Connect with us

top1

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হামাস ও ইসরায়েল, মৃত্যু উপত্যকা গাজায় প্রাণের উচ্ছ্বাস

Published

on

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজায় দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসানের ইঙ্গিত দিয়ে অবশেষে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ও মিশর, কাতার এবং তুরস্কের সহযোগিতায় এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি সম্ভব হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই ঘোষণার পর গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত রাস্তায় নেমে আসে ফিলিস্তিনিদের আনন্দের ঢল, অন্যদিকে ইসরায়েলে জিম্মিদের পরিবারে বয়ে যায় স্বস্তির নিঃশ্বাস।

তিন দিন ধরে মিশরের শার্ম আল-শেখে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনার পর উভয় পক্ষ ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে সম্মত হয়। এই ধাপে যুদ্ধবিরতি, ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যা গাজায় যুদ্ধের সমাপ্তি, ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং বন্দি বিনিময়ের নিশ্চয়তা দেবে। ইসরায়েল যাতে চুক্তিটি পুরোপুরি মেনে চলে, তা নিশ্চিত করতে হামাস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তিকে “ইসরায়েলের জন্য একটি মহান দিন” বলে অভিহিত করেছেন। জিম্মিদের পরিবারের প্রতি বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “ঈশ্বরের সহায়তায় আমরা তাদের সবাইকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনব।” বৃহস্পতিবার রাতেই ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা এই চুক্তির রূপরেখা অনুমোদন করে।

উল্লাসে ফেটে পড়েছে গাজা ও তেল আবিব

চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে গাজার তরুণরা রাস্তায় নেমে এসে নেচে-গেয়ে এবং স্লোগান দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করে। খান ইউনিসের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ আব্দ রাব্বো রয়টার্সকে বলেন, “এই যুদ্ধবিরতির জন্য, রক্তপাত বন্ধের জন্য আল্লাহকে ধন্যবাদ। শুধু আমি নই, পুরো গাজা আজ খুশি।”

একই ধরনের আবেগঘন দৃশ্য দেখা যায় তেল আবিবেও। হামাসের হাতে আটক এক জিম্মির মা, আইনভ জাঙ্গাউকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি শ্বাস নিতে পারছি না। আমার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমি ওকে (ছেলেকে) কী বলব? শুধু জড়িয়ে ধরে চুমু খাব।”

চুক্তির খুঁটিনাটি ও পরবর্তী পদক্ষেপ

চুক্তি অনুযায়ী, হামাস আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ ২০ জন জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দেবে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় ২,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে, যাদের মধ্যে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিরাও রয়েছে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীকে গাজার বেশিরভাগ জনবহুল এলাকা থেকে একটি নির্দিষ্ট সীমারেখায় সরে আসতে হবে।

এই পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে তা দীর্ঘমেয়াদী শান্তি আলোচনার পথ প্রশস্ত করবে। একইসাথে, দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে থাকা গাজায় জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে। একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে, আগস্ট মাসেই গাজার পাঁচ লাখের বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, সোমবারের মধ্যেই জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হতে পারে।

বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া ও শান্তির আশা

গাজায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে গোটা বিশ্ব। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং উভয় পক্ষকে চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, জাতিসংঘ এই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে এবং গাজায় মানবিক ত্রাণ ও পুনর্গঠন কার্যক্রম জোরদার করবে।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এই সমঝোতাকে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান চুক্তিতে মধ্যস্থতার জন্য ট্রাম্প, কাতার ও মিশরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই মুহূর্তটিকে জিম্মিদের পরিবার ও গাজার বেসামরিক মানুষের জন্য “গভীর স্বস্তির” বলে উল্লেখ করেছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ উভয়েই স্থায়ী শান্তির পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন।

শান্তির পথে চ্যালেঞ্জ

যুদ্ধবিরতির এই খবর আশার সঞ্চার করলেও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এখনও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে। মার্কিন বিশেষজ্ঞ অ্যারন ডেভিড মিলারের মতে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং আরব দেশগুলোর সমন্বিত চাপ এই চুক্তিকে সম্ভব করেছে। তবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার শাসন ব্যবস্থা নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনায় গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসনে হামাসের কোনো ভূমিকা না রাখার কথা বলা হয়েছে। নেতানিয়াহুও গাজার শাসনভার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এতকিছুর পরেও, প্রথম ধাপের এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার খবরই বিশ্বজুড়ে স্বস্তি এনেছে এবং গাজাবাসীকে দিয়েছে নতুন করে বাঁচার আশা।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

দিল্লিজুড়ে ধরপাকড়, দীপকে, নেহা, মমতা ও কেজরিওয়ালসহ আটক বহু নেতা

Published

on

By

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে রাজনীতিক, ছাত্রনেতা, অধিকারকর্মী ও অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতাসহ বহু মানুষকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, ছাত্রনেতা নেহা বোরা, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। সাবেক ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকেও আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি রয়েছে আন্দোলনকারীদের। তাদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ সংশোধন করা হচ্ছে।

দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের যাতায়াত ঠেকাতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে অনেককে আটক করে বাস ও ভ্যানে করে অস্থায়ী আটককেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড বসানো, যানবাহনে তল্লাশি এবং মেট্রো চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

