Connect with us

top1

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন ‘নিখোঁজ’

Published

on

এখন কোথায়? তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের কাছেও তার বিষয়ে হালনাগাদ কোনো তথ্য নেই। তবে ইতোমধ্যে তিনি স্বামীসহ দেশ ছেড়ে সীমান্তের ওপারে (ভারতে) আশ্রয় নিয়েছেন-এমন গুঞ্জন রয়েছে।

তার বিরুদ্ধে হওয়া হত্যা মামলার এক বছরেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা নিতে দ্বিধায় রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর মধ্যে এ নিয়ে টানাপোড়েনও চলছে। স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন শিরীন শারমিন। দেশের ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে (চার মেয়াদ) স্পিকারের আসনে থেকে তিনি হত্যা, গুম, দুর্নীতিসহ হাসিনার সব অপকর্মের বৈধতা দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা পেলে গ্রেপ্তারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। 

হত্যা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ার জন্য তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের দুষছেন। পাশাপাশি কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের পর গোপনে শিরীন শারমিনকে সাধারণ পাসপোর্ট দেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারার ব্যর্থতাও স্বীকার করেছেন কর্মকর্তারা। এ বিষয়েও সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার কথা জানালেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা।

অপরদিকে আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাসহ দুটি সুনির্দিষ্ট মামলা হয়েছে। আদালত মামলা তদন্তের আদেশ দিয়েছে। তদন্তের পিুরো দায়ভার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। তদন্ত শেষ হলেই আদালত পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। এখানে আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গৌণ।

দেশে না বিদেশে-নিশ্চিত নয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

শিরীন শারমিন কোথায়-এ প্রশ্ন ছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার কাছে। আমার দেশকে তিনি বলেন, সাবেক স্পিকারের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অফিসিয়াল তথ্য নেই। তবে যতটুকু জানি তিনি ঢাকাতেই তার ভাইয়ের বাসায় স্বামীকে নিয়ে বসবাস করছেন। তার বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, পাসপোর্ট ছাড়াই তিনি স্থলপথে সীমান্তের ওপারে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এখনো তার বিষয়ে আমরা কোনো ধরনের নির্দেশ পাইনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনের বিষয়টি নীতিনির্ধারক পর্যায়ের। উপর থেকে নির্দেশনা এলে অবশ্যই তার আলোকে কার্যক্রম শুরু করব। তার বিষয়ে আদালতের কোনো পরোয়ানা বা নির্দেশ পেলে অবশ্যই আমরা তা বাস্তবায়নে প্রস্তুত।

শিরীন শারমিনের বিষয়ে সরকারের দুটি গোয়েন্দা সংস্থা ও একটি তদন্ত সংস্থার প্রধানের সঙ্গে কথা বলে আমার দেশ। ঢাকার একটি সুরক্ষিত এলাকায় ভাইয়ের বাসায় স্বামী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে তিনি বসবাস করছেন বলে দাবি করেন একটি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তার বিষয়ে কোনো ধরনের নির্দেশনা নেই বলে জানান তিনি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম দিকে শিরীন শারমিন রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় অবস্থান করছিলেন। ওই সময় তাকে একবার গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে অজ্ঞাত কারণে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিষয়টি জানার পর নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের অন্যতম সুবিধাভোগী ‘পুতুল সংসদের’ এই স্পিকার। ছয় মাস আগে তিনি নিজের ঠিকানা পাল্টে রাজধানীর একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত স্থানে নিকটাত্মীয়ের বাসায় চলে যান। সেখানে অবস্থান করে তিনি নতুন পাসপোর্টের জন্য আঙুলের ছাপ ও ছবি দেন। ওই কাজে তাকে পাসপোর্ট অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা সহযোগিতা করেন।

আত্মগোপনে আছেন এবং আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়ই শিরীন শারমিন নতুন সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে আঙুলের ছাপ এবং আইরিস দেন বলেও নিশ্চিত হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন শাখা। ধানমন্ডির যে ঠিকানা দিয়ে পাসপোর্ট করতে চেয়েছিলেন, সেখানেও তিনি অবস্থান করছেন না বলে সরকারের গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন

