Connect with us

ক্যাম্পাস

বেরোবিতে অনুমোদনবিহীন ভর্তি: অনিশ্চয়তায় ২০৫ গবেষক

ছবি: সংগৃহীত

Published

on

ডেস্ক নিউজ 

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) -এ এমফিল, পিএইচডি ও পোস্ট ডক্টরালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) -এর অনুমোদন না থাকলেও ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মোট ২০৫ জনকে ভর্তি করে করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অনুমোদন ছাড়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিষয়টি ১০ বছর গোপন থাকলেও ২০২৪ সালের মাঝামাঝিতে তা প্রকাশ্যে আসে।

পরবর্তীতে গত বছরের ১৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (বর্তমান ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্স) অধীনে গবেষণার জন্য ভর্তির অনুমোদন মেলে। ফলে পূর্বে ভর্তি হওয়া ২০৫ জনের অনুমোদন না থাকায়  অনিশ্চয়তায় দিন গুনছেন তারা। বিষয়টির সুরাহা করতে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে। 

অনুমোদবিহীন গবেষকদের সাথে বর্তমান উপাচার্য দুই দফায় মিটিং করার পর ইউজিসির নিকট অনুমোদন ছাড়া ভর্তি হওয়া ২০৫ গবেষকদের ভূতাপেক্ষ অনুমোদনের জন্য আবেদন জানালে ইউজিসি আরেকটি ফিরতি চিঠিতে জানানো হয়, ভূতাপেক্ষ অনুমোদনের কোন সুযোগ নেই। ইউজিসির এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০৫ গবেষকের ডিগ্রি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। 

গবেষকরা বলেন, তারা অনেকেই ৮/১০ বছর ধরে গবেষণা কার্যক্রম করছেন, অনেকেই আবার গবেষণা কার্যক্রম শেষ করেছেন, এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। ইউজিসির এই সিদ্ধান্তের ফলে সময় ও আর্থিক ক্ষতির মধ্য পড়ছেন গবেষকেরা।

জানা যায়, ২০০৯ সালের ৩ ডিসেম্বর ১০ সিন্ডিকেট সভার নবম সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ইনস্টিটিউট থেকে এমফিল, পিএইচডি ডিগ্রি দিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

২০১১ সালের ৩ নভেম্বর ২০তম সিন্ডিকেট সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১২ সালের ৭ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষ থেকে এমফিল, পিএইচডিতে ভর্তি করানো হয়।

ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট সূত্র হতে জানা যায়, প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এসব ব্যাচে এমফিল, পিএইচডি ও পোস্ট ডক্টরাল গবেষক ভর্তি হন ২০৫ জন। তাদের মধ্যে ২০১১-২০১২ সেশনে ১৬ জন, ২০১৮-২০১৯ সেশনে ৩৭ জন, ২০১৯-২০২০ সেশনে ৭১ জন, ২০২০-২০২১ সেশনে ৪৪ জন, ২০২১-২০২২ সেশনে ৩৭ জন ভর্তি হন। ২০১২ থেকে ২০২২ শিক্ষাবর্ষে তাদের ভর্তি করা হলেও ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধীনে ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয় ২০২৪ সালের ১৬ মে। ফলে আগের ১০ বছরে ভর্তি হওয়া ব্যক্তিদের কোনো ডিগ্রি অর্জন করার সুযোগ থাকছে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সিনিয়র শিক্ষকের জানান, গবেষণার জন্য অনুমোদন না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল জলিল মিয়ার আমলে এই ভর্তি শুরু হয়। প্রথম কর্মকর্তা হন তার মেয়ে। পরে ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট খুলে এর অধীনে গবেষক ভর্তি করানো হয়।

জানা গেছে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা পাওয়া ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে গবেষণার জন্য ভর্তি হয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি কলেজের শিক্ষক, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

ভর্তি হওয়ায় অনেকের ছুটি শেষ হয়েছে। অনেকেই গবেষণা শেষ করতে পারেননি, গবেষণাপত্র জমা দিতে পারেননি। এমন অনেকেই আছেন যে গবেষণা শেষ করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানে বেতন ভাতা ফেরত দিতে চিঠিও পেয়েছেন।

তারা বলেন, ‘আমরা সার্কুলার দেখে ভর্তি হয়েছি। ২০১২ সালে ভর্তি হলেও অদ্যবধি কোনো সুরহা হয়নি। আমাদের অপরাধটা কোথায়? আমরা সব নিয়ম মেনে ভর্তি হয়েছিলাম। এর দায় বিশ্ববিদ্যালয়ের।

