Connect with us

top3

রাবি সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যোগে ‘সিজেন রিজিওনাল ক্লাস্টার মিটিং’ অনুষ্ঠিত

Published

on

রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যোগে ‘কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম এডুকেটরস নেটওয়ার্ক (সিজেন)-এর রিজিওনাল ক্লাস্টার মিটিং’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৩ সেপ্টেম্বর (রবিবার) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে এই কর্মশালাভিত্তিক সভার আয়োজন করা হয়।ডয়চে ভেলে (DW) একাডেমি এবং সিজেন (CJEN) বাংলাদেশের সহায়তায় এই অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়িত হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ULAB) উপ-উপাচার্য এবং সিজেন বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. জুড ডব্লিউ. আর. জেনিলো, ডয়চে ভেলে একাডেমি ঢাকার প্রজেক্ট ম্যানেজার ও কো-অর্ডিনেটর জিমি আমির, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, ‘সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব, সংবাদ গ্রহণের মাধ্যম হিসেবে শর্ট-ফর্ম ভিডিওর ব্যবহার এবং ভুল তথ্যের মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জগুলো শুধু শ্রেণিকক্ষের প্রশ্ন নয়, বরং আমাদের সমাজ, গণতন্ত্র ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন।’

এছাড়াও গবেষণার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের তিনি নিখুঁত অ্যাবস্ট্রাক্ট লেখার চাপ না নিয়ে তিনটি ধাপে কাজ করার পরামর্শ দেন—সুনির্দিষ্ট সমস্যা চিহ্নিত করা, অর্থপূর্ণ গবেষণার প্রশ্ন তৈরি করা এবং সেই প্রশ্নের উত্তর কেন গুরুত্বপূর্ণ তা অনুধাবন করা। এছাড়া তিনি শিক্ষকদের শুধু নির্দেশক নয়, বরং ‘মেন্টর’ হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথ গবেষণা ও সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সিজেন বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. জুড ডব্লিউ. আর. জেনিলো সিজেন-এর ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, ২০১৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘রাজশাহী ডিক্লারেশন’ এর মধ্য দিয়েই মূলত সিজেন-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ, জ্ঞান বিনিময় এবং যৌথ গবেষণা বৃদ্ধি করাই এই নেটওয়ার্কের মূল লক্ষ্য।

আসন্ন ১১তম সিজেন কনফারেন্স সম্পর্কে তিনি জানান, এবারের কনফারেন্সের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘মিডিয়া এডুকেশন ইন ট্রানজিশন’। সাংবাদিকতা শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং ভুল তথ্য মোকাবিলার মতো সমসাময়িক বিষয়গুলো এবারের আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান, কনফারেন্সে অংশগ্রহণের জন্য আগ্রহীদের ২৫০ শব্দের মধ্যে অ্যাবস্ট্রাক্ট জমা দিতে হবে। নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে তিনি শিক্ষার্থীদের একাধিক বিষয়ের ওপর অ্যাবস্ট্রাক্ট জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন।

এরপর সমাপনী বক্তব্যে ডয়চে ভেলে একাডেমি ঢাকার প্রজেক্ট ম্যানেজার ও কো-অর্ডিনেটর জিমি আমির বলেন, ‘ডিডব্লিউ একাডেমি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম উন্নয়ন ও সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করে। ২০১৪ সাল থেকে কারিকুলাম উন্নয়ন ও ক্যাম্পাস মিডিয়ার পাশাপাশি আমরা সিজেন প্রতিষ্ঠা করেছি। এছাড়া সিএমডি-র সাথে যৌথভাবে ‘ফিউচার সাসটেইনেবল কোয়ালিটি মিডিয়া’ প্রকল্পের মাধ্যমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে কাজ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। সিজেন একটি মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নয়ন সম্ভব। এই ইভেন্ট থেকে অর্জিত জ্ঞান সংশ্লিষ্ট খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং সিজেন বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী সদস্য আমেনা খাতুন। মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে বিকেল ৩টায় এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অষ্টম বর্ষে পদার্পণ

Published

on

By

ববি প্রতিনিধি

‘বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তারুণ্যের মূল প্রবাদ’—এই স্লোগানকে ধারণ করে ২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর যাত্রা শুরু করা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ববিসাস) গৌরব ও সাফল্যের সঙ্গে অষ্টম বর্ষে পদার্পণ করেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সমস্যা, শিক্ষার্থীদের সাফল্য ও সম্ভাবনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-গবেষণাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে গণমাধ্যমে তুলে ধরে আসছে।

