Connect with us

top1

শেখ হাসিনার দপ্তর ও বাসার আড়াই কোটি টাকার খাবারের বিল বাকি

Published

on

গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি কার্যালয় ও বাসভবন গণভবনের খাবার সরবরাহ করে আড়াই কোটি টাকার বকেয়া পাচ্ছে না সরকারি প্রতিষ্ঠান হোটেল অবকাশ। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও খাবার বাবদ বকেয়ার এই দায় নিচ্ছে না। ফলে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের (বাপক) এই বকেয়া আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি কার্যালয় ও বাসভবন গণভবনে চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত খাবার সরবরাহ করা হতো সরকারি প্রতিষ্ঠান হোটেল অবকাশ থেকে। এ জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তিও রয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় নিয়মিত খাবার সরবরাহ করা হতো। সরকারের পক্ষ থেকে সময়ে–সময়ে খাবারের কিছু বিল পরিশোধ করা হতো, বকেয়াও থাকত কিছু পাওনা। এ অবস্থায় ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর খাবারের বকেয়া বিল আর পাচ্ছে না সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি। এই বকেয়া আদায়ে কয়েক দফা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে চিঠিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে গত দেড় বছরে সেই বকেয়া পায়নি হোটেল অবকাশ কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোটেল অবকাশের মালিকানা সংস্থা পর্যটন করপোরেশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বকেয়া আদায়ের জন্য কয়েক দফায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে বিগত সরকারের বকেয়া পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করছে বর্তমান সরকার। তারা বিগত সরকারের এই দায় নিতে চান না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বাসভবনের মতো বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাসভবনেও চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত খাবার সরবরাহ করা হয় হোটেল অবকাশ থেকে। বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে খাবার সরবরাহ বাবদও প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া রয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ বিষয়টি নিয়ে পর্যটন করপোরেশন বা হোটেল অবকাশের সঙ্গে কথা বললে ভালো হয়। আমরা সবসময় এ ধরনের বিল পরিশোধ করি। হয়ত কিছু রানিং (চলমান) বিল বাকি আছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

চিঠিতে কী রয়েছে

পর্যটন করপোরেশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকার এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে খাবার সরবরাহ বাবদ হোটেল অবকাশের মোট অপরিশোধিত পাওনার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই পাওনা পরিশোধের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক বরাবর যথাসময়ে বিল দাখিল করা হয়েছিল। যার পরিমাণ ছিল প্রায় ২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাসভবন যমুনায় চাহিদাপত্র মোতাবেক প্রায় ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকার খাবার ও বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। এই পাওনা পরিশোধের জন্য যথাসময়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক বরাবর বিল দাখিল করা হলেও বকেয়া পাওনা এখনো পরিশোধ করা হয়নি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বকেয়া অর্থ আদায় না হওয়ায় তহবিল–সংকটে প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। তারল্য–সংকটের কারণে হোটেল অবকাশের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন–ভাতা ও আনুষঙ্গিক বিল পরিশোধেও বিলম্ব হচ্ছে। এ ছাড়া কাঁচামালসহ অন্যান্য মালামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানেও বকেয়া পড়েছে। এ কারণে সরবরাহকারীরা মালামাল সরবরাহে অপারগতা প্রকাশ করছে। ফলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাসভবনে চাহিদা অনুযায়ী খাবার ও মালামাল সরবরাহ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সায়েমা শাহীন সুলতানা বলেন, বিল বকেয়া আছে, এটা সত্যি। তবে এই বকেয়া আদায় হোটেল অবকাশের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব। নিয়ম অনুযায়ী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে আমরা কিছু বাকিতে দিতে পারি না। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম মেনে এ ধরনের বকেয়ায় সেবা দেওয়া হয়। তবে এই ক্ষেত্রে কিছু বিল প্রক্রিয়াধীন আছে। বকেয়া আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অতীতে চিঠি দিয়েছি। ভবিষ্যতে আবার চিঠি দেব।

বকেয়া পাওনা থাকার পরও ২০২৫ সালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সঙ্গে আবারও খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহের চুক্তি করেছে বাপক। চুক্তিতে আগস্ট মাস থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং বাসভবন যমুনায় প্রতিদিনের আপ্যায়ন ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে খাবারসামগ্রী সরবরাহ করছে হোটেল অবকাশ কর্তৃপক্ষ।

