Connect with us

top1

শেখ হাসিনার দপ্তর ও বাসার আড়াই কোটি টাকার খাবারের বিল বাকি

Published

on

গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি কার্যালয় ও বাসভবন গণভবনের খাবার সরবরাহ করে আড়াই কোটি টাকার বকেয়া পাচ্ছে না সরকারি প্রতিষ্ঠান হোটেল অবকাশ। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও খাবার বাবদ বকেয়ার এই দায় নিচ্ছে না। ফলে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের (বাপক) এই বকেয়া আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি কার্যালয় ও বাসভবন গণভবনে চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত খাবার সরবরাহ করা হতো সরকারি প্রতিষ্ঠান হোটেল অবকাশ থেকে। এ জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তিও রয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় নিয়মিত খাবার সরবরাহ করা হতো। সরকারের পক্ষ থেকে সময়ে–সময়ে খাবারের কিছু বিল পরিশোধ করা হতো, বকেয়াও থাকত কিছু পাওনা। এ অবস্থায় ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর খাবারের বকেয়া বিল আর পাচ্ছে না সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি। এই বকেয়া আদায়ে কয়েক দফা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে চিঠিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে গত দেড় বছরে সেই বকেয়া পায়নি হোটেল অবকাশ কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোটেল অবকাশের মালিকানা সংস্থা পর্যটন করপোরেশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বকেয়া আদায়ের জন্য কয়েক দফায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে বিগত সরকারের বকেয়া পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করছে বর্তমান সরকার। তারা বিগত সরকারের এই দায় নিতে চান না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বাসভবনের মতো বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাসভবনেও চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত খাবার সরবরাহ করা হয় হোটেল অবকাশ থেকে। বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে খাবার সরবরাহ বাবদও প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া রয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ বিষয়টি নিয়ে পর্যটন করপোরেশন বা হোটেল অবকাশের সঙ্গে কথা বললে ভালো হয়। আমরা সবসময় এ ধরনের বিল পরিশোধ করি। হয়ত কিছু রানিং (চলমান) বিল বাকি আছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

চিঠিতে কী রয়েছে

পর্যটন করপোরেশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকার এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে খাবার সরবরাহ বাবদ হোটেল অবকাশের মোট অপরিশোধিত পাওনার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই পাওনা পরিশোধের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক বরাবর যথাসময়ে বিল দাখিল করা হয়েছিল। যার পরিমাণ ছিল প্রায় ২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাসভবন যমুনায় চাহিদাপত্র মোতাবেক প্রায় ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকার খাবার ও বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। এই পাওনা পরিশোধের জন্য যথাসময়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক বরাবর বিল দাখিল করা হলেও বকেয়া পাওনা এখনো পরিশোধ করা হয়নি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বকেয়া অর্থ আদায় না হওয়ায় তহবিল–সংকটে প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। তারল্য–সংকটের কারণে হোটেল অবকাশের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন–ভাতা ও আনুষঙ্গিক বিল পরিশোধেও বিলম্ব হচ্ছে। এ ছাড়া কাঁচামালসহ অন্যান্য মালামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানেও বকেয়া পড়েছে। এ কারণে সরবরাহকারীরা মালামাল সরবরাহে অপারগতা প্রকাশ করছে। ফলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বাসভবনে চাহিদা অনুযায়ী খাবার ও মালামাল সরবরাহ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সায়েমা শাহীন সুলতানা বলেন, বিল বকেয়া আছে, এটা সত্যি। তবে এই বকেয়া আদায় হোটেল অবকাশের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব। নিয়ম অনুযায়ী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে আমরা কিছু বাকিতে দিতে পারি না। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম মেনে এ ধরনের বকেয়ায় সেবা দেওয়া হয়। তবে এই ক্ষেত্রে কিছু বিল প্রক্রিয়াধীন আছে। বকেয়া আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অতীতে চিঠি দিয়েছি। ভবিষ্যতে আবার চিঠি দেব।

বকেয়া পাওনা থাকার পরও ২০২৫ সালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সঙ্গে আবারও খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহের চুক্তি করেছে বাপক। চুক্তিতে আগস্ট মাস থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং বাসভবন যমুনায় প্রতিদিনের আপ্যায়ন ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে খাবারসামগ্রী সরবরাহ করছে হোটেল অবকাশ কর্তৃপক্ষ।

