Connect with us

top3

ভূমিকম্প কেন হয়: মাটির গভীরে কী ঘটে, বিজ্ঞান কী বলছে?

Published

on

বিজ্ঞান ডেস্ক 

হঠাৎ পায়ের নিচের মাটি কেঁপে ওঠা বা দালানকোঠা দুলে ওঠার আতঙ্ক আমরা অনেকেই অনুভব করেছি। কিন্তু পৃথিবীর গভীরে ঠিক কী পরিবর্তনের কারণে এই ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়? মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) ও বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে এর নেপথ্যের কারণ ও কারিগরি বিশ্লেষণ।

টেকটনিক প্লেটের ঘর্ষণ ও শক্তির মুক্তি

বিজ্ঞানীরা জানান, পৃথিবী কোনো অখণ্ড বা একক ভূখণ্ড নয়। এর গঠন চারটি প্রধান স্তরে বিভক্ত—অন্তঃস্থ কেন্দ্র, বহিস্থ কেন্দ্র, ম্যান্টল ও ভূত্বক। পৃথিবীর উপরিভাগ বা ভূত্বক অনেকগুলো বিশাল খণ্ডে বিভক্ত, যেগুলোকে ‘টেকটনিক প্লেট’ বলা হয়। এই প্লেটগুলো স্থির নয়, বরং ধীরগতিতে নড়াচড়া করে।

যখন দুটি প্লেট একে অপরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অমসৃণ কিনারায় আটকে যায়, তখন সেখানে প্রচণ্ড শক্তির সঞ্চার হয়। প্লেটের বাকি অংশ নড়তে চাইলেও কিনারা আটকে থাকায় সেখানে চাপ বাড়ে। একসময় এই সঞ্চিত চাপ ঘর্ষণ বলের চেয়ে বেশি হলে প্লেটগুলো হঠাৎ পিছলে যায় বা ভেঙে সরে যায়। তখনই সঞ্চিত শক্তি ‘সিসমিক ওয়েভ’ বা তরঙ্গ আকারে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, যা আমরা ভূমিকম্প হিসেবে অনুভব করি।

হাইপোসেন্টার ও এপিসেন্টার: পার্থক্য কোথায়?

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ও প্রভাব নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে কিছু পরিভাষা জানা জরুরি। মাটির নিচে যে স্থানে শিলাস্তর ফেটে বা পিছলে গিয়ে কম্পন শুরু হয়, তাকে বলা হয় ‘হাইপোসেন্টার’ (Hypocenter)। আর ঠিক এর সোজাসুজি ওপরে ভূপৃষ্ঠের অবস্থানটিকে বলা হয় ‘এপিসেন্টার’ (Epicenter)। সাধারণত এপিসেন্টার বা উপকেন্দ্রেই কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়।

মেইনশক ও আফটারশক

বড় কোনো ভূমিকম্পের (মেইনশক) আগে কখনো কখনো ছোট কম্পন অনুভূত হয়, যাকে ‘ফোরশক’ বলা হয়। আবার মূল ভূমিকম্পের পরেও ভূস্তরের ভারসাম্য ফিরে আসতে সময় লাগে। ফলে মেইনশকের কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর্যন্ত একই স্থানে ছোট ছোট ভূমিকম্প হতে পারে, যা ‘আফটারশক’ নামে পরিচিত।

কীভাবে মাপা হয় ভূমিকম্প?

ভূমিকম্প পরিমাপের জন্য ‘সিসমোগ্রাফ’ যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। এই যন্ত্রে মাটির কম্পন একটি গ্রাফ বা ‘সিসমোগ্রাম’-এ রেকর্ড হয়। সিসমোগ্রামের রেখা যত বেশি নড়বড়ে ও দীর্ঘ হয়, ভূমিকম্পের আকার বা ম্যাগনিচিউড তত বড় হয়।

ভূমিকম্পের অবস্থান নিখুঁতভাবে বের করতে বিজ্ঞানীরা ‘ট্রায়াঙ্গুলেশন’ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। বজ্রপাতের আলো ও শব্দের গতির পার্থক্যের মতো, ভূমিকম্পের পি-তরঙ্গ (দ্রুতগামী) ও এস-তরঙ্গ (ধীরগামী) সিসমোগ্রাফে পৌঁছানোর সময়ের ব্যবধান হিসাব করে উৎপত্তিস্থল শনাক্ত করা হয়।

পূর্বাভাস কি সম্ভব?

