রাবি প্রতিনিধি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় রাবি শাখা ছাত্রদল। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ভবনের সামনে মানববন্ধন করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন, অধ্যাপক মোজ্জাম্মেল হোসেন বকুল, অধ্যাপক মশিহুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার রানা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইরফান তামিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টাস ইউনিটির অর্থ সম্পাদক দীন ইসলাম, বিভাগটির মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ফারজানা তন্বি ও মাহমুদুল হাসান, তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাসিন সিদ্দিকা রূপা। মানববন্ধনটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবু সালেহ শোয়েব।
অধ্যাপক আল-আল মামুন বলেন, ‘জুলাইয়ের পরে এ রকম কোনো ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে, এ রকম দৃশ্য দেখতে হবে—আমরা এটা আশা করিনি। এই ঘটনায় দুইটি পক্ষ ফেসবুকে একে অপরকে মারার হুমকি দিয়ে আসছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত দুই দিনে প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে আছে এবং এই সুযোগে সহিংস ঘটনা ঘটেছে। আমাদের দাবি পরিষ্কার—যারা সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত শাস্তির উপযুক্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। সাংবাদিকরা জুলাই অভ্যুত্থানের সময় জনগণের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করেছে। এই সাংবাদিকরা আমাদের রক্ষাকবচ। আমরা যদি সঠিক সাংবাদিকতার সুযোগ না রাখতে পারি, তাহলে দেশ আবার অন্ধকারে ঢুকবে।’
শিক্ষকতার তিন দশকে সাংবাদিকদের ওপর কখনো এমন আঘাত দেখেননি বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক মশিহুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করে ফৌজদারি আইনের আওতায় শাস্তির ব্যবস্থা করুক। একই সঙ্গে অপরাধ প্রমাণিত হলে ছাত্রত্ব বাতিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যে শাস্তির সুযোগ রয়েছে, সেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যাতে একজন শিক্ষার্থী নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারে এবং গণমাধ্যমকর্মীরা নির্ভয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।’
সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে সকল গণমাধ্যম সংস্কার না হয়ে রাতারাতি দখলের চেষ্টা করল। সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। দুটি গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি হামলা হয়েছে। যখন এই হামলা হচ্ছে ঢাকাতে, তখন রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতিরা এই হামলার মদদ দিচ্ছে। অসাধারণ ব্যাপার! যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংস্কারের কথা বলতে চেয়েছিলাম, তার বদলে আরও ধ্বংশ হয়েছে। সবশেষ গতকাল এখানে খেয়াল করলে দেখা যাবে, নির্দিষ্ট করে করে সাংবাদিকদের মারা হয়েছে।’
বিভাগের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা যখন রক্তাক্ত, ব্যথায় কাতর, তখন আমাদের মানববন্ধনে দাঁড়াতে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা বিভাগের আজকে ক্লাস বর্জন করেছি। দুপুরে একাডেমিক কমিটির সভাও আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।’
শিক্ষার্থী ফারজানা তন্বি বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সব ধরনের স্পষ্ট ফুটেজ আছে। আজকের মধ্যে প্রশাসন যদি দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তির ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আজকেই পদত্যাগ করা উচিত। যে প্রশাসনের সামনে শিক্ষার্থীদের মারে, সেখানে প্রশাসনের অস্তিত্ব নেই।’
সম্মেলনে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।