Connect with us

ধর্ম

যে পাপের কারণে আল্লাহ অভিশাপ দেয়

Published

on

পৃথিবীর বুকে যত বিপর্যয় ও দুর্যোগ সৃষ্টি হয়, তার জন্য প্রধানত দায়ী মানুষের সীমাহীন পাপ ও সীমালঙ্ঘন। ছোট বড় অনেক ধরনের পাপ রয়েছে। তবে এমন কিছু পাপ রয়েছে, যেগুলো করলে আল্লাহর অভিশাপ নেমে আসে। এমন কিছু পাপ কাজের কথা নিচে দেওয়া হলো-

বিপরীত লিঙ্গের বেশ ধারণ করা :

যে নারী পুরুষের পোশাক গ্রহণ করে এবং যে পুরুষ নারীদের পোশাক, চালচলন নকল করে কিংবা অঙ্গবিকৃতি করে তাদের ওপর আল্লাহর রাসুলের লানত বর্ষিত হয়। আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর রাসুল (সা.) নারীর বেশ ধারণকারী পুরুষদের এবং পুরুষের বেশ ধারণকারী নারীদের অভিশাপ করেছেন।’(বুখারি, হাদিস : ৫৮৮৫)

সমকামিতা :

পুরুষে-পুরুষে ও নারীতে-নারীতে জৈবিক চাহিদা নিবারণের জন্য লজ্জাস্থান ব্যবহার করাকে সমকামিতা বলা হয়। এটি আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.)-এর লানতের কারণ। ইবনে আববাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যারা সমকামী তাদের ওপর লানত বর্ষিত হোক।’(তিরমিজি, হাদিস : ১৪৫৬)

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা :

আল্লাহ তাআলা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীদের ওপর লানত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবত তোমরা জনপদে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। আল্লাহ এদের প্রতি লানত করেন। অতঃপর তাদের তিনি বধির করেন ও তাদের চোখ দৃষ্টিহীন করে দেন।’(সুরা ; মুহাম্মাদ, আয়াত : ২২-২৩)

সতীসাধ্বী নারীর ওপর অপবাদ দেওয়া :

কোনো নারীর ওপর মিথ্যা অপবাদ দিলে আল্লাহর লানত নেমে আসে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা সতীসাধ্বী, সরলা ঈমানদার নারীদের প্রতি (ব্যভিচারের) অপবাদ দেয়, তারা ইহকালে ও পরকালে অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য আছে গুরুতর শাস্তি।’(সুরা : নূর, আয়াত : ২৩)

জুলুম করা :

জালিমদের ওপর আল্লাহ লানত করেন। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘জেনে রেখো! জালিমদের ওপর আল্লাহ লানত করেন।’(সুরা : হুদ, আয়াত : ১৮)

জমির নিশানা পরিবর্তন করা :

আবু তুফায়ল আমির ইবনে ওয়াসিলা (রহ.) বলেন, আমি আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এক ব্যক্তি তার কাছে এসে বলল, নবী (সা.) আপনাকে আড়ালে কী বলেছিলেন? বর্ণনাকারী বলেন, তিনি রেগে গেলেন এবং বলেন, নবী (সা.) লোকদের কাছ থেকে গোপন রেখে আমার কাছে একান্তে কিছু বলেননি। তবে তিনি আমাকে চারটি (বিশেষ শিক্ষণীয়) কথা বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকটি বলল হে আমিরুল মুমিনিন, সে চারটি কথা কী? তিনি বলেন, ১. যে ব্যক্তি তার মা-বাবাকে অভিসম্পাত করে, আল্লাহ তাকে অভিসম্পাত করেন, ২. যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে পশু জবাই করে আল্লাহ তার ওপরও অভিসম্পাত করেন, ৩. ওই ব্যক্তির ওপরও আল্লাহ অভিসম্পাত করেন, যে কোনো বিদাতি লোককে আশ্রয় দেয় এবং ৪. যে ব্যক্তি জমিনের (সীমানার) চিহ্ন অন্যায়ভাবে পরিবর্তন করে তার ওপরও আল্লাহ লানত করেন। (মুসলিম, হাদিস : ৫০১৮)

মানুষকে অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানো :

যে ব্যক্তি মানুষকে ধারালো হাতিয়ার দিয়ে ভয় দেখায় তার ওপর ফেরেশতারা লানত করে। ইবনে সিরিন (রহ.) থেকে বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রতি (লৌহ নির্মিত) অস্ত্র উত্তোলন করে সে তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত ফেরেশতারা তাকে লানত করতে থাকে, যদিও তার সহোদর ভাই হয়।’(মুসলিম, হাদিস : ২৬১৬)