বর্তমান বিজ্ঞানে বন্যা বা ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হলেও ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে তা এখনো অধরা। ইউএসজিএস-এর তথ্যমতে, বিজ্ঞানীরা জানেন পৃথিবীর কোন কোন ফল্ট লাইন বা চ্যুতিতে ভবিষ্যতে ভূমিকম্প হতে পারে। কিন্তু ঠিক ‘কখন’ বা ‘কোন সময়ে’ তা ঘটবে, তা বলার মতো কার্যকর কোনো পদ্ধতি এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তাই সচেতনতা ও পূর্বপ্রস্তুতিই ভূমিকম্প মোকাবিলার একমাত্র উপায়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

আমরা আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাবো: কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট

Published

on

By

বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে বড়সড় আত্মবিশ্বাসের কথা শুনিয়েছেন কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট জোস মারিয়া নেভেস। তার বিশ্বাস, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ১-০ গোলে হারানোর সামর্থ্য রয়েছে তার দেশের।

সাড়ে পাঁচ লাখেরও কম জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দে এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে। কঠিন গ্রুপে উরুগুয়ে, স্পেন ও সৌদি আরবকে পেছনে ফেলে তারা জায়গা করে নিয়েছে নকআউট পর্বে।

প্রথম বিশ্বকাপেই এমন সাফল্যের পর আত্মবিশ্বাসী নেভেস বলেন, ‘আমরা ১-০ গোলে জিতব।’

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জয়ের জন্যই খেলতে নামবো। যখন কোনো দলের প্রতি প্রত্যাশা কম থাকে, কিন্তু সেই দলের জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকে, তখন অনেক কিছুই সম্ভব।’

নেভেসের মতে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এই ম্যাচটি কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ যাত্রারই স্বাভাবিক পরিণতি। তিনি বলেন, ‘আমরা এই বিশ্বকাপে এসেছি নিজেদের ভাগ্য নিজেরা লেখার জন্য, আর সেই পথেই এখন আমাদের সামনে চ্যাম্পিয়নদের মোকাবিলা করার সুযোগ এসেছে। তাই একই দৃঢ়তা, একই মানসিকতা এবং জয়ের লক্ষ্য নিয়েই আমরা আর্জেন্টিনা ও মেসির বিপক্ষে মাঠে নামবো। আমাদের লক্ষ্য পরের পর্ব।’

আগামী ৪ জুলাই মায়ামির রক গার্ডেন স্টেডিয়ামে হবে দুই দলের লড়াই

Continue Reading

top3

বিশ্বকাপে ইরানের বিদায়ে ‘খুশির নাচ নেচেছেন’ মার্কিন কর্মকর্তা

Published

on

By

কোনো ম্যাচ না হেরেও বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকে হতাশার বিদায় হয়েছে ইরানের। নিজেদের তিনটি ম্যাচই ড্র করায় তাদের সুযোগ ছিল সেরা ৮টি তৃতীয় দলের একটি হওয়ার। যারা বিশ্বকাপের নকআউটে উঠেছে। কিন্তু নাটকীয়ভাবে আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচটি ৩-৩ গোলে শেষ হয়। ম্যাচটিতে যেকোনো এক দল জিতলেও শেষ ৩২ নিশ্চিত হতো ইরানের।

আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচে ইনজুরি সময়ে পরপর দুই গোল এবং ইরানের বিদায়ে নানা জল্পনা চলছে। এমনকি উঠেছে ফিক্সিংয়ের অভিযোগও। এরই মাঝে এবার নতুন বিতর্ক উসকে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রধান মার্কওয়েন মুলিন। তিনি বলেন, ‘আমি খুশি যে তাদের বিদায় হয়েছে, তারা আর ফিরবে না।’

মার্কওয়েন মুলিন জানান, ‘আমরা তাদের ভিসা বাতিল করা এবং তারা মার্কিন মাটি ছেড়ে যাবে জেনে খুব খুশি। আমি হয়তো আমি একটা-দুটো গান গেয়েছিলাম, কিংবা খুশিতে নেচেও উঠেছিলাম। ইরানের মতো আর কোনো সুনির্দিষ্ট দলের জন্য নিরাপত্তা দিতে আমাদের এত সময় ব্যয় করতে হয়নি।’

আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচ ছাড়াও ইরানের খেলায় রেফারিদের বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তও বিতর্কিত হয়েছে। আর তাদের ভ্রমণসূচি ছিল চূড়ান্ত সমালোচিত। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক বিরোধ চলছে। অথচ ইরানের তিনটি ম্যাচেই ভেন্যু নির্ধারিত ছিল বৈরি দেশটিতে। মেক্সিকোয় ছিল তাদের বেস ক্যাম্প, সেখান থেকে খেলার আগেরদিন মার্কিন ভূমিতে এসে পরদিন খেলা শেষেই আবার ফিরতে হতো মেক্সিকোয়। যা নিয়ে কম প্রতিক্রিয়া দেখায়নি ইরানের কোচ ও খেলোয়াড়রা।

ইরানের কোচ আমির ঘালেনোই বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছে এবং প্রস্তুতির জন্য স্কোয়াডের যে অনুশীলন প্রয়োজন, তার অর্ধেকেরও কম সুযোগ দিয়েছে।’ একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইরান ফুটবল দলের অধিনায়ক মেহদি তারেমি, ‘এই ধরনের চাপ বিশ্বকাপের আনন্দ ম্লান করে দেয়। আমরা পৌঁছানোর শুরু থেকেই সেই চাপ অনুভব করেছিলাম।

Continue Reading

top3

আর্জেন্টিনার বিদায় নিয়ে দুঃসংবাদ দিলেন ঘানার সেই তান্ত্রিক

Published

on

By

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘানার ম্যাচে ‘কালো জাদু’র দাবি করে আলোচনায় আসা ঘানার স্বঘোষিত তান্ত্রিক নানা কিয়াঙ্কু বোন্সাম আবারও নতুন এক ভবিষ্যদ্বাণী দিয়েছেন। এবার তার দাবি, রাউন্ড অব ৩২-এ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বড় অঘটন ঘটাবে কেপ ভার্দে।

ইংল্যান্ড-ঘানা ম্যাচের আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোন্সাম দাবি করেছিলেন, তিনি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনের ওপর ‘কালো জাদু’ প্রয়োগ করেছেন, যার ফলে তিনি ওই ম্যাচে গোল করতে পারবেন না। কাকতালীয়ভাবে সেদিন কেন গোল করতে পারেননি এবং প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড লক্ষ্যে কোনো শটও নিতে পারেনি। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্র হয়।

এবার নতুন এক সাক্ষাৎকারে বোন্সাম বলেন, ‘কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে বিদায় করবে।’ তবে এই ম্যাচে তিনি কোনো ধরনের ‘কালো জাদু’ ব্যবহার করবেন কি না, সে বিষয়ে কিছু জানাননি।

আগামী ৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে।

টুর্নামেন্টে অভিষেক হওয়া কেপ ভার্দে ইতোমধ্যেই চমক দেখিয়েছে তাদের দৃঢ় রক্ষণভাগ ও গোলকিপিংয়ে। দলটি স্পেন ও সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে। এছাড়া উরুগুয়ের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে তিন ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়। এখন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আরেকটি অঘটনের স্বপ্ন দেখছে আফ্রিকার দলটি

Continue Reading

Trending