শনিবার (৪ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পক্ষান্তরে আজ মধ্যরাতে গাজা উপত্যাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসিল বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘গত রাতটি ছিল অত্যন্ত সহিংস। ইসরায়েলি সেনারা গাজা সিটি ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আহ্বান সত্ত্বেও তারা বোমাবর্ষণ বন্ধ করেনি। ওই হামলায় অন্তত ২০টি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।’
হামাসের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানান, ‘মহাসচিব গুতেরেস গাজার মর্মান্তিক সংঘাতের অবসান ঘটানোর জন্য সকল পক্ষকে এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। জিম্মিদের মুক্তি এবং ট্রাম্পের পরিকল্পনার ভিত্তিতে আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকার বিষয়ে হামাসের ইতিবাচক সাড়াকে তিনি স্বাগত জানান।’
হামাসের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন এন্তিনিও
এর আগে শুক্রবার হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মুসা আবু মারজুক বলেছিলেন, ‘ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার মূল রূপরেখার সঙ্গে ‘নীতিগতভাবে’ সম্মত হয়েছে এবং আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছে।’
স্টিফেন ডুজারিক আরও বলেন, ‘মহাসচিব অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, সকল জিম্মির অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি এবং নিরবচ্ছিন্ন মানবিক প্রবেশাধিকারের জন্য তাঁর অবিচল আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’
এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য আন্তোনিও গুতেরেস মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার এবং মিশরকে তাদের ‘অমূল্য’ ভূমিকার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।
কিন্তু আজ ফের হামলা যুদ্ধ সংঘাতকে আরও উস্কে দিয়েছে বলে মনে করছে কূটনীতিবিদরা। এভাবে চলতে থাকলে ট্রাম্প নীতি কার্যকর হবে কিনা প্রশ্ন রয়ে যায়।
এর আগে হামাস যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর এবং ট্রাম্প ইসরায়েলকে হামলা বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পর গাজা সিটির বাসিন্দারা নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছিলেন। তবে পরে দখলদার ইসরায়েল সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানায়, গাজা সিটি এখনো ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক যুদ্ধপ্রবণ এলাকা’ সেখানে ফিরে গেলে প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে।
৩ দেশে মার্কিন সেনাদের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিকে নিশানা করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের নৌবাহিনী দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে তারা একাধিক দফায় হামলা চালিয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি জানান, ইরানি বাহিনী মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘ধারাবাহিক কয়েক দফা’ হামলা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, হামলার লক্ষ্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা ঘাঁটি (আবুধাবি), কুয়েতের আল-আদিরি ঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ইসা ঘাঁটি।
তাংসিরি জানান, হামলায় মার্কিন প্যাট্রিয়ট রাডার সিস্টেম, সামরিক বিমান এবং বিমানবাহিনীর জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এদিকে ভারত মহাসাগরে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ১০৪ নৌসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান আমির হাতামি। তিনি বলেছেন, এই হামলার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাতে জানানো হয়, ইরানের নতুন যুদ্ধজাহাজগুলোর একটি আইআরআইএস দেনা সামরিক মহড়া শেষে দেশে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়। আমির হাতামি বলেন, দেনা ডেস্ট্রয়ারের ক্রুরা একটি শান্তিপূর্ণ মিশন শেষ করে দেশে ফিরছিলেন। তারা কোনো সরাসরি যুদ্ধে জড়িত না থাকা অবস্থায়ই হামলার লক্ষ্যবস্তু হন।
তিনি বলেন, দেনার নাম এবং এর ক্রুদের আত্মত্যাগ ইরানের নৌবাহিনীর ইতিহাসে সাহস ও দায়িত্ববোধের প্রতীক হয়ে থাকবে। সেনাবাহিনী সামুদ্রিক সীমান্ত রক্ষায় আরও দৃঢ়ভাবে কাজ করবে এবং নৌক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হবে
ইরান ঘিরে চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মিত্রদেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে ওয়াশিংটন ইরানে হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
অন্যদিকে ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালালে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ছয় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে কাতার লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। এসব হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে।
এতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দেশটি বলেছে, তারা যেন ইসরায়েলি দখলদার কর্তৃপক্ষকে লেবাননের ওপর ধারাবাহিক হামলা বন্ধ করতে এবং আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও আইন মেনে চলতে বাধ্য করে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, লেবাননের ‘ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার’ প্রতি কাতারের সমর্থন অটল। একই সঙ্গে দেশটির ‘স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নেওয়া সব উদ্যোগকে’ তারা পূর্ণ সমর্থন জানায়।
এদিকে গত সোমবার থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৮৭ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে ৯৮ জন শিশু রয়েছে। এসব হামলায় প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে।