Connect with us

ক্যাম্পাস

র‍্যাগিংয়ের অপরাধে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীকে শাস্তি

Published

on

ববি প্রতিনিধি 

নবীন শিক্ষার্থীদেরকে র‍্যাগিংয়ের অপরাধে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীকে এক বছর একাডেমিক বহিষ্কার অথবা অর্থদণ্ড দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির স্বাক্ষরিত আলাদা আলাদা চিঠিতে শাস্তির বিষয়টি জানানো হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক অপরাধের মাত্রানুযায়ী এই শাস্তি আরোপ করা হয়েছে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে। 

 আইন বিভাগের ৫ জন, মার্কেটিং বিভাগের ১৯জন, কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৪ জন,  রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১০জনসহ চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

 অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ৪৮ শিক্ষার্থীকে তিন ক্যাটাগরিতে শাস্তি দেয়া হয়েছে। কাউকে ১বছরের বহিষ্কার বা ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, কাউকে ৬ মাসের বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা। বাকিদের শুধুমাত্র ১০ হাজার টাকা জরিমানার শাস্তি দেয়া হয়েছে। 

বিভাগভিত্তিক শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন-আইন বিভাগ:

১৫ জুলাই আইন বিভাগে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। জয়শ্রী রাণী বিশ্বাসকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রুবাইয়া সুলতানা রাবা, মো. রিদোয়ান চৌধুরী, মো. মানজারুল হক ও রেসবুল হাসান আবিরকে এক বছরের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ:

২২ জুলাই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ১০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মো. কাজী নাবির, সুমাইয়া আক্তার রিয়া, ইয়ামিন হোসেন, ফারিয়া বিনতে হোসেনইলমা, মো. ওয়েদুজ্জামান রিফাত, মো. আরিফুল ইসলাম, সাদিয়া ইসলাম ও মো. নাইম ইসলামকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মাহি আনোয়ারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা ছয় মাসের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার এবং মো. রাকিবুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা এক বছরের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার করা হয়েছে।

মার্কেটিং বিভাগ:

১৯ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ১৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সুরাইয়া আক্তার, সৌরভ মালী, মো. মেহেদী হাসান অমি, আজিজুল ইসলাম চয়ন, ঐশী মহন্ত, এসএম সাইফুজ্জামান, মো. খালেদ হোসেন, জান্নাতুল বুশরা জুনি, আলিফ হোসেন নয়ন, নূর নবী, কিশোর কুমার দত্ত, রিফাত হাওলাদার ও হাসিব শেখকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

মো. সবুজ মিয়াকে এক বছরের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া সাদিয়া বেগম, স্নেহা আক্তার, ফারিয়া শিমুল কলি, দিদারুল ইসলাম ও তাশফিক কবির রাফিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

সিএসই বিভাগ:

৯ আগস্ট সিএসই বিভাগে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ১৪ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মো. মুজাহিদ হাওলাদার, অনিন্দা সাহা অর্ঘ্য, চন্দন মিস্ত্রি, কাউসার হোসেন সৌরভ, সুস্ময় তরুয়া, সাফায়েত ইসলাম শিহাব, অয়ন দাস দ্বীপ ও সিদ্ধার্থ সরকারকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

মো. মাসুম বিল্লাহ ও মুবিনুল ইসলাম নোবেলকে এক বছরের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মো. রবিউল ইসলাম, মো. মইনুল ইসলাম সাকিব, মো. রেজুয়ান আজাদ ওয়াসি ও মো. মাহফুজুর রহমানকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
 
চিঠিতে জানানো হয়েছে, জরিমানা পরিশোধের সময়সীমা পত্র ইস্যুর তারিখ থেকে ১ মাস। এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে দ্বিগুনহারে জরিমানা প্রযোজ্য হবে বলে পত্রতে উল্লেখ করা হয়।

কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল  বলেন,, “তিনটি ক্যাটাগরিতে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে—বহিষ্কার অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা। শিক্ষার্থীরা যেন ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ পায়, সেজন্য প্রথমবার জরিমানের বিকল্প রাখা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন অপরাধের ক্ষেত্রে সরাসরি বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন,” মোট ৪৮জন শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিং এর বিষয়ে শাস্তি দেয়া হয়েছে। র‍্যাগিংয়ের বিষয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় জিরো টলারেন্স নীতি পলো করছে। প্রাথমিকভাবে চারটি ডিপার্টমেন্টে তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে, ঐচারটি ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্টদের কে আমরা শাস্তির আওতাভুক্ত করেছি। আর অন্য একটি ডিপার্টমেন্ট তদন্ত রিপোর্টটে স্টুডেন্টের নাম উল্লেখ না করায় আমরা তাদের কে পুনরায় তদন্ত করার জন্য বলেছি। এবং পুনরায় তদন্ত রিপোর্ট নামসহ জমা দিলে আমরা তাদেরকে আইনের আওতায় আনবো।”

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

বাকৃবি উপাচার্যের সঙ্গে রোভার স্কাউট গ্রুপের মতবিনিময়

Published

on

By

বাকৃবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) রোভার স্কাউট গ্রুপের কার্যক্রম, অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদারের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর সচিবালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাকৃবি রোভার স্কাউট গ্রুপের সভাপতি ও ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমানের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন গ্রুপের সম্পাদক কৃষিবিদ ড. মো. জহিরুল আলম।

