Connect with us

top2

ডায়াবেটিসে বেশি আক্রান্ত শহরের কর্মজীবীরা

Published

on

বছরখানেক ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছেন বেসরকারি একটি ব্যাংকের কর্মী জুয়েল রানা। তবে আক্রান্ত হলেও শুরুতে বুঝতে পারেননি ৩৬ বছর বয়সী এই যুবক। কোনো কারণ ছাড়াই শুকিয়ে যাচ্ছিলেন, সব সময় অবসাদে ভোগেন। গত ১৭ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষা করালে জুয়েলের ডায়াবেটিস শনাক্ত হয়।

বেসরকারি এই চাকরিজীবী জানান, অফিসে প্রায়ই সময় বসে থাকা হয়। ডেস্কে সব কাজ করায় তেমন হাঁটাচলা করা হয় না। প্রায় এক বছর ধরে শরীর খুবই খারাপ লাগছিল। মেডিসিনের ডাক্তারও দেখিয়েছি। হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক (হৃদরোগ) করলে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসার পাশাপাশি ডায়াবেটিসের পরীক্ষাও করা হয়। সেখানেই ডায়াবেটিস শনাক্ত হয়।

শুধু জুয়েল নন; দেশে কর্মজীবীদের মাঝে উদ্বেগজনক হারে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু বেশি জটিলতা দেখা না দিলে এবং পরীক্ষা না করানোর ফলে শরীরে সংক্রমণ অজানাই থেকে যাচ্ছে আক্রান্তদের।

গবেষণা বলছে, দেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হতে পারে। কারণ হিসেবে চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্ত হলেও ৫০ ভাগই জানেন না। অন্য কোনো রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ডায়াবেটিস শনাক্ত হচ্ছে। এসব আক্রান্তের মাঝে প্রায় ২৫ শতাংশই কর্মজীবী।

ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. ফারুক পাঠান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সরকার ৮০ ভাগ রোগীকে নির্ণয়ের আওতায় আনতে চায়। একই সঙ্গে ৮০ ভাগ ডায়াবেটিস রোগীর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং টাইপ-১ ডায়াবেটিসের শতভাগ রোগীর কাছে ইনসুলিন ও অন্যান্য সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু এজন্য যে পদক্ষেপ দরকার, তাতে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।

ডা. ফারুক বলেন, এখন শহরের প্রতিটি কর্মস্থলে হাঁটাচলা করার মতো অবস্থা নেই। সবসময় কাজের চাপে থাকতে হয়। বড় কোনো সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেই দেখা যায় তিনি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন।

এমন বাস্তবতায় আজ শুক্রবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য— ‘কর্মস্থলে ডায়াবেটিস সচেতনতা গড়ে তুলুনু।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ে কোনো গবেষণা নেই। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের তথ্যমতে, বাংলাদেশে ২০১৯ সালে ডায়াবেটিস রোগী ছিল ৮৪ লাখ। বর্তমানে এই সংখ্যা ১ কোটি ৩৮ লাখের মতো বলে ধারণা করা হয়। যাকে মহামারিরূপে দেখছেন চিকিৎসকরা।

দেশে ডায়াবেটিস শনাক্ত ও চিকিৎসায় জাতীয় পর্যায়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস)। গত বছর সারা দেশে ৬৫ লাখ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন বাডাসের পরিচালিত চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে, যা দশ বছর আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বাডাস বলছে, শহরের কর্মজীবীদের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। প্রতিনিয়ত এই হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০২২ সালের গবেষণা বলছে, প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রতি ১০ জনে একজন টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। শিশুদের মধ্যে এই হার ১৫ জনে একজন।

প্রাথমিকভাবে উপসর্গ না থাকায়, জটিলতা শুরু হলেই কেবল চিকিৎসা শুরু করছেন বেশিরভাগ রোগী। আর অর্ধেকই জানেন না তারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন। আক্রান্তের এমন ভয়াবহ চিত্রের পেছনে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, খাবারের নিয়ম না থাকা, আচরণগত পরিবর্তন, কায়িক পরিশ্রম না করা এবং ডিভাইসের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার।

সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথ রিসার্চের প্রকল্প পরিচালক চিকিৎসক বিশ্বজিৎ ভৌমিক বলেন, ‘বিশ্বজুড়েই ডায়াবেটিসের রোগী বাড়ছে। তবে তা বাংলাদেশের মতো এতটা দ্রুত নয়। আমাদের কাজের পরিবেশ মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। আট ঘণ্টা অফিসে থাকলেও নড়াচড়া করার মতো অবস্থা নেই। আবার যেসব খাবার আমরা খাই তা একদিকে অস্বাস্থ্যকর, অন্যদিকে সঠিক সময়ে খাওয়া হয় না। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা, অবসাদ। প্রত্যেকটি কাজের ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিনিয়ত এসবের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ফলে উচ্চ রক্তচাপ বাড়ে ও দ্রুত ডায়াবেটিস দেখা দেয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘ক্রমেই শহর ও গ্রামের রোগীর মধ্যে পার্থক্য কমে আসছে। কিন্তু শহরের কর্মজীবীদের মাঝে প্রকোপ খুবই উদ্বেজনক। এজন্য অফিসে কিছু সময় বিরতি দেওয়া, স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা এবং বছরের একটা সময় বিনোদন ছুটি নিশ্চিত করা গেলে অবস্থার উন্নতি সম্ভব। ইতোমধ্যে আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি।’

ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাডাস। এতে জানানো হয়, শহরের খেলার মাঠ এখন নেই বললেই চলে। ফুটপাতে হাঁটার মতো জায়গা নেই, অলিগলিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে কোনো খেলার মাঠ নেই। রাষ্ট্র তা দেখেও ব্যবস্থা নেয় না। আবার অফিসগুলোতেও টানা কাজ করতে হয়। আর এতে করেই উদ্বেজনকহারে বিস্তার ঘটছে ডায়াবেটিসের।

বাডাসের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, ‘ডায়াবেটিস সবসময়ই প্রতিরোধযোগ্য ব্যাধি। কিন্তু আমরা নেতিবাচক কাজকে যতটা দ্রুত প্রচার করি, ততটা গুরুত্ব দেই না ভালো কাজকে। তরুণরাও এখন হৃদরোগের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। যার বড় কারণ ডায়াবেটিস। কর্মপরিবেশের কারণে শহরের কর্মজীবীদের মাঝে এর প্রকোপ ক্রমাগত বাড়ছে। কাজেই এখনই সচেতন হওয়া জরুরি।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

চালের দাম বাড়ার খবরে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Published

on

By

খুচরা বাজারে মোটা চালের দাম বৃদ্ধির সংবাদ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, প্রান্তিক মানুষের প্রধান খাদ্য হিসেবে পরিচিত মোটা চালের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।

এর পরপরই বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন জানিয়ে টানানো বিলবোর্ড ও ব্যানার দ্রুত অপসারণের নির্দেশও দিয়েছেন তারেক রহমান।

অতিরিক্ত প্রেসসচিব আরও জানান, উপকূলীয় অঞ্চল ও বঙ্গোপসাগর এলাকায় জলদস্যুতা, ডাকাতি, অবৈধ পাচার রোধ এবং মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় নিয়মিত টহল জোরদার ও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Continue Reading

top2

‎বাঁচানো গেল না গলাকাটা অবস্থায় জঙ্গলে হাঁটা সেই শিশুকে

Published

on

By

‎চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ইকোপার্কে জঙ্গল থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া শিশু ইরা (৭) চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর সাড়ে চারটার দিকে সে মারা যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার চাচা রমিজ আলী।

এর আগে গত রোববার দুপুরে ইকোপার্কে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সোমবার তার শরীরে দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। তখন তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে ছিল বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু হঠাৎ গভীর রাতে শ্বাসনালিতে সমস্যা দেখা দিলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তখন তাকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। এক পর্যায়ে ডাক্তার সাড়ে চারটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ‎তার চাচা রমিজ আলী বলেন, আমার নিষ্পাপ ভাতিজিকে বাঁচাতে পারলাম না। কে আমাকে চাচ্চু বলে ডাকবে? যে বা যারা আমার ভাতিজিকে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

Continue Reading

top2

ইরান নয়, সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

Published

on

By

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার কোম্পানি আরামকোর স্থাপনায় সংঘটিত হামলার নেপথ্যে ইসরায়েলের সরাসরি হাত রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তেহরান ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই সূত্রটি এই হামলাকে একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন বা ছদ্মবেশী অভিযান হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, ইসরায়েল মূলত ইরানের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে তাদের সাম্প্রতিক হামলার অপরাধ থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোর দৃষ্টি সরিয়ে নিতেই এই ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সামরিক সূত্রটি তাসনিম নিউজকে আরও জানিয়েছে যে, ইরান ইতিমধ্যে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে তারা এই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল স্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। তেহরান ইতিমধ্যে অনেকগুলো স্থাপনায় সফলভাবে আক্রমণও চালিয়েছে, কিন্তু আরামকোর তেল স্থাপনাগুলো কখনোই ইরানের হামলার তালিকায় ছিল না।

ইরান দাবি করছে যে, সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক দেশগুলোর তেল অবকাঠামোতে আঘাত করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। বরং ইসরায়েল এই হামলা চালিয়ে ইরানকে দোষী সাব্যস্ত করতে চাইছে বলে তেহরান মনে করে।

ইরানি গোয়েন্দা সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ওই কর্মকর্তা আরও একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলের পরবর্তী ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশনের তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজিরাহ বন্দরও রয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনী অদূর ভবিষ্যতে এই বন্দরে হামলা চালিয়ে তার দায়ভার ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে তেহরান সতর্ক করেছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের দূরত্ব তৈরি করা এবং অঞ্চলটিকে আরও অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যেই ইসরায়েল এমন কৌশল অবলম্বন করছে বলে সামরিক সূত্রটি উল্লেখ করেছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, আরামকোতে এই রহস্যময় হামলার ঘটনা তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইসরায়েল বা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এখনও এই দাবির প্রেক্ষিতে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ইরান সরকার আন্তর্জাতিক মহলকে সতর্ক করে বলেছে যে, ইসরায়েলের এই ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তেহরান বর্তমানে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করেছে যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনো ষড়যন্ত্রমূলক হামলা ঠেকানো যায়।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

Continue Reading

Trending