গবেষণা প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হক বলেন, ভূতাপেক্ষ অনুমোদনের জন্য যারা চিঠি পাঠিয়েছিলেন তাদের আইনি জ্ঞান স্পষ্টতই নেই। ইউজিসির এই চিঠিই তার প্রমাণ। কোনো প্রতিষ্ঠান কখনো ভূতাপেক্ষ অনুমোদন পায় না; ভূতাপেক্ষভাবে অ্যাবজর্ব করা যায় কেবল শিক্ষার্থী বা ফেলোদের, প্রতিষ্ঠানকে নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের পূর্বে অনুমোদন না থাকলেও ফেলো ভর্তি হতে পারে। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের ফেলোদের ইউজিসি ফেলোশিপ দিয়েছে।  উদাহরণস্বরূপ, কেউ একটি স্কুল খুললেন এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি দিয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় অনুমোদন পেলেন। এখন কি সেই শিক্ষার্থীদের আবার ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করতে হবে? নতুন করে ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশে এরকম শত নজির রয়েছে। আইন সর্বদা এক।

তিনি আরও বলেন, অনুমোদন ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় গবেষক ভর্তি করলো কেন? এটা নিছক প্রতারণা ও ক্রিমিনাল অফেন্স। যেকোনো গবেষক ফেলো চাইলে প্রতারণা ও ক্ষতিপূরণ মামলা করতে পারেন সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।  ভর্তির লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সেটাও ফৌজদারি অপরাধ।

২০১২ সালে গবেষণা প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওমর ফারুক বলেন, আমি যথাযথ নিয়ম মেনে পিএইচডি প্রোগ্রাম এ ভর্তি হয়েছি এবং আমি থিসিসও জমা দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আমি ন্যায়বিচার চাই।

আরেক শিক্ষার্থী রংপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক মাহাতার হোসেন সুজন বলেন, অনুমোদন আছে কি মেয়ে সেটা তো আমরা জানি না। পত্রিকায় সার্কুলার পেয়েছি আমরা আবেদন করেছি। আমাদের সকল কাজ শেষ আমরা থিসিসও জমা দিয়েছি। তাহলে কেন এত বছর পর এসে বলবে যে সেটার অনুমোদন নেই। তাহলে কেন আমাদের ভর্তি করানো হলো। এখন তো আমাদের আইনের আশ্রয় নেওয়া ছাড়া উপায় দেখছি না। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, এ ব্যাপারে আমার কিছু করার নেই। আমি দুইবার চেষ্টা করেছি। ব্যর্থ হয়েছি। এখন আমরা নতুন করে সার্কুলার দেব। কেউ চাইলে এখানে রি অ্যাডমিশন নিতে পারবেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

চাকা পাংচার হয়ে দুর্ঘটনায় ঢাবির বাস, আহত অন্তত ১০

Published

on

By

ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় চাকা পাংচার হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গাজীপুর রুটের বাস ‘ক্ষণিকা’ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৮ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সকাল ৭টায় গাজীপুর থেকে ঢাবির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে বুধবার সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ জানান, ফ্লাইওভার থেকে নামার আগে বাসটির চাকা হঠাৎ ব্লাস্ট হয়। এরপর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে।

তিনি বলেন, বাসের সামনে থাকা যাত্রী ও মাইক্রোবাসে থাকা ব্যক্তিরা গুরুতর আহত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং ভিপিসহ ডাকসু নেতারা তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন।

ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ জানান, ইনসাফ বারাকা হাসপাতালে ৩ জন আহতকে নেওয়া হয়, যাদের মধ্যে একজনকে পরে ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনি বলেন, দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রিলিজ দেওয়া হয়েছে।আহতদের মধ্যে একজনের নাকে সেলাই লেগেছে এবং আরেকজন বুকে আঘাত পেয়েছেন।

এর পাশাপাশি হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে আরও দুইজনের চিকিৎসা চলছে, যাদের হাত ও পায়ে আঘাত লেগেছে।

ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি হওয়া একজন শিক্ষার্থী চিকিৎসা শেষে রিলিজ নিয়েছেন।

অন্যদিকে শমরিতা হাসপাতালে তিনজন চিকিৎসা নিয়েছেন এবং তারা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন বলেও তিনি জানান।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

রাবি শিক্ষার্থীদের নিয়ে ডয়েচ ভেলে একাডেমিয়া ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের তিন দিনব্যাপী বুটক্যাম্প

Published

on

By

রাবি প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় তরুণদের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে “Loud and Clear: Empowering Youth Voices 2.0” প্রকল্পের আওতায় রাজশাহীতে একটি বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওয়েভ ফাউন্ডেশন এবং ডয়চে ভেলে একাডেমির (DWA) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তিনটি ক্লাবের ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

গত শনিবার রাজশাহীর হোটেল গ্র্যান্ড রিভার ভিউয়ে শুরু হওয়া “MIL, Digital Safety and Constructive Dialogue with University Students” শীর্ষক এই বুটক্যাম্পটি সোমবার বিকেলে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে রাবির তিনটি ক্লাবের মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। ক্লাব তিনটি হলো, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস), ম্যাজিক লণ্ঠন ও সর্বজনের সংস্কৃতি।

ডয়েচে ভেলে একাডেমিয়ার প্রশিক্ষক নাইমুর রহমানের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ জন ফেলো কর্মসূচিটি পরিচালনা করেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তরুণদের সামনে তথ্য বিভ্রান্তি (misinformation), বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, অনলাইন হয়রানি, গুজব এবং নারীদের বিরুদ্ধে ডক্সিংয়ের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা (MIL), ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং গঠনমূলক সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরা হয় এই প্রশিক্ষণে। অংশগ্রহণকারীরা তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীল মতামত প্রকাশ এবং গঠনমূলক আলোচনায় অংশগ্রহণের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান।

