Connect with us

top1

হ্যাঁ ভোটের পক্ষে জামায়াত ও এনসিপি, আদেশে স্পষ্টতা দাবি

Published

on

নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের দাবি পূরণ না হলেও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে সর্বাত্মক প্রচার চালাবে জামায়াতে ইসলামী। হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাবে এনসিপিও। তবে দলটি সনদ অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নের আদেশ স্পষ্ট করতে সরকারের কাছে দাবি জানাবে। 

সমকালকে এসব কথা বলেন দুই দলের নেতারা। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেছেন, পুরো দেশই সংস্কারের পক্ষে। জামায়াতও হ্যাঁ ভোটের পক্ষে। তবে নির্বাচনের আগে গণভোট হওয়া উচিত বলে জামায়াত এখনও মনে করে। গণভোটের তপশিল ঘোষণার পর সর্বাত্মক প্রচার চালানো হবে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে। 

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের মনোনীত রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা অনুচিত হয়েছে। তার পরও এনসিপি আদেশকে গ্রহণ করেছে। তারা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে থাকবে। 

সনদ অনুযায়ী সংস্কারে জোরগত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতি সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন, যা জাতির উদ্দেশে ভাষণে তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আদেশে ৪(১) ধারায় বলা হয়েছে, গণভোটে প্রশ্ন করা হবে ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ এবং সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবে সম্মতি দিচ্ছেন?’ 

জুলাই সনদে সংবিধান সংশোধন করতে হবে এমন ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। চারটি বিষয়ে এসব প্রস্তাব আগামী ফেব্রুয়ারির গণভোটে যাবে। 

প্রধানমন্ত্রীর পদে মেয়াদ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ ৩০ সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ অধিকাংশ দলের ঐকমত্য হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, এসব প্রস্তাব আগামী সংসদের সদস্যদের নিয়ে গঠিত সংবিধান পরিষদ বাধ্য থাকবে।

পিআর পদ্ধতিতে ১০০ সদস্যের সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন পদ্ধতি, প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে কমিটির মাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) এবং ন্যায়পালের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ-সংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাবেও বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। 

কিন্তু নোট অব ডিসেন্ট উপেক্ষা করে এই আট সংস্কার প্রস্তাব এবং নির্বাচন কমিশন গঠনকে গণভোটের প্রশ্নে ক এবং খ ভাগে রাখা হয়েছে। আদেশের ৪(ক) ধারায় বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।’ 

সরকার এবং সদ্য বিলুপ্ত ঐকমত্য কমিশন সূত্র সমকালকে বলেছে, বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে এই ৯ সংস্কার প্রস্তাবকে আলাদা করে গণভোটে দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো দলের নোট অব ডিসেন্টের কার্যকারিতা না থাকে।

প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে না থাকা, বিচারপতি নিয়োগে কমিশন গঠনসহ ৯ সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্ট আছে। তা গ্রহণ করে গণভোটের প্রশ্নের ঘ ভাগে বলা হয়েছে, এসব সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।

জামায়াত এবং এনসিপির চারজন নেতা সমকালকে বলেছেন, ক এবং খ অংশে যে ৯ সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে, সেগুলো গণভোটে পৃথকভাবে রাখা হয়েছে বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতার জন্য। কিন্তু ঐকমত্য হওয়া ৩০ সংস্কার বাস্তবায়নে গ অংশে যেভাবে বাধ্য থাকার কথা বলা হয়েছে, এই দুই ক্ষেত্রে তা নেই। শব্দের এই মারপ্যাঁচ ভবিষ্যতে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে না চাওয়া দলগুলোকে সুযোগ তৈরি করে দেবে। তারা নির্বাচনে জয়ী হলে অজুহাত দিতে পারবে ৯ মৌলিক সংস্কার নোট অব ডিসেন্ট হবে। শেষ পর্যন্ত আদেশের ব্যাখ্যা আদালতে গড়ালে সংকট তৈরি হবে।

অস্পষ্টতা দূর করার দাবি জামায়াত-এনসিপিরসনদ বাস্তবায়নের আদেশে অস্পষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করলেও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, তাদের দল হ্যাঁ ভোটের পক্ষে থাকবে। তবে এসব অস্পষ্টতা দূর করতে এনসিপি সরকারকে বলবে।

