Connect with us

top1

হ্যাঁ ভোটের পক্ষে জামায়াত ও এনসিপি, আদেশে স্পষ্টতা দাবি

Published

on

নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের দাবি পূরণ না হলেও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে সর্বাত্মক প্রচার চালাবে জামায়াতে ইসলামী। হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাবে এনসিপিও। তবে দলটি সনদ অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নের আদেশ স্পষ্ট করতে সরকারের কাছে দাবি জানাবে। 

সমকালকে এসব কথা বলেন দুই দলের নেতারা। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেছেন, পুরো দেশই সংস্কারের পক্ষে। জামায়াতও হ্যাঁ ভোটের পক্ষে। তবে নির্বাচনের আগে গণভোট হওয়া উচিত বলে জামায়াত এখনও মনে করে। গণভোটের তপশিল ঘোষণার পর সর্বাত্মক প্রচার চালানো হবে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে। 

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের মনোনীত রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা অনুচিত হয়েছে। তার পরও এনসিপি আদেশকে গ্রহণ করেছে। তারা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে থাকবে। 

সনদ অনুযায়ী সংস্কারে জোরগত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতি সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন, যা জাতির উদ্দেশে ভাষণে তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আদেশে ৪(১) ধারায় বলা হয়েছে, গণভোটে প্রশ্ন করা হবে ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ এবং সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবে সম্মতি দিচ্ছেন?’ 

জুলাই সনদে সংবিধান সংশোধন করতে হবে এমন ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। চারটি বিষয়ে এসব প্রস্তাব আগামী ফেব্রুয়ারির গণভোটে যাবে। 

প্রধানমন্ত্রীর পদে মেয়াদ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ ৩০ সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ অধিকাংশ দলের ঐকমত্য হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, এসব প্রস্তাব আগামী সংসদের সদস্যদের নিয়ে গঠিত সংবিধান পরিষদ বাধ্য থাকবে।

পিআর পদ্ধতিতে ১০০ সদস্যের সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন পদ্ধতি, প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে কমিটির মাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) এবং ন্যায়পালের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ-সংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাবেও বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। 

কিন্তু নোট অব ডিসেন্ট উপেক্ষা করে এই আট সংস্কার প্রস্তাব এবং নির্বাচন কমিশন গঠনকে গণভোটের প্রশ্নে ক এবং খ ভাগে রাখা হয়েছে। আদেশের ৪(ক) ধারায় বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।’ 

সরকার এবং সদ্য বিলুপ্ত ঐকমত্য কমিশন সূত্র সমকালকে বলেছে, বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে এই ৯ সংস্কার প্রস্তাবকে আলাদা করে গণভোটে দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো দলের নোট অব ডিসেন্টের কার্যকারিতা না থাকে।

প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে না থাকা, বিচারপতি নিয়োগে কমিশন গঠনসহ ৯ সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্ট আছে। তা গ্রহণ করে গণভোটের প্রশ্নের ঘ ভাগে বলা হয়েছে, এসব সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।

জামায়াত এবং এনসিপির চারজন নেতা সমকালকে বলেছেন, ক এবং খ অংশে যে ৯ সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে, সেগুলো গণভোটে পৃথকভাবে রাখা হয়েছে বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতার জন্য। কিন্তু ঐকমত্য হওয়া ৩০ সংস্কার বাস্তবায়নে গ অংশে যেভাবে বাধ্য থাকার কথা বলা হয়েছে, এই দুই ক্ষেত্রে তা নেই। শব্দের এই মারপ্যাঁচ ভবিষ্যতে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে না চাওয়া দলগুলোকে সুযোগ তৈরি করে দেবে। তারা নির্বাচনে জয়ী হলে অজুহাত দিতে পারবে ৯ মৌলিক সংস্কার নোট অব ডিসেন্ট হবে। শেষ পর্যন্ত আদেশের ব্যাখ্যা আদালতে গড়ালে সংকট তৈরি হবে।

অস্পষ্টতা দূর করার দাবি জামায়াত-এনসিপিরসনদ বাস্তবায়নের আদেশে অস্পষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করলেও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, তাদের দল হ্যাঁ ভোটের পক্ষে থাকবে। তবে এসব অস্পষ্টতা দূর করতে এনসিপি সরকারকে বলবে।