ঘুষ দেওয়া ও ঘুষ গ্রহণ করা :

আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) বলেছেন, ‘ঘুষ আদান-প্রদান করা লানতের কারণ। হাদিসে এসেছে, ‘রাসুল (সা.) ঘুষদাতা এবং ঘুষগ্রহীতার ওপর লানত করেছেন।’(আবু দাউদ, হাদিস : ৩৫৮০)

মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা :

মদপান করা, মদ বহনকারী, মদ বিক্রেতা ইত্যাদি কাজে জড়িতদের ওপর আল্লাহর লানত। আনাস বিন মালেক (রা.) বলেন, ‘মদের সঙ্গে সম্পৃক্ত দশম শ্রেণির লোককে রাসুল (সা.) লানত করেছেন। মদ প্রস্তুতকারী, যে মদ প্রস্তুত করতে বলে, পানকারী, বহনকারী, যার জন্য বহন করা হয়, যে পান করায়, বিক্রয়কারী, মূল্য গ্রহণকারী, যে মদ ক্রয় করে এবং যার জন্য ক্রয় করা হয়।’(তিরমিজি, হাদিস : ১২৯৫)

কবরকে সিজদার স্থান বানানো :

কবরের ওপর বা কবরকে সামনে রেখে সিজদা করলে লানত বর্ষিত হয়। আবদুল্লাহ (রা.) ও আয়েশা (রা.) উভয়েই বর্ণনা করেছেন যে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা ইহুদি ও নাসারাদের ওপর লানত করেছেন। কারণ তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছে।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৩৫)

গাইরুল্লাহর নামে পশু জবাই করা :

সালাত-সিয়াম, জবেহ-কোরবানি শুধু আল্লাহর নামে হতে হবে। এসব আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে করা হলে সেটা লানতের কারণ হবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে জবাই করল তার ওপর আল্লাহ লানত বর্ষণ করেন।’(মুসলিম, হাদিস : ১৯৭৮)

কুফর ও শিরক অবস্থায় মারা যাওয়া :

শিরক বা কুফরি করার পর তওবা না করে মারা গেলে এমন ব্যক্তির ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হয়। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই যারা অবিশ্বাস করে এবং অবিশ্বাসী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তাদের ওপর আল্লাহর লানত এবং ফেরেশতা ও গোটা মানবজাতির লানত।’(সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬১-১৬২)

রাসুল (সা.)-এর নাফরমানি করা :

যারা রাসুল (সা.)-এর নাফরমানি করে, তাদের ওপর তিনি লানত করেছেন। আর তারা কিয়ামত দিবসে একে অন্যকে লানত করতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যেদিন তাদের মুখমণ্ডল আগুনে ওলটপালট করা হবে, সেদিন তারা বলবে, হায়! যদি আমরা আল্লাহকে মানতাম ও রাসুলকে মানতাম! ‘তারা আরও বলবে, হে আমাদের রব! আমরা আমাদের নেতাদের ও বড়দের আনুগত্য করতাম। অতঃপর তারাই আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল। হে আমাদের রব! তাদের তুমি দ্বিগুণ শাস্তি দাও এবং তাদের মহা অভিশাপ দাও।’(সুরা ; আহজাব, আয়াত : ৬৬-৬৮)

তাকদির বা ভাগ্য অস্বীকার করা :

তাকদির বা ভাগ্য অস্বীকারকারী অভিশপ্ত। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ছয় ব্যক্তিকে আমি লানত করি, আল্লাহ তাআলা লানত করেন এবং প্রত্যেক নবী লানত করেছেন। (তারা হচ্ছে) আল্লাহর কিতাবে সংযোজনকারী, তাকদির মিথ্যা প্রতিপন্নকারী, শক্তি দ্বারা ক্ষমতা দখলকারী, যে ক্ষমতার বলে সে আল্লাহ তাআলা যাকে অপদস্থ করেছেন তাকে সম্মানিত করে এবং আল্লাহ যাকে সম্মানিত করেছেন তাকে অপদস্থ করে, আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু হালাল জ্ঞানকারী, আমার পরিবার-পরিজনদের মধ্যে যাদের আল্লাহ হারাম করেছেন তাদের হালাল জ্ঞানকারী ও আমার সুন্নাত পরিত্যাগকারী।’(তিরমিজি, হাদিস : ২১৫৪)

