Connect with us

ক্যাম্পাস

র‍্যাগিংয়ের অপরাধে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীকে শাস্তি

Published

on

ববি প্রতিনিধি 

নবীন শিক্ষার্থীদেরকে র‍্যাগিংয়ের অপরাধে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীকে এক বছর একাডেমিক বহিষ্কার অথবা অর্থদণ্ড দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির স্বাক্ষরিত আলাদা আলাদা চিঠিতে শাস্তির বিষয়টি জানানো হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক অপরাধের মাত্রানুযায়ী এই শাস্তি আরোপ করা হয়েছে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে। 

 আইন বিভাগের ৫ জন, মার্কেটিং বিভাগের ১৯জন, কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৪ জন,  রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১০জনসহ চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

 অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ৪৮ শিক্ষার্থীকে তিন ক্যাটাগরিতে শাস্তি দেয়া হয়েছে। কাউকে ১বছরের বহিষ্কার বা ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, কাউকে ৬ মাসের বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা। বাকিদের শুধুমাত্র ১০ হাজার টাকা জরিমানার শাস্তি দেয়া হয়েছে। 

বিভাগভিত্তিক শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন-আইন বিভাগ:

১৫ জুলাই আইন বিভাগে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। জয়শ্রী রাণী বিশ্বাসকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রুবাইয়া সুলতানা রাবা, মো. রিদোয়ান চৌধুরী, মো. মানজারুল হক ও রেসবুল হাসান আবিরকে এক বছরের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ:

২২ জুলাই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ১০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মো. কাজী নাবির, সুমাইয়া আক্তার রিয়া, ইয়ামিন হোসেন, ফারিয়া বিনতে হোসেনইলমা, মো. ওয়েদুজ্জামান রিফাত, মো. আরিফুল ইসলাম, সাদিয়া ইসলাম ও মো. নাইম ইসলামকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মাহি আনোয়ারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা ছয় মাসের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার এবং মো. রাকিবুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা এক বছরের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার করা হয়েছে।

মার্কেটিং বিভাগ:

১৯ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ১৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সুরাইয়া আক্তার, সৌরভ মালী, মো. মেহেদী হাসান অমি, আজিজুল ইসলাম চয়ন, ঐশী মহন্ত, এসএম সাইফুজ্জামান, মো. খালেদ হোসেন, জান্নাতুল বুশরা জুনি, আলিফ হোসেন নয়ন, নূর নবী, কিশোর কুমার দত্ত, রিফাত হাওলাদার ও হাসিব শেখকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

মো. সবুজ মিয়াকে এক বছরের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া সাদিয়া বেগম, স্নেহা আক্তার, ফারিয়া শিমুল কলি, দিদারুল ইসলাম ও তাশফিক কবির রাফিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

সিএসই বিভাগ:

৯ আগস্ট সিএসই বিভাগে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ১৪ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মো. মুজাহিদ হাওলাদার, অনিন্দা সাহা অর্ঘ্য, চন্দন মিস্ত্রি, কাউসার হোসেন সৌরভ, সুস্ময় তরুয়া, সাফায়েত ইসলাম শিহাব, অয়ন দাস দ্বীপ ও সিদ্ধার্থ সরকারকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

মো. মাসুম বিল্লাহ ও মুবিনুল ইসলাম নোবেলকে এক বছরের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মো. রবিউল ইসলাম, মো. মইনুল ইসলাম সাকিব, মো. রেজুয়ান আজাদ ওয়াসি ও মো. মাহফুজুর রহমানকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
 
চিঠিতে জানানো হয়েছে, জরিমানা পরিশোধের সময়সীমা পত্র ইস্যুর তারিখ থেকে ১ মাস। এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে দ্বিগুনহারে জরিমানা প্রযোজ্য হবে বলে পত্রতে উল্লেখ করা হয়।

কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল  বলেন,, “তিনটি ক্যাটাগরিতে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে—বহিষ্কার অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা। শিক্ষার্থীরা যেন ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ পায়, সেজন্য প্রথমবার জরিমানের বিকল্প রাখা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন অপরাধের ক্ষেত্রে সরাসরি বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন,” মোট ৪৮জন শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিং এর বিষয়ে শাস্তি দেয়া হয়েছে। র‍্যাগিংয়ের বিষয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় জিরো টলারেন্স নীতি পলো করছে। প্রাথমিকভাবে চারটি ডিপার্টমেন্টে তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে, ঐচারটি ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্টদের কে আমরা শাস্তির আওতাভুক্ত করেছি। আর অন্য একটি ডিপার্টমেন্ট তদন্ত রিপোর্টটে স্টুডেন্টের নাম উল্লেখ না করায় আমরা তাদের কে পুনরায় তদন্ত করার জন্য বলেছি। এবং পুনরায় তদন্ত রিপোর্ট নামসহ জমা দিলে আমরা তাদেরকে আইনের আওতায় আনবো।”

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

‘যা ইচ্ছা তাই করা’ স্বাধীনতা নয়, বরং দাসত্বের সবচেয়ে সূক্ষ্ম রূপ

Published

on

By

আশরাফ উদ্দিন খান

হাফপ্যান্ট যাদের ভূষণ ও স্বাধীনতা
আজকে হাফপ্যান্ট পরিধান করে যারা নিজেদের স্বাধীনতার প্রদর্শন করতে চায় তারা আসলে স্বাধীনতার মুখোশে আত্মসমর্পণ দেখাচ্ছে। তারা ভাবে “আমি যা চাই তাই করছি” মানে আমি স্বাধীন।

অথচ তারা সবচেয়ে বেশি বন্দি। বন্দি বিজ্ঞাপনের, বন্দি সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমের, বন্দি পুঁজিবাদের চাহিদা তৈরির কারখানার। “যা ইচ্ছা তাই করা” স্বাধীনতা নয়, বরং দাসত্বের সবচেয়ে সূক্ষ্ম রূপ।

ইচ্ছা কি সত্যিই আপনার?

আধুনিক ভোক্তাবাদী সমাজ তরুণদের শেখায়—”তোমার ইচ্ছা তোমার পরিচয়।” কিন্তু দার্শনিক প্রশ্ন হলো: এই ইচ্ছাগুলো কি সত্যিই আপনার নিজের?

আপনি হাফ প্যান্ট পরতে চান—কেন? কারণ আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কিন্তু এই “স্বাচ্ছন্দ্য” কোথা থেকে এলো? কে ঠিক করল যে হাফ প্যান্ট “স্বাচ্ছন্দ্যময়” আর পাঞ্জাবি “অস্বাচ্ছন্দ্যময়”? বিজ্ঞাপন, সিনেমা, সোশ্যাল মিডিয়া—এরা দশক ধরে আপনার মস্তিষ্কে এই সমীকরণ ঢুকে গেছে।

জাঁ-জাক রুশো দুই শতাব্দী আগে সতর্ক করেছিলেন: “মানুষ স্বাধীন জন্মগ্রহণ করে, কিন্তু সর্বত্র সে শৃঙ্খলাবদ্ধ।” আজকের তরুণরা মনে করে তারা শৃঙ্খলমুক্ত, অথচ তারা শৃঙ্খলাবদ্ধ—কিন্তু সে শৃঙ্খল লোহার নয়, ইচ্ছার শৃঙ্খল। আর ইচ্ছার শৃঙ্খল সবচেয়ে বিপজ্জনক, কারণ আপনি নিজেই তা পরতে স্বেচ্ছায় রাজি হন।

“যা ইচ্ছা তাই করা” বাস্তবেপশুর স্বাধীনতা

আইজায়া বার্লিন স্বাধীনতার দুই ধারণার পার্থক্য করেন—Negative Liberty (বাধা না থাকা) এবং Positive Liberty (আত্ম-নিয়ন্ত্রণ)। কিন্তু তিনি সতর্ক করেন, Positive Liberty যখন বিকৃত হয়, তখন তা স্বৈরাচারের হাতিয়ার হয়ে ওঠে।

আজকে আমাদের অনেকে Positive Liberty-এর সবচেয়ে বিকৃত রূপটি গ্রহণ করেছে—”আমি যা চাই, তা করব।” দার্শনিকভাবে এই অবস্থানটি অযৌক্তিক। কারণ:

পশুও যা চায় তাই করে —ক্ষুধা লাগলে খায়, ইচ্ছা হলে ঘুমায়। যদি “যা ইচ্ছা তাই করা” স্বাধীনতা হয়, তবে পশু সবচেয়ে স্বাধীন প্রাণী।

