘নেক্সট জেনারেশন ওয়ারফেয়ারের’ প্রযুক্তিভিত্তিক অস্ত্র পরীক্ষার ‘এআই ওয়ার ল্যাবে’ পরিণত করেছে। তবে বিষয়টি কেবল পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইসরায়েল এরই মধ্যে গাজায় আরবেল নামক এআই–চালিত এক ধরনের অস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে।

তাই বলা যায়, বিশ্ব নতুন এক ডিজিটাল শীতল যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে অস্ত্র হলো ডেটা, যুদ্ধক্ষেত্র হলো ক্লাউড, আর সৈনিকের নাম এআই। এর লক্ষণ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনে মার্কিন উৎপাদিত চিপ রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে। বিপরীতে চিপ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় বিরল খনিজ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ দিয়েছে চীন।

এ তো গেল ছোট উদাহরণ। বড় পরিসরে যুক্তরাষ্ট্র এখনো হয়তো এআই নিয়ে মাঠে নেমে যুদ্ধ করছে না, কিন্তু তারা এই খাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেই চলেছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি এআই খাতে বিনিয়োগ ছিল ১০৯.১ বিলিয়ন ডলার, যা চীনের ৯.৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় অনেক বেশি। তবে গবেষণায় কিন্তু এগিয়ে চীন। দেশটি ২০১৪-২০২৩ পর্যন্ত ৩৮,২১০টি জেনারেটিভ এআই সম্পর্কিত আবিষ্কার করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ৬,২৭৬টির তুলনায় অনেক বেশি। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে, চীন প্রায় ৮.২ বিলিয়ন ডলারের রাষ্ট্রীয় তহবিল ঘোষণা করেছে, যা এআই উদ্যোগে প্রাথমিকভাবে বিনিয়োগ করা হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৫ সালের মধ্যে এআই উন্নয়নে ২০০ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। ফ্রান্সও এআই উন্নয়নে ১০৯ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এআই খাতে নীতি ও নিয়ন্ত্রণকাঠামো শক্তিশালী করতে চাইলেও তারা উদ্ভাবনে পিছিয়ে আছে এবং বাজারে তার প্রভাব কম। এর বাইরে, আগামী দিনে ব্যবসায় বিনিয়োগের অন্যতম জায়গা হয়ে উঠতে যাচ্ছে ডেটা সেন্টার। এমনকি দুনিয়ার বুক থেকে ডেটা সেন্টার মহাশূন্যে নিয়ে যাওয়ার নীরব এক প্রতিযোগিতা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

এআই এখনো হয়তো ব্যাপকভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার শুরু হয়নি। কিন্তু এমন দিন দেরি নয়, যেখানে আমরা মানুষের পরিবর্তে যুদ্ধক্ষেত্রে মেশিন দেখতে পাব। চীনের রোবট ডগ, ইসরায়েলের এআই-চালিত অস্ত্র ব্যবস্থার কথা আমরা বলেছি। ফলে, এটি স্পষ্ট যে যত সময় যাবে—এআইকে যুদ্ধক্ষেত্রে তো বটেই, কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করলেও অবাক হওয়ার মতো কিছু থাকবে না। এই আশঙ্কায় ‘এআই গডফাদার’ খ্যাত জিওফ্রে হিনটন বলেছিলেন, ‘যদি কোনো ধনী দেশ গরিব দেশ আক্রমণ করতে চায়, তবে তাদের বড় সুবিধা দেবে লেথাল অটোনমাস ওয়েপনস বা স্বচালিত স্বয়ংক্রিয় মারণাস্ত্র।’

তবে পদার্থবিদ ও গবেষক ম্যাক্স টেগমার্ক সতর্ক করেছেন, ‘যে মুহূর্তে মেশিন যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু করবে, তখনই যুদ্ধ মানবিক সীমা ছাড়িয়ে যাবে।’ যার প্রমাণ আমরা গাজায় পেয়েছি। মানবিকতার সব উদাহরণ সেখানে ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। তবু বড় শক্তিগুলো এখনো প্রতিযোগিতায় বুঁদ হয়ে আছে। কারণ, যে দেশ আগে এআই সামরিক ব্যবহারে এগিয়ে যাবে, ভবিষ্যতের ক্ষমতার মানচিত্র সে-ই আঁকবে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যৎ বিশ্ববাণিজ্যের গতিপথও অনেকটাই নির্ধারিত হবে এই এআই দিয়েই।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

স্বস্তি ফিরছে না বাজারে, ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

Published

on

By

রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সবজি, মাছ ও মুরগির বাজারে উল্লেখযোগ্য কোনো স্বস্তি না ফেরায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় বেড়েই চলেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বাজারে একই চিত্র দেখা গেছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ সবজির দাম আগের সপ্তাহের মতোই রয়েছে। বিশেষ করে মৌসুমি সবজির দাম কমার প্রত্যাশা থাকলেও বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