অপর একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে শিরীন শারমিনের 

বিষয়ে জানতে লিখিতভাবে প্রশ্ন দেওয়া হয়েছিল আমার দেশ-এর পক্ষ থেকে। সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে তথ্য দিতে অসম্মতি জানিয়েছে। তবে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, ‘কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের পর শিরীন শারমিন সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর পুরোপুরি আত্মগোপনে চলে যান। আমাদের কাছে যতটুকু তথ্য আছে, তিনি এখন দেশে নেই। স্থলপথে পার্শ্ববর্তী দেশে অবৈধভাবে পাড়ি জমিয়েছেন বলে শুনেছি।’

গোয়েন্দা কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

হত্যা মামলার আসামি, এগোয়নি তদন্ত

শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি আমলী আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন দিলরুবা আক্তার। মামলার আরজিতে তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক স্পিকার ও এলাকার সংসদ সদস্য শিরীন শারমিনের নির্দেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তার স্বামী মুসলিম উদ্দিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। মুসলিম উদ্দিন ছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী আর শিরীন শারমিন ওই এলাকার ভোটারবিহীন নির্বাচনে তিনবারের সংসদ সদস্য ছিলেন।

মামলার আরজিতে আরো বলা হয়, ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিটি বাজার এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষ হয়। সেখানে মুসলিম উদ্দিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

মামলার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাদী দিলরুবা আক্তার আমার দেশকে বলেন, আমার স্বামীকে হত্যার ঘটনায় আমি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মামলা করেছি। মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনকে আসামি করা হয়েছে। হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে রংপুরে যে আন্দোলন হয়, শিরীন শারমিন তা দমন করতে আওয়ামী লীগ ও পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে দিলরুবা জানান, শুনেছি শিরীন শারমিন ঢাকায় আছেন। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিতে দেওয়া হলেও কেউ আমার সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করেনি। মামলার তদন্ত হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও কিছু বলতে পারছি না। আমি বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাইনি। আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই। বিচার করতে এ সরকার ব্যর্থ হলে আমি কোথায় গিয়ে বিচার পাব?

মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে সিআইডির ইন্সপেক্টর সামিউল আলম আমার দেশকে জানান, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নামে করা দিলরুবা বেগমের মামলাটি সিআইডির পক্ষ থেকে আমি তদন্ত করছি। তদন্ত অনেকদূর এগিয়েছে। আশা করি দ্রুত কোর্টে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে। তবে মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

হাসিনার আস্থায় চার মেয়াদের স্পিকার

হাসিনার নির্দেশের যথাযথ প্রতিপালন করে টানা চারবার স্পিকারের আসনে বসতে পেরেছেন নোয়াখালীর মেয়ে ড. শিরীন শারমিন। হাসিনা ১৫ বছরে যত অপরাধ করেছেন তার আইনি অনুমোদন দিয়ে সমান অপরাধ করেছেন তিনিও। এমনটিই মনে করছেন নোয়াখালীর আরেক সন্তান এবং সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার খোকন আমার দেশকে বলেন, শিরীন শারমিন আমাদের আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন। জাতীয় সংসদের দীর্ঘ সময়ের স্পিকার হিসেবে হাসিনার সব অপশাসনের বৈধতা দিয়েছেন। তিনি এখন একটি হত্যা মামলার আসামি। আশা করব আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করবেন। আত্মগোপনে থেকে কিংবা পালিয়ে গিয়ে তিনি আইনকে অশ্রদ্ধা করছেন।

শিরীন শারমিনের সহকর্মী আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি (শিরীন শারমিন) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমিরুল ইসলামের জুনিয়র হিসেবে কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে আসেন শিরীন শারমিন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে ২০১৩ সালে ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন তিনি। নবম জাতীয় সংসদের অবশিষ্ট মেয়াদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দেশের ইতিহাসে সংরক্ষিত আসন থেকে তিনিই প্রথম স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন।