আট বছরের পথচলায় ববিসাস বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ঘটনা ও কার্যক্রমের সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, সংকট ও সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরছে সংগঠনটির সদস্যরা। ক্যাম্পাসের ইতিবাচক উদ্যোগ, শিক্ষার্থীদের অর্জন, গবেষণা ও উদ্ভাবন, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যা ও অনিয়মের বিষয়ও গণমাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছেন তারা।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা ও সাংবাদিকতার নৈতিকতাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে আসছে ববিসাস। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে দায়িত্বশীল ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে সংগঠনটি।

ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের অধিকার, শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রগতি এবং সম্ভাবনাকে সমাজের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই ববিসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা বিষয় জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে তুলে ধরে আসছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ও বৃহত্তর সমাজের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদানের ক্ষেত্রেও সংগঠনটির কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরছে। বস্তুনিষ্ঠতার যে ভিশন নিয়ে ববিসাস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, আজ অষ্টম বছরে এসে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। ভবিষ্যতেও এই ধারা বজায় থাকবে বলে বিশ্বাস করি।”

তিনি আরো বলেন, “ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের কথা তুলে ধরা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রগতি ও সম্ভাবনাকে মানুষের সামনে নিয়ে আসা। একই সঙ্গে কোনো সমস্যা থাকলে তা সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টিতে আনা। ববিসাস ভবিষ্যতেও সাংবাদিকতার নীতি ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাবে।”

ববিসাসের আট বছরের পথচলায় সংগঠনটির বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা সদস্যদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান সদস্যদের কর্মচাঞ্চল্যের সমন্বয়ে সংগঠনটি সামনে আরও শক্তিশালী ও পেশাদার ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করতে চায়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই সময়ে সংগঠনটির সদস্যদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে ববিসাস আরও বেশি শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক ও তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার চর্চা করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা ও সম্ভাবনা সমান গুরুত্বে তুলে ধরার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অধিকার, শিক্ষা, গবেষণা ও অর্জনের খবর আরও বিস্তৃত পরিসরে গণমাধ্যমে পৌঁছে দেবে।

সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের প্রত্যয় নিয়ে শুরু হওয়া ববিসাসের আট বছরের পথচলা তাই কেবল একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপনের বিষয় নয়; বরং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বশীল ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার চর্চাকে আরও এগিয়ে নেওয়ারও একটি প্রত্যয়।

Continue Reading

top3

ইবিতে ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

দেশের ২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রথমবারের মতো ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন-২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সঙ্গে শিল্প খাতের সমন্বয়, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ‘শিক্ষা-শিল্পের ঐকতান: কর্মসংস্থানের সমাধান’ প্রতিপাদ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান।

সভায় বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভাবনা তুলে ধরেন। এ জন্য পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিল্প খাতের চাহিদার সমন্বয় এবং গবেষণা ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দেশের শিক্ষা ও গবেষণাব্যবস্থায় উদ্ভাবন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে স্টার্টআপ খাতে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষকদের একটি করে ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শিক্ষাকে আরও আনন্দময় ও প্রযুক্তিনির্ভর করা যায়।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের বহুভাষিক দক্ষতা অর্জন, সংস্কৃতিচর্চা ও খেলাধুলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য শিক্ষাক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি সফরে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের মেধাবীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের পর কয়েকজন বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে চিন্তা-চেতনা ও ধ্যানধারণায় মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষাক্রমে এসব পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটাতে না পারলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত অবস্থান তৈরি করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, গবেষণা, একাডেমিক কার্যক্রম ও পারস্পরিক সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তুত। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার সব সময় উন্মুক্ত থাকবে।

উপাচার্য আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ একাডেমিক কর্তৃপক্ষ একাডেমিক কাউন্সিল প্রতিটি ডিসিপ্লিনের পাঠ্যক্রমে তিন ক্রেডিটের ১০০ নম্বরের একটি করে শিল্পসংশ্লিষ্ট কোর্স অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ, গবেষণা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ ও সহযোগিতা গড়ে উঠবে।

