Connect with us

top1

শিক্ষিকা হত্যা: চার দফা দাবিতে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ, কী হয়েছিল সেদিন?

Published

on

স্টাফ রিপোর্টার:

গেল ১৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক ঘোষিত নববর্ষ উদযাপন কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি শিক্ষিকা রুনা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত সহ ৪ দফা দাবিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এসময় দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনে ও প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়েছিলেন তারা। দুপুর ১২ টায় থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। প্রথমে নির্ধারিত সময়ের আল্টিমেটাম, পরে কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি না পেয়ে অবস্থানরত বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন-সহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে চার দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হল— নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সকল দোষীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও একজন সদস্যের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, নির্মাণাধীন হল ম্যামের নামে নামকরণ করা ও বিভাগে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া। তবে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে প্রশাসন ভবনের ভিতরে থাকা অবরুদ্ধ এক ব্যক্তির অসদাচরণের কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হন। ওই সময় উত্তেজিত অবস্থায় শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠনের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলতে দেখা যায়।

তখন আন্দোলনরত বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, “ম্যাম হত্যার ৪২দিন পার হওয়ার পরেও আমরা দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। যার প্রেক্ষিতে প্রথমে অবস্থান কর্মসূচি করি এবং যথাসময়ে প্রশাসনের কোনো রেসপন্স না পেয়ে তালা দিলে ভিসি স্যার ও অন্যান্য শিক্ষকেরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পরবর্তীতে ভিসি স্যাররা ডিপার্টমেন্টে এসে আমাদের সাথে বসেন এবং আমরা ভিসি স্যারের কাছে ফেস টু ফেস অনেক কথাবার্তা বলেছি।”

ব্যানার ছেঁড়া নিয়ে সমালোচনা ও অভিযোগ:

প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করলে ভিতর থেকে এক কর্মকর্তার সঙ্গে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বাগবিতণ্ডা হয়। উত্তেজিত অবস্থায় পাশে টাঙানো ছবি সম্বলিত ব্যানার (ছাত্র সংগঠন, জিয়া পরিষদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত) ছিঁড়ে ফেলতে দেখা যায়। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়। শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেন, “আমরা এতদিন আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু এমন ঘটনা ঘটতে দেখিনি। হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়া উচিত।”

ব্যানার ছিঁড়ার বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করে বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেইদিন (১৫ এপ্রিল) বিকালে সাংবাদিকদের এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “এক কর্মকর্তা আমাদের সঙ্গে মিসবিহেভ করলে উত্তেজিত অবস্থায় ব্যানার ছেঁড়ার ঘটনা ঘটেছে। যা অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা ইচ্ছাকৃত করিনি। দুঃখপ্রকাশ করছি।”

কর্মচারীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাগবিতণ্ডা:

চার দাবিতে প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেয় সমাজকল্যাণ বিভাগের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ওই সময় ভিতরে অবরুদ্ধ থাকা এক কর্মচারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উচ্চবাচ্য করতে শোনা যায়। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “তোমরা ভিসি স্যারের রুমে গিয়ে তালা দেও, আমাদের আটকিয়ে রাখছো কেন? আমাদের কষ্ট দিবি কেন? ওনার কাছে গিয়ে বিচার চাও, দরজার খুলে দাও। খুলে দিতে বলছি কিন্তু……”। পরপরই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। এদিক থেকে শিক্ষার্থীরা বলেছিলেন, “কষ্ট কি শুধু আপনার হচ্ছে? পারলে বিচার আপনিও চান। ধৈর্য্য ধরতে হবে। বেশি কথা বাড়াবেন না, সরে যান এখান থেকে…..”। একপর্যায়ে “ওনারে ধর ধর” বলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ছুটাছুটি করতে লাগছিলেন।