প্রার্থী ও ভোটারবিহীন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি নিজ এলাকা নোয়াখালী কিংবা দেশের অন্য কোনো আসন থেকে নির্বাচন করেননি। ওই নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তার ছেড়ে দেওয়া রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসন থেকে শিরীন শারমিনকে উপনির্বাচনে বিজয়ী করে আনেন। সূত্র জানিয়েছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন ও সংসদ গঠনের আগেই একই দিনে শিরীন শারমিনের প্রার্থিতা বাছাই, বিজয়ী ঘোষণা ও প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। পরদিন তিনি ডেপুটি স্পিকারের কাছে শপথ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো স্পিকারের আসনে বসেন। ওই উপনির্বাচনে দ্বিতীয় কাউকে প্রার্থী হতে দেওয়া হয়নি বলেও ওই সময় অভিযোগ ওঠে।

রাতের ভোট হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের একই আসন থেকে শিরীন শারমিন আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তৃতীয়বারের মতো স্পিকারের দায়িত্ব নেন। ২০২৪ সালের ডামি ভোট হিসেবে খ্যাত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়ে চতুর্থবারের মতো স্পিকারের দায়িত্ব পান তিনি।

হাসিনা পালালেও পদ আঁকড়ে থাকার চেষ্টা

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণভবন থেকে হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার সময়ও শিরীন শারমিন জাতীয় সংসদে নিজ দপ্তরে ছিলেন বলে জানা গেছে। প্রধান বিচারপতিসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিতরা পদত্যাগ করলেও তিনি পদ আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করেন।

শেষ পর্যন্ত হাসিনার পলায়নের ২৭ দিনের মাথায় অর্থাৎ ২ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত স্থান থেকে বাহকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান শিরীন শারমিন। রাষ্ট্রপতি ওই দিনই তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগপত্রটি রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা কার্যকর হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

হাসিনা পালিয়ে যাবেন-এটা বিশ্বাসই করতেন না

স্পিকারের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন এক কর্মকর্তা আমার দেশকে জানান, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরশাসক হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত শিরীন শারমিন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার বাসভবনেই ছিলেন। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবেন কিংবা পালাতে পারেনÑএমনটা কখনোই বিশ্বাস করতেন না তিনি। দুপুরের দিকে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠলেও তাকে বিচলিত দেখা যায়নি। ওই দিনও তিনি সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশের লেকপাড়ের বাসায় বসে দাপ্তরিক কাজ করেন এবং কিছু জরুরি ফাইলে সই করেন।

সংসদ এলাকা থেকে স্পিকারের পলায়নের বর্ণনা দিয়ে ওই কর্মকর্তা জানান, দুপুরের পর হাজার হাজার ছাত্র-জনতা গণভবন ও সংসদ ভবন অভিমুখে রওনা হওয়ার তথ্য তাকে জানানো হয়। এর পরই তিনি তড়িঘড়ি করে গানম্যান ও প্রটোকল রেখে ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়ে সংসদ এলাকা ত্যাগ করেন। ১২ বছরের আবাসন ত্যাগ করার সময় ওই গাড়িতে স্বামী সৈয়দ ইশতিয়াক হোসাইন ও ছোট ছেলে সঙ্গে ছিলেন।

গোপনে পাসপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকার ৫ আগস্টের পর শিরীন শারমিনসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ পাসপোর্ট বাতিল করে। এর পরপরই তিনি বিকল্প উপায়ে পাসপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট শাখার এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী গত বছরের ৩ অক্টোবর সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন ও তার স্বামী সৈয়দ ইশতিয়াক অনলাইনে ঢাকার আগারগাঁওয়ে পাসপোর্ট অফিসে সাধারণ ই-পাসপোর্ট পেতে আবেদন করেন। তারা রাজধানীর ধানমন্ডির ১৬ নম্বর সড়কের একটি বাড়ির ৪-ই নম্বর ফ্ল্যাটকে ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করলেও অজ্ঞাত স্থান থেকে আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিসের ছবি দেন। এসব কাজ অতিগোপনে সম্পন্ন হয়।