খালেদ সাইফুল্লাহ

বলেছেন, আদেশের ৪(ক) ধারায় বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।’ সংস্কার কীভাবে হবে– সনদে এ-সংক্রান্ত ভাষ্য রয়েছে। কিন্তু আদেশে বলা হয়েছে, ‘বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে’ হবে। কেউ ভবিষ্যতে সনদ বাস্তবায়ন করতে না চাইলে এ অস্পষ্টতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ থাকবে। তাই ‘বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে’র পরিবর্তে আদেশে সনদ অনুযায়ী ‘ভাষ্য’ শব্দটি ব্যবহৃত হওয়া উচিত।

এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ১৮০ দিনের মধ্যে সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করবে। কিন্তু কী করতে বাধ্য, তা স্পষ্ট করে আদেশে বলা নেই। ফলে পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সংস্কারবিরোধী অবস্থান থাকলে সনদ বাস্তবায়ন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এনসিপির একটি সূত্রের দাবি, ঐকমত্য কমিশন বিলুপ্ত হওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয় আদেশের চূড়ান্ত ভাষ্যটি তৈরি করে। সেখানে এ ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। শব্দের মারপ্যাঁচে নোট অব ডিসেন্ট রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তারা দাবি করছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোট হলে আবার কীসের নোট অব ডিসেন্ট। একটি দলের ভিন্নমত নয়, জনগণ গণভোটে যে রায় দেবে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি জনগণ না ভোট দেয়, জামায়াত তা মেনে নেবে। হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে সনদ এবং আদেশে যেভাবে রয়েছে, সেভাবেই সংস্কার করা হবে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সংস্কার থেকে একচুল সরবে না। সংস্কারবিরোধী কোনো দল ক্ষমতায় গেলেও একচুল সরতে দেবে না। তবে সরকারের উচিত, আদেশটি আরও স্পষ্ট করে নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন; যাতে আগেই সংস্কার বাস্তবায়ন করা যায়।

প্রচারে জামায়াত, এনসিপি চুপচাপজামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা ইতোমধ্যে হ্যাঁ ভোটের প্রচার শুরু করেছেন সামাজিক মাধ্যমে। গত শুক্রবার বিএনপি নেতা জয়নাল আবদিন ফারুক নোয়াখালীতে গণসংযোগে ধানের শীষের পাশাপাশি না ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বিএনপি সূত্রের খবর, প্রকাশ্যে না ভোট চাওয়ায় তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জামায়াত প্রার্থীরা দাঁড়িপাল্লার পাশাপাশি হ্যাঁ ভোট চাওয়া শুরু করে দিয়েছেন। দলের নির্বাচনী প্রচার যেভাবে করা হবে, হ্যাঁ ভোটের প্রচারও একই রকম গুরুত্ব দিয়ে করবে জামায়াত।

এনসিপি নেতা এবং সমর্থকরা সামাজিক মাধ্যমে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বলছেন। তবে গণসংযোগ এবং নির্বাচনী প্রচারে গণভোটের আলোচনা তোলেনি দলটি। একাধিক নেতা বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারে নামার পর আনুষ্ঠানিকভাবে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে নামবে দলটি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

মহাসড়কে ৬ দিন ট্রাক, কাডার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ: ডিএমপি

Published

on

By

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় গমনাগমন করবেন। ঈদের সময় আনুমানিক ১ কোটির বেশি মানুষ ঢাকা ত্যাগ করেন এবং প্রায় ৩০ লক্ষাধিক প্রবেশ করেন। তাদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাডার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

রোববার (২৪ মে) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে আগামীকাল ২৫ মে থেকে ২৯ মে পর্যন্ত ৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাডার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। তবে পশুবাহী যানবাহন, নিত্য প্রয়োজনীয় গৃহস্থালী ও খাদ্য-দ্রব্য, পঁচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ঔষধ, সার, এবং জ্বালানি বহনকারী যানবাহনসমূহ এর আওতামুক্ত থাকবে।

সড়ক/মহাসড়কে যান চলাচল সংক্রান্ত নির্দেশনায় আরও বলা হয়-

ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী, রুট পারমিটবিহীন বাস চলাচল করতে পারবে না। আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রী নিয়ে বাসগুলোকে সরাসরি গন্তব্যে যেতে হবে। সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো যাবে না। অনুমোদিত কাউন্টার ছাড়া রাস্তা থেকে যাত্রী তোলা-নামানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার রাস্তাসমূহে কোনভাবেই যানবাহন পার্কিং করা যাবে না। লক্কর-ঝক্কর, ফিটনেসবিহীন, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত ও কালো ধোঁয়া নির্গমণকারী গাড়ি রাস্তায় নামানো যাবে না।