ব্যানার ছিঁড়ে অবমাননার অভিযোগে প্রতিবাদলিপি:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ছবি ও জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘জিয়া পরিষদ’ ও ‘ইউট্যাব’। দোষীদের সনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুই সংগঠনের নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষরিত পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মনে করেন, প্রশাসন ভবনের সামনে কতিপয় ছাত্র নামধারী দুষ্কৃতিকারী দেশের আপসহীন নেত্রী সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জাতীয় পতাকার ছবি সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার ছিঁড়ে পদদলিত করে। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত হলদে পারে না। জাতীয় পতাকা আমাদের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। একইসঙ্গে দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননা করা শুধু ব্যক্তির প্রতি নয়, বরং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর আঘাত। যারা এ ধরনের ঘৃণ্য কাজে জড়িত, তারা প্রকৃত ছাত্র হতে পারে না। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উত্তেজনা সৃষ্টির মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই অবমাননাকর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ব্যানার ছেঁড়ার ইস্যুতে শিক্ষকদের প্রতিবাদ সমাবেশ:

গত ১৯ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি অবমাননার অভিযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জাতীয়তাবাদী বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন ‘ইউট্যাব’ ও ‘জিয়া পরিষদ’। এসময় সংহতি জানিয়ে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা সংগঠন ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে কেউ ৭ দিন আর কেউ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আল্টিমেটাম দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। ১৫ তারিখের ঘটনা ১৯ তারিখ পার হওয়ায় অনেকে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, “প্রশাসনিক চেয়ারে যারা বসে আছে তারা কী করে? যদি আপনারা সরকারের সম্মান রক্ষা করতে না পারেন তাহলে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে চলে যান। আর যদি দায়িত্ব উপযুক্তভাবে পালন করতে পারেন তাহলে দায়িত্বে থাকেন।”

তারা আরও বলেন, “খালেদা জিয়ার অবমাননা মানে বাংলাদেশের অবমাননা, একটি চক্র এরকম তাজ করেই যাবে যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়।”

৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন:

প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ভবনে তালা লাগিয়ে অবরুদ্ধ করা, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা, ভাংচুর করা, উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস শাহীদ মিয়া-কে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করা। অন্যান্য সদস্যরা হলেন- অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরীফ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহাবুল আলম, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. খাইরুল ইসলাম, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. শহিদুল ইসলাম।

শিক্ষার্থীদের দুঃখপ্রকাশ:

শিক্ষক সংগঠনের প্রতিবাদ সমাবেশের পর গতকাল (২০ এপ্রিল) বিষয়টা স্পষ্ট করতে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যা দিলেন সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ঘটনার দিন (১৫ এপ্রিল) বিকেলেই আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকে আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি। আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে দেখেছি- গতকালকে আমাদের সম্মানিত শিক্ষকরা একটা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। এটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত আমরা জানি না। তারপরও যদি উনারা কষ্ট পেয়ে থাকেন; আমরা সমাজকল্যাণ পরিবারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা চাই না ম্যামের হত্যাকাণ্ডের বিচার কেউ রাজনৈতিকভাবে অন্যদিকে ডাইভার্ট করুক।তারা বলেন, দাবি আদায়ে যখন আমরা প্রশাসন ভবনের গেটে তালা দিই, গুটিকয়েক শিক্ষার্থী ও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ভিতরে আটকা ছিল। উনারা আমাদেরকে বলছিল যে “আপনারা গেট খুঁলে দেন”। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের তাড়া বা খুব বেশি সমস্যা যাদের ছিল, তাদের প্রবেশ/বাহির হওয়ার সুযোগ দিয়েছি। ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে কর্মচারীদের বলেছিলাম যে “ভিসি স্যার আসা পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করেন, যদি কথা বলে সন্তুষ্ট হই; আমরা আপনাদেরকে ছেড়ে দিব।”