নতুন পাসপোর্টের আবেদন বাতিল করা হয়েছে জানিয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট শাখার ওই কর্মকর্তা জানান, অজ্ঞাত স্থান থেকে আবেদন করে পাসপোর্ট অফিসে না গিয়ে আঙুলের ছাপ ও ছবি দিয়ে ই-পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য শিরীন শারমিন ও তার স্বামীর অনলাইনে করা আবেদন আমরা বাতিল করে দিয়েছি। ওই আবেদনের ভিত্তিতে তারা পাসপোর্ট পাবেন না। তবে এর সঙ্গে অবশ্যই পাসপোর্ট অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত। তাদের চিহ্নিত করতে আমরা কাজ করছি।

যা বলছে আইন মন্ত্রণালয়

হত্যা মামলার আসামি হয়েও শিরীন শারমিনের গ্রেপ্তার না হওয়া প্রসঙ্গে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করে আমার দেশ। তার দপ্তর থেকে জানানো হয়, বিষয়টি এখন আদালত ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারাধীন। আদালত তদন্তের আদেশ দিয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষে প্রতিবেদন পেশ করা হলে আদালত পরবর্তী আদেশ দেবে। এখানে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো ভূমিকা নেই।

আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে যেসব হত্যা মামলা করা হয়, সেগুলোর বিষয়ে সরকারের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্দেশে সংঘটিত হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা ব্যতীত) বিচার হবে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে।

এছাড়া হত্যাসহ অপরাপর গুরুতর অপরাধের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার প্রসিকিউশনের কার্যক্রম সুষ্ঠু ও গতিশীল করার লক্ষ্যে কাজ করবে বিশেষ কমিটি। এ ধরনের মামলার মধ্যে যেসব মামলায় চার্জশিট দাখিল হয়েছে, সেসব মামলায় প্রসিকিউশনের কার্যক্রম পরিচালনায় বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করবে এবং উক্ত সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে কমিটি প্রয়োজনীয় সুপারিশ সরকারের নিকট প্রেরণ করবে।’

শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সদস্য মো. শহিদ উল্লাহ আমার দেশকে বলেন, সাবেক স্পিকারের বিষয়ে আমরা লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনব।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সেপ্টেম্বরে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে আসছে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

Published

on

By

সব ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে চলছে শেষ মুহূর্তের কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা। পরীক্ষামূলক সরবরাহ সফল হলে পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট ও লোডশেডিংয়ের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের অন্যতম বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। কবে নাগাদ কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, সে অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করানো হয়েছে। দুই ধাপে শতাধিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি পরীক্ষাগুলোও পর্যায়ক্রমে শেষ করা হচ্ছে। প্রতিটি ধাপ যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দিচ্ছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

একবার চালু হলে কেন্দ্রটি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। একবার জ্বালানি লোড করার পর প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এরপর নতুন জ্বালানি দিতে একটি ইউনিট সর্বোচ্চ প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ অন্য বিদ্যুতের তুলনায় বেশি নির্ভুল ও স্থিতিশীল গ্রিডের মাধ্যমে সরবরাহ করতে হয়। তাই রূপপুরের সঙ্গে যুক্ত জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।

রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঞ্চালনে বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি ও গোপালগঞ্জের আরেকটি ৪০০ কেভি অবকাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে বেশিরভাগ অবকাঠামোর কমিশনিং শেষ হয়েছে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য আরও প্রস্তুতি প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্রুতগতির বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের সিস্টেম এখনও পুরোপুরি সমন্বয় করার মতো সক্ষম নয়। এ সমন্বয় ঠিকভাবে না হলে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

এ জন্য পিডিবির পাশাপাশি নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ দেশগুলোর বিশেষজ্ঞ ও বিদেশি পরামর্শকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন ও প্রস্তুতির কাজ চলছে।

তবে রূপপুরের বিদ্যুতের চূড়ান্ত মূল্য এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর পর পিডিবির সঙ্গে আলাদা ক্রয়চুক্তি হবে। প্রকল্পের শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩ থেকে ৪ টাকা ধরা হলেও প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এখন সেই হিসাব পরিবর্তিত হয়েছে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রূপপুর প্রকল্পের বেশ কিছু পেমেন্ট আটকে আছে। রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে এসব অর্থ পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে। ফলে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