পক্ষান্তরে মানুষের স্বাধীনতা তার যুক্তিতে —মানুষ পারে ইচ্ছাকে বিশ্লেষণ করতে, পরিণতি ভাবতে, সঠিক-ভুল বিচার করতে। যে ব্যক্তি ইচ্ছার দাস, সে পশুর চেয়ে উন্নত নয়—সে কেবল আরও জটিল পশু।

ইমানুয়েল কান্ট বলেছেন—স্বাধীনতা মানে স্বায়ত্তশাসন (Autonomy) , অর্থাৎ নিজের যুক্তি দিয়ে নিজের নিয়ম তৈরি করা। আর “যা ইচ্ছা তাই করা” হলো বিষয়াসক্তি (Heteronomy) —অন্যের দেওয়া ইচ্ছার দাসত্ব।

সীমা ছাড়া স্বাধীনতা মানে বিশৃঙ্খলা

জন স্টুয়ার্ট মিল তাঁর On Liberty-তে স্পষ্ট বলেছেন: “আপনার স্বাধীনতার সীমা হলো অন্যের ক্ষতির সূচনা বিন্দু।” কিন্তু আজকের অনেকে এই সীমাকে “বাধা” বলে মনে করে।

আপনি যদি মেট্রোতে হাফ প্যান্ট পরে ওঠেন, আপনার পোশাক আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু মেট্রো একটি গণপরিবহণ সেখানে শিশু, বয়স্ক, নারী সবাই আছেন। আপনার “স্বাধীনতা” যদি তাদের অস্বস্তির কারণ হয়, তবে সেটি আর স্বাধীনতা নয়—সেটি অন্যের উপর আপনার ইচ্ছার চাপিয়ে দেওয়া।

দার্শনিকভাবে এটি “নেতিবাচক স্বাধীনতার অপব্যবহার”। মিল বলেছেন—স্বাধীনতা মানে “বাধা না থাকা,” কিন্তু এই বাধা কেবল আইনি নয়, সামাজিকও। যে ব্যক্তি সামাজিক রীতিকে “পুরনো” বলে উড়িয়ে দেয়, সে আসলে সামাজিক চুক্তি (Social Contract) ভঙ্গ করে। টমাস হবস বলেছেন—সমাজে বাস করতে হলে কিছু স্বাধীনতা ছাড়তে হয়, নইলে “সবার বিরুদ্ধে সবার যুদ্ধ” শুরু হয়।

“সচেতনতা” নামের অচেতনতা।

আজকের অনেকে মনে করে তারা “সচেতন” কারণ তারা “পুরনো নিয়ম” মানে না। কিন্তু দার্শনিকভাবে সচেতনতা মানে নিয়ম ভাঙা নয়—সচেতনতা মানে জানা কেন নিয়ম আছে, আর কেন ভাঙছি।

প্রকৃত স্বাধীনতা কি?

প্রকৃত স্বাধীনতা “যা ইচ্ছা তাই করা” নয়। প্রকৃত স্বাধীনতা হলো—জানা, বোঝা, বিচার করা, তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া।

যে ব্যক্তি ইচ্ছার দাস—সে দাস।
যে ব্যক্তি সামাজিক চাপে চলে—সে দাস। যে ব্যক্তি বিজ্ঞাপনের নির্দেশে পোশাক বেছে নেয়—সে দাস।
যে ব্যক্তি “ট্রেন্ড” অনুসরণ করে—সে দাস।

প্রকৃত স্বাধীন মানুষ সে-ই, যে জানে সে কেন যা করছে, তা করছে। যে প্রশ্ন করে—”এটি কি আমার ইচ্ছা, নাকি অন্যের তৈরি ইচ্ছা?” যে জানে—স্বাধীনতার সীমা অন্যের সম্মান। স্বাধীনতা মানে দায়িত্ব, স্বাধীনতা মানে সংযম, স্বাধীনতা মানে জানা ও বোঝা।

যে সমাজে প্রত্যেকে “যা ইচ্ছা তাই করে,” সে সমাজে কেউ স্বাধীন নয়—সবাই সবার ইচ্ছার দাস। আর যে সমাজে প্রত্যেকে জানে “কেন করছি,” সে সমাজেই প্রকৃত স্বাধীনতা বাস করে। সুস্থ রুচি ও সংস্কৃতির বিজয় হোক!