চুক্তিতে যা রয়েছে

চুক্তিপত্র অনুযায়ী, হোটেল অবকাশ খাবারের আইটেম ও অন্যান্য সামগ্রী মিলিয়ে মোট ৪৬০টি সামগ্রী নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ করে। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে ড্রাইকেকসহ বিভিন্ন ধরনের বেকারি বিস্কুট, কমলা, মান্দারিন কমলা, জামরুল, লটকন ও আমড়াসহ নানা ধরনের দেশি–বিদেশি ফল। আর মিষ্টিজাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে কাঁচা ছানা, চমচম, রসমালাই, দই, লাড্ডু, রসগোল্লা ও বাকলাভা। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের মসলা, ঘি, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও সরবরাহ করে হোটেল অবকাশ।

এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামল কিংবা তার আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বাসভবনে খাবার সরবরাহ করে আসছে হোটেল অবকাশ কর্তৃপক্ষ। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রান্না ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটার দায়িত্ব ছিল হোটেল অবকাশের। আর বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর ও বাসভবনে শুধু খাবারসামগ্রী সরবরাহ করে হোটেল অবকাশ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আরও জানান, বিগত শেখ হাসিনা সরকারের সময় প্রায়ই রাজনৈতিক সভা ও সমাবেশ হতো তাঁর কার্যালয় ও বাসভবনে। প্রতিদিনই বহু লোকের খাবারের ব্যবস্থা করতে হতো। তাই সে সময়ের বকেয়ার পরিমাণও বেশি।

হোটেল অবকাশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, খাবারের বিষয়ে প্রতিবছরই চুক্তি নবায়ন করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সময় আমরা ১৭৩ ধরনের খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করেছি। তবে বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার জন্য নির্ধারিত ৪৬০টি আইটেম নির্দিষ্ট মূল্যে সরবরাহ করা হয়। এসব পণ্য সরবরাহে আমাদের নিজেদের তহবিলের অর্থ ব্যয় করতে হয়। তিন মাস পরপর বিল জমা দেওয়া হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তর ধাপে ধাপে বকেয়া পরিশোধ করে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

যুদ্ধবিরতি হলেও জ্বালানি সংকট থাকবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Published

on

By

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, যুদ্ধবিরতি হলেও জ্বালানিসংকট থাকবে। এজন্য মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট জ্বালানিসংকট মোকাবেলায় ভারত মহাসাগরের দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। 

শুক্রবার নবম ভারত মহাসাগরীয় কনফারেন্সে (আইওসি) বক্তব্য দেওয়ার সময় এ কথা বলেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল এক উত্তাল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যেখানে জ্বালানি সংকট দেশগুলোর অর্থনীতি ও সমাজকে হুমকির মুখে ফেলছে। এই সময়ে তাই এ অঞ্চলের দেশগুলোকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াতে হবে। অপরের প্রয়োজনকে উপলব্ধি করতে হবে এবং সম্মিলিত সম্পদকে স্বীকৃতি দিতে হবে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তার পুরো কাঠামোই নতুন করে পর্যালোচনার দাবি রাখে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণাগুলো পরিবর্তিত হচ্ছে, তাই সামাজিক-অর্থনৈতিকভাবে প্রান্তিক ও পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর বিশাল অংশকে কিভাবে সর্বোত্তমভাবে সুরক্ষা দেওয়া যায়, উন্নয়নমূলক অর্জনগুলো কিভাবে রক্ষা করা যায় এবং সংকটগুলো কিভাবে মোকাবেলা করা যায়, তা নিয়ে ভাবা ক্রমশই জরুরি হয়ে পড়ছে।

সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কথা উল্লেখ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এমএসএমই) ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘সুপার সোর্সিং হাব’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। যার মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের সঙ্গে আরও গভীরভাবে একীভূত করা এবং একই সঙ্গে জেলা ও উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলোকে শক্তিশালী করা। এতে করে স্থানীয় উদ্বোবনকে বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধির জন্য একটি টেকসই পথ তৈরিতে ভারত মহাসাগরের ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময় এমন একটি সময়, যখন প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নয়নের এক গভীর চালিকাশক্তি। এই সময়ে আমাদের তরুণ ও উদ্যোক্তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য আমাদের সক্ষমতা ও সুযোগগুলোকে উপলব্ধি করা এবং কাজে লাগানোই যৌক্তিক। সেই সঙ্গে একইভাবে আমাদের সব খাতে উদ্ভাবনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (এসএমই) নেতৃত্ব দেওয়ার দিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

