Connect with us

top3

প্রযুক্তির নতুন দিগন্তে ২০২৫ সালের সাম্প্রতিক আইটি প্রবণতা

Published

on

২০২৫ সাল প্রযুক্তি জগতের জন্য এক উত্তেজনাপূর্ণ সময়। বিশ্বজুড়ে আইটি খাতে উদ্ভাবন, অটোমেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) প্রভাব অভূতপূর্বভাবে বাড়ছে। সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন কিছু প্রযুক্তি প্রবণতা, যা আগামী কয়েক বছরে ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটাতে পারে।
🔹 ১. এজেন্টিক এআই (Agentic AI)
গার্টনারের মতে, ২০২৫ সালের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রবণতা হলো Agentic AI। এটি এমন স্বয়ংক্রিয় মেশিন “এজেন্ট” যা মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই জটিল কাজ সম্পন্ন করতে পারে। এর ব্যবহার দেখা যাচ্ছে:

রোবোটিক প্রসেস অটোমেশন
ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট
স্বয়ংচালিত যানবাহন

🔹 ২. নিউরোমরফিক কম্পিউটিং
মানব মস্তিষ্কের অনুকরণে তৈরি Neuromorphic Computing প্রযুক্তি দ্রুত তথ্য প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম। এটি AI এবং মেশিন লার্নিংকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।
🔹 ৩. জেনারেটিভ এআই (Generative AI)
ChatGPT, DALL·E-এর মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে Generative AI এখন টেক্সট, ছবি, কোড এবং ভিডিও তৈরি করতে পারছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এই খাতের বাজার ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস।
🔹 ৪. সিনথেটিক মিডিয়া
AI-নির্ভর Synthetic Media যেমন ভার্চুয়াল রেডিও হোস্ট, ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সার—এগুলো এখন বাস্তবতা। যদিও কিছু বিতর্ক রয়েছে, তবে এটি ভবিষ্যতের গণমাধ্যমের রূপ বদলে দিতে পারে।
🔹 ৫. স্ট্রাকচারাল ব্যাটারি কম্পোজিটস
Structural Battery Composites প্রযুক্তি এমন উপাদান তৈরি করছে যা নিজেই শক্তি সংরক্ষণ করতে পারে। এটি ইলেকট্রিক যানবাহন ও বিমানকে আরও হালকা ও কার্যকর করে তুলবে।
🔹 ৬. ব্লকচেইন ও AI সংমিশ্রণ
ব্লকচেইনের নিরাপত্তা ও AI-এর বিশ্লেষণ ক্ষমতা একত্রিত হয়ে ডেটা ট্রাস্ট এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছে, বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও ফিনটেক খাতে।
🔹 ৭. টেকসই প্রযুক্তি (Sustainable Tech)
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি যেমন গ্রিন ডেটা সেন্টার, স্মার্ট গ্রিড, এবং বায়ো-কম্পিউটিং এখন শিল্প খাতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
🔹 ৮. কোয়ান্টাম কম্পিউটিং
Quantum Computing এখন গবেষণা, ক্রিপ্টোগ্রাফি এবং ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে বিপ্লব ঘটাচ্ছে। এটি এমন সমস্যার সমাধান দিতে পারে যা আগে অসম্ভব ছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তিগুলো শুধু ব্যবসা নয়, বরং মানবজীবনের প্রতিটি স্তরে পরিবর্তন আনবে। তাই শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তাদের এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে—এই নতুন যুগে টিকে থাকার জন্য।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

‘পাকিস্তান ভাঙতে চাননি শেখ মুজিব, তাই স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি’

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক:

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য পাকিস্তানকে ভেঙে দেওয়া ছিল না। সে কারণেই ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান শুরুর আগে তাজউদ্দিন আহমেদের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

শনিবার (১১ জুলাই) ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বলেন, তাজউদ্দিন আহমেদ শেখ মুজিবুর রহমানকে জানিয়েছিলেন যে পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং জনগণ স্বাধীনতা চায়। কিন্তু শেখ মুজিব নাকি তখন বলেছিলেন, তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে চান না এবং পাকিস্তান ভাঙার সঙ্গে নিজের নাম জড়াক—সেটিও তিনি চান না। এ কারণেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও দমন-পীড়নের মুখে যখন দেশবাসী দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, তখন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ গড়ে তোলে। একই সময়ে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে মানুষকে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। তার ভাষায়, এটিই প্রকৃত ইতিহাস।

স্পিকার আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না; এটি ছিল সমগ্র জনগণের মুক্তির সংগ্রাম। স্বাধীনতার পর একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী ইতিহাস বিকৃত করে শুধু ৭ মার্চের ভাষণের ওপর ভিত্তি করে স্বাধীনতার কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অন্যের অবদান নিজেদের নামে নেওয়ার প্রবণতা রাজনীতিতে প্রায়ই দেখা যায় এবং অনেকেই নিজের দলের নেতার বাইরে অন্য কাউকে কৃতিত্ব দিতে চান না।

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভূমিকা তুলে ধরে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বলেন, সে সময় পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টটির মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে তারা পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং সাধারণ মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়। তার মতে, এই প্রতিরোধই পরবর্তী নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি তৈরি করেছিল।

নিজের সেনাজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, মূলত ফুটবলের প্রতি আগ্রহ থেকেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের উৎসাহে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জিয়াউর রহমান, মেজর আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকারী ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের অবদানের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মকর্তা ও সৈনিকদের পারস্পরিক আস্থা ও ঐতিহ্যবাহী সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।

