Connect with us

আন্তর্জাতিক

মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক মুসলিম যুব সম্মেলনে অংশ নেবে ছাত্রশিবির

Published

on

ছাত্রশিবির সভাপতির টিম

“ECHO OF PALESTINE: VOICE OF THE VOICELESS”-এই প্রতিপাদ্যে মালয়েশিয়ার কেলান্তানে অনুষ্ঠিতব্য INTERNATIONAL MUSLIM YOUTH SUMMIT KELANTAN (I-MYSK) সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন সংগঠনটি।

মালেশিয়ান প্রেস ওয়ার্ল্ড বরাত জানা যায়, আগামীকাল এবং পরশু ( ২০-২১ জুন) ৩০ টিরও বেশি দেশের প্রায় ১৫০ জন অংশগ্রহণ করবেন।কেলান্তান রাজ্য যুব, ক্রীড়া, এনজিও এবং কমিউনিটি ঐক্য কমিটির চেয়ারম্যান জামাখশারী মুহাম্মদ বলেন, “সম্মেলনে ফিলিস্তিন, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিশর, যুক্তরাজ্য, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ফিলিপাইনের মতো দেশগুলির পাশাপাশি ৫০ টিরও বেশি এনজিও অংশগ্রহণ করবে।”

“এটিকে একটি কৌশলগত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কার্যকর পদ্ধতির মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামকে সমর্থন করার জন্য সুনির্দিষ্ট সমাধান এবং নতুন বাস্তব ধারণা তৈরি করবে,” তিনি মঙ্গলবার দারুলনাইম সিটি কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

জামাখশারি বলেন, “এই অনুষ্ঠানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ থাকবে, তা হল ১০,০০০ “আনতুকমু ফিলিস্তিনি” সমাবেশ, যা শনিবার রাত ৯ টায় সুলতান মুহাম্মদ চতুর্থ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই সমাবেশ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এবং এর লক্ষ্য হল শান্তির সমর্থনে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের উপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ১০,০০০ এরও বেশি মালয়েশিয়ানকে একত্রিত করা।”

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনের চলমান মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বে সচেতনতা গড়ে তোলা, ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতেই এ সম্মেলনের আয়োজন বলে জানা গেছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

ট্রাম্পকে নিজের নোবেল পদক উপহার দিলেন মাচাদো

Published

on

By

ভেনেজুয়েলার ভিন্ন মতাবলম্বী রাজনীতিবিদ এবং ২০২৫ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপহার হিসেবে নিজের নোবেল পুরস্কারের পদক তুলে দিয়েছেন। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এ উপহার প্রদান করেছেন তিনি।

মাচাদোর এ উপহার আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন ট্রাম্প। তার প্রশংসাও করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলেন মাচাদো। সেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকের পর সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিক ও সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় আজ ভেনেজুয়েলার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। আমি আমার নোবেল পুরস্কারের পদক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে উপহার দিয়েছি।”

মাচাদোর এই মন্তব্যের পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করেছিল বিবিসি এবং অন্যান্য পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম। তবে হোয়াইট হাউসের কোনো কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “(যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে) আমি যা যা করেছি, তার পুরস্কার হিসেবে মারিয়া তার নোবেল শান্তি পদক আমাকে উপহার দিয়েছেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক অপূর্ব নিদর্শন স্থাপন করলেন তিনি।”

এ ইস্যুতে মরক্কোর নোবেল কমিটির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল বিবিসি। তবে কমিটি সরাসরি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য না করে বলেছে, “নোবেল পুরস্কার যদি একবার ঘোষণা করা করা, তাহলে তা বাতিল করা যায় না এবং কোনো নোবেলজয়ী তার পুরস্কার নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন না, অন্যকে দানও করতে পারেন না। কোনো নোবেলজয়ী যদি তার পদক অন্যকে দিয়ে দিতে চান, দিতেই পারেন— পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে ওই নোবেলজয়ীর নামই সব জায়গায় নথিবদ্ধ হবে।”

প্রসঙ্গত, গত ৪ জানুয়ারি ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সেনা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে আসে মার্কিন সেনাবাহিনী। বর্তমানে তারা উভয়েই নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারে বন্দি আছেন। মার্কিন প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সরবরাহের অভিযোগে আদালতে মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়ার বিচার হবে।

মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অপহরণ করার কয়েক ঘণ্টা পর ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির সাংবিধানিক নিয়ম অনুসারে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে দেলসি রদ্রিগুয়েজকে।

মাচাদো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হতে চান। দেশটির মাদুরোবিরোধী রাজনীতিকদের একাংশ তাকে সমর্থনও দিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও এ ব্যাপারে কোনো সবুজ সংকেত দেন নি। উপরন্তু মাদুরোকে সস্ত্রীক গ্রেপ্তারের পর মাচাদো সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, “মারিয়া একজন চমৎকার মহিলা; কিন্তু তিনি সরকার চালাতে পারবেন বলে আমার মনে হয় না। তাছাড়া সরকারপ্রধান হওয়ার জন্য দেশের ভিতরে যে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রয়োজন— তা তার নেই।”

সূত্র : আরটি, বিবিসি

Continue Reading

top3

গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র: আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্ব

Published

on

By

আর্কটিক মহাদেশের উত্তরের বৃহৎ দ্বীপগুলোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড শুধু ভৌগোলিক দিক থেকে নয়, কৌশলগত এবং জিওপলিটিক মাত্রায়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর অবস্থান, আঞ্চলিক নিরাপত্তাকাঠামোতে বাফার ভূমিকা, উত্তরের সমুদ্রপথে প্রভাব এবং সম্ভাব্য প্রাকৃতিক সম্পদ—সব মিলিয়ে এটি এখন আন্তর্জাতিক শক্তি প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ নজরদারি শুধু ভূ-রাজনৈতিক কৌশল এবং সামরিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জলবায়ু পরিবর্তন, মেরিন রুটের সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণ এবং তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদের প্রাপ্যতার সঙ্গে যুক্ত। এই আগ্রহ বা কৌশলগত প্রয়াস ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে সার্বভৌমত্বের নীতি, রাষ্ট্রের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইন স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে যে কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে অননুমোদিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে না। তাই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনি সীমারেখার মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালনা করা অপরিহার্য।

কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায় যে গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র দ্বৈত নীতি কৌশল গ্রহণ করেছে—১. সরাসরি আধিপত্য বা দখলের পরিবর্তে অংশীদারত্ব এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার; ২. আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি যেমন রাশিয়া ও চীনের ক্রিয়াশীলতা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে প্রতিরোধ। এভাবে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব, আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা সংরক্ষিত সার্বভৌমত্ব এবং শক্তি ভারসাম্য—সব মিলিয়ে একটি বহুমাত্রিক কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলকে শুধু শক্তি বা নিরাপত্তার হিসাবনিকাশ হিসেবে দেখা যাবে না; এখানে আন্তর্জাতিক আইনের সীমারেখা, কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সূক্ষ্ম সমন্বয় প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে, গ্রিনল্যান্ড কৌশলগতভাবে তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারে—

১. আর্কটিকের নৌপথে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ: উত্তরের নতুন নৌপথগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সামরিক নৌযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে প্রভাব বজায় রাখা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির চলাচল পর্যবেক্ষণ।

২. সামরিক ও নিরাপত্তাভিত্তিক বেস স্থাপন: আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি কৌশলগত সুবিধা দেয়। এটি শুধু প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তি ভারসাম্যের অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।

৩. প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাপ্তি: গ্রিনল্যান্ডের সম্ভাব্য খনিজ সম্পদ, তেল ও গ্যাস আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এই সম্পদগুলোর ব্যবহারকে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করছে।

এখানে আঞ্চলিক প্রভাবও বিবেচ্য—রাশিয়া এবং চীনের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আর্কটিক অঞ্চলে শক্তি ভারসাম্যের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। একই সঙ্গে ন্যাটো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই নতুন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে কৌশলগত সমন্বয় করছে। এই জিওপলিটিক্যাল প্রেক্ষাপটই যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহকে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা, শক্তি প্রতিযোগিতা এবং কূটনৈতিক সমঝোতার একটি জটিল ফ্রেমওয়ার্কে বসায়।

