Connect with us

top1

শিক্ষিকা হত্যা: চার দফা দাবিতে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ, কী হয়েছিল সেদিন?

Published

on

স্টাফ রিপোর্টার:

গেল ১৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক ঘোষিত নববর্ষ উদযাপন কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি শিক্ষিকা রুনা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত সহ ৪ দফা দাবিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এসময় দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনে ও প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়েছিলেন তারা। দুপুর ১২ টায় থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। প্রথমে নির্ধারিত সময়ের আল্টিমেটাম, পরে কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি না পেয়ে অবস্থানরত বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন-সহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে চার দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হল— নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সকল দোষীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও একজন সদস্যের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, নির্মাণাধীন হল ম্যামের নামে নামকরণ করা ও বিভাগে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া। তবে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে প্রশাসন ভবনের ভিতরে থাকা অবরুদ্ধ এক ব্যক্তির অসদাচরণের কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হন। ওই সময় উত্তেজিত অবস্থায় শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠনের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলতে দেখা যায়।

তখন আন্দোলনরত বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, “ম্যাম হত্যার ৪২দিন পার হওয়ার পরেও আমরা দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। যার প্রেক্ষিতে প্রথমে অবস্থান কর্মসূচি করি এবং যথাসময়ে প্রশাসনের কোনো রেসপন্স না পেয়ে তালা দিলে ভিসি স্যার ও অন্যান্য শিক্ষকেরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পরবর্তীতে ভিসি স্যাররা ডিপার্টমেন্টে এসে আমাদের সাথে বসেন এবং আমরা ভিসি স্যারের কাছে ফেস টু ফেস অনেক কথাবার্তা বলেছি।”

ব্যানার ছেঁড়া নিয়ে সমালোচনা ও অভিযোগ:

প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করলে ভিতর থেকে এক কর্মকর্তার সঙ্গে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বাগবিতণ্ডা হয়। উত্তেজিত অবস্থায় পাশে টাঙানো ছবি সম্বলিত ব্যানার (ছাত্র সংগঠন, জিয়া পরিষদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত) ছিঁড়ে ফেলতে দেখা যায়। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়। শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেন, “আমরা এতদিন আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু এমন ঘটনা ঘটতে দেখিনি। হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়া উচিত।”

ব্যানার ছিঁড়ার বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করে বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেইদিন (১৫ এপ্রিল) বিকালে সাংবাদিকদের এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “এক কর্মকর্তা আমাদের সঙ্গে মিসবিহেভ করলে উত্তেজিত অবস্থায় ব্যানার ছেঁড়ার ঘটনা ঘটেছে। যা অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা ইচ্ছাকৃত করিনি। দুঃখপ্রকাশ করছি।”

কর্মচারীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাগবিতণ্ডা:

চার দাবিতে প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেয় সমাজকল্যাণ বিভাগের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ওই সময় ভিতরে অবরুদ্ধ থাকা এক কর্মচারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উচ্চবাচ্য করতে শোনা যায়। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “তোমরা ভিসি স্যারের রুমে গিয়ে তালা দেও, আমাদের আটকিয়ে রাখছো কেন? আমাদের কষ্ট দিবি কেন? ওনার কাছে গিয়ে বিচার চাও, দরজার খুলে দাও। খুলে দিতে বলছি কিন্তু……”। পরপরই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। এদিক থেকে শিক্ষার্থীরা বলেছিলেন, “কষ্ট কি শুধু আপনার হচ্ছে? পারলে বিচার আপনিও চান। ধৈর্য্য ধরতে হবে। বেশি কথা বাড়াবেন না, সরে যান এখান থেকে…..”। একপর্যায়ে “ওনারে ধর ধর” বলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ছুটাছুটি করতে লাগছিলেন।

ব্যানার ছিঁড়ে অবমাননার অভিযোগে প্রতিবাদলিপি:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ছবি ও জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘জিয়া পরিষদ’ ও ‘ইউট্যাব’। দোষীদের সনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুই সংগঠনের নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষরিত পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মনে করেন, প্রশাসন ভবনের সামনে কতিপয় ছাত্র নামধারী দুষ্কৃতিকারী দেশের আপসহীন নেত্রী সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জাতীয় পতাকার ছবি সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার ছিঁড়ে পদদলিত করে। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত হলদে পারে না। জাতীয় পতাকা আমাদের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। একইসঙ্গে দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননা করা শুধু ব্যক্তির প্রতি নয়, বরং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর আঘাত। যারা এ ধরনের ঘৃণ্য কাজে জড়িত, তারা প্রকৃত ছাত্র হতে পারে না। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উত্তেজনা সৃষ্টির মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই অবমাননাকর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ব্যানার ছেঁড়ার ইস্যুতে শিক্ষকদের প্রতিবাদ সমাবেশ:

গত ১৯ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি অবমাননার অভিযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জাতীয়তাবাদী বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন ‘ইউট্যাব’ ও ‘জিয়া পরিষদ’। এসময় সংহতি জানিয়ে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা সংগঠন ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে কেউ ৭ দিন আর কেউ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আল্টিমেটাম দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। ১৫ তারিখের ঘটনা ১৯ তারিখ পার হওয়ায় অনেকে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, “প্রশাসনিক চেয়ারে যারা বসে আছে তারা কী করে? যদি আপনারা সরকারের সম্মান রক্ষা করতে না পারেন তাহলে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে চলে যান। আর যদি দায়িত্ব উপযুক্তভাবে পালন করতে পারেন তাহলে দায়িত্বে থাকেন।”

তারা আরও বলেন, “খালেদা জিয়ার অবমাননা মানে বাংলাদেশের অবমাননা, একটি চক্র এরকম তাজ করেই যাবে যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়।”

৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন:

প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ভবনে তালা লাগিয়ে অবরুদ্ধ করা, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা, ভাংচুর করা, উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস শাহীদ মিয়া-কে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করা। অন্যান্য সদস্যরা হলেন- অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরীফ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহাবুল আলম, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. খাইরুল ইসলাম, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. শহিদুল ইসলাম।

শিক্ষার্থীদের দুঃখপ্রকাশ:

শিক্ষক সংগঠনের প্রতিবাদ সমাবেশের পর গতকাল (২০ এপ্রিল) বিষয়টা স্পষ্ট করতে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যা দিলেন সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ঘটনার দিন (১৫ এপ্রিল) বিকেলেই আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকে আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি। আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে দেখেছি- গতকালকে আমাদের সম্মানিত শিক্ষকরা একটা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। এটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত আমরা জানি না। তারপরও যদি উনারা কষ্ট পেয়ে থাকেন; আমরা সমাজকল্যাণ পরিবারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা চাই না ম্যামের হত্যাকাণ্ডের বিচার কেউ রাজনৈতিকভাবে অন্যদিকে ডাইভার্ট করুক।তারা বলেন, দাবি আদায়ে যখন আমরা প্রশাসন ভবনের গেটে তালা দিই, গুটিকয়েক শিক্ষার্থী ও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ভিতরে আটকা ছিল। উনারা আমাদেরকে বলছিল যে “আপনারা গেট খুঁলে দেন”। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের তাড়া বা খুব বেশি সমস্যা যাদের ছিল, তাদের প্রবেশ/বাহির হওয়ার সুযোগ দিয়েছি। ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে কর্মচারীদের বলেছিলাম যে “ভিসি স্যার আসা পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করেন, যদি কথা বলে সন্তুষ্ট হই; আমরা আপনাদেরকে ছেড়ে দিব।”

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, একপর্যায়ে রেজিস্টারভুক্ত কর্মচারী কি-না জানি না, একজন লোক আমাদের সাথে এবং আমাদের মেয়েদের স্লেজিং করেন। রাগান্বিত অবস্থায় তেড়ে আসার চেষ্টা করেন। পরপরই হুমকি ধামকি দিচ্ছিল তিনি। তখন আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঐ মানুষটার সাথে একটু বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটায়। গেটের বামপাশের যে পুরোটা দৃশ্য বিভিন্ন ব্যানারে আটকা। ওখানে দেখা যায় না। উনি যখন ব্যানারের ওপাশে লুকিয়ে যায়, নিচ থেকে উনার (কর্মচারীর) পা দেখা যাচ্ছিল। তখন শিক্ষার্থীরা তাঁকে খুঁজতে গিয়ে ব্যানার বেখেয়ালি সরাতে যায়। ব্যানারগুলো সাধারণত শক্ত রশি দিয়ে টাঙানো না। কর্মচারীকে দেখতে গিয়ে উত্তেজিত অবস্থায় ব্যানারগুলো ছিঁড়ে পড়ে যায়। আমরা কোনো ইনটেনশনালি এই কাজ করতে যাইনি। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী ম্যামের হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইতে গিয়েছি।

আসামির রিমান্ড শেষে পরবর্তী প্রক্রিয়া:

শিক্ষিকা রুনা হত্যার প্রধান আসামির ২ দিন পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞেসাবাদের (রিমান্ড) পর বিজ্ঞ আদালতে রিপোর্ট জমা দিয়েছে পুলিশ। বাদীপক্ষ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ সাইদ এই বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলমান। যদি ঘটনাক্রমে আরও জিজ্ঞেসাবাদের প্রয়োজন পড়ে তারা যেকোনো সময় রিমান্ড চাইবেন। আসামি পক্ষ যদি জামিন চাওয়া তাহলে রাষ্ট্রপক্ষ নামঞ্জুরের প্রক্রিয়ায় যাবেন।