খালেদ সাইফুল্লাহ

বলেছেন, আদেশের ৪(ক) ধারায় বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।’ সংস্কার কীভাবে হবে– সনদে এ-সংক্রান্ত ভাষ্য রয়েছে। কিন্তু আদেশে বলা হয়েছে, ‘বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে’ হবে। কেউ ভবিষ্যতে সনদ বাস্তবায়ন করতে না চাইলে এ অস্পষ্টতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ থাকবে। তাই ‘বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে’র পরিবর্তে আদেশে সনদ অনুযায়ী ‘ভাষ্য’ শব্দটি ব্যবহৃত হওয়া উচিত।

এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ১৮০ দিনের মধ্যে সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করবে। কিন্তু কী করতে বাধ্য, তা স্পষ্ট করে আদেশে বলা নেই। ফলে পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সংস্কারবিরোধী অবস্থান থাকলে সনদ বাস্তবায়ন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এনসিপির একটি সূত্রের দাবি, ঐকমত্য কমিশন বিলুপ্ত হওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয় আদেশের চূড়ান্ত ভাষ্যটি তৈরি করে। সেখানে এ ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। শব্দের মারপ্যাঁচে নোট অব ডিসেন্ট রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তারা দাবি করছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোট হলে আবার কীসের নোট অব ডিসেন্ট। একটি দলের ভিন্নমত নয়, জনগণ গণভোটে যে রায় দেবে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি জনগণ না ভোট দেয়, জামায়াত তা মেনে নেবে। হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে সনদ এবং আদেশে যেভাবে রয়েছে, সেভাবেই সংস্কার করা হবে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সংস্কার থেকে একচুল সরবে না। সংস্কারবিরোধী কোনো দল ক্ষমতায় গেলেও একচুল সরতে দেবে না। তবে সরকারের উচিত, আদেশটি আরও স্পষ্ট করে নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন; যাতে আগেই সংস্কার বাস্তবায়ন করা যায়।

প্রচারে জামায়াত, এনসিপি চুপচাপজামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা ইতোমধ্যে হ্যাঁ ভোটের প্রচার শুরু করেছেন সামাজিক মাধ্যমে। গত শুক্রবার বিএনপি নেতা জয়নাল আবদিন ফারুক নোয়াখালীতে গণসংযোগে ধানের শীষের পাশাপাশি না ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বিএনপি সূত্রের খবর, প্রকাশ্যে না ভোট চাওয়ায় তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জামায়াত প্রার্থীরা দাঁড়িপাল্লার পাশাপাশি হ্যাঁ ভোট চাওয়া শুরু করে দিয়েছেন। দলের নির্বাচনী প্রচার যেভাবে করা হবে, হ্যাঁ ভোটের প্রচারও একই রকম গুরুত্ব দিয়ে করবে জামায়াত।

এনসিপি নেতা এবং সমর্থকরা সামাজিক মাধ্যমে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বলছেন। তবে গণসংযোগ এবং নির্বাচনী প্রচারে গণভোটের আলোচনা তোলেনি দলটি। একাধিক নেতা বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারে নামার পর আনুষ্ঠানিকভাবে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে নামবে দলটি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সাভারে পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যা

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এক উপপরিদর্শককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত আলতাফ হোসেন (৫৮) এসবির ঢাকার মালিবাগ জোনে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় তার ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৬) গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকার মদিনা হাউজিংয়ে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, একটি গেঞ্জি কারখানার সামনে প্রাইভেটকার পার্কিং করা নিয়ে আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলের সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ জনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাবা ও ছেলেকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাভার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলম জানান, আমিনবাজারে একজন এসবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, গাড়ি পার্কিং নিয়ে সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজ বাসার কাছেই ওই এসআই ও তার ছেলে হামলার শিকার হন। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এসবির সাভার জোনের এএসআই মাসুদ রানা জানান, আলতাফ হোসেন এসবির এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তবে সাভার জোনে তার দায়িত্ব ছিল না। আমিনবাজারে তার একটি জায়গা রয়েছে। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Continue Reading

top1

দ্য হিন্দুর এক্সপ্লেইনার/২০১৩ সালের চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে কি ফেরত পাঠাবে ভারত