সভায় রোভার স্কাউট গ্রুপের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরেন কৃষিবিদ ড. মো. জহিরুল আলম। একই সঙ্গে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল, রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন এবং এডিশনাল রেজিস্ট্রার (সংস্থাপন) কৃষিবিদ ড. মো. নাজমুল হক।

মতবিনিময় সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের পাশাপাশি রোভার স্কাউট শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সঙ্গে সেবামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দায়িত্বশীল ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠছে। রোভার স্কাউটের কার্যক্রম আরও বেগবান করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

সভা শেষে বাকৃবি রোভার স্কাউট গ্রুপের পক্ষ থেকে সভাপতি ও ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান উপাচার্যকে একটি ফ্লাওয়ার বেস উপহার দেন।


Continue Reading

top3

ইবিস্থ দিনাজপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায়

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অধ্যয়নরত দিনাজপুর জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘দিনাজপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি’র নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মুগ্ধ সরোবরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নবীনদের ফুল, ক্রেস্ট ও চাবির রিং দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইনসানুল ইমামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আব্দুল মুন্তাকিম আল-মারুফ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ফিরোজ আল মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিসের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল মালেক, পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক সিলভিয়া খানম ও ফাইন আর্টস বিভাগের অধ্যাপক অনিন্দিতা হাবিব।

অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মুন্তাকিম আল-মারুফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দিনাজপুর জেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্য সুদৃঢ় করাই আমাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য। নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে স্বাগত জানানো এবং তাদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব। এই পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নিতে নবীনদের একে অপরের সহযোগিতা করতে হবে। শুধু একাডেমিক পড়াশোনা নয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমেও নিজেদের সম্পৃক্ত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন নিজেকে দক্ষ, যোগ্য ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ সময়। একই সঙ্গে আমাদের জেলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সুনাম ধরে রাখার দায়িত্বও সবার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহকারী অধ্যাপক মো. ফিরোজ আল মামুন বলেন, “বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থীর মূল লক্ষ্য যেন শুধু সার্টিফিকেট অর্জন করা অথচ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করাই হওয়া উচিত প্রধান উদ্দেশ্য। বর্তমান সময়ে সাধারণ জ্ঞানের পাশাপাশি বিশেষ জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জন জরুরি। নিজের যে বিষয়ে পারদর্শিতা রয়েছে, সে বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। পাশাপাশি লিংকইন্ড, বিডিজবসসহ পেশাগত যোগাযোগের প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকা এবং কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ অনেক সময় যোগ্যতার পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতাও ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

তিনি আরও বলেন, “ভালো ফলাফলও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও সিজিপিএ ও যোগাযোগ দক্ষতা বিবেচিত হয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে। ইসলামের প্রথম বার্তাগুলোর একটি হলো ‘ইকরা’ অর্থাৎ পড়ো। জ্ঞান অর্জনের জন্য নিয়মিত পড়াশোনার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে বাবা-মা, শিক্ষক ও অন্যদের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং একজন ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।”

বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় নেওয়ার সময় এমন একটি পরিচয় রেখে যেতে হবে, যাতে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ভদ্রতা, বিনয়, ভালো ফলাফল ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্য স্মরণ করেন। ক্যাম্পাসের অস্থিতিশীলতা বা কোনো নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে নয়, বরং ভালো উদ্যোগ, মানবিক কাজ ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে নিজেদের পরিচিত করতে হবে।”

Continue Reading

ক্যাম্পাস

ইবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ একাধিক অভিযোগ

Published

on

By

প্রতিনিধি, ইবি

সংগঠনের প্রায় ১৮ হাজার টাকা আত্মসাত, হল ডিবেটিং সোসাইটির কমিটিতে ছাত্রলীগ নেতাকে সভাপতিত্ব দেওয়া, মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্ট থেকে বয়ক্তিগত তথ্য গোপন করে বৃত্তি নেওয়া সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (আইইউডিএস) সভাপতি ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে। এছাড়াও রাজনৈতিক ট্যাগিং, সদস্যদের হয়রানি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে একক আধিপত্য বিস্তারেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এ সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইয়াছিন আলী।

গত ১২ জুলাই ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন ডিবেটিং সোসাইটির সদস্য মিশুক শাহরিয়ার। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ ও রাজনৈতিক ট্যাগিং দিয়ে তাকে কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। তার দাবি, আইইউডিএস নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর তাকে ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে কমিটিতে রাজা হয়নি। একই সঙ্গে তার সম্পর্কে জুনিয়র সদস্য ও হল প্রভোস্টের কাছে ভুল বা অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। মিশুকের অভিযোগ, আইইউডিএসের কমিটি গঠনের সময় উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তও অনুসরণ করা হয়নি। তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও একেবারেই কমিটিতে রাখা হয়নি, অন্যদিকে হল কমিটির আনুষ্ঠানিক সদস্য নন এমন একজনকে কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

