Connect with us

top1

শেখ হাসিনার দপ্তর ও বাসার আড়াই কোটি টাকার খাবারের বিল বাকি

Published

on

গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি কার্যালয় ও বাসভবন গণভবনের খাবার সরবরাহ করে আড়াই কোটি টাকার বকেয়া পাচ্ছে না সরকারি প্রতিষ্ঠান হোটেল অবকাশ। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও খাবার বাবদ বকেয়ার এই দায় নিচ্ছে না। ফলে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের (বাপক) এই বকেয়া আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি কার্যালয় ও বাসভবন গণভবনে চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত খাবার সরবরাহ করা হতো সরকারি প্রতিষ্ঠান হোটেল অবকাশ থেকে। এ জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তিও রয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় নিয়মিত খাবার সরবরাহ করা হতো। সরকারের পক্ষ থেকে সময়ে–সময়ে খাবারের কিছু বিল পরিশোধ করা হতো, বকেয়াও থাকত কিছু পাওনা। এ অবস্থায় ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর খাবারের বকেয়া বিল আর পাচ্ছে না সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি। এই বকেয়া আদায়ে কয়েক দফা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে চিঠিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে গত দেড় বছরে সেই বকেয়া পায়নি হোটেল অবকাশ কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোটেল অবকাশের মালিকানা সংস্থা পর্যটন করপোরেশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বকেয়া আদায়ের জন্য কয়েক দফায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে বিগত সরকারের বকেয়া পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করছে বর্তমান সরকার। তারা বিগত সরকারের এই দায় নিতে চান না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বাসভবনের মতো বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাসভবনেও চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত খাবার সরবরাহ করা হয় হোটেল অবকাশ থেকে। বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে খাবার সরবরাহ বাবদও প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া রয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ বিষয়টি নিয়ে পর্যটন করপোরেশন বা হোটেল অবকাশের সঙ্গে কথা বললে ভালো হয়। আমরা সবসময় এ ধরনের বিল পরিশোধ করি। হয়ত কিছু রানিং (চলমান) বিল বাকি আছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

চিঠিতে কী রয়েছে

পর্যটন করপোরেশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকার এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে খাবার সরবরাহ বাবদ হোটেল অবকাশের মোট অপরিশোধিত পাওনার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই পাওনা পরিশোধের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক বরাবর যথাসময়ে বিল দাখিল করা হয়েছিল। যার পরিমাণ ছিল প্রায় ২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাসভবন যমুনায় চাহিদাপত্র মোতাবেক প্রায় ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকার খাবার ও বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। এই পাওনা পরিশোধের জন্য যথাসময়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক বরাবর বিল দাখিল করা হলেও বকেয়া পাওনা এখনো পরিশোধ করা হয়নি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বকেয়া অর্থ আদায় না হওয়ায় তহবিল–সংকটে প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। তারল্য–সংকটের কারণে হোটেল অবকাশের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন–ভাতা ও আনুষঙ্গিক বিল পরিশোধেও বিলম্ব হচ্ছে। এ ছাড়া কাঁচামালসহ অন্যান্য মালামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানেও বকেয়া পড়েছে। এ কারণে সরবরাহকারীরা মালামাল সরবরাহে অপারগতা প্রকাশ করছে। ফলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাসভবনে চাহিদা অনুযায়ী খাবার ও মালামাল সরবরাহ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সায়েমা শাহীন সুলতানা বলেন, বিল বকেয়া আছে, এটা সত্যি। তবে এই বকেয়া আদায় হোটেল অবকাশের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব। নিয়ম অনুযায়ী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে আমরা কিছু বাকিতে দিতে পারি না। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম মেনে এ ধরনের বকেয়ায় সেবা দেওয়া হয়। তবে এই ক্ষেত্রে কিছু বিল প্রক্রিয়াধীন আছে। বকেয়া আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অতীতে চিঠি দিয়েছি। ভবিষ্যতে আবার চিঠি দেব।

বকেয়া পাওনা থাকার পরও ২০২৫ সালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সঙ্গে আবারও খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহের চুক্তি করেছে বাপক। চুক্তিতে আগস্ট মাস থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং বাসভবন যমুনায় প্রতিদিনের আপ্যায়ন ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে খাবারসামগ্রী সরবরাহ করছে হোটেল অবকাশ কর্তৃপক্ষ।