চুক্তিতে যা রয়েছে

চুক্তিপত্র অনুযায়ী, হোটেল অবকাশ খাবারের আইটেম ও অন্যান্য সামগ্রী মিলিয়ে মোট ৪৬০টি সামগ্রী নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ করে। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে ড্রাইকেকসহ বিভিন্ন ধরনের বেকারি বিস্কুট, কমলা, মান্দারিন কমলা, জামরুল, লটকন ও আমড়াসহ নানা ধরনের দেশি–বিদেশি ফল। আর মিষ্টিজাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে কাঁচা ছানা, চমচম, রসমালাই, দই, লাড্ডু, রসগোল্লা ও বাকলাভা। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের মসলা, ঘি, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও সরবরাহ করে হোটেল অবকাশ।

এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামল কিংবা তার আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বাসভবনে খাবার সরবরাহ করে আসছে হোটেল অবকাশ কর্তৃপক্ষ। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রান্না ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটার দায়িত্ব ছিল হোটেল অবকাশের। আর বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর ও বাসভবনে শুধু খাবারসামগ্রী সরবরাহ করে হোটেল অবকাশ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আরও জানান, বিগত শেখ হাসিনা সরকারের সময় প্রায়ই রাজনৈতিক সভা ও সমাবেশ হতো তাঁর কার্যালয় ও বাসভবনে। প্রতিদিনই বহু লোকের খাবারের ব্যবস্থা করতে হতো। তাই সে সময়ের বকেয়ার পরিমাণও বেশি।

হোটেল অবকাশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, খাবারের বিষয়ে প্রতিবছরই চুক্তি নবায়ন করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সময় আমরা ১৭৩ ধরনের খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করেছি। তবে বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার জন্য নির্ধারিত ৪৬০টি আইটেম নির্দিষ্ট মূল্যে সরবরাহ করা হয়। এসব পণ্য সরবরাহে আমাদের নিজেদের তহবিলের অর্থ ব্যয় করতে হয়। তিন মাস পরপর বিল জমা দেওয়া হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তর ধাপে ধাপে বকেয়া পরিশোধ করে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে শুরু, সংসদে পরিকল্পনা জানালেন মির্জা ফখরুল

Published

on

By

চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।’

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাজেটের প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে এ নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন হবে। নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও একই সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

সরকার দলীয় এমপি মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সব উপজেলায় সংসদ সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মচারীদের জন্য উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে একটি পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলা পরিষদের অনুকূলে ৬ লাখ টাকা করে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।’

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বর্তমানে ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনে দৈনিক পানির চাহিদা ৩২০-৩২৫ কোটি লিটার। যদিও গ্রীষ্মে ও শীত মৌসুমে পানির চাহিদার তারতম্য হয়ে হয়ে থাকে। ঢাকা ওয়াসার বর্তমান দৈনিক পানি উৎপাদন সক্ষমতা ২৯৫-৩০০ কোটি লিটার।’

তিনি বলেন, ‘পানি বিশুদ্ধকরণের কাজটি অত্যাধুনিক কেমিক্যাল পিএসি অ্যালাম সালফেট ও ক্লোরিনেশনের মাধ্যমে পরিশোধন করা হয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করে ওয়াসার নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে পানির গুণগত মান নিশ্চিত হওয়ার পর দা নেটওয়ার্কে সরবরাহ করা হয়। ঢাকা ওয়াসা মহানগরীর বিভিন্ন স্থান হতে প্রতিদিন ৪০-৫০টি পানির নমুনা সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্যারামিটার পরীক্ষা করে পানির গুণগতমান নিশ্চিত করে থাকে।’

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা রহমানের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বাসাবাড়ী থেকে বর্জ্য সংগ্রহের কার্যক্রম বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভ্যানে করে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে এ বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার নিমিত্ত সিটি করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তির আওতায় আনার জন্য কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চুক্তি প্রক্রিয়া কার্যক্রম সম্পন্ন হলে পরবর্তীতে ছোট ছোট কাভার্ড ভ্যানে পরিবেশ সম্মতভাবে ময়লা অপসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সফটওয়্যার ভার্সন ২ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন সিস্টেমে অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের ব্যবস্থা রাখা হবে। নতুন সিস্টেমে ব্লক চেইনের মাধ্যমে কোনো প্রকার তথ্য পরিবর্তন হলে তার লগ জানা যাবে। এ ছাড়া কোন স্তরে তথ্য পরিবর্তন হলো, তা উদঘাটন করা সহজ হবে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সেবা সহজীকরণ ও জনভোগান্তি দূরীকরণের লক্ষ্যে সারা দেশের নিবন্ধক ও নিবন্ধন সহকারীগণের নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।’

নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘দেশের যুব সমাজকে মোবাইল আসক্তি, মাদকাসক্তিসহ বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে সচেতন করার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়াধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরেরর মাধ্যমে প্রতিটি জেলায় জনসচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজন করা হয়ে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত যুব সংগঠনের মাধ্যমে যুব ও যুব নারীদের মোবাইল আসক্তি, মাদকাসক্তিসহ বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করা হয়ে থাকে।’

মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহের প্রশ্নের জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যুব সমাজকে মাদকাসক্তি থেকে বিরত রাখার জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর হতে ‘যুব সমাজকে মাদকাসক্তি থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে যুব সংগঠনের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী জেলাসমূহে প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি প্রকল্প’র ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করা হয়েছে।”

Continue Reading

top1

আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে বেনজীরের প্রয়োজনীয় নথিপত্র

Published

on

By

দুবাইয়ে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্যে তার বিরুদ্ধে মামলাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র মঙ্গলবার (১৬ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ছয়টি মামলার মধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে করা একটি মামলায় আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলাম ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে আবেদন করে উল্লেখ করেন, বেনজীর বিদেশে অবস্থান করছেন এবং বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতার করা প্রয়োজন। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

আদালতের আদেশ পাওয়ার পর ১২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে আবেদন করেন। আবেদনে গ্রেফতারি পরোয়ানা, মামলার বিবরণ, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংযুক্ত করে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা বিষয়টি ইন্টারপোলে পাঠায়। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারপোল। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডাটাবেজে তার তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয় এবং পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের নজরে আসেন তিনি।

দুদক জানিয়েছে, দুবাইয়ে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এখন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী, গ্রেফতারের ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ প্রত্যর্পণের আবেদন জমা দিতে হবে। এ কারণে দুদক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তর সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আজ বেনজীর আহমেদের মামলাসংক্রান্ত সব প্রয়োজনীয় নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে।

Continue Reading

top1

ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে নেতানিয়াহুর, চাপে ইসরায়েল

Published

on

By

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রীতিমতো বাজি ধরেছিলেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সমন্বিত যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল কিংবা উৎখাত করবেন।

একইসঙ্গে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সখ্যতা আসন্ন নির্বাচনের আগে তাকে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। ওয়াশিংটন-তেলআবিব জোট মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতাই বদলে দেবে বলেও তার প্রত্যাশা ছিল।

কিন্তু বাস্তবতার গতিপথ ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। এখন ইসরায়েলের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র ট্রাম্পের সঙ্গেই মতবিরোধের পথে হাঁটছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যুদ্ধের শুরুতে উভয় পক্ষ যে লক্ষ্যগুলোর কথা বলেছিল, তার সিংহভাগই এখন অর্জিত হয়নি। একইসঙ্গে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানও জটিল অবস্থায় আটকে আছে।

আপাতত, এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছেন। কারণ তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ট্রাম্প যেন অসন্তুষ্ট না হন। অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমালোচকদের বিষয়ে বরাবরই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, প্রাথমিক চুক্তিটি ‘ইসরায়েলের জন্য ভয়াবহ’। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সেনাপ্রধান পর্যন্ত ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের কেউই এটিকে ভিন্নভাবে দেখছেন না।

যদিও ওয়াশিংটনের দাবি, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উদ্বেগ, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার পথ তৈরি হবে।

তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, আলোচনার সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইসরায়েলের উদ্বেগগুলো অমীমাংসিত থেকেই যাবে এবং দেশটি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতার মুখে পড়বে।

লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান সীমিত করতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের মধ্যে বারবার মতবিরোধ হয়েছে। অথচ যুদ্ধবিরতি ছিল ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি।

চলতি মাসের শুরুতে এক উত্তপ্ত ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ বলে অভিহিত করেন। একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলাকালে বৈরুতে হামলা না করার নির্দেশ দেন। সেদিন নেতানিয়াহু হামলা স্থগিত করলেও এক সপ্তাহ পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরে আবারও আক্রমণ চালান। ইসরায়েলের দাবি, এর জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পরে ট্রাম্প উভয় পক্ষকেই প্রকাশ্যে তিরস্কার করেন।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচু্ক্তিতে বাগড়া ইসরায়েলের, জোরালো আক্রমণের ঘোষণা

রোববার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েল আবারও বৈরুতে হামলা চালায়। এর আগে লেবানন থেকে ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছিল। ট্রাম্প ওই হামলাকে ‘ছোট ও অর্থহীন’ বলে বর্ণনা করেন।