সম্প্রতি আইইউডিএসের মডারেটর বরাবর দেওয়া আরেক লিখিত অভিযোগে সংগঠনটির শিক্ষা ও প্রকাশনা সম্পাদক ও সাদ্দাম হোসেন হল ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. শান্ত শিশির ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া এক্সিকিউটিভ কমিটি বা হল ডিবেটিং সোসাইটিগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে বিতার্কিকদের জাতীয় উৎসবে পাঠানো, বিভিন্ন ব্যক্তিকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হয়রানি, মেধাবী বিতার্কিকদের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা এবং হলগুলোর সঙ্গে সমন্বয়হীনতার অভিযোগও করেন তিনি। অভিযোগে শিশির আরও বলেন, ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে আইইউডিএসের প্রায় ১৮,০০০ টাকা আত্মসাতের মতো অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতা রয়েছে।

এছাড়াও গত ২০ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটির সদ্য ঘোষিত কমিটি স্থগিত করেন হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। কমিটির সভাপতি মোহাইমিনুল ইসলাম রক্তিমের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও কমিটিতে যোগ্যদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগ ওঠে। কমিটি গঠনে আইইউডিএস সভাপতি ইয়াছিন আলীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে আসে। প্রভোস্ট এ সম্বন্ধে জানান, এ কমিটিকে আইইউডিএসের সভাপতি ইয়াসিন আলী শুভেচ্ছা জানায়। তাড়াহুড়ো করে তার কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়া হলেও পরে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি স্থগিত করা হয়েছে।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইয়াছিন আলী বলেন, জাতীয় বিতর্ক উৎসবে জ্যেষ্ঠদের মতামতের ভিত্তিতে সব হল থেকে পর্যায়ক্রমে বিতর্কিক পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আমি নিজে ফোন দিয়ে মিশুক এবং শিশিরকে বলেছি। কিন্তু তারা সেটা মানা করে দেয় এবং করবেনা বলে। এরপর ঝিনাইদহ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কর্তৃক আয়োজিত একটি বিতর্কতে আমি ২০-২১ শিক্ষাবর্ষের বিচারকদের কে পাঠাই। সেখানে সিনিয়রদের সাথে একমাত্র জুনিয়র ২১-২২ এর শান্ত শিশিরকে পাঠিয়েছি আমি। তারপরেও তাদের এই অভিযোগ।

মিশুক শাহরিয়ারের হয়রানি ও তথ্য গোপনের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, সে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে হুমকি দিয়ে প্রোগ্রাম বন্ধ করিয়েছে এবং ভরা মজলিসে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ডিবেটিং সোসাইটিকে অপমান করেছে। শিবির ট্যাগিং দিয়ে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টিও ভিত্তিহীন, মূলত তার বারবার বেয়াদবি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণেই তাকে কমিটিতে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ব্যাপারে বলেন, ২০২৩ সালে আন্তঃবিভাগ বিতর্কে ডিপার্টমেন্ট থেকে সংগৃহীত ১৮,৫৮০ টাকা তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত আবু হুরায়রা ভাই ফেরত দিয়েছেন, যা বর্তমান ট্রেজারার রাকিবুল ইসলামের কাছে জমা আছে। তথ্য গোপন করে বৃত্তি নেওয়ার অভিযোগও ভিত্তিহীন; আমি এনটিআরসিএ-র ইবতেদায়িতে চাকরি পাওয়ার বিষয়টি জানানো হলে সংশ্লিষ্টরা সানন্দে গ্রহণ করেন এবং মাস্টার্স শেষ করে পূর্ণাঙ্গ যোগদানের পর বৃত্তি ছাড়ার বিষয়ে সম্মতি দেন। তাছাড়া, মিশুককে কখনো শিবির ট্যাগ দেওয়া হয়নি, বরং সে লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটিকমিটিতে সভাপতি না বানালে সিন ক্রিয়েট ও নিউজ করানোর হুমকি দেয় এবং বিভিন্ন সময়ে সিনিয়রদের সাথে বেয়াদবি করে।

ইবি ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলফিকার হোসেন এ নিয়ে বলেন, সংগঠনের সভাপতির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এসেছে, তা মূলত ব্যক্তিগত রেষারেষি ও পূর্বের কিছু ভুলভ্রান্তির ফল, যা আগেও একবার সমাধান করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বসে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।

সংগঠনের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ইতোপূর্বে ব্যাংকে সংগঠনের নামে নিজস্ব কোনো অ্যাকাউন্ট ছিল না। তবে সম্প্রতি ‘আইইউডিএস’-এর নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যাতে পূর্বের ও বর্তমানের সকল আর্থিক লেনদেন স্বচ্ছতার সাথে সংরক্ষণ করা যায়। কমিটি গঠনে বঞ্চিত করার ব্যাপারে বলেন, আইইউডিএস-এর অর্ডিন্যান্সে কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে। একটি সহায়ক কমিটির মাধ্যমে এসব নিয়মকানুন ও গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা করে সংশোধন করা হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য কোনো বিতর্ক বা ব্যক্তিগত কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে আটকে থাকা নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্ক চর্চার পরিবেশকে আরও সুদৃঢ় করা।

Continue Reading

Trending