(প্রতিবেদনে সহযোগিতা করেছেন ক্যাম্পাস সাংবাদিক রবিউল আলম ও মোসাদ্দেক হোসেন)

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

পুলিশ বাহিনীতে দুর্নীতির কোনো স্থান নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published

on

By

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশ বাহিনীতে দুর্নীতির কোনো স্থান নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বজায় রাখা হবে এবং বাহিনীর ‘চেইন অব কমান্ড’ ও ডিসিপ্লিন রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।

সোমবার (১১ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষ্যে ‘ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তৃতা করেন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন।

মন্ত্রী বলেন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে অপরাধের ধরন ও মাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। সেজন্য সাইবার ক্রাইম, সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব এবং অপপ্রচার প্রতিরোধে একটি বিশেষায়িত ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠন করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশের পেশাদারিত্ব বাড়াতে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে দুটি নতুন পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি হবে এলিট ফোর্সের জন্য এবং অন্যটি সাধারণ ফোর্সের জন্য। এলিট ফোর্সের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আলাদা লেজিসলেশন (আইন) প্রণয়ন করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাছাড়া জমি প্রাপ্তি সাপেক্ষে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘পুলিশ স্পোর্টস কমপ্লেক্স’ নির্মাণ করা হবে।

অপারেশনাল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যূনতম বল প্রয়োগ নীতি অনুসরণে পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অপরাধ দমনে কৌশলী হতে হবে, তবে কোনো অবস্থাতেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করা যাবে না।

মন্ত্রী পুলিশের সেবার মানোন্নয়নে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ও অনলাইন জিডিসহ সব ধরনের সেবা দ্রুততম সময়ে প্রদানের নির্দেশ দেন। তিনি ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়িয়ে পর্যটন খাতের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি, অ্যাডিশনাল ডিআইজি, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।

Continue Reading

top1

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার: সেতুমন্ত্রী

Published

on

By

সরকার দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, আমরা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে চলছি, বলবো আমি এই মুহূর্তে। ফিজিবিলিটি স্টাডি অলরেডি কমপ্লিট। অর্থায়নের জায়গাটা নিয়ে ভাবছি, কথা বলছি। আর ধরেন অন্যান্য প্রাক-প্রস্তুতি চলছে।

সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল আজহায় নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিতে প্রস্তুতি সভা শেষে এ কথা বলেন তিনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক কমে যাবে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নিয়ে তিনটি প্রস্তাবনা আছে তার এক নম্বর প্রস্তাবনা দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে।

চলতি মাসের শেষদিকে পবিত্র ঈদুল আজহার যাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, এ বছর ঈদে গার্মেন্টসগুলো পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া হবে। গত ঈদে হঠাৎ করে গার্মেন্টস ছুটি দেয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। তাই এবার গার্মেন্টসগুলো পর্যায়ক্রমে ছুটি দেয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, গত ঈদুল ফিতরের সময় ঈদযাত্রায় যেসকল ব্যত্যয় ঘটেছিল, সেগুলো নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেবে সরকার। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ৬৯ টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

Continue Reading

top1

কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্য

Published

on

By

কুষ্টিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে শেফা নামের ১১ বছর বয়সী আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ জনে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ২৮ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মৃত শিশু শেফা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কুমারগাড়া এলাকার আক্তার হোসেনের মেয়ে। গতকাল রবিবার (১০ মে) বিকেল ৪টার সময় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাত পৌনে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন মোট ৭৫ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩০ জন। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সমন্বিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত জেলায় সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,২১৩ জনে। এর মধ্যে কুষ্টিয়া সদর এলাকাতেই আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি।

উপজেলা ভিত্তিক আক্রান্তের চিত্রে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ৮ জন, খোকসায় ১ জন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ১৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ।

তথ্যমতে, এ পর্যন্ত আক্রান্ত ১,২১৩ জনের মধ্যে ১,০৯৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এখনও অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যানুযায়ী, নিশ্চিতভাবে হাম প্রমাণিত রোগীর সংখ্যা ৩ জন হলেও সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছা. ফাতেমা খাতুন জানান, ভর্তিকৃত শিশুদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের অবস্থা দ্রুত অবনতি হওয়ায় মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, জেলাজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের শরীরে জ্বর ও লালচে দানা দেখা দেওয়ার সাথে সাথে নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে। অবহেলা করলে নিউমোনিয়া বা অন্যান্য জটিলতায় মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় কুষ্টিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

অনেক অভিভাবক অভিযোগ করছেন, সঠিক সময়ে টিকাদান নিশ্চিত না হওয়ায় এবং সচেতনতার অভাবে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ মেডিকেল টিম এবং তদারকি জোরদার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে

Continue Reading

Trending