উত্তরা সমবায় বাজারে ঢেঁড়শ, পটল, ঝিঙ্গা, করলা ও চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরবটির দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁচকলার হালি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এছাড়া পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা এবং শিম ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম না কমায় খুচরা পর্যায়েও কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। উত্তরা সমবায় বাজারের সবজি বিক্রেতা রোমান জানান, পাইকারি বাজারে এখনো বেশির ভাগ পণ্যের দাম বেশি থাকায় ক্রেতাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম কমানো যাচ্ছে না।

মুরগির বাজারেও দামের তেমন পরিবর্তন হয়নি। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা, সোনালি ৩০০ টাকা, লেয়ার ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সৈকত আহমেদ বলেন, আগে সপ্তাহে এক-দুদিন ভালো মাছ বা মাংস কেনা যেত। এখন বাজেটের সঙ্গে মিলিয়ে কেনাকাটা করতে হচ্ছে। মুরগির দামও আগের মতো সাশ্রয়ী নেই, ফলে সংসারের খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে গরু ও খাসির মাংসের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসি বা ছাগলের মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও দামের চাপ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ইলিশের উচ্চমূল্য ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। আকারভেদে ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা জামাল বলেন, বাজারে মাছের সরবরাহ থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতাই ইলিশ কিনতে পারছেন না। যারা কিনছেন, তাদের বেশির ভাগই ছোট আকারের মাছ বেছে নিচ্ছেন।

এদিকে পাঙ্গাস মাছ প্রতি কেজি ২০০ টাকা, বড় রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, মাঝারি রুই ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা এবং কাতলা ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাবদা মাছের দাম ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং শিং মাছ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি।

ছোট মাছের মধ্যেও দাম কমেনি। কাঁচকি মাছ ৩০০ টাকা এবং মলা মাছ ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সামুদ্রিক মাছের বাজারেও উচ্চমূল্য বজায় রয়েছে। বড় সুরমা মাছ ৩০০ টাকা, রুপচাঁদা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, লাল কোরাল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং বাটা মাছ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলেও উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব এখনো খুচরা বাজারে রয়ে গেছে। আর ক্রেতাদের প্রত্যাশা, দ্রুত নিত্যপণ্যের দাম কমে বাজারে স্বস্তি ফিরবে

Continue Reading

top2

‘এই মিয়া চুপ, একেবারে খেয়ে ফেলব’সালিস বৈঠকে মেজাজ হারিয়ে বিএনপি নেতাকে শাসালেন হানজালা

Published

on

By

মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা সালিসি বৈঠকে মেজাজ হারানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় এক মিনিটের ভিডিওতে এমপি হানজালাকে উত্তেজিত অবস্থায় উপস্থিত ব্যক্তিদের ধমক দিতে দেখা যায়।

ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?” একপর্যায়ে টেবিল চাপড়ে তিনি বলেন, “এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলব। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দেব।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় বিএনপির এক কর্মী তারামিয়া মল্লিকের সঙ্গে একটি সালিসি বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। বৈঠকে শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ভুক্তভোগী তারামিয়া মল্লিক বলেন, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগে ঘটে। সালিস চলাকালে বক্তব্য ও রায়ের বিষয়ে মতভেদ তৈরি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তার দাবি, তিনি প্রতিবাদ করায় একপর্যায়ে এমপি ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন।

তিনি আরও বলেন, সালিসি বৈঠকে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও মতামত শোনা জরুরি হলেও সেখানে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, বৈঠকে একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে উপস্থিত কেউ একজন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়

Continue Reading

top2

সীমান্তঘেঁষা নদীতে চীনের মেগা বাঁধ, পাল্টা পদক্ষেপ ভারতের

Published

on

By

তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করেছে চীন। বিশাল এই প্রকল্পটি ভারতের অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

শুক্রবার (১৯ জুন) এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চীনের এই উদ্যোগের জবাবে অরুণাচল প্রদেশে সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (সাম্প) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া জোরদার করছে ভারত।

সিয়াং নদীর ওপর প্রস্তাবিত ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রকল্পটি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পটি থেকে বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তবে দুই দেশের প্রকল্পের অগ্রগতির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। চীনের ৬০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মেডগ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। অন্যদিকে ভারতের সিয়াং প্রকল্প এখনো সম্ভাব্যতা যাচাই পর্যায়ে রয়েছে এবং নির্মাণপূর্ব কার্যক্রমও শুরু হয়নি।

ভারত এখন নিজস্ব কৌশলগত পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে নদীটিকে ঘিরে চীনের প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের পর সিয়াং নামে পরিচিত হয় এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নদে রূপ নেয়। অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা এই নদীর ওপর নির্ভরশীল।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উজানে এত বড় বাঁধ নির্মিত হলে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এবং ভাটিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ও ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্টের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো মৌসুমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং উজানে পানিপ্রবাহ পরিবর্তনের সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডকে সুরক্ষা দেওয়া। ফলে প্রকল্পটির অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে।

এদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার

Continue Reading

Trending