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, একপর্যায়ে রেজিস্টারভুক্ত কর্মচারী কি-না জানি না, একজন লোক আমাদের সাথে এবং আমাদের মেয়েদের স্লেজিং করেন। রাগান্বিত অবস্থায় তেড়ে আসার চেষ্টা করেন। পরপরই হুমকি ধামকি দিচ্ছিল তিনি। তখন আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঐ মানুষটার সাথে একটু বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটায়। গেটের বামপাশের যে পুরোটা দৃশ্য বিভিন্ন ব্যানারে আটকা। ওখানে দেখা যায় না। উনি যখন ব্যানারের ওপাশে লুকিয়ে যায়, নিচ থেকে উনার (কর্মচারীর) পা দেখা যাচ্ছিল। তখন শিক্ষার্থীরা তাঁকে খুঁজতে গিয়ে ব্যানার বেখেয়ালি সরাতে যায়। ব্যানারগুলো সাধারণত শক্ত রশি দিয়ে টাঙানো না। কর্মচারীকে দেখতে গিয়ে উত্তেজিত অবস্থায় ব্যানারগুলো ছিঁড়ে পড়ে যায়। আমরা কোনো ইনটেনশনালি এই কাজ করতে যাইনি। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী ম্যামের হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইতে গিয়েছি।

আসামির রিমান্ড শেষে পরবর্তী প্রক্রিয়া:

শিক্ষিকা রুনা হত্যার প্রধান আসামির ২ দিন পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞেসাবাদের (রিমান্ড) পর বিজ্ঞ আদালতে রিপোর্ট জমা দিয়েছে পুলিশ। বাদীপক্ষ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ সাইদ এই বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলমান। যদি ঘটনাক্রমে আরও জিজ্ঞেসাবাদের প্রয়োজন পড়ে তারা যেকোনো সময় রিমান্ড চাইবেন। আসামি পক্ষ যদি জামিন চাওয়া তাহলে রাষ্ট্রপক্ষ নামঞ্জুরের প্রক্রিয়ায় যাবেন।

(প্রতিবেদনে সহযোগিতা করেছেন ক্যাম্পাস সাংবাদিক রবিউল আলম ও মোসাদ্দেক হোসেন)

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

ফ্যামেলি কার্ড বিতরণে অনিয়ম বরদাস্ত করা হয়নি: অর্থমন্ত্রী

Published

on

By

অনলাইন ডেস্ক

ফ্যামেলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ফ্যামেলি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি; প্রকৃত হকদারদের ন্যায্যতার ভিত্তিতে কার্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এইচএসবিসি ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় এবং ব্র্যাকের বাস্তবায়নে ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন সহায়তা প্রকল্প’-এর উদ্বোধন ও প্রকল্প পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানো হচ্ছে। অতীতে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলেও বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এতে দুর্নীতি কমার পাশাপাশি কাজ দ্রুত ও সঠিকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষে সব ক্ষেত্রে সরাসরি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ নয়। সেবা প্রদানের ব্যবস্থায় বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলো যুক্ত থাকলে কাজ দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগও কমে।

সভায় জানানো হয়, জুলাই মাসের আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিবারগুলোর নিরাপদ আবাসন, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যবিধি, জীবিকা, কৃষি ও শিক্ষা খাত পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া, কক্সবাজারের চকরিয়া এবং চট্টগ্রাম নগরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করবে ব্র্যাক। সাত মাস মেয়াদি প্রকল্পে ৪০০ পরিবারকে ল্যাট্রিন নির্মাণে সহায়তা, ৩০টি টিউবওয়েল মেরামত ও পুনর্নির্মাণ, ৩০০ পরিবারকে জীবিকা পুনরুদ্ধারে সহায়তা এবং ২৫০ পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত ও পুনর্নির্মাণে সহায়তা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ৬০০ পরিবারকে কৃষি উপকরণ, ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় মেরামত ও পুনর্নির্মাণ এবং ১০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে ৩০০টি সচেতনতামূলক সেশন আয়োজন করা হবে।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ১০ কোটি টাকা, যার পুরো অর্থায়ন করবে এইচএসবিসি ব্যাংক।

Continue Reading

top1

নেপাল-চীনে ভয়াবহ বন্যায় নিহত প্রায় ৭০০, নিখোঁজ ৩ হাজার

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ৬৭৫ জন এবং চীনে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই দেশে এখনও প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের শত শত বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালে ধ্বংসস্তূপ ও পানির নিচে থাকা মরদেহ উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালকে মানবিক সহায়তা হিসেবে ৩৬ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে দেশটি ৫ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিল।