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ধর্ম

অপরিবর্তনীয় কোরআন যেভাবে পরিবর্তনশীল সংবিধানকে পথ দেখায়

Published

on

By

আশরাফ উদ্দিন খান

কুরআনের সব বিধান একই ধরনের নয়। কিছু বিধান ثابت (সাবিত/অপরিবর্তনীয়)—যার মূল হুকুম সময়, স্থান ও পরিস্থিতি বদলালেও পরিবর্তিত হয় না। আর কিছু বিধান متغير বা পরিবর্তনশীল তবে একটি “متغير” বলতে কুরআনের কোনো আয়াতের হুকুমকে ইচ্ছামতো পরিবর্তন করা বোঝায় না। বরং পরিবর্তনশীল হলো—প্রয়োগ, উপায়, শর্ত, পরিস্থিতিনির্ভর বিধান বা ইজতিহাদি সিদ্ধান্ত।

কিছু উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বুঝার চেষ্টা করি:

১. ثابت বিধান: যার মূল হুকুম স্থায়ী

ক. সালাত: আল্লাহ বলেন—وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ“তোমরা সালাত প্রতিষ্ঠা কর।”পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ফরজিয়ত কোনো যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে পরিবর্তিত হবে না। আধুনিক যুগে প্রযুক্তি এসেছে, জীবনযাত্রা বদলেছে—কিন্তু ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব ও এশার সালাত ফরজ হওয়া পরিবর্তনশীল নয়।

খ. রমজানের রোজা: فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোজা রাখে।”রোজার ফরজিয়ত ثابت

গ. উত্তরাধিকার: আল্লাহ বলেন—يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ“আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন”। উত্তরাধিকারের নির্ধারিত অংশগুলো কুরআনে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে এসেছে। এ ধরনের নির্ধারিত শরিয়তি অংশকে মানুষের সামাজিক পছন্দ অনুযায়ী পরিবর্তন করা যায় না।

ঘ. সুদের নিষেধাজ্ঞা: وَحَرَّمَ الرِّبَا“এবং তিনি সুদ হারাম করেছেন।”ব্যাংকিং ব্যবস্থা বদলেছে, ডিজিটাল অর্থনীতি এসেছে, অনলাইন লেনদেন এসেছে—কিন্তু রিবা হারাম হওয়ার মূলনীতি পরিবর্তিত হয়নি।

২. متغير: পরিবর্তনশীল ক্ষেত্র কোথায়?

এখানে সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ হলো শূরা ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসন। কুরআন বলে—وَأَمْرُهُمْ شُورَىٰ بَيْنَهُمْ“তাদের কার্যাবলি পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।”এখানে শূরা বা পরামর্শ করা —মূলনীতি। কিন্তু শূরা কীভাবে হবে? সরাসরি বৈঠকে? নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে? বিশেষজ্ঞ পরিষদের মাধ্যমে? সংসদীয় কাঠামোর মাধ্যমে? কোনো বিষয়ে জনমত গ্রহণের মাধ্যমে? এসব পদ্ধতি একই রকম হতে বাধ্য নয়। তাহলে মূলনীতি ثابت তবে প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি পরিবর্তনশীল হতে পারে।

ক. যুদ্ধের প্রস্তুতি: খুব গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণআল্লাহ বলেন—وَأَعِدُّوا لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ“তোমরা তাদের মোকাবিলার জন্য যথাসাধ্য শক্তি প্রস্তুত রাখো।”এখানে প্রস্তুতি গ্রহণের মূলনীতি স্থায়ী। কিন্তু রাসূল ﷺ-এর যুগে শক্তির যে উপকরণ ছিল, আজকের যুগে তা একই নয়। তখন ছিল— তলোয়ার, বর্শা, ঘোড়া, ঢাল ইত্যাদি। আজকের রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

খ. পোশাকের ক্ষেত্রে একই বিষয়: কুরআন বলে—يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآتِكُمْ وَرِيشًا“হে আদমসন্তান! আমি তোমাদের জন্য পোশাক নাযিল করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং সৌন্দর্যের উপকরণ। কুরআন মুসলিমদের জন্য একটি নির্দিষ্ট এক ধরনের পোশাক নির্ধারণ করেনি। তবে মূলনীতি হলো— সতর আবৃত করা, শালীনতা, সৌন্দর্য, অহংকার ও অশ্লীলতা থেকে বেঁচে থাকা। কিন্তু কোন কাপড়? জুব্বা, পাঞ্জাবি, শার্ট, পায়জামা, প্যান্ট, লুঙ্গি, এসবের অনেকটাই عرف ও সংস্কৃতিনির্ভর।