তবে আটক ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভিন্নতা রয়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস শনিবার বিকেল পর্যন্ত দিল্লিতে প্রায় দুই হাজার মানুষকে আটকের কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, আগের দিন ককরোচ জনতা পার্টির এক মুখপাত্র দাবি করেছিলেন, দেশজুড়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। 

Continue Reading

top1

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, সড়ক অবরোধ পরীক্ষার্থীদের

Published

on

By

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে স্থগিত হওয়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পরীক্ষার্থীরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগে এ সিদ্ধান্ত জানানো হলে ক্ষোভে সড়কে নামেন চাকরিপ্রার্থীরা। এতে কয়েকটি এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

সকাল ১১টায় অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসায় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে।

এরপর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সাতমসজিদ রোড, বাংলা কলেজ ও খিলগাঁওসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু করেন পরীক্ষার্থীরা। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার ব্যাখ্যা ও দায়ীদের জবাবদিহি দাবি করেন।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করে শেরেবাংলা নগর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. লোকমান হোসেন বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনকারীরা আড়ং সিগনালে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন।

তিনি জানান, আসাদগেট থেকে ধানমন্ডিগামী সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ধানমন্ডি থেকে আসাদগেটমুখী সড়কে অবস্থান নিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভের সময় চাকরিপ্রার্থীদের ‘প্রশ্ন ফাঁস হলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

May be an image of one or more people, crowd and text

কেন্দ্রে পৌঁছেও পরীক্ষা দিতে পারেননি প্রার্থীরা
পরীক্ষায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসেছিলেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী। নির্ধারিত কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিতের খবর পেয়ে তারা বিপাকে পড়েন। অনেকের অভিযোগ, আগে থেকে কোনো ঘোষণা না দিয়েই পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

রাজধানীর মাদারটেকের এ আজিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা ঈমান জানান, তারা কেন্দ্রে প্রবেশ করে নির্ধারিত আসনে বসার পর পরিদর্শক এসে জানান, পরীক্ষা হবে না। কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করেছে।

কেন পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না, তা জানতে চাইলে ঈমান মোল্লা বলেন, কেন্দ্র থেকে কোনো কারণ জানানো হয়নি। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে তারা শুনেছেন। তিনি ফরিদপুর থেকে পরীক্ষা দিতে ঢাকায় এসেছিলেন।

একই কেন্দ্রের আরেক পরীক্ষার্থী মো. তামিম জানান, তাদের কেন্দ্রেও একইভাবে পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানানো হয়।

পরীক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ৩০০টি পদের কথা উল্লেখ ছিল। এসব পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে লক্ষাধিক প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন তারা।

জানা গেছে, রাজধানীর কয়েকটি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বিতরণের পর পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ দিকে মানিক মিয়া এভিনিউতে রাস্তা অবরোধকারীদের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়েছে।

দাবিগুলো হলো:

১. প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

২. দূর থেকে পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

৩. আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নিতে হবে

দাবি বাস্তবায়নের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, আমরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা কিছু দাবি জানিয়েছে। আন্দোলনকারীদের বাইরে কেউ যেনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয় খেয়াল রাখা হচ্ছে।

Continue Reading

top1

দিল্লিতে বিক্ষোভের আগেই আটক ককরোচদের শীর্ষ নেতারা

Published

on

By

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে ধরপাকড় শুরু করেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির পুলিশ।

ইতোমধ্যে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, ইউটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠিসহ আরও কয়েক নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। এ ছাড়া বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা প্রায় হাজার মানুষকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

এক প্রতিবেদনে রয়টার্স বলছে শনিবার সকালে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। এ ছাড়া দলের দুই সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা এবং আইন সহায়তা বিভাগের প্রধান রত্না সিংকেও আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অপরদিকে সিজেপির সেই কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়া ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে শনিবার ভোরে রাজধানী সংলগ্ন শহর গুরুগ্রাম থেকে আটক করেছে পুলিশ।

একইভাবে বিক্ষোভে যোগ দিতে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রায় ১ হাজার জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইয়ের বরাতে জানা গেছে, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ঠেকানোর কথা বলে এই পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ।

ভারত, দিল্লি, বিক্ষোভ, ককরোচ জনতা পর্টি, সিজেপিমুম্বাই থেকে শনিবার সকালে দিল্লিতে পৌঁছান ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরই পুলিশ তাকে আটক করে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আটকের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

আটকের আগে দীপকে জানিয়েছিলেন, কারাগারে যেতে হলেও কিংবা জাতীয় নিরাপত্তা আইনে অভিযুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তাদের আন্দোলন থামবে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তা

এদিকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান জন্তর মন্তরসহ দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগে বিধিনিষেধ, একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং ট্রেন চলাচলে বিঘ্নের খবরও পাওয়া গেছে। ফলে বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ

ককরোচ জনতা পার্টির এবারের আন্দোলনের মূল দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। সংগঠনটির অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষে প্রভাবিত করা হচ্ছে। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি- দুই পক্ষই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটি বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সরকারের জবাবদিহির মতো ইস্যুতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এবার নির্বাচনি স্বচ্ছতার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে তারা।

এদিকে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন ককরোচ জনতা পার্টি ও বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনকে ‘নৈরাজ্যবাদী’ কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছেন, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে।

বিক্ষোভের আগেই আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের আটক এবং শত শত মানুষকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

Continue Reading

Trending