ঈদযাত্রার চাপ সামাল দিতে আগামী ২৫, ২৬ ও ২৭ মে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে কামারপাড়া হয়ে ধউর ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক একমুখী করা হবে। এ সময়ে এই পথে শুধু ঢাকা থেকে বের হওয়া যানবাহন চলাচল করতে পারবে। ঢাকায় প্রবেশকারী যানবাহনকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

এদিকে যানজট কমাতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিহারের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি। এর মধ্যে রয়েছে বনানী থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, যাত্রাবাড়ী থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, শ্যামলী থেকে গাবতলী পর্যন্ত মিরপুর রোড, ফুলবাড়িয়া থেকে বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত ঢাকা-কেরানীগঞ্জ সড়ক এবং আব্দুল্লাহপুর থেকে ধউর ব্রিজ সড়ক।

Continue Reading

top1

মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনের ফাঁসি আদেশ

Published

on

By

মেহেরপুরে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ঘটনায় শাকিল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন আদালত।

রবিবার (২৪ মে) দুপুর দেড়টায় মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।

দেশের ইতিহাসে প্রথমবার ২৯ কার্য দিবসের মধ্য স্ব-শরীর ও ভার্চুয়াল ভিডিও কলের মাধ্যমে তিন দিনে স্বাক্ষী জবানবন্দি জেরা গ্রহণ করে আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দাল হাসানের পুত্র।

ফাঁসি রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মেহেরপুর নারী ও শিশু দমন এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলা চাঁদপুর গ্রামের পঞ্চম শ্রেণীর পড়ুয়া মেয়ে তার পিতাকে বাড়ির পাশের আবাদী মাঠে খাবার দিতে যাওয়ার সময় ধর্ষক শাকিল হোসেন শিশুটিকে দেশীয় অস্ত্র ধারালো হাসুয়া দিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে পাশ্ববর্তী পাট খেতে নিয়ে গিয়ে শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

ধর্ষণ শেষে শিশুর চিৎকারে ধর্ষক পালিয়ে যায়। পরে মেয়েটির বাড়ি ফিরে তার পরিবারকে ধর্ষণের বিষয়টি জানালে গ্রামবাসী ধর্ষককে আটক করে গণপিটুনি দেয়।

পুলিশ ধর্ষককে উত্তেজিত মানুষের কাছ থেকে উদ্ধার করে আটক করে। পরে শিশুর পিতা ইছানুল হক গাংনী থানায় গিয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের পর পুলিশ ধর্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে।

মামলার তদন্ত রিপোট পুলিশ দাখিলের পর আদালত ২৯ কার্য দিবসের মধ্যে ধর্ষণ মামলায় ১২ জন সাক্ষীর ভার্চুয়ালি ভিডিও কলে ও সশরীরে জবানবন্দি জেরা গ্রহণ করেন।

সাক্ষ্য প্রমাণে এবং মেডিকেল পরীক্ষা রিপোর্টে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ধর্ষক শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ৩ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছর কারাদণ্ড আদেশ দেন। জরিমানার টাকা ধর্ষকের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লদ্ধ অর্থ আদালতের মাধ্যমে ভিকটিমের পরিবারকে পরিশোধের আদেশ দিয়েছে আদালত।

রায় ঘোষণাকালে আদালতে গণমাধ্যম কর্মীরা সহ আসামিপক্ষে আইনজীবী ও অন্য আইনজীবী, ধর্ষক উপস্থিত থেকে রায় শ্রবণ করেন। অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসাবে মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ড রায়ে ধর্ষিত শিশুর পরিবার খুশি বলে সাংবাদিকদের জানান। অন্যদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেনের আইনজীবী উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা বলেন

Continue Reading

top1

৭ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন , ছুটি বাতিল হতে পারে বিশেষ আদালতের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published

on

By

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি আরও বলেন, সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্যে যা করতে হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় করবে।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “আজ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে। বিশেষ এই আদালতে ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করা হবে বলে আশা করছি।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রামিসা হত্যার আসামিকে ৭ ঘণ্টার ভেতর গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে। আমরা খুব দ্রুততার সাথে ডিএনএ টেস্ট করিয়েছি। পোস্টমর্টেম সহ সব রিপোর্ট একত্র করে গতকাল রাতের মধ্যেই চার্জশিট তৈরি হয়েছে। আশা করছি বিচারও দ্রুততম সময়ের মধ্যে হবে। প্রয়োজনে বিশেষ আদালতের ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত হতে পারে’

এদিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে রোববার আদালতে হাজির করা হয়েছে।

এর আগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, ডিএনএ প্রতিবেদনের তথ্য আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে।

গত মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছর বয়সী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

পরে ২০ মে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন

Continue Reading

Trending