Published

on

By

কল্লোল ভট্টাচার্য

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা বলছে, তারেক রহমানের সফরের জন্য নয়াদিল্লিকে একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি করতে হবে। আর এই পরিবেশ তৈরির প্রধান শর্ত হলো শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। তখন থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। গত ৫ আগস্ট (২০২৬) দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি দাবি করেন, ‘বাংলাদেশে আবার ভয় ফিরে এসেছে।’

তার এই বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় শেখ হাসিনাকে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিশুসহ নিরীহ মানুষ হত্যার জন্য সরাসরি তাকে দায়ী করেছে ঢাকা।

ওসমান হাদির খুনিদের ফেরত চায় বাংলাদেশ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম গত রোববার আরেকটি দাবি সামনে এনেছেন। তিনি ওসমান হাদির সন্দেহভাজন খুনিদের ফেরত দেওয়ার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান।

ওসমান হাদি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তখন বাংলাদেশে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলার সংকট তৈরি হয়েছিল।

চীন কেন ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মানবে না

অভিযুক্ত খুনিরা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে বলে ঢাকা দাবি করছে। বর্তমানে দেশের রাজপথে প্রভাবশালী ইসলামপন্থিরা এই মামলার ওপর কড়া নজর রাখছেন। সংসদে ৬৭টি আসন থাকা দল জামায়াতে ইসলামীও হাদির বিচারের দাবিতে সোচ্চার। ফলে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণে এই মামলাটি বর্তমান বিএনপি সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ ও আইনি জটিলতা

দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, ভারত যে কোনো অপরাধীকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে পারে। দুই দেশের পারস্পরিক এই চুক্তিতে এমন বিধানই রয়েছে। তবে চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক অপরাধীদের হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

‘পলিটিক্যাল অফেন্স এক্সেপশন’ বা রাজনৈতিক অপরাধের ব্যতিক্রম নামের এই ধারা অনুযায়ী, অপরাধটি রাজনৈতিক চরিত্রের হলে প্রত্যর্পণের অনুরোধ নাকচ করতে পারে যে কোনো পক্ষ।

অবশ্য খুন, অপহরণ ও নরহত্যার মতো গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে না। তবে মূল সমস্যা হলো, চুক্তিতে ‘রাজনৈতিক অপরাধ’-এর কোনো স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া নেই। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত যে কোনো অপরাধকে নিজেদের মতো করে ‘রাজনৈতিক’ হিসেবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ পেতে পারে।

বিশেষ করে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই অনেক মামলা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক আদালতও (আইসিজে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরের রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আইসিজে ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের সততা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

আইসিটির রায় ও দিল্লির অবস্থান

২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেখ হাসিনাকে পুলিশি দমন-পীড়নের জন্য দায়ী করে। পরে একটি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে।

আমি স্বাধীনতা উপভোগ করছি, তারা আফগানিস্তানে ‘বন্দি’

২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় দমন-পীড়নে নিহতের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ হাজার ৪০০।

রায়ের পর শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে কূটনৈতিক চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ। তবে নয়াদিল্লি এ নিয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেবল জানিয়েছে, তারা রায়টি পর্যবেক্ষণ করছে। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণ কামনা করে।

তারা সেখানে শান্তি, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা দেখতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে তারা সবসময় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করবে। অন্যদিকে জাতিসংঘ নীতিগতভাবে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করলেও বাংলাদেশে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে।

৮ নম্বর অনুচ্ছেদের বাধা

প্রত্যর্পণ চুক্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদটি ভারতের জন্য আরেকটি আইনি পথ খুলে দিয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, কোনো অভিযোগ যদি ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ বা ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে’ করা না হয়, তবে প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা যাবে। শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যেই আইসিটির রায়কে ‘পূর্বনির্ধারিত’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সহানুভূতিশীল থাকার অভিযোগ তোলেন।

স্পেন কি কোনো ‘শাস্তি’ পাচ্ছে?