গ. ব্যবসা-বাণিজ্য: আল্লাহ বলেন—وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ“আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন”। ব্যবসা হালাল—এটি একটি মূলনীতি। কিন্তু রাসূল ﷺ-এর যুগের ব্যবসার মাধ্যম আর আজকের ব্যবসার মাধ্যম এক নয়। আজ আছে—অনলাইন শপ ই-কমার্স, ডিজিটাল পেমেন্ট, মোবাইল ব্যাংকিং, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। এসবের প্রত্যেকটির নাম কুরআনে থাকবে—এমন নয়।

তাই মূলনীতি: أحل الله البيع স্থায়ী। কিন্তু নতুন ব্যবসায়িক পদ্ধতিকে সেই মূলনীতি ও শরিয়াহর অন্যান্য বিধানের আলোকে যাচাই করা হবে।

ঘ. পরিবারে “معروف” ধারণাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ: কুরআনে বারবার بالمعروف বা “প্রচলিত ন্যায়সংগত রীতি অনুযায়ী” কথাটি এসেছে।যেমন—وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ“তোমরা তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন কর।” এখানে সৎভাবে আচরণ করা—স্থায়ী নীতি। কিন্তু পরিবারের— বাসস্থানের ধরন, দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, যোগাযোগের পদ্ধতি, পারিবারিক দায়িত্ব পালনের অনেক উপায় সামাজিক রীতি, দেশ, কাল ও সমাজভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। এখানে عرف ও معروف গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ইসলামী ফিকহের বড় কাজ হলো: কোনটি نصٌّ قطعي ও ثابت, কোনটি اجتهادي, কোনটি عرف ও مصلحة-নির্ভর এবং কোনটির প্রয়োগ পরিস্থিতিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে—তা সঠিকভাবে নির্ণয় করা। এক কথায়: الشريعة ثابتة في أصولها، مرنة في فروعها وتطبيقاتها المنضبطة.“শরিয়ত তার মৌলনীতিতে স্থির; আর তার বহু শাখা ও নিয়ন্ত্রিত প্রয়োগে রয়েছে নমনীয়তা।”

এভাবে যুগ যুগ ধরে অপরিবর্তনীয় কোরআন পরিবর্তনশীল সংবিধানকে নিয়ন্ত্রণ করেছে ও পথ দেখিয়েছে। মানব-প্রণীত সংবিধানে সংশোধন হয় কিন্তু ইসলামে ওহির মূল বিধানে সংশোধন নয়—বরং পরিবর্তনশীল বাস্তবতার জন্য ওহির নীতির অধীনে ইজতিহাদ ও প্রয়োগের বিকাশ হয়।

লেখা: আশরাফ উদ্দিন খান

খতিব, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ

Continue Reading

ধর্ম

বায়তুল মোকাররমে শুরু হচ্ছে পক্ষকালব্যাপী সিরাতুন্নবী অনুষ্ঠানমালা

Published

on

By

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৮ হিজরি উদযাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী ‘সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানমালা’ শুরু হচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট)। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব সাহানে বাদ মাগরিব উদ্বোধন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ আয়োজন শুরু হবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, পক্ষকালব্যাপী এ অনুষ্ঠানমালায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, কর্ম, আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ, শান্তি, সাম্য, ন্যায় ও সম্প্রীতির শিক্ষা সাধারণ মানুষের মধ্যে তুলে ধরতে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ওয়াজ মাহফিল, কেরাত মাহফিল, হামদ-নাত মাহফিল, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ বেতারের যৌথ উদ্যোগে সেমিনার এবং বাংলাদেশ বেতারে প্রচারিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শানে রচিত কবিতা পাঠের মাহফিল। এ ছাড়া স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সিরাত স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ, ইসলামী ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী এবং জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে।

এ ছাড়া আগামী ২৫ আগস্ট থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বাদ মাগরিব থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দেশের প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখরা ওয়াজ করবেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এসব আয়োজনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে নৈতিকতা, মানবিকতা, সহনশীলতা ও শান্তির চেতনা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এ পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের জনগণকে অংশগ্রহণ ও অনুষ্ঠানমালা উপভোগের জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

Continue Reading

top1

হজযাত্রীদের জন্য বিমান ভাড়া নিয়ে সুখবর

Published

on

By

আগামী ২০২৭ সালের পবিত্র হজযাত্রীদের জন্য সুখবর দিয়েছে সরকার। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের জন্য বিমান ভাড়া গত বছরের তুলনায় ৩৭ হাজার টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

জামায়াতকে টেক্কা দিয়ে ‘প্রকৃত বিরোধী দল’ হওয়ার চেষ্টায় কয়েকটি দল

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকার ২০২৭ সালের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা এবং দ্বিতীয় প্যাকেজের মূল্য ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি প্যাকেজ ৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

Continue Reading

Trending