পরদিন রাতে জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, দৃঢ় ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের কারণে ইসরায়েল এখন ‘শক্তিশালী ও স্থিতিশীল’। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার মাঝে মাঝে মতপার্থক্য হয়েছে।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। অনেক বিষয়ে আমাদের মত এক হয়, আবার কিছু বিষয়ে ভিন্নতাও থাকে। আমি ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার দায়িত্বে আছি।’

নির্বাচনের আগে বাড়ছে চাপ

আসন্ন শরতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে নেতানিয়াহুর পরাজয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি ট্রাম্পের অবস্থান উপেক্ষা করতে আরও আগ্রহী হতে পারেন। কারণ জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ইসরায়েলি জনগণের একটি বড় অংশ এখন দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে সন্দিহান।

বারাক এইচ ওবামা প্রশাসনের সময়ে ইসরায়েলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড্যান শ্যাপিরো বলেন, ‘এটি স্বার্থগত বিভেদের একটি অত্যন্ত স্পষ্ট মুহূর্ত’।

বর্তমানে আটলান্টিক কাউন্সিলের এই গবেষক বলেন, নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে চুক্তির বিরোধিতা করে ট্রাম্পের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চাইবেন না। তবে তিনি ইঙ্গিত দেবেন যে, ইসরায়েল এ চুক্তি মানতে বাধ্য নয় এবং প্রয়োজনে নিজস্ব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।

ইসরায়েল ইতোমধ্যে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতায় তারা বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে না।

শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও এর বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, এতে লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে সেনা মোতায়েন বজায় রাখবে এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘অপারেশনাল স্বাধীনতা’ ধরে রাখবে।

তিনি বলেন, ইরান চেয়েছিল আমরা সেখান থেকে সরে আসি। কিন্তু আমি সেই অবস্থান মেনে নেইনি। আমরা আমাদের কার্যক্রম পরিচালনার স্বাধীনতা বজায় রাখছি এবং উত্তরাঞ্চলের নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা বলয়ও ধরে রাখছি।

ইসরায়েলের উদ্বেগ কাটছে না

অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ পুনরায় খুলে যাবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যত ৬০ দিনের আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধের শুরুতে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প উভয়েই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দমন এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থন বন্ধ করাকে যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু এসব বিষয় বর্তমান আলোচনার আনুষ্ঠানিক এজেন্ডায় নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

তিনজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের ধারণা ৬০ দিনের চুক্তির মেয়াদ ৯০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে বৃহত্তর সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলজুড়ে তার সামরিক উপস্থিতিও বজায় রাখবে।

আরও দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ট্রাম্প যখন প্রথমবারের মতো বলেন যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, তখন ইসরায়েল বিস্মিত হয়েছিল। তাদের মতে, আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে ইসরায়েল খুব কমই সফল হয়েছে।

সব কর্মকর্তাই পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কথা বলেছেন, কারণ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার অনুমতি তাদের ছিল না।

‘এই চুক্তি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করা কঠিন’

ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামা ও জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ও নেতানিয়াহু একাধিকবার ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়েছিলেন। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি ভোটারদের কাছে নিজেকে রিপাবলিকান ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে দক্ষ নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর করে এবং আব্রাহাম চুক্তিকে সমর্থন দেয়। এর মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। একই সময়ে ট্রাম্প ওবামা আমলের ইরান পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেন, যেটিকে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল বলে সমালোচনা করে আসছিল।

২০১৯ সালের নির্বাচনে নেতানিয়াহু তেলআবিব ও জেরুজালেমে বড় বড় বিলবোর্ড টাঙিয়েছিলেন। সেখানে তাকে ট্রাম্পের সঙ্গে হাসিমুখে করমর্দন করতে দেখা যায়। তবে বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জোনাথন রাইনহোল্ডের মতে, বর্তমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নেতানিয়াহুর সেই রাজনৈতিক সুবিধাকেই দুর্বল করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, নেতানিয়াহু এই চুক্তি ইসরায়েলি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারবেন না। সর্বোচ্চ তিনি আশা করতে পারেন, আলোচনা ব্যর্থ হবে এবং ৬০ দিনের মধ্যে ইসরায়েলের অনুকূলে যুদ্ধ আবার শুরু হবে।

ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের শুক্রবার প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৪১ শতাংশ ইহুদি ইসরায়েলি মনে করেন, ট্রাম্পের কাছে তাদের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। গত মার্চ মাসে এ হার ছিল ৬৪ শতাংশ।

এদিকে ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, ইরান যদি তার পারমাণবিক বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করে, তবে ইসরায়েল একাই ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ইরান যদি তার পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনরায় চালুর চেষ্টা করে, আমরা সেখানে থাকব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

Continue Reading

Trending