চুক্তিতে যা রয়েছে

চুক্তিপত্র অনুযায়ী, হোটেল অবকাশ খাবারের আইটেম ও অন্যান্য সামগ্রী মিলিয়ে মোট ৪৬০টি সামগ্রী নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ করে। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে ড্রাইকেকসহ বিভিন্ন ধরনের বেকারি বিস্কুট, কমলা, মান্দারিন কমলা, জামরুল, লটকন ও আমড়াসহ নানা ধরনের দেশি–বিদেশি ফল। আর মিষ্টিজাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে কাঁচা ছানা, চমচম, রসমালাই, দই, লাড্ডু, রসগোল্লা ও বাকলাভা। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের মসলা, ঘি, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও সরবরাহ করে হোটেল অবকাশ।

এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামল কিংবা তার আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বাসভবনে খাবার সরবরাহ করে আসছে হোটেল অবকাশ কর্তৃপক্ষ। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রান্না ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটার দায়িত্ব ছিল হোটেল অবকাশের। আর বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর ও বাসভবনে শুধু খাবারসামগ্রী সরবরাহ করে হোটেল অবকাশ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আরও জানান, বিগত শেখ হাসিনা সরকারের সময় প্রায়ই রাজনৈতিক সভা ও সমাবেশ হতো তাঁর কার্যালয় ও বাসভবনে। প্রতিদিনই বহু লোকের খাবারের ব্যবস্থা করতে হতো। তাই সে সময়ের বকেয়ার পরিমাণও বেশি।

হোটেল অবকাশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, খাবারের বিষয়ে প্রতিবছরই চুক্তি নবায়ন করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সময় আমরা ১৭৩ ধরনের খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করেছি। তবে বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার জন্য নির্ধারিত ৪৬০টি আইটেম নির্দিষ্ট মূল্যে সরবরাহ করা হয়। এসব পণ্য সরবরাহে আমাদের নিজেদের তহবিলের অর্থ ব্যয় করতে হয়। তিন মাস পরপর বিল জমা দেওয়া হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তর ধাপে ধাপে বকেয়া পরিশোধ করে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

বিনা জামানতে নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ ১০ লাখ টাকা

Published

on

By

নতুন উদ্যোক্তাদের বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।

সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য দেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক তরুণদের জন্য বিনা সুদে কোনো ঋণ প্রকল্প চলমান নেই। তবে সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন পুনরর্থায়ন স্কিম পরিচালনা করে আসছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতে ‘নতুন উদ্যোক্তা পুনরর্থায়ন স্কিম’-এর তহবিলের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

এই তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। এ ছাড়া জামানত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

স্টার্টআপদের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ঋণ ও ইক্যুইটি সহায়তা স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার লক্ষ্যে ‘স্টার্ট আপ ফান্ড’ নামে ৫০০ কোটি টাকার আরো একটি পুনরর্থায়ন তহবিল গঠন করার কথা জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, এই তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।

Continue Reading

top1

ইরানের সঙ্গে ‘চুক্তি হচ্ছে’, দুই মাসে অন্তত ৩৭ বার দাবি ট্রাম্পের

Published

on

By

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই মাসেরও বেশি সময় আগে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, উভয় পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি। তবে সেই প্রতিশ্রুত চুক্তি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। দুই মাসে অন্তত ৩৭ বার চুক্তি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত ৭ এপ্রিল ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘অনেক দূর এগিয়েছে’ এবং চুক্তি চূড়ান্ত করতে মাত্র দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। 

কিন্তু দুই সপ্তাহ পেরিয়ে দুই মাসেরও বেশি সময় কেটে গেলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প বিভিন্ন জনসভা, সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকার, ফোনালাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তত ৩৭ বার দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি খুব শিগগিরই হতে যাচ্ছে অথবা তেহরান চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২৩ মার্চ। যুদ্ধ শুরুর এক মাসও পূর্ণ না হতেই ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “শান্তি আলোচনায় ‘প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা’ হয়ে গেছে”।

যদিও সে সময় ইরান আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছিল। পরবর্তী দিনগুলোতে ট্রাম্পের বক্তব্য আরও জোরালো হতে থাকে।

