Connect with us

আন্তর্জাতিক

শোকের মধ্যেই গোয়েন্দা সংস্থা পর্যালোচনার ঘোষণা অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর

Published

on

সিডনির বন্ডি সমুদ্র সৈকতে ভয়াবহ হামলার পর, পুলিশ ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।  এদিকে ওই হামলার পর রবিবার দেশজুড়ে জাতীয় শোক ও আত্মসমালোচনার দিবস পালন করা হচ্ছে। নিহতদের স্মরণে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। কারণ ঠিক ওই সময় হামলাটি শুরু হয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, “গত রবিবারে আইএসের এই নৃশংস হামলা আমাদের দেশের দ্রুত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিবেশকে আরও স্পষ্ট করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য সর্বোত্তম অবস্থানে থাকতে হবে।”

ইহুদি একটি উৎসবে দুই বন্দুকধারীর গুলিতে ১৫ জন নিহত হওয়ার এই হামলাকে সন্ত্রাসী ঘটনা হিসেবে ঘোষণা করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাকারীরা ‘আইএস মতাদর্শে অনুপ্রাণিত’ ছিল।

সিডনিতে আয়োজিত শোক ও স্মরণ অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর সময় প্রধানমন্ত্রী আলবানিজকে লক্ষ্য করে উচ্চস্বরে বিদ্রুপ করা হয়, যা দেখে তাকে কিছুটা বিস্মিত হতে দেখা যায়।

ভিড়ের অন্তত একজন সদস্য ‘তোমার হাতে রক্ত লেগে আছে’ বলে চিৎকার করেন। আরেকজন প্রধানমন্ত্রী দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশ তাকে ধরে ফেলে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আলবানিজকে ভিআইপি আসন এলাকার দিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার স্ত্রী জোডি হেইডন সমর্থন জানিয়ে তার বাহু ধরে রাখেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকা গোয়েন্দা পর্যালোচনায় চরমপন্থা মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ কতটা প্রস্তুত, তা যাচাই করা হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে যথাযথ ক্ষমতা, কাঠামো, প্রক্রিয়া এবং তথ্য আদান–প্রদানের ব্যবস্থা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে—যাতে বন্ডি বিচে সংঘটিত ভয়াবহ ইহুদিবিদ্বেষী সন্ত্রাসী হামলার পর অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

প্রায় তিন দশকের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী গণগুলিবর্ষণের পর সরকার আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। পাশাপাশি নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ঘৃণামূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন।

সন্দেহভাজন হামলাকারী ২৪ বছর বয়সী নাভিদ আক্রমের বিরুদ্ধে ৫৯টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৫টি হত্যার অভিযোগ এবং একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ। হামলার সময় তার বাবা সাজিদ আক্রম নিহত হন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

পাকিস্তানের পাশে যুক্তরাষ্ট্র, চাপে কি ক্ষমতা হারাবে তালেবান?

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের তালেবান শাসকদের হামলার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’-এর প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) একই দিনে ইসলামাবাদ ঘোষণা করে, সাম্প্রতিক সীমান্তসংঘাতের জেরে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কার্যত ‘খোলা যুদ্ধ’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

গত সপ্তাহান্তে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর বৃহস্পতিবার সীমান্তজুড়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু হলে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা মুহাম্মাদ আসিফ পরিস্থিতিকে ‘ওপেন ওয়ার’ বলে উল্লেখ করেন। উভয় পক্ষই ভারী হতাহতের দাবি করেছে। 

সর্বশেষ এই সংঘাত তালেবানদের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবানের পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। পাকিস্তানের কঠোর অবস্থান এবং ওয়াশিংটনের স্পষ্ট কূটনৈতিক সমর্থনের প্রেক্ষাপটে অনেকেই মনে করছেন, তালেবান তাদের ক্ষমতার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে—যা তাদের ক্ষমতার অবসানের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ তৈরি করছে। 

এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘তালেবানের মতো বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে।’ মার্কিন কূটনীতিক এ্যালিসন হুকার জানান, তিনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালোচের সঙ্গে কথা বলেছেন। 

যুক্তরাষ্ট্র তালেবানকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে এবং অভিযোগ করে যে তারা সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো আফগানিস্তানকে ভয়াবহ হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে।’ একই সঙ্গে হতাহতের ঘটনায় দুঃখও প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।

পারমাণবিক অস্ত্রধারী এবং সামরিক সক্ষমতায় আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক শক্তিশালী পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগানিস্তান পাকিস্তানি তালেবান জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

Continue Reading

top1

পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের গর্জনে কাঁপছে আফগানিস্তান

Published

on

By

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, পাকিস্তান বিমান বাহিনী (পিএএফ) আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে একটি বড় অস্ত্র ও গোলাবারুদের ডিপোতে বিমান হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করেছে। সে সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণাও দিয়েছে পাকিস্তান।

জিওটিভি নিউজকে পাকিস্তানের সরকারি এক কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, সীমান্তে উসকানিমূলক হামলার জবাবে নেওয়া অভিযানে আফগান তালেবান প্রশাসনের ১৩৩ জন সদস্য নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিরাপত্তা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তালেবান বাহিনীর পদক্ষেপের জবাবে পাকিস্তানি বাহিনী ‘গাজাব-লিল-হক’ নামে একটি অভিযান শুরু করে। ভোর ৩টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চলমান সংঘর্ষের হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক গণমাধ্যমবিষয়ক মুখপাত্র মুশাররফ জাইদি বলেন, পাকিস্তানের পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হচ্ছে।

তার দাবি, কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় অতিরিক্ত হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ২৭টি তালেবান চৌকি ধ্বংস এবং ৯টি দখল করা হয়েছে।

সরকারের মুখপাত্র আরও দাবি করেন, হামলায় দুটি কোর সদর দপ্তর, তিনটি ব্রিগেড সদর দপ্তর, দুটি গোলাবারুদ ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, তিনটি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর এবং দুটি সেক্টর সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৮০টির বেশি ট্যাংক, কামান ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মুশাররফ জাইদি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাকিস্তানের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর আগে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, আফগান বাহিনীর উসকানিমূলক হামলার জবাবে একাধিক পাল্টা আঘাত হেনেছে পাকিস্তানি বাহিনী। হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং যে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পাকিস্তান প্রস্তুত।

Continue Reading

top1

আফগানিস্তান-পাকিস্তানকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

Published

on

By

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে বাড়তে থাকা সীমান্ত সংঘর্ষ ও সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

তিনি দুই দেশকে সংযম ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে শুক্রবার একটি বিবৃতি দেন। এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, সীমান্তে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন।

গুতেরেস আরও বলেন, চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

কয়েক দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

Continue Reading

Trending