তৎকালীন সরকার জামায়াতের পক্ষে বহু মামলা লড়া ব্যারিস্টার তাজুল ইসলামকে ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। শেখ হাসিনা নিজেও এক বিবৃতিতে এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার দাবি করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হলে ১৯৭৩ সালের ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধন প্রয়োজন।

বাস্তবতা ও সম্পর্কের উষ্ণতা

দুই দেশের সীমান্তে অপরাধীদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ঢাকা ও দিল্লি এই প্রত্যর্পণ চুক্তি সই করে। একই বছরের ২৩ অক্টোবর থেকে এটি কার্যকর হয়। ইতোপূর্বে এই চুক্তির আওতায় ২০২২ সালে ১১টি হত্যা মামলার আসামি নূর নবী ম্যাকসনের মতো বেশ কয়েকজন অপরাধীকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। পলাতক আসামিদের হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই চুক্তিটিই দুই দেশের একমাত্র কার্যকর আইনি মাধ্যম।

তাত্ত্বিকভাবে প্রত্যর্পণ সম্ভব হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর মামলার ক্ষেত্রে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই প্রধান ভূমিকা রাখে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে হঠাৎ ফেরত পাঠালে বাংলাদেশে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। তা ছাড়া যখন দুই দেশের সম্পর্ক সর্বোচ্চ চূড়ায় ছিল, তখন এই চুক্তি সই হয়েছিল। বর্তমানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াটি দিল্লির জন্য বেশ জটিল।

Continue Reading

top1

কুমিল্লা-নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ ঘোষণার দাবি জামায়াত আমিরের

Published

on

By

কুমিল্লা ও নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলছি, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর ধানাই-পানাই করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন হোক। পাশের নোয়াখালী, বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষও বিভাগ চাচ্ছেন। তারাও একটি বিভাগ পাওয়ার দাবিদার। তাদেরও দিন। কিন্তু কুমিল্লার দাবি যেহেতু ১৯৯৪ সাল থেকে চলে আসছে, আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করুন।’

শনিবার (৫ আগস্ট) কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মোশতাক আহমেদের বাড়ি কুমিল্লায় উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই কারণে গোঁসা করে কুমিল্লার নামে বিভাগ দেওয়া হবে না, আগে এ নিয়ে ধানাই-পানাই করা হয়েছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, কোনো জেলার নাম নিয়ে যদি বাড়াবাড়ি করা হয়, তাহলে সেটা ওই জেলা এবং সেখানে বসবাসকারী প্রত্যেকটি মানুষকে অপমান করার শামিল।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারও বলেছে, কুমিল্লা বিভাগ দেওয়া হবে। তাহলে দিচ্ছেন না কেন? এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করুন। বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার যাবতীয় ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করুন।’

কুমিল্লায় বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এখানে বিমানবন্দর হওয়ার যে বিষয়টি আছে, সেটিও দেখতে হবে। এখানে একটি ইপিজেড আছে, একটি বিমানবন্দরও আছে। সেই বিমানবন্দরটি সম্ভাব্যতা যাচাই করে যদি সবদিক থেকে উত্তম হয়, তাহলে জনগণের জন্য সেটিও চালু করা হোক। তবে বিভাগটা আগে দেন। বিভাগের দাবিটা আগে পূরণ করুন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লার মানুষকে এখন প্রশাসনিক কাজের জন্য চট্টগ্রামে দৌড়াতে হয়। এখানে বিভাগ হলে তাদের প্রশাসনিক কাজগুলো এখানেই হবে।’

লংমার্চ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আজকের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলো। প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে ইনশাআল্লাহ আমাদের লংমার্চ যাবে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। সেই মহাসমাবেশ কি শুধু চিড়ামুড়ি খাওয়ার জন্য হবে, নাকি আমাদের দাবি আদায়ের জন্য হবে? কুমিল্লার মানুষ, আপনারা যাবেন। প্রয়োজনে চিড়ামুড়ি হাতে নিয়েই যাবেন। দাবি আদায় করে ইনশাআল্লাহ ঘরে ফিরবেন। আপনারা প্রস্তুতি নেন। আমরা আশাবাদী, জনতার বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করেন? তিনি তো সংসদের সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন, কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়েরই কোনো খবর নেই।’

উল্লেখ্য, জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ এবং সারের সংকট সমাধানসহ ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য। আজ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চের কর্মসূচি শুরু হয়। চট্টগ্রামের লালদিঘীর মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।

Continue Reading

Trending