প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং জার্মান ফেডারাল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BMZ)-এর অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ডয়েচে ভেলের প্রকল্প পরিচালক প্রিয়া অ্যাসেলবর্ন, প্রকল্প ব্যবস্থাপক জোনায়েদ ইকবাল, ডয়েচে ভেলে একাডেমির ইন্সট্রাক্টর নাইমুর রহমান, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রকল্প কর্মকর্তা (যোগাযোগ) সাইফুর রহমান, প্রজেক্ট ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি, উপ-পরিচালক নাজমা সুলতানা লিলি, অর্থ কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন বকুল।

উল্লেখ্য, “Loud and Clear: Empowering Youth Voices 2.0” প্রকল্পটি ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট অঞ্চলে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো তরুণ ও নাগরিক সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

ওয়েভ ফাউন্ডেশন আশা করছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণরা তথ্যভিত্তিক মতামত গঠন, দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভূমিকা পালন এবং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

পদ্মার পাড়ে ‘ফুল বিজু’ উদযাপন ইবিস্থ পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের, ছুটি না থাকায় আক্ষেপ

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

চাকমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব বিজুর অংশ হিসেবে ‘ফুল বিজু’ উদযাপন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অধ্যয়নরত সংশ্লিষ্ট ধর্মালম্বী শিক্ষার্থীরা। প্রতিবছর নির্বিঘ্নে এসব উৎসব পালন করতে ১২ থেকে ১৬ এপ্রিল একাডেমিক ক্যালেন্ডারে ছুটি অন্তর্ভুক্ত চান তারা।

আজ রোববার (২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দে) ইবিস্থ জুম্ম ছাত্র কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা এ আয়োজন করেন।উৎসবের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা পদ্মার মোহনা পাড়ে গঙ্গা মাতার উদ্দেশ্যে ফুল নিবেদন করেন। এসময় তারা পুরনো সব দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে আরও সুন্দরভাবে বরণ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সম্মিলিতভাবে উৎসব পালন করে নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরেন তারা। তবে ক্যালেন্ডারে ছুটি না থাকায় অনেকের বাড়ি ফেরা হলো না।

জুম্ম ছাত্র কল্যাণ সমিতির সদস্য ও বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জেসি চাকমা বলেন, “বিজু হচ্ছে আমাদের চাকমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব। আমরা সাধারণত ১২, ১৩ ও ১৪ এপ্রিল এই তিন দিন উৎসবটি পালন করি। কিন্তু এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম ও পরীক্ষা থাকায় বাড়ি যাওয়া হয়নি। তাই আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে ফুল বিজুর আয়োজন করেছি, যাতে আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখা যায়।”

উপাচার্যের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান, “প্রতি বছর বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিহু, চাংক্রান-সহ এসব উৎসব উপলক্ষে ১২ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম ও পরীক্ষা স্থগিত রাখা হোক।”

ছাত্র কল্যাণ সমিতির সদস্য ও অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী প্রবাসী চাকমা বলেন, “প্রতিবছর আদিবাসীদের বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু ও চাংক্রান উৎসব পালন করা হয়। আমি সাধারণত বিজুতে বাড়িতে থাকার চেষ্টা করি। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে থাকার পর ক্লাস থাকতে পারে ভেবে ক্যাম্পাসে এসেছি। কিন্তু জিএসটি পরীক্ষা চলমান থাকায় ক্লাস বন্ধ রয়েছে এবং অনেক বিভাগে সেমিস্টার পরীক্ষা চলছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও সব জায়গায় তা হয়নি। যেহেতু এটি আদিবাসীদের বৃহত্তর সামাজিক উৎসব, তাই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছুটি দেওয়া উচিত। ক্যাম্পাসে বিজু পালন করতে পেরে ভালো লাগছে এবং এর মাধ্যমে আমরা আমাদের স্বকীয়তা তুলে ধরতে পেরেছি।”

জুম্ম ছাত্র কল্যাণ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মন্টু চাকমা বলেন, “বিজু চাকমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব, যা চৈত্রের শেষ দুই দিন ও পহেলা বৈশাখ মিলে তিন দিনব্যাপী পালিত হয়। কিন্তু নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষার কারণে আমরা যথাযথভাবে পালন করতে পারিনি। তাই আজ ক্যাম্পাসেই ফুল বিজু উদযাপন করেছি।”

উপাচার্যের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিবছর এসব উৎসবের জন্য ১২ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত একাডেমিক ক্যালেন্ডারে ছুটি অন্তর্ভুক্ত করা হোক। অতীতের সব গ্লানি মুছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানিয়ে সবাইকে বিজুর শুভেচ্ছা জানাই।”

Continue Reading

Trending