Continue Reading

top3

পাহাড়ি ঢলে ডুবেছে রাঙ্গামাটির ফারুয়া বাজার, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

Published

on

By

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:

ভারতের মিজোরাম থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়ন। দ্বিতীয় দফার পাহাড়ি ঢলে পুরো ফারুয়া বাজার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতেও বেগ পেতে হচ্ছে প্রশাসনকে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, রাইংখ্যং নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে আশপাশের নিম্নাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক জায়গায় গ্রাম, বাজার ও বসতবাড়ি পানির নিচে চলে যাওয়ায় সেগুলো আলাদা করে চেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফারুয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫০টি দোকান ডুবে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক, মন্দির ও গির্জাসহ বিভিন্ন স্থাপনায়ও পানি ঢুকে পড়েছে। ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় বহু পরিবার ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

রাইংখ্যং নদীর তীব্র স্রোতের কারণে বিলাইছড়ি উপজেলা সদর থেকে ফারুয়া ইউনিয়নে নৌপথে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারি ত্রাণসামগ্রী সরাসরি দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলায় বন্যার পানি কিছুটা কমলেও বরকল ও জুড়াছড়ির নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। টানা চার দিন ধরে বাঘাইছড়ির সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বাঘাইহাট-মারিশ্যা সড়কের ‘তিন কিলো’ এলাকায় সড়কের একাংশ ধসে পড়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়কের শিলক ব্রিজঘাট সেতুর একটি অংশ ধসে পড়েছে। এতে শনিবার সকাল থেকে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং দুই জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তংচংগ্যা এক অডিও বার্তায় জানান, শনিবার ভোরের ভারী বৃষ্টিতে ফারুয়া বাজার, চাইন্দ্যা, উলুছড়ি, তত্তানালা, উত্তর ও দক্ষিণপাড়া এবং একগুজ্জাছড়িসহ অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি দ্রুত পর্যাপ্ত ত্রাণ, শুকনো খাবার এবং পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানান। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য স্থানীয়ভাবে রান্না করা খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, রাইংখ্যং নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় আপাতত নৌপথে ফারুয়ায় যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। স্রোত কমে এলে বড় পরিসরে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দুর্গত এলাকায় যাওয়া হবে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য স্থানীয়ভাবে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমিন জানান, শুক্রবার থেকেই ফারুয়ায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু নদীর প্রবল স্রোতের কারণে তা সম্ভব হয়নি। বিকল্প হিসেবে স্থানীয় বাজার থেকে চাল, ডাল ও তেল সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাঙ্গামাটির ১০ উপজেলার মধ্যে বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুড়াছড়ি, বিলাইছড়ি ও নানিয়ারচরের অধিকাংশ এলাকা নৌপথনির্ভর হওয়ায় পাহাড়ি ঢলে যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এদিকে রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান জানিয়েছেন, দুর্গম ফারুয়া এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা রয়েছেন। স্থানীয়ভাবে খাদ্য সংগ্রহ করে দুর্গতদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি শনিবার বরকল উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন।

Continue Reading

top3

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২৫ গ্রাম, পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ

Published

on

By

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার খোয়াই নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। টানা বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে বাঁধের একাংশ ধসে পড়ার পর এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে ডুবে গেছে অসংখ্য বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের খামার ও গ্রামীণ সড়ক। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে এ খাতে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৯ জুলাই রাত প্রায় ৯টার দিকে সদর উপজেলার চরহামুয়া-কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধের একটি বড় অংশ ভেঙে যায়। এরপর নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করে। প্রথম দিনেই প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। পরবর্তী সময়ে পানি ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের সংখ্যা বেড়ে ২৫টিতে পৌঁছেছে। নতুন করে বাহুবল উপজেলার লামাতাশী ইউনিয়ন এবং সদর উপজেলার পইল ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকাও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

চরহামুয়া, কালীগঞ্জ, লস্করপুর, পইল, তেঘরিয়া ও আলাপুরসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় হাজারো পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এবং সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আলাপুর-কালীগঞ্জ এলাকায় অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশ ও তীররক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে। সম্প্রতি আরও কয়েকটি শক্তিশালী ড্রেজার যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তাদের দাবি, পাহাড়ি ঢলের তীব্র চাপে সেই দুর্বল অংশ ভেঙেই এ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মিয়া বলেন, বছরের পর বছর অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলেই বাঁধের ভিত্তি দুর্বল হয়ে গেছে। দ্রুত এসব কার্যক্রম বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজরদারির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে এসেছে।

বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। এ সময় জি কে গউছ অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত সংস্কার এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেন। জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানও দুর্গত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম জানান, বন্যায় একাধিক মাছের খামার ভেসে গেছে। পাশাপাশি সবজির ক্ষেত, ফলের বাগান ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, খোয়াই নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও কালনী-কুশিয়ারা ও সুতাং নদীর পানি এখনও বাড়ছে। চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ওপরে রয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলার কালীগঞ্জ এবং বানিয়াচং উপজেলার রাঘপুর এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

দুর্গত এলাকাবাসীর দাবি, শুধু বাঁধ সংস্কার নয়, খোয়াই নদীতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। তাদের আশঙ্কা, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা একই ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

Continue Reading

Trending