আশরাফ উদ্দিন খান
খতিব, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ

Continue Reading

ক্যাম্পাস

বাকৃবি উপাচার্যের সঙ্গে রোভার স্কাউট গ্রুপের মতবিনিময়

Published

on

By

বাকৃবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) রোভার স্কাউট গ্রুপের কার্যক্রম, অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদারের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর সচিবালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাকৃবি রোভার স্কাউট গ্রুপের সভাপতি ও ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমানের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন গ্রুপের সম্পাদক কৃষিবিদ ড. মো. জহিরুল আলম।

সভায় রোভার স্কাউট গ্রুপের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরেন কৃষিবিদ ড. মো. জহিরুল আলম। একই সঙ্গে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল, রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন এবং এডিশনাল রেজিস্ট্রার (সংস্থাপন) কৃষিবিদ ড. মো. নাজমুল হক।

মতবিনিময় সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের পাশাপাশি রোভার স্কাউট শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সঙ্গে সেবামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দায়িত্বশীল ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠছে। রোভার স্কাউটের কার্যক্রম আরও বেগবান করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

সভা শেষে বাকৃবি রোভার স্কাউট গ্রুপের পক্ষ থেকে সভাপতি ও ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান উপাচার্যকে একটি ফ্লাওয়ার বেস উপহার দেন।


Continue Reading

top3

ইবিস্থ দিনাজপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায়

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অধ্যয়নরত দিনাজপুর জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘দিনাজপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি’র নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মুগ্ধ সরোবরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নবীনদের ফুল, ক্রেস্ট ও চাবির রিং দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইনসানুল ইমামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আব্দুল মুন্তাকিম আল-মারুফ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ফিরোজ আল মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিসের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল মালেক, পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক সিলভিয়া খানম ও ফাইন আর্টস বিভাগের অধ্যাপক অনিন্দিতা হাবিব।

অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মুন্তাকিম আল-মারুফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দিনাজপুর জেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্য সুদৃঢ় করাই আমাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য। নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে স্বাগত জানানো এবং তাদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব। এই পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নিতে নবীনদের একে অপরের সহযোগিতা করতে হবে। শুধু একাডেমিক পড়াশোনা নয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমেও নিজেদের সম্পৃক্ত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন নিজেকে দক্ষ, যোগ্য ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ সময়। একই সঙ্গে আমাদের জেলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সুনাম ধরে রাখার দায়িত্বও সবার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহকারী অধ্যাপক মো. ফিরোজ আল মামুন বলেন, “বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থীর মূল লক্ষ্য যেন শুধু সার্টিফিকেট অর্জন করা অথচ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করাই হওয়া উচিত প্রধান উদ্দেশ্য। বর্তমান সময়ে সাধারণ জ্ঞানের পাশাপাশি বিশেষ জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জন জরুরি। নিজের যে বিষয়ে পারদর্শিতা রয়েছে, সে বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। পাশাপাশি লিংকইন্ড, বিডিজবসসহ পেশাগত যোগাযোগের প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকা এবং কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ অনেক সময় যোগ্যতার পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতাও ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

তিনি আরও বলেন, “ভালো ফলাফলও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও সিজিপিএ ও যোগাযোগ দক্ষতা বিবেচিত হয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে। ইসলামের প্রথম বার্তাগুলোর একটি হলো ‘ইকরা’ অর্থাৎ পড়ো। জ্ঞান অর্জনের জন্য নিয়মিত পড়াশোনার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে বাবা-মা, শিক্ষক ও অন্যদের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং একজন ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।”

বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় নেওয়ার সময় এমন একটি পরিচয় রেখে যেতে হবে, যাতে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ভদ্রতা, বিনয়, ভালো ফলাফল ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্য স্মরণ করেন। ক্যাম্পাসের অস্থিতিশীলতা বা কোনো নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে নয়, বরং ভালো উদ্যোগ, মানবিক কাজ ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে নিজেদের পরিচিত করতে হবে।”

Continue Reading

Trending