এদিকে চীনে গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার সকালে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চীনে নিখোঁজের সংখ্যা কমে ৫৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। এদের মধ্যে ১৮ জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

গত বুধবার চীন সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসে বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ নেমে আসার পর আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে নেপালের রাসুয়া ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৬৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়নি। বন্যার পানিতে ওই অঞ্চলের সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

দুর্যোগের পর নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী এলাকার বাসিন্দা এবং উদ্ধারকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্যও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, পর্যটক ও বিদেশি কর্মীসহ ৫৮৯ জন বিদেশি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালি ও বিদেশি নাগরিক মিলিয়ে মোট ৭৫৩ জন পর্যটকেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে ১৮৩ জন ভারতীয়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৮৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও ২৮৭ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত চার ভারতীয় নাগরিককেও উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণে সহায়তার জন্য ভারতের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল কাঠমান্ডুতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনও চলছে। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরবর্তীতে পরিবর্তিত হতে পারে।

Continue Reading

top1

সবজিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও অস্বস্তি মাছ-মুরগি-ডিমে

Published

on

By

রাজধানীর বাজারে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছ ও মুরগির বাজার এখনো চড়া। বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে ভোজ্যতেল, চিনি, আটা, ময়দা, ডিমসহ বেশকিছু পণ্যের দাম বাড়ছে। ফলে বাজারে গিয়ে স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা।

দাম বাড়ার পাশাপাশি বাজারে বোতলজাত ভোজ্যতেল ও চিনির সরবরাহ কমিয়েছে কোম্পানিগুলো। অনেক দোকানে তেল ও চিনি পাওয়া যাচ্ছে না।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

বর্তমানে প্যাকেটজাত ময়দা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও এই ময়দা বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। বাজারে দুই কেজি ময়দার প্যাকেটের গায়ে লেখা দাম এখন ১৬০ টাকা, যা ১৪০ টাকা ছিল।

এদিকে, তেল ও চিনির বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। প্যাকেটজাত চিনিরও গায়ে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা করা হয়েছে।

মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা চিশতি বলেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন ডিলাররা। প্যাকেটজাত চিনির দামও কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে।

তারপরও বাজারে অনেক দোকানে চিনি মিলছে না, সরবরাহ বেশ কমে গেছে। ক্রেতারা কয়েক দোকান ঘুরে তারপর প্যাকেটজাত চিনি কিনতে পারছেন।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মূলত কোম্পানি (মিলগেট) ও পাইকারি পর্যায়ে চিনির মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে পণ্যটির দাম বেড়েছে। মিলগেট থেকে আগের চেয়ে চিনির সরবরাহও কমেছে।

এদিকে, বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহও কমেছে। যদিও খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও এখনো বোতলজাত তেলের দাম বাড়েনি। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে অনেক দোকানেই চাহিদা অনুযায়ী বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা পাম তেলের দাম প্রতি লিটার ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা। আর সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০০ টাকা।

সম্প্রতি সবজির দাম কিছুটা কমেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে সরবরাহের ঘাটতির কারণে অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে সরবরাহ বাড়ায় কিছু সবজির দাম কমেছে। বর্তমানে বেশির ভাগ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল, পেঁপে ও ঢ্যাঁড়সের দাম তুলনামূলক কম।

কাঁচা মরিচের দাম স্বাভাবিক হয়েছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি।

এক ব্যবসায়ী বলেন, মূলত ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির সুযোগ দেওয়ার পর সরবরাহ বেড়েছে। এ কারণে দামও অনেকটা কমেছে।

অন্যদিকে, কয়েক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের দামে অবশ্য বড় কোনো পরিবর্তন নেই। মানভেদে প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর দামও দীর্ঘদিন ধরে প্রায় একই রয়েছে। প্রতি কেজি আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় ভ্যানে পাঁচ কেজি আলু একসঙ্গে ১০০ টাকায় বিক্রি করতেও দেখা যাচ্ছে।

ডিমের দামও এখনো আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা এবং চারটি ডিম ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানে এক ডজন ডিম ১৬০ টাকাও বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এছাড়া বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

Continue Reading

Trending