তিনি কখনো বলেন, “ইরান খুবই আগ্রহী চুক্তি করতে”, আবার কখনো দাবি করেন, “তারা চুক্তির জন্য অনুনয়-বিনয় করছে”।

২৯ মার্চ ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “আমি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি দেখতে পাচ্ছি”।

এরপর ৭ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে তিনি দুই সপ্তাহের একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেন, যার মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

১৫ এপ্রিল তিনি বলেন, “আমি মনে করি বিষয়টি শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি”। একদিন পর সাংবাদিকদের জানান, “চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ভালো”।

১৭ এপ্রিল ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেন, ইরান “সব বিষয়ে রাজি হয়েছে” এবং “এক-দুই দিনের মধ্যেই চুক্তি হবে”। এমনকি ২০ এপ্রিল ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, “সবকিছু খুব দ্রুতই হয়ে যাবে”।

সেই পূর্বাভাসও সত্যি হয়নি

এপ্রিলের শেষ দিকে তিনি আবার বলেন, “ইরান চুক্তির জন্য মরিয়া”। ১ মে তিনি মন্তব্য করেন, “যুদ্ধ শেষ হতে খুব বেশি সময় লাগবে না”।

মে মাসেও একই ধরনের বক্তব্য অব্যাহত রাখেন ট্রাম্প। ১৮ মে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধে সামরিক হামলা দুই-তিন দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে, কারণ তারা মনে করছে চুক্তি “খুব কাছাকাছি”।

এ সময় ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেন, অতীতেও একাধিকবার মনে হয়েছিল চুক্তি হতে যাচ্ছে, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে তিনি দাবি করেন, এবার পরিস্থিতি “ভিন্ন”।

এরপরও হয়নি সমঝোতা

২৩ মে ট্রাম্প আবার বলেন, “আলোচনা ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে এবং চুক্তি ‘খুব শিগগিরই’ ঘোষণা করা হবে”।

২৮ মে তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানান, উভয় পক্ষ “একটি খুব ভালো চুক্তির কাছাকাছি”।

গত রবিবারও তিনি বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির খুব কাছাকাছি”।

তবে একই সঙ্গে অভিযোগ করেন, ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

সোমবারও তিনি একই সুরে কথা বলেন। সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের একটি টেলি-র‍্যালিতে ট্রাম্প দাবি করেন, “আমরা এখন আলোচনা করছি, তারা একটি ভালো চুক্তি করতে চায়”।

এমনকি তিনি আরও বলেন, “তারা আমাদের সবকিছু দিতে প্রস্তুত”।

তবে এতবার আশ্বাস দেওয়ার পরও বাস্তবে কোনো চুক্তির অগ্রগতি দৃশ্যমান হচ্ছে না। ফলে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ট্রাম্পের এসব বক্তব্যকে এখন আর গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি নেই।

সোর্স: সিএনএন

Continue Reading

top1

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে স্থগিত

Published

on

By

তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন নির্ধারণ করেছেন আদালত। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত থাকবে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অপরপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে সকালে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু হয়।

গত ২১ মে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ৭ এপ্রিল ১৮৫ পৃষ্ঠার হাইকোর্টের রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এই রায় দেন।

রায়ে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির-সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের এমন বিধান বাতিল করেন হাইকোর্ট। ফলে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হলো। একইসঙ্গে অধস্তন আদালতের জন্য ২০১৭ সালে করা শৃঙ্খলাবিধি বাতিল করা হয়েছে।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যামিকাস কিউরি ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শরীফ ভূঁইয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ, ২০১৭ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবী রিটটি করেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট ‍রুল জারি করেন।

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার-কর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল-নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধান রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি তা প্রয়োগ করে থাকেন।

রিটকারীদের আইনজীবীর মতে, ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

একই অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে। মূলত রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের এ দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল।

১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এবং ‘সুপ্রিমকোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হইবে’ শব্দগুলো সন্নিবেশিত করা হয়।

এরপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী আইন অসাংবিধানিক মর্মে ঘোষণা করলে পঞ্চদশ সংশোধন আইন, ২০১১ এর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান একই বিধানটি প্রতিস্থাপন করা হয়। বর্তমানে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে এ বিধানটিই বিদ্যমান রয়েছে।

Continue Reading

Trending