এ সময় আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা ও সমন্বয়মূলক পদক্ষেপগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

Continue Reading

top1

জনগণের অধিকার পায়ের তলায় পিষ্ট করার পাঁয়তারা শুরু: জামায়াত আমির

Published

on

By

জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের অধিকার পায়ের তলায় পিষ্ট করার পাঁয়তার শুরু হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৯টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, শ্রমিক সামাজের প্রত্যাশা-চাহিদা রাষ্ট্রের কাছে মামুলি। কিন্তু দুঃখের বিষয় সামান্য চাহিদাটুকু এখনও পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা, কোনো সরকার পরিপূর্ণ করতে পারেনি। তার কারণ যারা রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যান, তারা শ্রমিকদের মধ্য থেকে উঠে আসেনি। তারা সোনার চামচ ও রূপার কাঠি হাতে নিয়ে উঠেছে। তারা শ্রমিকদের দুঃখ বুঝবে কীভাবে তারা বেশির ভাগই ব্যবসায়ী মালিক।

তিনি বলেন, সরকার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জনগণকে মানবিক মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হন। শ্রমিকদের প্রতি তারা সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হন।

জামায়াত আমির বলেন, বিগত নির্বাচনে জাতিকে আমরা বলেছিলাম নেতৃত্ব আমরা তরুণ ও যুবকদের হাতে তুলে দেব। আমরা চাই যৌবনের এই শক্তিটা জাতি গঠনের কাজে লাগুক। আমাদের এই বয়সে যতটুকু পেরেছে দিয়েছি, ভবিষ্যতে তরুণরাও দেবে।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকার ও মালিকপক্ষকে নিতে হবে। তাদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তুলতে হবে। তাদের জন্য যে হাসপাতাল দিয়েছে সেই হাসপাতাল যথেষ্ট নয় আরও উন্নতমানের হাসপাতাল দিতে হবে।

শফিকুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের যে বেতন ভাতা দেওয়া হয় তা দিয়ে তাদের পেটের জোগান দেওয়া যায় না। এই টাকা দিয়ে তারা চিকিৎসা করবে কীভাবে। শ্রমিকদের সন্তানদের মানুষ করা শিক্ষিত নাগরিক গড়ে তোলা পরিপূর্ণভাবে সরকারকেই নিতে হবে।

Continue Reading

top1

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় প্রাধান্য পাবে যেসব বিষয়

Published

on

By

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, পরমাণু কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

উভয় পক্ষ যে প্রধান বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে, সেগুলো নিচে দেওয়া হলো।

তেহরান জোর দিয়ে বলছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেই কেবল আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে।

ইরান লেবাননে যুদ্ধবিরতি চায়, যেখানে মার্চ মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অংশ নয় – তেহরান জোর দিয়ে বলছে যে এটি এর অংশ।

ইরান চায় যুক্তরাষ্ট্র যেন ইরানের সম্পদ থেকে অবরোধ তুলে নেয় এবং বছরের পর বছর ধরে দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে রাখা নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করে নেয়। ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা নিষেধাজ্ঞার উল্লেখযোগ্য শিথিলতার বিষয়ে আগ্রহী, তবে তা কেবল ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের বিষয়ে ছাড় দেওয়ার বিনিময়েই।

ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর তার কর্তৃত্বের স্বীকৃতি চায়, যেখানে তারা ট্রানজিট ফি আদায় এবং প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র চায়, এই প্রণালিটি তেল ট্যাঙ্কার এবং অন্যান্য জাহাজের জন্য কোনো রকম সীমাবদ্ধতা ছাড়াই খুলে দেওয়া হোক, যার মধ্যে জাহাজ চলাচলের ওপর টোলও অন্তর্ভুক্ত।

ছয় সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধের সময় হওয়া সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরান ক্ষতিপূরণ দাবি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই চায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস করা হোক। তেহরান বলছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ে কোনো আপস চলবে না।

ইরান চায় এই অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধবাহিনীর প্রত্যাহার, সব রণাঙ্গনে যুদ্ধবিরতি এবং অনাক্রমণ নীতির প্রতি অঙ্গীকার। ট্রাম্প একটি শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বাহিনী মোতায়েন রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, ইরান শর্ত মানতে ব্যর্থ হলে লড়াই ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হবে।

Continue Reading

Trending