গ্রিনল্যান্ড, যদিও আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনপ্রাপ্ত, ডেনমার্কের রাজত্বের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এর অর্থ হলো, আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণে যেকোনো বিদেশি রাষ্ট্র, যেমন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে ডেনমার্কের অনুমোদন নিতে বাধ্য। এটি সরাসরি সার্বভৌমত্বের মূল নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত। গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যথেষ্ট স্বাধীনতা প্রদান করে—যেমন স্থানীয় সরকার নীতিমালা, শিক্ষা ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ। তবে নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষানীতি, বিশেষ করে সামরিক বেস স্থাপন বা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই দ্বৈত কাঠামো আন্তর্জাতিক আইনের অন্তর্গত একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য তৈরি করে, যেখানে বিদেশি শক্তি কার্যক্রমের জন্য শুধু অনুমোদন নয়, কূটনৈতিক সমঝোতা ও অংশীদারত্ব অপরিহার্য।

আর্কটিক অঞ্চলের বিশেষ প্রাসঙ্গিকতা বোঝাতে আর্কটিক চুক্তি এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইন উল্লেখযোগ্য। এই আইনগুলোয় আর্কটিক জলসীমা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা, প্রতিরক্ষা ও ব্যবহারসংক্রান্ত বিধান রয়েছে। কোনো রাষ্ট্রের দখল, অননুমোদিত কার্যক্রম বা প্রাকৃতিক সম্পদে একপক্ষের একতরফাভাবে নিয়ন্ত্রণ—সবই আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে, গ্রিনল্যান্ডে সম্ভাব্য ‘ক্রয়’ বা প্রভাব বিস্তারের উদ্যোগ আইনগত ও কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতার সঙ্গে সংঘর্ষে প্রবেশ করতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সরাসরি দখল বা আধিপত্যের পরিবর্তে নরম কৌশল, বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে প্রভাব অর্জনের দিকে ঝুঁকছে। এটি একটি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ বটে!

গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রে মার্কিন নীতি সরাসরি ‘ক্রয়’ বা স্বতন্ত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার দিকে নয়; বরং কৌশলগত অংশীদারত্ব, বিনিয়োগ এবং নীতি সমন্বয়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব অর্জনের ওপর কেন্দ্রিত। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের বেস ইনফ্রাস্ট্রাকচার উন্নয়ন, স্থল ও সামুদ্রিক গবেষণা এবং সামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে অংশীদারত্ব স্থাপন করে। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রকে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি, বিশেষত রাশিয়া ও চীনের ক্রিয়াশীলতা ও আগ্রহের প্রেক্ষাপটে সচেতন থাকতে হয়। গ্রিনল্যান্ড শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ বা নৌপথের জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্যের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই নীতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজনে কৌশলগত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।

এখানে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হয়, কারণ গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিক্রিয়া উভয়ই সৃষ্টি করতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতি একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করে—যেখানে প্রভাব বিস্তার, শক্তির প্রয়োগ এবং আইনের সম্মানকে সমান্তরালভাবে বিবেচনা করতে হয়।

আন্তর্জাতিক আইনের সীমাবদ্ধতা নিশ্চিত করে যে, কোনো রাষ্ট্রই অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে অযাচিতভাবে লঙ্ঘন করতে পারবে না। এই নীতিমালা যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি দখল বা আধিপত্য স্থাপনের পরিবর্তে সহযোগিতা, অংশীদারত্ব এবং কৌশলগত সমঝোতার দিকে ধাবিত করে। একই সময়ে, জিওপলিটিক বাস্তবতা নির্দেশ করে যে আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্য, প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের ক্রিয়াশীলতা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া অপরিহার্য। এই পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান শুধু সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং তা আইনগত মানদণ্ড, কূটনৈতিক দক্ষতা এবং অংশীদারত্বের সমন্বয় দ্বারা সম্ভব।