Continue Reading

top1

বরিশাল/ দিনে ৬২ লাখ টাকার বিদ্যুৎ টেনে নিচ্ছে ব্যাটারি রিকশা

Published

on

By

সরকারি হিসাবের বাইরে বরিশাল নগরে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা। এসব যান চার্জ দিতে প্রতিদিন অন্তত ৬২ লাখ টাকার বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। ফলে তীব্র বিদ্যুৎ ঘাটতির মুখে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, যা জনজীবনে ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব।

বরিশাল নগরে সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, ইজিবাইকের সংখ্যা ৭ হাজার ৬০০ হলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, এই সংখ্যা ৩০ হাজারের কম নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও অন্তত ৪০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা। অর্থাৎ সরকারি অনুমোদনের বাইরে কয়েক গুণ বেশি যান চলায় এর কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব বা নিয়ন্ত্রণ নেই।

পাটের বাজারে বড় ধাক্কা, ১৫ দিনেই মণপ্রতি কমল হাজার টাকা

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩০ হাজার ইজিবাইক ও ৪০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ করতে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সর্বনিম্ন দাম ১০ টাকা ধরে এর আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬২ লাখ টাকা।

এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কতটা বাণিজ্যিক মিটারের মাধ্যমে হচ্ছে আর কতটা অবৈধ বা আবাসিক সংযোগে—তারও কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। ওজোপাডিকোর দুই অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলীরা ১২৭টি গ্যারেজে বাণিজ্যিক মিটার থাকার কথা বললেও কর্মচারীদের দাবি, প্রায় ২০০ গ্যারেজে মিটার ছাড়াই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। গভীর রাতে মূল লাইনে হুক লাগিয়ে বা আবাসিক মিটারে অবৈধভাবে চার্জ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

নগরের কাউনিয়া, নবগ্রাম রোড, ভাটিখানা, বটতলা, কেডিসি কলোনি, স্টেডিয়াম কলোনি, জিয়া সড়ক, নতুন বাজার, রূপাতলী, ধান গবেষণা রোড, চাঁদমারী, পলাশপুর ও আমানতগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যারেজ গড়ে উঠেছে। দিনের বেলায় এসব গ্যারেজে রিকশা ও ইজিবাইক রাখা হয়। রাত গভীর হলে শুরু হয় ব্যাটারি চার্জ।

কয়েকটি গ্যারেজে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবাসিক মিটারে বিদ্যুৎ নিয়ে ব্যাটারি চার্জ করা হচ্ছে। কোথাও আবার বিদ্যুতের মূল লাইন থেকে সরাসরি সংযোগ নেওয়ার কথাও গ্যারেজ মালিকেরা স্বীকার করেছেন।

স্টেডিয়াম কলোনির এক গ্যারেজ মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাসে ১০ হাজার টাকা দিতে হয় বিদ্যুতের লোকজনকে, যাতে লাইন কেটে না দেয়। সামান্য এই ঘুষের মাধ্যমে আমরা আবাসিক মিটার ব্যবহার করি। কম খরচে বেশি যানবাহন চার্জ দিতে পারি।

বিসিক এলাকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক গ্যারেজ মালিক বলেন, বেশি ব্যবসার জন্য রাত ১টার পর মেইন লাইনের সঙ্গে হুক দিয়ে দিই। এতে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। মিটার রিডারকে মাঝে মাঝে কিছু টাকা দিই। গ্যারেজে ১৮ থেকে ২০টি ব্যাটারিচালিত যান আছে। অনেক খরচ বেঁচে যায়।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) দাবি, বরিশাল বিভাগে বিদ্যুৎ ব্যবহারে অনিয়ম ও অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে গত ছয় মাসে ৬৮১টি মামলা করেছেন তারা। এসব মামলায় প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ওজোপাডিকোর তথ্য অনুযায়ী, আবাসিক মিটার ব্যবহার করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার ও বিদ্যুৎ চুরিসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়। এছাড়া অবৈধভাবে বিদ্যুৎ চুরির ঘটনায় তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ঘটনায় আদায় করা হয়েছে ২৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা।

ওজোপাডিকো-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমার আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৮০টি গ্যারেজ কাম চার্জিং স্টেশনে বাণিজ্যিক মিটার রয়েছে। আবাসিক মিটার ব্যবহার করে কেউ ব্যাটারি চার্জ করছে—এমন তথ্য পেলে অভিযান চালানো হয়।