উল্লেখ্য, সভায় স্কয়ার, প্রাণ-আরএফএল, নেসলে, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, আনোয়ার ইস্পাত, শাহ্‌জালাল ইসলামী ব্যাংক, বিআরবি ক্যাবলস, বাংলালিংক, টেলিটক, বিটোপিয়া লিমিটেড, বেনকিউ, টেকনোডেরা, এনসিংগা, টিপি-লিংক, সিটিও টেকনোলজি, এজি ফুড, রাজবাড়ী জুট মিলস, আকিজ রিসোর্স, আকিজ ভেঞ্চার, মাতাদোর, ওয়ালিদ লিফট, বিএটি বাংলাদেশ ও গোল্ডেন জুটসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও করপোরেট সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Continue Reading

top3

বেরোবিতে ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্স-এর এম ফিল ও পিএইচ ডি গবেষকদের ১ম সেমিস্টারের কোর্সওয়ার্ক ক্লাস শুরু

Published

on

By

বেরোবি প্রতিনিধি,

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর -এর ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্স-এর এম ফিল ও পিএইচ ডি গবেষকদের ১ম সেমিস্টারের কোর্সওয়ার্ক ক্লাসের পাঠদান আজ শনিবার (০৩ অক্টোবর, ২০২৬) একাডেমিক ভবন ০৩ এর মার্কেটিং বিভাগের ২০১ নং কক্ষে (গ্যালারি রুম) শুরু হয়েছে। এম ফিল ও পিএইচ ডি গবেষকদের বাধ্যতামূলক কোর্সওয়ার্ক ক্লাসে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পুনঃভর্তিকৃত এবং ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত পূর্ণকালীন ভর্তিকৃত সেখানে গবেষকগণ উপস্থিত ছিলেন।

আজ ১ম সেমিস্টারের কোর্সওয়ার্ক ক্লাসের নির্ধারিত কোর্স ঝঃধঃরংঃরপং রহ জবংবধৎপয (ওজঊ ১০১) এর কোর্সশিক্ষক বেরোবি পরিসংখ্যান বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ শাহ্জামান সকালে উপর্যুক্ত বিষয়ে পাঠদান সম্পন্ন করেন। অপরদিকে ১ম সেমিস্টারের কোর্সওয়ার্ক ক্লাসের নির্ধারিত আরেকটি কোর্স জবংবধৎপয গবঃযড়ফড়ষড়মু (ওজঊ ১০২) এর কোর্সশিক্ষক ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ মতিউর রহমান বিকেলে দ্বিতীয় সেশনে উপর্যুক্ত বিষয়ে পাঠদান সম্পন্ন করেন।

এম ফিল ও পিএইচ ডি গবেষকদের বাধ্যতামূলক কোর্সওয়ার্ক ক্লাস শুরু প্রসঙ্গে ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্স এর পরিচালক (দায়িত্বে) এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী বলেন, আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত আনন্দের দিন এ কারণে যে, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আরেকটি নতুন মাত্রা সংযোজিত হয়েছে। বেরোবি উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এম ফিল ও পিএইচ ডি গবেষকদের বাধ্যতামূলক কোর্সওয়ার্ক ক্লাসসহ সংশ্লিষ্ট কোর্সওয়ার্ক কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাঁরা তাঁদের গবেষণা কার্যক্রম নির্ধারিত তত্ত্বাবধায়কের অধীনে সম্পন্ন করবেন। গবেষকগণের গবেষণা কার্যক্রমের গবেষণালব্দ ফলাফল এ অঞ্চল ও দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবেন। ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সকে সচল ও কার্যকর রাখতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে পুনঃভর্তিকৃত গবেষকের সংখ্যা ৫৫ জন এবং ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে নিয়মিত পূর্ণকালীন ভর্তিকৃত গবেষকের সংখ্যা ১৩ জন। উল্লেখ্য যে, এম ফিল ও পিএইচ ডি প্রোগ্রাম সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী (শিক্ষাবর্ষ ২০২৫-২০২৬) গবেষকদের জন্য কোর্সওয়ার্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাধ্যতামূলক কোর্সওয়ার্ক ক্লাসের ১ম দিন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করায় কোর্সশিক্ষক, ইনস্টিটিউটে কর্মরত সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও বেরোবি উপাচার্য।

Continue Reading

Trending