Continue Reading

top2

ইরানে হত্যা চলছে না, আমাকে ‘আশ্বস্ত’ করা হয়েছে: ট্রাম্প

Published

on

By

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এই মর্মে ‘আশ্বস্ত’ করা হয়েছে যে—ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরানের পক্ষ থেকে ফাঁসি কার্যকর করার ‘কোনো পরিকল্পনা নেই।’ কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার হুমকি দেওয়ার পর এই মন্তব্যগুলো সংকটের প্রতি একটি পরিমিত বা সংযত পদ্ধতির সংকেত দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তাঁকে জানানো হয়েছে যে ইরানে ‘বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে এবং পরিকল্পিত ফাঁসিগুলো স্থগিত করা হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন করে শুরু হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে কাতার থেকে কিছু মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তিনি ‘অন্য (ইরানের) পক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের’ সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এই সংকট কীভাবে এগিয়ে যায় তা পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে তিনি সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করতে যাচ্ছি যে, প্রক্রিয়াটি কী হয়’, এবং এর আগে তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রশাসন ইরানের কাছ থেকে একটি ‘অত্যন্ত ভালো বিবৃতি’ পেয়েছে।

গতকাল বুধবার ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আরাগচিকে জিজ্ঞেস করা হয় যে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, তখন তিনি বলেন, ‘ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই নেই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ফাঁসি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আল জাজিরার মাইক হানা রিপোর্ট করেছেন, বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো ইরানের প্রতি তাঁর সুর নরম হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে তিনি এখনও বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ভাবছেন। তাঁকে তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ব্রিফ করেছে। তবে আমরা এইমাত্র যে বক্তব্যগুলো শুনলাম, তা পরিস্থিতির সম্ভাব্য শীতলতা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আসন্ন পদক্ষেপের হুমকি থেকে পিছিয়ে আসার ইঙ্গিত দেয়।’

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র নন-রেসিডেন্ট ফেলো সিনা তুসি বলেন, ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হওয়ার যে তথ্য ট্রাম্প পেয়েছেন বলে দাবি করছেন, তা আপাতদৃষ্টিতে সামরিক হস্তক্ষেপ এড়ানোর একটি ‘সম্মানজনক পথ’ (face-saving way) বলে মনে হচ্ছে, যদিও এটি পুরোপুরি সংঘাতের সম্ভাবনাকে নাকচ করে না। তুসি বলেন, ‘ট্রাম্পের কথাকে শতভাগ গুরুত্ব সহকারে নেওয়া কঠিন। কিন্তু আমরা জানি, বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ার প্রতি তাঁর এক ধরনের অনীহা রয়েছে, আর ইরানের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকিটি টেবিলে ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে তিনি বের হওয়ার জন্য একটি সম্মানজনক পথ খুঁজছেন, তবে আমি এটাকে পুরোপুরি নাকচ করে দেওয়া হিসেবে নেব না।’ তিনি যোগ করেন, ট্রাম্পের অতীতেও একই সাথে সামরিক হামলার হুমকি দেওয়া এবং ইরানের সাথে আলোচনার ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে।

তেহরানকে মার্কিন দাবির সাথে আরও বেশি সংগতিপূর্ণ করতে ট্রাম্প অতীতেও সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। গত এক সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরানি কর্তৃপক্ষের কঠোর দমন-পীড়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে।

ওয়াশিংটন ডিসির স্টিমসন সেন্টারের ডিস্টিংগুইশড ফেলো বারবারা স্লাভিন বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত সে বিষয়ে ট্রাম্প সম্ভবত ‘দ্বিধাবিভক্ত।’ তিনি বলেন, যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘আরেকটি দ্রুত বিজয়’ পছন্দ করবেন, তবে ‘আমি মনে করি না যে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী কোনো দ্বন্দ্বে জড়াতে চান, যা তাঁর স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের পরিপন্থী।’

তিনি যোগ করেন, তিনি আশা করছেন—ট্রাম্প সীমিত আকারে কিছু হামলা চালাতে পারেন যাতে তিনি দাবি করতে পারেন যে ইরানি জনগণকে ‘সাহায্য’ করার প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করেছেন, কিন্তু তা যেন কোনো বড় ধরনের সংঘাতের সূত্রপাত না করে।

এর আগে বুধবার, ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্র কাতারের বিমান ঘাঁটি থেকে কিছু কর্মী সরিয়ে নেয়। এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন যে, তেহরান তার প্রতিবেশীদের সতর্ক করেছে যে, ওয়াশিংটন যদি হামলা চালায় তবে তারা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত করবে। এই আঞ্চলিক উত্তজনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় বেশ কয়েকটি দেশ ওই অঞ্চলে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য সতর্কতা জারি করেছে

Continue Reading

Trending