ওজোপাডিকো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার জানান, আমার আওতাধীন এলাকায় ৪৭টি গ্যারেজে বাণিজ্যিক মিটার রয়েছে। অনিয়ম হলে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।

বরিশাল নগরের বিদ্যুৎ চাহিদা প্রতিদিন ৭০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে মাত্র ৫৪ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। এই ঘাটতির মধ্যে রাতভর হাজার হাজার ব্যাটারি চার্জ হচ্ছে। নগরবাসী বলছেন, এর প্রভাব পড়ছে তাদের দৈনন্দিন জীবনে।

ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ, বরিশালের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. গোলাম সালেহ আহমেদ ছালেমের মতে, ৭০ হাজার ব্যাটারিচালিত যান চার্জ করতে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার হতে পারে। এত বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহার নগরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এমন অবস্থায় গ্রাহকরা সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ পেতে চাইলে ব্যাটারিচালিত যানবাহনগুলোতে চার্জ করতে সোলার সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে। আসলেই এর কোনো বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে যদি ব্যাটারিচালিত যানবাহনগুলোর সোলার সিস্টেম ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বিদ্যুৎ নিয়ে সকল সমস্যার ৯০ ভাগ সমাধান হয়ে যাবে।

সু শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল নগর কমিটির সম্পাদক মো. রফিকুল আলম বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক নগরের মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তাই এগুলো একদিনে বন্ধ করার বাস্তবতা নেই। কিন্তু যানগুলোর সংখ্যা, নিবন্ধন, রুট, চার্জিং স্টেশন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এর চাপ শেষ পর্যন্ত পড়ছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরই। ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আনা জরুরি। সিটি করপোরেশন এ যানগুলোর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বিদ্যুৎ সংকটের ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমবে।

ওজোপাডিকো (পরিচালন ও সংরক্ষণ) বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরিতোষ চন্দ্র সরকার বলেন, বরিশাল নগরের আয়তনের তুলনায় যে পরিমাণ অটোরিকশা রয়েছে, তা দেশের অন্য কোনো শহরে নেই। আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। যদি কোথাও ব্যাটারিচালিত যানবাহন চার্জ করতে কেউ অবৈধ পথ বেছে নেয়, তাহলে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত যানবাহন বিদ্যুৎ সংকটে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। নগরীতে প্রথমে ৫ হাজার ও পরে আরও ২ হাজার ৬০০টি ব্যাটারিচালিত যান চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে এসব যান পুনঃনিবন্ধনের আওতায় রয়েছে। অনুমোদনের বাইরে থাকা যানবাহনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অটোরিকশা ও ইজিবাইক সীমিত পর্যায়ে আনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Continue Reading

top1

ধানমন্ডিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আটক দুই তরুণী ৬ মাস আগের মামলায় গ্রেপ্তার

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে আটক দুই তরুণীকে ছয় মাস আগে করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। রোববার (১৬ আগস্ট) তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।

পরে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গ্রেপ্তার দেখানো দুই তরুণী হলেন—জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে জান্নাত (২১) এবং সুমা বড়াল ওরফে ডলি (২৯)। শুনানিতে জান্নাতের পক্ষে আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম এবং সুমা বড়ালের পক্ষে আইনজীবী লিটন মিয়া জামিন আবেদন করেন।

পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবুল বাশার আবদুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক আবু সোলায়মান সুমন আদালতে জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোরে ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত মহিলা আওয়ামী লীগের ২০-২৫ জন নেতা-কর্মী সরকারবিরোধী মিছিলের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছিলেন বলে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায়। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে কয়েকজনকে আটক করে এবং অন্যরা পালিয়ে যায়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আটক ব্যক্তিরা সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে সেখানে সমবেত হয়ে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।

ওই মামলায় রোববার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে আটক হওয়া জান্নাতুল ফেরদৌস ও সুমা বড়ালকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী লিটন মিয়া বলেন, ছয় মাস আগের ওই মামলায় শনিবার আটক দুই তরুণীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অথচ মামলার এজাহারে তাদের নাম ছিল না।

Continue Reading

Trending